তারিক লিংকন-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’ অতঃপর দেশের সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাবলীর সমাধান (৩য় পর্ব)

লিখেছেন: তারিক লিংকন

যে ৭ টি সমস্যার সমাধানে এই ধারাবাহিক পোস্টটির শুরু হয়েছিলঃ

১) সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, ২) পদ্মা সেতুর নিজস্ব অর্থায়ন, ৩) তীব্র যানজট, ৪) বেকারত্ব, ৫) দারিদ্রতা, ৬) জনসংখ্যা সমস্যা এবং ৭) সন্ত্রাস এবং বিপথগামী ছাত্র ও যুব রাজনীতি।

৪)বেকারত্ব এবং ৫)দারিদ্রতা  এদু’টি সমস্যার সমাধানকল্পে আজকের এই ব্লগপোস্ট লিখা; এইখানে উল্লেখ্য ১ম এবং ২য় পর্বের আলোচ্য বিষয় ছিল যথাক্রমে ১) সর্বগ্রাসী দুর্নীতি আর ২)পদ্মা সেতুর নিজস্ব অর্থায়ন ও ৩) তীব্র যানজট সমস্যাবলীর সমাধান নিয়ে আলাদা আলাদা প্রস্তাব করা। প্রাসঙ্গিক কারণেই আজকের দুটো সমস্যা নিয়ে একসাথে আলোচনা করব এবং নিজের ভাবনা তুলে ধরব।

৪) বেকারত্ব এবং ৫) দারিদ্রতাঃ

দারিদ্রতা এবং বেকারত্ব আসলে একই সুতোয় গাঁথা একটি সামাজিক অভিশাপ। একটির সমাধানে কিছু করলেই বা সমস্যা থেকে মুক্ত হতে পারলেই অপরটি থেকে সমাজ মুক্তি পাবে বলেই আমার ধারণা কেননা এটি দরিদ্র অর্থনীতির সে চিরায়ত দুষ্টচক্রের একটি মরণ ফাঁদ। এইবার সরাসরি কাজে আসি, পরিসংখ্যান ব্যুরো অব বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO), কমনওয়েলথসহ একাধিক সংস্থার সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক দশকে বাংলাদেশে বেকারত্ব বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। এই হার বজায় থাকলে ২০১৫ সালে মোট বেকারের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬ কোটিতে অথবা সাড়ে ৫ কোটিরও অধিক, এদিকে শিক্ষিত এবং স্বল্পশিক্ষিত জনসাধারণের মধ্যেই এই হার সবচেয়ে বেশি। ILO’র সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে বেকারত্ব বাড়ার হার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর কর্মবাজারে প্রবেশ করছে প্রায় ২৭ লাখ আর চাকরি পাচ্ছে ১ লাখ ৮৯ হাজার অর্থাৎ মাত্র ৭ শতাংশ ; ব্যাপকহারে গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ কিছুটা শামাল দিলেও বিশাল জনগোষ্ঠী ঠিকই বেকার থেকে যাচ্ছে। ILO’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ বেকার, বর্তমান কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ২ শতাংশ। এমন আরও অনেক অনেক পরিসংখ্যানগত তথ্য দিয়ে পোস্ট ভরিয়ে ফেলা সম্ভব। যদিও দেশের মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারীকেও এই হিসেবে ধরা হয়েছে অন্যদিকে সমাজের রক্ষণশীল গোষ্ঠীর কারণে নারীকে সমানভাবে সমাজ কর্মক্ষেত্রে পাচ্ছে না। যদিও এই ভুল ধরার উদ্দেশ্যে এবং কথার ফুলঝুরি দেয়ার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের প্রস্তাব করা হয় নি। তাই এমন ব্যাপক হারে বর্ধিষ্ণু বেকারত্ব যা কিনা দরিদ্র বিমোচনের অন্যতম প্রধান বাধা কীভাবে আমরা মোকাবিলা করব তার উপায় বের করতে চেষ্টা করব। তার আগে একটু দেখে নিই আমাদের বেকারত্বের কারণসমূহ কি কি?

