তৌকির আজাদ-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

বিরোধী দলের বিরোধিতা – গণ প্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) প্রসঙ্গে !

লিখেছেন: তৌকির আজাদ

গত ২৫ জুলাই দশম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) ব্যাপক সংশোধনীর প্রস্তাব পাঠায় । তার তিনদিন পর এক বৈঠকে আকষ্মিকভাবে ৯১-ই ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। কিন্তু এখন ধারাটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে উভয় সংকটের মুখে পড়েছে ইসি। আইন মন্ত্রণালয়েও এখন পর্যন্ত আরপিও’র এ সম্পূরক সংশোধনী পাঠায়নি ইসি সচিবালয়।

যা ছিল ৯১ (ই) ধারাইয়ঃ-

Election Commission20130825072904

আরপিও’র (সংশোধিত ২০০৮) ৯১(ই) এর ই(১) ধারায় বলা আছে, ‘নির্বাচন কমিশন কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে লিখিত অথবা মৌখিক অভিযোগ পেলে এবং ওই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে উক্ত প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে’।

৯১(ই) এর (২) ধারায় আছে, ‘আচরণবিধি ভঙ্গের অপরাধে কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হলে এবং সেখানে অন্য একজন প্রার্থী থাকলে ওই আসনের নির্বাচন বন্ধ থাকবে’। পরবর্তীতে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা রয়েছে ওই ধারায়।

সজা ভাসায় – নির্বাচনে গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশনকে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯১ (ই) ধারায়।

নির্বাচন কমিশন এর মতে, বিধি লঙ্ঘনের জন্য প্রার্থিতা বাতিলের যে ক্ষমতা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে নির্বাচন কমিশনকে দেয়া আছে তা ‘আদৌ প্রয়োগযোগ্য নয় এবং অর্থহীন’। বাস্তবতাও তাই বলে! মজার বিষয় হইতেছে, নবম সংসদ নির্বাচনের আগে প্রথমবারের মতো যখন এই ধারাটির অন্তর্ভুক্তি করা হয় তখন আইনটি নিয়ে বিরোধিতা করেছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। কিন্তু এখন যখন আইনটির বিলুপ্তির কিংবা বহাল থাকার বিষয়রই সামনে এসেছে তখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এ নিয়ে কোনো কথা বলছে না, যেটা মনেহয় বুদ্ধিমানের কাজ। আর বিরোধী দল বিএনপি কেন জানি বলেছে, ধারাটি থাকা প্রয়োজন। তা না হলে নির্বাচনে অপরাধ আরো বেড়ে যাবে, যা কমিশন সামলাতে পারবে না এবং এ ধারা ব্যবহারের মাধ্যমে বিএনপির প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল করে মহাজোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করা হতে পারে।

কিন্তু বিএনপি আদৌ কি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে না ? যদি করে তাইলে এই অন্তর্বর্তী কালীন সরকার নিয়ে এত হৈচৈ টা কিসের ? নাকি এইটা সময় নষ্ট করার মাধ্যম অথবা বলা যায় ইসিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নতুন একটা পথ আথবা নিজেদের প্রভাবটা জ্বালিয়ে রাখার উজ্জ্বল প্রচেষ্টা? আর যদি অংশগ্রহণ করেও তাইলে এখন হটাত করে ধারাটির বিরধিতার কারন টা ঠিক ভুঝলাম না, কারন নবম জাতীয় সংসদ এর সময় তো ঠিকই তারা আইনটির বিরোধিতা করেছিল, যখন আইনটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অদ্ভুত ব্যাপার হোল, একটা আইন যখন নতুন করে আনা হয় তখন ও তারা সেটার বিরোধিতা করে, আবার যখন বাদ দেয়া হয় তখনও তারা বিরোধিতা করে। ইচ্ছাকৃত বিরোধিতা নাকি অনিচ্ছাকৃত বিরোধিতা সেটা তাদের ভাল বলতে পারার কথা। আর যেখানে জামায়াতের নিবন্ধন সম্পর্কিত উচ্চ আদালতের রায়টি বহাল থাকছে অর্থাৎ আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি নিজস্ব প্রতীকে সরাসরি অংশ নিতে পারবে না সেখানে নির্বাচন কমিশনের কোন সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার কোন যুক্তিগত কারন বিএনপির আছে বলে মনে হয় না। তার মানে বিরোধী দলের বিরোধিতা চলছে এবং চলবে, দেশ এবং দেশের রাজাকার রক্ষায় তারা বিরোধীতার পথ বেঁছে নিলে কে কি করতে পারে ?

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/towkir-azad-shumit/21544.html



মন্তব্য করুন