শিহাব হায়দার মুন (সপ্তক)-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

তিন হুমায়ূন উপাখ্যান

লিখেছেন: শিহাব হায়দার মুন (সপ্তক)

কবরস্থান আর হাশরের ময়দানের মাঝামাঝি জায়গা , এটির কোন নির্দিষ্ট নাম নেই। কেউ কেউ অবশ্য একে “বিশ্রাম স্থান” বলে ডাকে। আবহাওয়া  বড় অদ্ভুত এই বিশ্রাম স্থানের, মাঝে মাঝে খুব গরম আবার মাঝে মাঝে বেশ ঠাণ্ডা, তবে সহনীয়। বেশীরভাগ সময় সময়টা পড়ন্ত বিকেলের মত। অনেকটা ভাদ্র মাসের শুরুর মত। হুমায়ুন ফরিদি এখানে এসেছে মাত্র কয়েক মাস। প্রথম প্রথম মনটা  বেশ উদাস ই থাকত।পরিচিত মানুষ পেতে একটু সময় লেগেছে। প্রথমেই দেখা  হয়েছিল একজন বেশ ভালো মানুষের সাথে ,অমায়িক, তিনি আর কেউ নন সুবর্ণার বাবা গোলাম মোস্তফা, সব ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন, এখানে  এভাবেই কেউ না কেউ সবকিছু ঘুরিয়ে দেখায়,চেনায়। শেষমেশ গোলাম মোস্তফা ফরিদিকে পানশালায় ও নিয়ে যান। ফরিদি অবাক হয়ে দেখল বিশাল পানশালা,অদ্ভুত অদ্ভুত সব পানীয়। নারী পুরুষ এক কাতারে বসে পান করছে,কেউ কারও দিকে তাকায় না। এখানে নাকি নারী পুরুষের মানসিক রসায়ন নিউট্রাল। কেউ কারও প্রতি আকর্ষণ বোধ করে না। হাশরের ময়দানের বিচারের আগে এমনই নাকি চলবে। তবে এখনও কেউ শিওর না কে বিচার করবেন। গড,ভগবান নাকি ঈশ্বর?। বুদ্ধ রা এগুলো নিয়ে মাথা ঘামায় না,ওরা মনে করে আবার জন্ম হবে পৃথিবীতে,এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম মাত্র। তবে সাম্প্রদায়িক কোন সমস্যা  এখানে নেই। সব ধর্মের মানুষ যার যার মত আছে। থাকা খাওয়া ফ্রি, কিন্তু বাথরুম এর কোন ব্যাপার নেই এখানে বাথরুম পায় না।সবাই ভালই  আছে।শুধু মুসলিম আর খ্রিস্টান রা একটু টেনশন করে, বিচারে দোষী  হলে ত জাহান্নাম। তাও আনন্দ ফুর্তি তে ওরাই এগিয়ে। ফরিদি অবাক ই হোল গোলাম মুস্তাফা গলা পর্যন্ত পান  করার পরও একবার ও জিজ্ঞেস করলেন না সুবর্ণাকে শেষবারের মত কেমন দেখে এসেছ?। যাই হোক সময়টা আরও একটু ভালো কাঁটা শুরু হয়েছে  হুমায়ুন আজাদের সাথে দেখা হবার পর। বেচারা আজাদ বেশ গম্ভীর হয়ে গেছেন,কারণ এখানে নারী নিয়ে করার মত তেমন কিছুই নেই, নারী স্বাধীনতা এখানে অবান্তর বিষয়। তার সারা জীবনের পরিশ্রম এখানে কাজে লাগবে না এটা মানা তার পক্ষে কষ্টের ই বৈকি। তবে আজাদ সাহেব সবার কথাই জিজ্ঞেস করেছেন প্রথম দেখাতেই। কাদের তাড়াতাড়ি এখানে আসার সম্ভাবনা ইত্যাদি। আজাদ স্যার এর পান করার আগ্রহ বেশ কম, জিজ্ঞেস করলে বলেন , ওই জিনিস পৃথিবীতে এত পান করেছি যে যত অমৃতই হোক আর তেমন টানে না। তবে স্যার শুকনা তামাকের খুব ভক্ত হয়েছেন, একেকটা এমন টান দেন যে মনে হয় ধূমকেতু ছাড়ছেন, কল্কি লাগে না হাত ই যথেষ্ট,কারণ এখানে আগুনে কিছু হয় না। ফায়ার প্রুফ সবাই।