বেকারত্বের কারণসমূহ অনেকটা এইভাবে তালিকাবদ্ধ করা যায়-

ক) দক্ষ জনবলের অভাব বা, শ্রমিকের অদক্ষতা যা দুভাবে ভাগ করা যেতে পারে
      – দরিদ্র জনসংখ্যার মধ্যে শিক্ষার নিম্নহার
- যুগোপযোগী কারিগরি, আধুনিক এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানের ঘাটতি

খ) প্রশাসনিক সুষ্ঠ পরিকল্পনার অভাব বা পরিকল্পনাহীনতা

গ) অপ্রতুল শিল্পখাতের বিকাশ এবং নতুন কর্মসংস্থানের অভাব

ঘ) কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন বা বনায়নের মত সম্ভাবনাময় খাতে শিক্ষিতদের অনীহা ও অনাগ্রহ

ঙ) উন্নয়নের রাজধানী কেন্দ্রিকতা বা শহর কেন্দ্রিকতা।

এইসব বাধাগুলো অতিক্রম করতে আমাদের করণীয় কি? আমি তিনটা প্রস্তাব তুলে ধরছি, আপনাদের সকলের আরও ভাল ভাল নতুন আইডিয়া এই উদ্যোগকে হয়ত আরও অনেক বেশী মানসম্পন্ন এবং শক্তিশালী করবে। সবাইকে এই উদ্যোগে মতামত দিয়ে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করছি।

ক) টেকসই কৃষিঃ  প্রথমেই একটা উক্তি “A strong agriculture means a strong economy” said by John Fisher। এখন উন্নত বিশ্বের একটি কার্যকর কৃষি প্রকল্পের সম্পর্কে জানব এবং বাঙলাদেশে এর ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করব। এই উদ্দেশ্যে কানাডার The Central Experimental Farm (CEF) এর কথা দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতেই হয়। CEF হচ্ছে একটি কৃষি গবেষণা ক্ষেত্র, একটি আদর্শ খামার এবং কানাডার একটি ঐতিহাসিক প্রসিদ্ধ স্থান যার আয়তন ৪ বর্গকিমি বা ১.৫ বর্গমাইল। বাঙলার জীন বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরীকে একবার এক সাক্ষাৎকারে বলতে শুনেছিলাম যে সবাই যেভাবে তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পরছে তাতে করে ভয় হয় কেননা মানুষ কিন্তু দিন শেষে কৃষিপণ্য শস্যদানাই মানব সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখবে । তথ্য-প্রযুক্তি-জ্ঞান-বিজ্ঞানে অবশ্যই সভ্যতা এগিয়ে যাবে আমরাও তাই চাই কিন্তু সাথে সাথে আমাদের কৃষি উৎপাদন সমানতালে বৃদ্ধি করতে হবে। এই উদ্দেশ্যই বাংলাদেশে টেকসই কৃষি এবন অর্থনীতির লক্ষ্যে কৃষিকে মজবুত এবং দৃঢ় করতে হবে। বাংলাদেশের মত একটি দেশে Central Experimental Farm (CEF) এর মত কৃষি খামার এবং গবেষণা ক্ষেত্র হওয়া উচিৎ ন্যূনতম ৭ বিভাগে ৭ টি। কানাডার The Central Experimental Farm (CEF) সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ

• Founded in 1886, is 425 hectares,
• Declared a National Historic Site in 1998,
• More than 100,000 crop research plots,
• Millions of plant, insect and fungal specimens in the National Collections,
• 2,400 varieties of trees and shrubs in the Dominion Arboretum,
• 90 science and admin buildings of which 29 are designated as heritage

[তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া]


