শাহরিয়ার শিমুল-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

একজন তথাকথিত প্লেবয়

লিখেছেন: শাহরিয়ার শিমুল

সময় টা ২০০২। ছেলেটা পরিবারের সবথেকে ছোট ছেলে। ইন্টার প্রথম বর্ষের ছাত্র।নিওমিত ক্লাসে যায়।পড়াশুনায় ভাল,স্যার দের পছন্দের পাত্র। ক্লাসের সবার চোখে ভালো ছেলে,নামায আদায় করে, ভদ্র ভাবে চলে। কোন নেষা নেই।

সময় ২০০৩। ক্লাসের ভালো ছাত্র হবার সুবিধা আর সাথে সুপুরুষ খেতাপ। মেয়েদের পছন্দের তালিকায় প্রথম দিকেই থাকতো।আর সেই পছন্দ ব্যাপারটা এককেন্দ্রিক না,মূটামুটি ভাবে তিন জন তাকে চায়। আর সভাবতই তাদের মাঝে একজন কেই বেছে নেয় সে, নিজের পূরোটা দিয়ে ভালোবাসে। সারাদিন ফোনে কথা বলে, ক্লাস ফাকি দিয়ে দেখা করে, সপ্ন বুনে সুন্দর ভবিষ্যতের।।

সময় ২০০৪। রেসাল্ট হয়, নিওমিত মধুর ভালোবাসার ফল তো বুঝেন ই।ফেল না করলেও খুব একটা সুবিধার হয় না দুজনের কারোই।হতাসা চেপে ধরে ছেলেটাকে, ……………মেয়েদের রেসাল্ট খারাপ হলে কি হয় জানেন ? কোথা থেকে বিদেশ ফেরত মামাতো /চাচাত /অথবা বাবার বন্ধুর ছেলে উদয় হয় তাকে বিয়ে করবার জন্য। এদিকে ছেলের কিছু করবার থাকে না, তার নেই যোগ্যতা, এদিকে ভালোবাসার মানুষের চোখের পানি, ওদিকে রেসাল্ট আর পরিবারের ভর্ষনা তো বোনাস ।উপায় ? আছে না ? ডাইল আর শুকনা (গাজা), আরো প্লাস পয়েন্ট ভালোবাসা হারিয়ে ফেলার, । একদিন চোখে পানি নিয়ে মেয়েটা চোলে যাওয়া আরেক জনের হয়ে।

…………………………

বছর দুয়েক পর……।

………………………।।

সকেল ঘুম ভেঙ্গে যায় কারো না কারো ফোনে। এতদিনে সে কাটিয়ে ঊঠেছে শোক, সেই ভালোয়াসার মানুষ টাকে এখন মনে হয় অচেনা সপ্ন। দেভদাস সম্যের অবসান হইছে,। ফোনে কত ভালোবাসাই না দেয় এখন তাকে সবাই। সে জানে কিভাবে ভালোবাসতে হয়, কিভাবে সুখি রাখতে হয়, কিভাবে ভালো রাখতে হয়, ভার্সিটী আর এলাকার মেয়ে মহলে তার অনেক কদর । এখন আর সেই সম্য শান্ত ছেলে টা নেই সে, যদিও চেহারার ইনোসেন্ট ভাব আছে আজো।সকালে জ়েগেই একজন কে দিয়ে আসতে হয় কলেজের সামনে পর্যন্ত ।ওর আবার সকালে তার চেহারা না দেখলে দিন টাই মাটি, ওকে দিয়ে বের হয়ে যেতে হয় আরেকজনের সাথে দেখা করতে। ওর বাসায় আবার তাকে সবাই অনেক পছন্দ করে, সো ডেট টা বাসার ছাদেই সেরে নেয়া যায়।এদিকে আরেক জনের কল আসলে বাবার ফোন আসে কেনো সেই কারন ব্যাখ্যা করে আসতে হয় ভার্সিটির দিকে।ক্লাসের ফাকে চোখাচোখি চলে আরেক জনের সাথে, যে জানে তার ক্যাম্পাসের লাভার টা সাইকো, মাথায় সমস্যা আছে,তাই একটু সময় দেয়া, রা কিছু না, রাতে ফোনে কথা তো তার সাথেই হবে। এভাবে টোটাল হিসেবে তার শহরে ৯ টা, ফেইসবুক আইডি তে ৭ টা সহ বেশকিছু লাভার তার, কিছুর অভাব হয় না, মুখ ফুটে চাইতে হয় না।

তো আজো ছেলে টা সারাদিন শেষে একজন কে বাসায় ড্রপ করে, বাসায় আসে তার ঘরে এসে বসলো। একটা জলন্ত গোল্ডলিফের দিকে তাকিয়ে ভয় পেলো সে, এখন ই আবার সেই অনুভুতি চেপে ধরবে তাকে, কাদবে সে, এক ঘন্টার বেশী সময় দেয়া যাবে না, আবার একজনের ফোন আসবে, ……।।

(jo vi main, kehna chahu, barbad kare….alfaz mere)

(এটা সূধুই একটা ছোটগল্প, কোন জীবিত বা মৃত মানুষের সাথে এ গল্পের কোন রকম মিল পাওয়া গেলে লেখক দায়ি না)(ছ্যাকা খায়া পোলাপান আত্তহত্তা কেনো করে আজ অনেক চিন্তা করে বের করলাম। একটা ছেলে যখন কাউকে ভালোবাসে তখন নিজের পূরোটা দিয়ে ভালোবাসে। ছেলেটার অস্তিত্তের অনেক খানি যায়গা জুরে থাকে মেয়েটা। বাট যখন মেয়ে টা চলে যায় সেই অস্তিত্তের অংশ টা সাথে করে নিয়ে চলে যায়। সো ছেলেটার মিজের বলে খুব কিছুই থাকে, হতাশা , কষ্ট আর শুন্যতা ব্যাতিত। সো আমি নিজে ছ্যাকা ঘেন্না করি, এ্যান্ড সবার প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে দয়া করে কাউকে ছ্যাকা দিবেন না। যার সাথে আপনার চলতেছে না তাকে বুঝায় বলেন, তার খারাপ দিক গুলা তার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায় দেন, সেই সরে যাবে। বাট হ্যা, কাউকে ভালো হবার সুযোগ দিয়ে লাভ নাই, সে আপনার জন্য চেঞ্জ হলেও সে নিজে যা তাই থাকবে , সুধু আপনার সামনে আপনার চাহিদা মত আচরণ করবে। জানেন তো কুত্তার লেজ সোজা হয় না। )[লেখা শেষ, জয় বাংলা, জয় অসামাজিক, বাংলাদেশ সর্বশ্রেষ্ঠ হোক, ভালোবাসার জয় হোক][আমি ছ্যাকা খাইলে মরুম না, লালন সাধক টাইপ কিছু হয়া যামু, গ্যারান্টীড]

 

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/unsocial/20983.html



মন্তব্য করুন