ফরিদির মনটাও আজ তামাকের জন্য ইতিউতি করছে। সুবর্ণাকে কেন জানি মনে পড়ছে খুব। আসার সময় যে অবস্থায় দেখে এসেছে তাতে করে এখানে খুব তাড়াতাড়ি আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে সুবরনার ,তার উপর আবার হাঁটুর বয়সী এক ছোকরাকে বিয়ে করেছে। অবাক ই হয়েছিল ফরিদি। ফরিদির ধারনা ছিল সুবর্ণা বড়জোর হুমায়ুন আহমেদ কে বিয়ে করবে। যাক এসব চিন্তা বাদ দিয়ে আজাদ স্যারের ডেরার দিকে রওনা দিল ফরিদি। গিয়ে দেখে ঘড়ের সামনে স্যার খালি গায়ে বসে আছেন। এখানে শুধুমাত্র হিন্দুরা বা সনাতন ধর্মীরা খালি গায়ে থাকে ,কারণ তাদের  পোড়ানো হয়।  মুসলমানরা কাফনের কাপড় এক প্যাঁচে পড়ে। বুদ্ধরা হলুদ গেরুয়া এমন ই। যাই হোক স্যারের সামনে বসতেই বলে উঠলেন “ আচ্ছা ফরিদি তুমি কখনো আমার কোন কবিতা পড়েছিলে?”। ফরিদি বিপদে ই পড়ে গেল, “নারী” র অর্ধেক ছাড়া স্যারের তেমন কোন বই পড়া হয় নাই। আমতা আমতা করতে থাকলে স্যার নিজেই বললেন “ পড় নাই ভালই করেছ, কবিতা,গল্প,…এসব না লিখে শুধু নাটক লেখার চেষ্টা করলেই ভালো করতাম”। ফরিদি এবার জবাব দিল “ কেন স্যার আপনি ত যা লিখেছেন তার মূল্য ত অনেক”। রীতিমত ক্ষেপে গেলেন স্যার, “ আরে রাখ তোমার মূল্য, বুঝতে যদি আমার মত চাপাতির কোঁপ খেতে”। স্যার এতটাই রেগে  যাবেন ভাবে নাই ফরিদি,চুপ মেরে গেল। স্যার বলতেই  থাকলেন , “ দেখ এই যে তুমি কি করেছ?…শুধু অভিনয়, জীবনে এক লাইন ও ত লিখ নাই, অথচ তুমি সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয়,  তোমার চেহারাও ত আমার চেয়ে ভালো না,অথচ তুমি হিট, কি ভিলেনে কি নায়কে। আমাকে ফষ্টিনষ্টি করতে হত গোপনে ,তুমি প্রকাশ্যে,কি সুবর্ণা আর কি…থাক বাদ দাও, তামাক এনেছ, আজ ধূমকেতু উড়িয়ে ছাড়ব”। আসার সময় ফরিদি লালন সাইয়ের ডেরা থেকে অরিজিনাল তামাক নিয়ে এসেছে, শরত চন্দ্র আর  লালন একসাথেই সোল এজেন্ট পেয়েছে এখানে তামাকের। অবশ্য এসব ভলান্টিয়ার ওয়ার্ক।  তামাকে কয়েক টান দিয়েই স্যার আবার দুঃখের কথায় গেলেন “ দেখ হুমায়ুন আহমেদ, কি সুন্দর অপ-ন্যাস(হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসকে অপ-ন্যাস বলতেন উনি)  লিখে কোটি পতি হয়ে গেল,বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের নিয়ে ফষ্টি নস্টি , কেউ কিছু বলল না। আর আমি মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে গিয়ে চাপাতির কোপ খেলাম,আর হুমায়ুন …আচ্ছা ফরিদি কে যেন বলল হুমায়ুন নাকি অক্কা পেয়েছে?, দেখেছ নাকি আশেপাশে?… তুমি আসার পরপরই নাকি এদিকে রওনা  দিয়েছে শুনলাম”। ফরিদির বেশ ঝিম ভাব এসেছে নিম্ন স্বরে জবাব দিল “শুনেছি,দেখা হয়নি এখনও”। স্যার এবার বেশ গম্ভীর গলায় বললেন “ বেটা ভাগ্যবান,তেমন ভালো কিছু না লিখেও জয়জয়কার”। ফরিদির নেশা বেশ পোক্ত এখন জবাব দিল “ আপনি স্যার আসলে জেলাস, হুমায়ুন অনেক মেধাবী, আপনি এস,এস,সি তে ফার্স্ট ডিভিশন, এইচ,এস,সি তে সেকেন্ড ডিভিশন, পড়েছেন বাংলায়, আর হুমায়ূন  আহমেদ আগাগোড়া স্ট্যান্ড করা ছাত্র, কেমিস্ট্রি তে ফার্স্ট। যেখানে হাত দিয়েছেন সেখানেই  সোনা না হলেও রুপা ফলেছে”। উত্তেজনায় উঠতে গিয়ে  ধপাস করে পড়ে গেলেন আজাদ স্যার। হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিলেন। ফরিদি কি করবে বুঝতে পারল না, লোকটা কাঁদছে কেন?। শিশুর মত করে কাঁদছে। এবার ফরিদি সান্ত্বনাই দিল “স্যার দেখেন সবাই সবকিছু পারে না।আমি অভিনয় ছাড়া জীবনে কিছু পারি নাই,তাই বাংলা সিনেমার ভিলেন হয়েছি,টাকার জন্য,আবার সেই কষ্ট কাটানোর জন্য মদ খেয়েছি অকাতরে।কথা একই আপনি চাপাতির কোপ খেয়েছেন আমি মদ খেয়েছি আর তামাক ত আছেই”।  বলেই লম্বা একটা টান দিল ফরিদি। এবার স্যার একটু শান্ত হলেন বড় টান দিয়ে একটা কবিতা আবৃত্তি শুরু করলেন। ফরিদি জিজ্ঞেস করল “আপনার লেখা স্যার?”।  “আরে নাহ তসলিমা  নাস-রিনের ।“। ফরিদি অবাক হয়ে বলল “স্যার আপনি ত বলেছিলেন তসলিমার দুয়েকটি কবিতা ছাড়া আর সব রাবিশ’। উদাস ভাবে স্যার জবাব দিলেন “আরে সে ত দুনিয়ায় বলেছি,এখানে কি বলেছি?”। ফরিদি মানল, না এখানে বলেন নাই। ফরিদি ও গান ধরল “দুই ভুবনে দুই বাসিন্দা…”।