Overview map of the CEF

এই বিশাল কৃষিক্ষেত্রে হতে পারে একটি করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সহস্রাধিক খেটে খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থান এবং লক্ষ লক্ষ স্বল্পশিক্ষিত মানুষের প্রশিক্ষণকেন্দ্র। যা একই সাথে গ্রামের সাধারণ মানুষকে আধুনিক এবং অধিক লাভজনক চাষাবাদ সম্পর্কে জ্ঞান দিবে। এইধরণের শিক্ষাকে বলা হয়ে থাকে SAGE বা Sustainable Agricultural Education. বর্তমানে বাংলাদেশে এমন শিক্ষার ব্যাপক প্রয়োজন। প্রথমে CEF এর আদলে গড়ে তোলা ৭ বিভাগের এমন ৭ টি ফার্ম, খামার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শুধু বেকারত্ব কমাতে নয় সাথে সাথে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উত্তরণের একটা পথ হয়ে থাকবে। পরবর্তীতে ৬৪ টি জেলায় এমন কৃষিভিত্তিক ব্যাপক ফার্ম বা খামার করা যেতে পারে।

Site Map of Central Experimental Farm

খ) দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিঃ বর্তমানে দেশে কি পরিমাণ বেকার আছে তার পরিসংখ্যান আমাদের আঁতকে দিতে যথেষ্ট। এই বিপুল পরিমাণ জনগণ আমরা কি বেকার রেখে অসামাজিক কর্মকাণ্ড আর অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়তে সুযোগ করে দিব নাকি তাদেরকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করব? গ্রামে গঞ্জে সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই বিপুল জনশক্তিকে কীভাবে কর্মক্ষম করা যায়? আমাদের দেশে যতটুকু জমিতে যতটুকু চাষাবাদ হয়ে থাকে সভ্যতার এই অবস্থানে তা অগ্রহণযোগ্য। আধুনিক বিজ্ঞান ভিত্তিক চাষাবাদ আমাদের সকল ধরণের কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যাপক ইতিবাচক ভুমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্ট কৃষিবিদ এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কিন্তু সর্বত্রই আমরা দেখি আমাদের কৃষিকাজে ব্যাপকভাবে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী নিজেদের সংযুক্ত করছে না। এইবার দেখি কীভাবে সরকার বা রাষ্ট্র দক্ষ জনশক্তিকে অপচয় করছে। দুনিয়ার তাবৎ দেশের মত বাঙলাদেশের সেনাবাহিনীও ঐতিহ্যগতভাবে বা বুনিয়াদী প্রথাগত প্রশিক্ষণ করে থাকে শান্তিকালীন সময়ে। ২০০৭-৮ এ যদি জরুরী অবস্থা চলাকালীন এইসব কার্যক্রম বন্ধ হতে পারে তবে কেন প্রায় তিন লক্ষাধিক আর্মি-নেভি-এয়ারফোর্সের দক্ষ জনবলকে দেশের এই বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করতে কাজে লাগানো যাবে না?

প্রতিটি থানায় যদি কলেজের শিক্ষক স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং যৌথবাহিনীর টিমের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ প্রশিক্ষণ দল মিলে এমন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাপকভাবে করা যায় তবে ২/৩ বছরেই আমরা কমপক্ষে ১ কোটি বেকার জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারব। এই বিশাল পরিমাণ জনবল দেশের উন্নয়নের অংশীদার হওয়া ছাড়াও দক্ষজনবল হিসেবে বহির্বিশ্বেও পাঠানো যাবে। এছাড়াও সুপ্রশিক্ষিত ড্রাইভার তৈরিতেও সরকার সেনাবাহিনীকে ব্যাপক হারে ব্যবহার করতে পারে। এই কাজ শুধু দক্ষ জনবল তৈরি করবে না দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপদ সড়ক যোগাযোগে দ্রুত ব্যাপক নাটকীয় পরিবর্তন করবে।

৬৪ জেলার প্রটিতে গড়ে ১০০ টি করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ৬ মাসের করে একেকটি কোর্স, কমপক্ষে ৬ টি কোর্স এক সাথে চলবে, ২.৫ বছর ধরে চলবে এই প্রশিক্ষণাভিযান প্রতি কোর্সে ন্যূনতম ৬০ জন করে প্রশিক্ষণার্থী যদি প্রশিক্ষণ নেয় তবে আড়াই বছর পর মোট নতুন সৃষ্ট দক্ষ জনবল হবেঃ
৬৪*১০০*৬*৬০*৫= ১,১৫,২০,০০০ জন। যদি ১৫%-ও আমাদের সিস্টেম লস হয় তবুও আড়াই বছরে ১ কোটি দক্ষ জনশক্তি দেশের কৃষি এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখতে শুরু করবে। এই অর্জন হবে দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির জন্য যুগান্তকারী একটি পরিবর্তন।

