Suva Rastafarian-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

ধিক্কার জানাও, বিদ্রুপ করো, ওদের গতি রোধ করো আমাদের শিল্প দিয়ে।

লিখেছেন: Suva Rastafarian

আমাদের কাছে ভাষা হল  আমাদের অন্তরজগতের সত্যলোক আর বর্হিবিশ্বের রহস্যলোকের শব্দের শরীর। ভাষা হল আমাদের কাছে আমাদের চিন্তা-চেতনার, মননশীলতার, আবেগের সশব্দ রূপ, আমাদের সত্ত্বার বিকাশের জানান দেয়া। কিন্তু আমরা বেড়ে উঠেছি এমন এক সমাজব্যবস্থায়, যেখানে পুরো প্রণোদনা সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা হোঁচট খেয়েছি এমন এক স্বার্থান্বেষী মহলের কাছে, এমন এক অপসংস্কৃতির উঠোনে, যাদের কাছে ভাষা হল উদ্দেশ্যের মুখোশ।

ওদের কাছে ভাষা হল নিখুঁত কায়দায় রচিত, রাজনৈতিকভাবে আদর্শায়িত, সীমাহীন মিথ্যা নথির নির্ভরে, অসাধু উদ্দেশ্যে নির্মিত, অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক, সাধারণ মানুষকে ঠকানোর একটি অসাধারণ মাধ্যম। গণজাগরন মঞ্চের প্রেরণা, দৃপ্ত কন্ঠের দ্ব্যর্থ শপথে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ভূলতে বসেছিলাম-  ওদের কাছে অর্ধ সত্য কিংবা পুরো মিথ্যা -এর নতুন সুশান্ত শব্দটি ঢের মহৎ – সত্য!!

কিন্তু তাদেরও আবার ভূলে গেলে চলবে না – শ্বেত যুক্তির অংশ হলে ক্রমেই আত্মলুপ্ত হবে আপনার বিবেক। দেহের মৃত্যু ঘনিয়ে আসে চোখের সামনে, আর্ত-নিনাদে, জানান দিয়ে, আর স্বকীয় আত্মার বা বিবেকের মৃত্যু ঘনিয়ে আসে নিশুতি রাতে, চোখের অগোচরে, চুপিসাড়ে।

আর তাইতো যে ভাষা আমরা পেয়েছি রক্তের অক্ষরে, অগ্নি-চেতনায় শাণিত হয়ে, সে ভাষায় আমরা মিথ্যাচার করতে পারিনি, ধর্মের নামে চরম অধর্মকে আমরা আমাদের হাতিয়ার বানায়নি, ব্যক্তিগত স্বার্থের লোভে, কিংবা অর্থের মোহে নিজেদের বিকিয়ে দেইনি। আমাদের স্বার্থকতা অথবা তাদের ভাষায় ব্যর্থতা এতটুকুই।

জানিয়ে রাখা ভাল- আমরা আগামীকালই বড়সড় কোন জয়ের প্রত্যাশা করিনি। কেউ কেউ ভেবেছিলেন, আমরা অল্প সময়ের জন্য এই আন্দোলনে নেমেছি এবং খুব সহজেই আমাদের বিভ্রান্ত করতে পারবে। অনেকে হয়ত এটাকে বিশ্বাসও করেছিলো। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি কোন ধরনের নেতৃত্ব লাভের আশায় নয়, কাউকে দ্বন্দে দ্বিধান্বিত করতে নয়, কিংবা নিজেরা বিভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট, হতে নয়, কোন ধরনের লেজুড়বৃত্তি কিংবা কোন দলের বা ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের স্থাবক ও মোসাহেবগিরি করার লক্ষ্যে আমাদের এই জাগরন নয়।

আমরা এসেছি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, ভাষা আন্দোলনের প্রেরণায়, চিন্তা ও মননশীলতায় বাঙালী জাতি সত্তার ধারণায়, ৩০ লাখ শহীদের রক্তস্নাত আমাদের এই পবিত্র বাংলাদেশের মাটিকে যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারমুক্ত করার দৃপ্ত অভিপ্রায় নিয়ে। একটি সজাগ, সচেতন ও সংগঠিত প্রয়াস আজ একটি পরিবর্তনের ছোঁয়ায়, গণজাগরনের চেতনা বোধে জাগ্রত, স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার ভাবনায় উদ্ভাসিত, দৃপ্ত পদক্ষেপে ঐক্য ও সম্প্রীতির ৭১’-এর অগ্নি চেতনায় শাণিত।

তাই যারা আজ আমাদের নাস্তিক-মুরতাদ বলে, আমাদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে তিক্ততম প্রতিরোধ ও আপত্তিতে কন্টকিত ঘৃন্যতম কাজটি করছেন, “Get well soon,” – তাদের প্রতি এই শুভ কামনা রইল।