আজাদ স্যারের আর ফরিদির নেশা একটু পাতলা হতেই কার যেন ছায়া দেখা গেল। স্যার হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন “কে।।কে ওখানে…”। কোন জবাব না পেয়ে ফরিদি ভালো করে তাকাতেই দেখে হুমায়ুন আহমেদ কাঁচুমাচু ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। “আরে আসুন আসুন।।আপনার কথাই স্যার বলছিলেন”… ফরিদি স্বাগতম জানালো হুমায়ূন আহমেদ কে। কাঁচুমাচু ভাবেই এসে  বসলেন বেচারা একপাশে। আজাদ স্যার গম্ভীর ভাবে জিজ্ঞেস করলেন “কবে আসলেন?”। “এই ত মাস খানেক” হুমায়ূন  আহমেদের কাঁচুমাচু জবাব। আজাদ স্যার উদাস ভাবে বললেন “আপনি ,আমি, ইমদাদুল হক মিলন, আর শামসুর রাহমান কত আড্ডা দিয়েছি একসাথে মনে পড়ে হুমায়ূন?”। “জী স্যার পরে”। হুমায়ুনের সংক্ষেপ জবাব। এবার ঘোর থেকে বের হয়ে আজাদ স্যার জিজ্ঞেস করলেন “আচ্ছা দেশের অবস্থা শেষ কি দেখে আসলেন?”। এবার একটু সহজ হয়ে হুমায়ূন আহমেদ ফরিদির কাছ থেকে একটু তামাক নিয়ে টান দিয়ে বলা শুরু করলেন “ সে স্যার অনেক লম্বা কাহিনী”। “কি রকম?” স্যার আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলেন। হুমায়ূন আহমেদ শুরু করলেন “ আপনারা মনে করেন আমি লিখে কোটিপতি হয়েছি ,আমার খ্যাতি সবার ওপরে,কিন্তু আমার শেষ পরিণতি আপনাদের কাউকে ই ভোগ করতে হয়নি…… মারা যাবার পর লাশ নিয়ে টানাটানি …শাওন চায় নূহাশ পল্লিতে ।।অন্যরা চায় অন্য কোথাও…… পচেই গিয়েছিলাম…মরলাম ক্যান্সারের কষ্টে তারপরেও ত শান্তি নেই…”। গম্ভীর ভাবে স্যার বললেন “তা ঠিক সবাই সবকিছু পায় না,আমি চাপাতির কোপ খেলেও এসব সমস্যা হয় নাই”। নেশার ঘোড়ে ফরিদি ফট করে জিজ্ঞেস করে বসল “আচ্ছা হুমায়ূন ভাই আপনি মেয়ের বয়সী শাওনকে বিয়ে করতে গেলেন কেন?। আমি ত ভেবেছিলাম সুবর্ণাকে বিয়ে করবেন”। একটু চিন্তা করে হুমায়ূন বললেন “দেখুন ফরিদি আমি আপনার মত এত উদার না,আমি ত র অভিনেতা না, আপনি,আফজাল,আসাদ এরা সুবর্ণার লিখিত অলিখিত স্বামী আবার কি সুন্দর আপনাদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মত, এসব আমাকে দিয়ে হত না।।তাই।।আর…কি…”। ফরিদি “হুম” বলেই চুপ মেরে গেল।