গ) আউট সোর্সিং-এ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাঃ বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর কাজের চাহিদা ক্রমাগত বিশ্বজুড়ে দিন দিন বেড়ে চলছে। এখানে উল্লেখ্য বলা হয়ে থাকে যে দুনিয়াতে এক্সপার্টদের সংখ্যা সারা প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ৪০-৪৫%, বাংলাদেশে এই হার আরও কম। ২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে প্রযুক্তি নির্ভর কর্মকাণ্ডের একটা মৃদু ঢেউ উঠলেও তা ব্যাপক সাড়া ফেলতে পারেনি নানাবিধ সরকারি উদ্যোগের অভাবে। প্রধান কারণ তখন কম্পিউটারের ব্যবহার চালু থাকলেও ইন্টারনেটের ব্যাপক ব্যবহার থেকে বংলাদেশ অনেক দূরে ছিল এদিকে বর্তমানে বাংলাদেশ ৩জি (3G) ইন্টারনেট সেবার আওয়তায় এসেছে। টেলিটকের ৩জি সেবা ১৮ টি জেলায় বিস্তৃতি, সদ্য লাইসেন্স প্রাপ্ত বাকি অপারেটররাও দ্রুত তাদের সেবা দেশব্যাপী পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখন সরকারকে তথ্যপ্রযুক্তির এই অতিসম্ভাবনাময় খাতকে কাজে লাগিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের আওয়তায় নিয়ে আসতে হবে। এজন্য কি কি উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে এবং কি কি করণীয় তা কোন তথ্য-প্রযুক্তিবিধ মন্তব্যে জানাবেন।

উপরোক্ত তিনটি পদ্ধতি বা উদ্যোগ ছাড়াও আরও অনেক ভাল উদ্যোগ অথবা আইডিয়া সবার মনে আসতে পারে যা শুধু দেশের বেকার সমস্যাকেই প্রশমিত করবে না সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং ব্যাপক হারে অর্থনীতিকে গতিশীল এবং রাষ্ট্রের ভিতকে মজবুত করবে।

 