কী বেদনা!! ধর্ম ব্যবসায়ী আপনারা শকুনের মত কঙ্কালে ঠোঁট ঠুকছেন, যা আপনাদের পূর্ব-কাপুরুষ, নর-পিশাচ, গণ ধর্ষক, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, জামাত-সংঘ হায়েনারা অনেক আগেই মেরে খেয়ে গেছে আর এখন চাঁদের বুকে মেশিন চালাচ্ছে। পবিত্র ইসলামের দোহাই দিয়ে দিনে-দুপুরে ডাকাতি করবেন আর কেউ তা বুঝবেনা, এত বোকা পেয়েছেন?? আপনাদের লেনদেনে আসলে ঢুকে গেছে বেনোজল।

কি প্রহসন!! আপনাদের সব উস্কানিমূলক প্রশ্ন, আমরা ইসলামের শত্রু, নির্ঘাত গুপ্তচর, সবচেয়ে হাস্যকর—নিশ্চয়ই কোন এক বিশেষ মহলের টাকা পাচ্ছি!!! সত্যিই সেলুকাস!! আপনাদের এই নির্বোধের paranoia, বা মানসিক ভারসাম্যহীনতার কলঙ্কিত ভাবনাটি, আসলে যে সত্যকে গোপন করার ও মস্তিষ্কহীন একটি দঙ্গলকে চাবকে উন্মত্ত করার খুব সচেতন ও বিপজ্জনক একটি প্রয়াস, তা আপনাদের অসচেতনায় এবং একই নাটকের বারবার বহুবার প্রচারে শুধু ফ্লপ-ই হয়নি বরং আপনাদের সেই জাতীয়তাবাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মুখোশ গুলোকে নগ্ন ও জঘন্যভাবে উন্মোচন করেছে।

তাই যারা ১৩-ই মার্চ চট্টগ্রামে গণজাগরন মঞ্চের আঁতুড়-ঘরের শৌর্যের ধারক, বীরত্বের বাহক, বীর বাঙালীর অহংকার, জাগ্রত তরুণদের আসতে না পারা নিয়ে মর্মাহত, কিংবা নিজেদের পরাজিত ভেবেছেন, তারা  ১৪-ই মার্চের প্রতিবাদী সমাবেশের উত্তাল জনজোয়ারে হৃত আশা পুনরুদ্ধার করেছেন, কিংবা আশুলিয়ার সমাবেশ নিয়ে যারা উদ্বিগ্ন ছিলেন, তাদের সংশয় কেটেছে আশুলিয়ার প্রাণবন্ত গণজাগরন দেখে, আর এখন ও যারা নব্য জামাত; হেফাজত এর আস্ফালন, আর জনসমর্থনে বঞ্চিত, জামাত সমর্থনে উত্তেজিত জামাতের মহিলা আমীর গোলাপী বেগমের নাস্তিক্যবাদের সর্বগ্রাসী আগ্রাসনে ব্যথিত কিংবা হতোদ্যম তাদের সকলের উদ্দেশ্যে নিচের লেখাটি পড়ার বিশেষ অনুরোধ রইল–

আমার শার্টের বুক পকেটের নিচে একটি অসাড় চামড়া, সেই চামড়ার নিচে কিছু একতাবদ্ধ হাড়, ঠিক তাদের নিচে একটি আহত হৃদয়– সেই ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ের রক্তক্ষরণ, অসহায় আত্মার আর্তনাদ, জাগ্রত বিবেকের হুংকার, অহিংসতার বিনাশকারী নিষ্ঠুর নির্মমতা, হয়তো আমার মতো আপনারা যারা গণজাগরনের কর্মী তাদের জানান দিয়েছে কোন অনিষ্টের বার্তা? তবে শুধু এতটুকু মনে রাখবেন- আজ বোঝা গেল-  ফুটকি গুলো সংযুক্ত হয়েছে, নৃশংসতার রূপরেখাটি ফুটে উঠেছে,’-

আর ভূলে যাবেন না- আমরা অনেক, আর ওরা মাত্র কয়েকজন, ওরা কাপুরুষ, শিশুহন্তার দল, ওরা অন্ধকারের আশ্রয়ে বাঙালী হত্যা করে, দূর থেকে বোমা মারে, ধর্মের নামে ব্যবসা করে, ওদেরকে আমাদের যত না দরকার, তার চেয়ে আমাদেরকে ওদের অনেক বেশী দরকার। ধিক্কার জানাও, বিদ্রুপ করো, ওদের গতি রোধ করো আমাদের শিল্প দিয়ে। আমাদের সাহিত্য, আমাদের জেদ, স্ফূর্তি, আমাদের উদ্যম, আমাদের প্রতিবাদ, আমাদের প্রতিভা, আমাদের বিশ্বাস, আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দিয়ে ওইসব পশু, নরপিশাচদের আমরা রুখবোই।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/suva-rastafarian/7990.html



মন্তব্য করুন