এখানে প্রাইভেসির বালাই নেই,সবাই সবকিছু নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে। এই হুমায়ূন আহমেদ ধরণীতে কোনদিন ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে মুখ খোলেননি ।অথচ আজ তার মুখে কথার খই ফুটছে।

কিছুক্ষণ নীরবতার পর আজাদ স্যার বললেন “ আচ্ছা হুমায়ূন আপনি  ত গুলতেকিন কে বিয়ে করেছিলেন ভালোবেসে  , সমস্যা টা কি  হয়েছিল ?”। হুমায়ূন আহমেদ এখন অন্য জগতে চলে গেছেন, ঝিম ধরেছে। বলা শুরু করলেন, “আমি যখন পরিবার নিয়ে আমেরিকা থেকে ফিরলাম , আয় রোজগার কম, নাটক লেখা শুরু করলাম,কিছু আয় বাড়ল, গুলতেকিন স্বাভাবিক ভাবেই নিল,পারট টাইম ইনকাম। কিন্তু যখন সিনেমা শুরু করলাম গুলতেকিন আর মানতে পারল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরী ছেড়ে দিলে আগুনে ঘি পড়ল। গুলতেকিন চাইত আমি বিভাগীয় ডিন হব,চ্যেয়ারম্যান হব,হয়ত উপাচারয্য। কিন্তু আমি ত জীবন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষায় ব্যাস্ত হয়ে গেলাম। পরিস্থিতি এমন জায়গায় গেল যে হয় আমি গুলতেকিন কে খুন করতাম আর না হলে সে আমাকে খুন করত”। আজাদ স্যার অবাক হয়ে বললেন “বল কি?”।  হুমায়ূন আহমেদ উদাস গলায় বললেন “হাঁ তাই। আলাদা হয়ে গেলাম।সেপারেশন যাকে বলে”। ফরিদি এবার বলল “তাই বলে মেয়ের বান্ধবী শাওন কেন?”। হুমায়ূন বললেন “ফরিদি আপনিও এ প্রশ্ন করবেন  ভাবিনি।যাই হোক জিজ্ঞেস যখন করেছেন  বলি আমি যখন গুলতেকিন কে বিয়ে করি ও ছিল ক্লাশ নাইনের ছাত্রী, এর কারন আমি ব্যখ্যা করতে পারব না,চেস্টাও করি না, তবে প্রায় দুই বছর আলাদা থাকার পর আমার আর গুলতেকিনের সম্পর্কের ইতি হলেই আমি শাওন কে বিয়ে করি”। আজাদ স্যার নাক ডাকা শুরু করে দিয়েছিলেন, ফরিদির কনুইয়ের গুতায় নড়েচরে বসলেন। ফরিদি এবার বিজ্ঞের মত বলল “হুমাইয়ুন ভাই কে কিভাবে এসব নিয়েছে আমি জানি না, তবে আমি যতটা না আপনার লেখার ভক্ত তার চেয়ে বেশী  ভক্ত আপনার লাইফ স্টাইলের।আপনি  যখন যা ভালো লেগেছে করেছেন। বহেমিয়ান জীবন। সেন্টমারটিনে বাড়ী বানিয়েছেন, চাকরী ছেড়ে দিয়েছেন হুট করে,সিনেমা বানিয়েছেন, দূরবীন দিয়ে লস এঞ্জেলেসের অবসারভেটরি মান মন্দিরে বসে তাঁরা দেখেছেন… আমরা কল্পনা করি এমন জীবন কিন্তু পারি নাই।আপনি পেরেছেন, একজন হুমায়ূন আহমেদ যা পারে সবাই তা পারে না”।

আজাদ স্যারের নাক ডাকার শব্দ আবার শোনা গেলো।

বিশ্রাম স্থানে এখন আলো ছায়ার লুকোচুরি। চারিদিকে সবুজ এর সমারোহ, অদ্ভুদ সুন্দর সব পাখীদের কলতান এসময়ে শোনা যায়।

তিন হুমায়ূন খুব আপনজনের মত পাশাপাশি  কালের অনুধ্যানে একাকার হয়ে মিশে যায়।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/soptok/31702.html



মন্তব্য করুন