ম্ভাব্য কিছু প্রশ্নের উত্তরঃ

~~~~~~~~~~~~~~~~~~

ক) প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সেনা বাহিনীর দ্বারা কেন?

–স্ব স্ব থানার শিক্ষাবিদ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তি দের সমন্বয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালাতে হবে। এতে লাভ হচ্ছে-

প্রথমত, ক্র্যাচের কর্নেল খ্যাত তাহেরের পিপলস আর্মির ধারণার কিছুটা বাস্তবায়ন,

দ্বিতীয়ত, প্রশিক্ষণাভিজানের ব্যাপক ব্যায়ের ভার কমানো,

তৃতীয়ত,  প্রশিক্ষণের মান ও গ্রহণযোগ্যতায়  মানুষের আস্তা অর্জন,

চতুর্থত, ৫০৭ টি উপজেলায় যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে ৬৪০০ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প হলে দেশের আইনশৃঙ্খলায়ও ব্যাপক ধনাত্মক পরিবর্তন হবে,

পঞ্চমত, যৌথবাহিনীর হারানো গৌরব (১/১১ এর পর…) ফিরে পাওয়া এবং জনগণের বাহিনীতে রূপান্তরিত কড়া।

খ) এই প্রকল্প গুলোর অর্থায়ন কিভাবে বা সরকারের কোন বিভাগের মাধ্যমে হবে?

– এইসব কার্যনির্বাহী কমিটি বা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নির্ধারণ করবে। তাছাড়া যেহেতু সরকারি কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের নিয়ে এই প্রশিক্ষণ টিমের কথা বলেছি সেক্ষেত্রে তেমন একটা ব্যায় সাপেক্ষ হবে না প্রকল্পটি। এটি বাস্তবায়নযোগ্য একটি প্রকল্প হবে। যা সমাজ ব্যাবস্থাকে ২/৩ বছরেই আমূলে পরিবর্তন করতে সক্ষম।

গ) মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের কাঠামো এবং মূল রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে ধারনাগত সমস্যার কীভাবে সমাধান হবে?

—একটা কাঠামোর উদাহরণ দেই প্রথমে বর্তমানে দেশে সবচে সফল আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন বাহিনী হচ্ছে র‍্যাব আর এটি একটি যৌথ বা সম্মিলিত বাহিনী এইখানে আর্মি-নেভি-এয়ার ফোর্স, পুলিশ সকল বাহিনীর লোকই কাজ করে। কাঠামো দাড় করানোর দায়িত্ব আসলে কেউ কখনই একা করে না- করবে না। সংসদীয় কমিটিসহ অনেক অনেক গুনিজনেরা আছেন এইসব নীতি নির্ধারণ করার জন্য।

ঘ) প্রশাসনিক বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অবসান কীভাবে হবে যেখানে সকল প্রকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে এক সাথে কাজ করবে?

— আবারও র‍্যাব, এসএসএফ, সোয়াত-এর মত যৌথবাহিনী একই রকমভাবেই গঠিত। আবার র‌্যাংগস ভবন, রানা প্লাজা, ১৯৯১ এর ঘূর্ণিঝড়, ১৯৯৮ এর বন্যা, সিডর, সকল জাতীয় নির্বাচন সহ আরও অনেক জাতীয় তলবে সকল বাঘ-সিংহ-মহিষ-কুমির এক ঘাটে জল খায় চাইলে এখনও খাবে। কলেজের শিক্ষক এবং আর্মি-নেভি-এয়ার ফোর্স দিয়ে যদি এমন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করা যায় ৬৪০০-টি তাহলে দেশের আইন শৃঙ্খলা এমনি এমনি পরিবর্তন হয়ে যাবে। আবার প্রতিরক্ষা খাতের বিশাল বাজেট থেকে চমৎকার গণমুখী কল্যাণকর একটি সুফল পাওয়া যাবে। অন্যদিকে প্রশিক্ষণের মান, গ্রহণযোগ্যতা এবং মানুষের আস্তা অর্জনে সুবিধা হবে।

টেকসই কৃষি এবং দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির  সফল বাস্তবায়ন  ছাড়াও বাকি অনেক বিষয় আছে যেসব সকলেই আলোচনা করে যেমন- আউট সোর্সিং নিয়ে ব্যাপক সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাসহ এগিয়ে আশা উচিৎ। আরও কিছু বিষয়ে সরকারের নজর দেয়া উচিৎ, যেমন- কুটিরশিল্পে ক্ষুদ্র উদ্যোগতাদের সরকার ব্যাপক অর্থায়ন করা, সেজন্য ক্ষুদ্রঋণে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং ব্র্যাকের মত না হয়ে কল্যাণকর কোন উপায় বের করা, আর ব্যাপকভাবে কম খরচে জনশক্তি রপ্তানি করা।

আশাকরি আগের পর্বগুলোর মতই সকলে এই উদ্যোগটাকে আন্তরিকভাবে সাহায্য করবেন নিজেদের সকল প্রকার ঐকান্তিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরামর্শ দিয়ে।

নোটঃ আগামী এবং শেষ পর্বে ৬) জনসংখ্যা সমস্যা এবং ৭) সন্ত্রাস এবং বিপথগামী ছাত্র ও যুব রাজনীতি সমস্যাদ্বয় নিয়ে নিজের কিছু প্রস্তাব বা ভাবনা তুলে ধরব।

প্রাসঙ্গিক পূর্বের পোস্টগুলোঃ
ক) “বঙ্গবন্ধুর ইউটোপিয়া ‘বাংলাদেশ’ গঠনে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের অনিবার্যতা”-একটি প্রস্তাব ও সম্ভাবনা”
খ) ‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’ অতঃপর দেশের সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাবলীর সমাধান (১ম পর্ব)
গ) ‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’ অতঃপর দেশের সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাবলীর সমাধান (২য় পর্ব)

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/tlincoln_bd/24121.html



মন্তব্য করুন