এস এম শাদী-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

ইরানি ও মৃত্যুদূত।

লিখেছেন: এস এম শাদী

মৃত্যুদূত বলল,
-এই মেয়ে তোমার বয়স কত? ইরানি বলল,
-বয়স দিয়ে কি হবে?এখন তো আমি মৃত। মরণের পর সবাই তো সমান।কোন বয়স নেই বার্ধক্য নেই কিছুই নেই।
-মৃত্যুর আগে তোমার বয়স কত ছিল?
-চৌদ্দ।
-এত অল্প বয়সে দড়িতে ঝুলতে ভয় লাগেনি?
-লেগেছিল, কিন্তু তার চেয়ে বড় ভয় থেকে বাঁচতেই মরেছি। ইরানি হাসছে আর মৃত্যু দূত তাকিয়ে আছে এই অদ্ভুত মেয়েটির দিকে। সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চিরদিনের জন্য এখানে চলে এসেছে।এখানে নেই তার বাবা মা নেই কোন আপনজন।
মৃত্যুদূত জিজ্ঞেস করল,
-সেটা কোন ধরনের ভয় যেটা মৃত্যুভয়কে ও হার মানায়?
ইরানি বলল,
-আছে, এমন ভয় আছে যা মৃত্যুভয়কে ও হার মানায়। -কি সেটা?
-সমাজ।
-সমাজ?!
-হুমমম, সমাজ… শুধুমাত্র মেয়ে হয়ে জন্মানোর কারণে মৃত্যুর চেয়ে ভয়ানক সময় পার করতে হয়েছে আমাকে,,শেষে সইতে না পেরে গলায় দড়ি দিয়েছি।
-কি বলছ? আরোতো মেয়ে আছে। তারাতো এরকম করে না।
দূতের কথায় কান না দিয়ে ইরানি বলতে থাকল,
-আমার কি দোষ ছিল বলতে পারেন? আমাকে ধর্ষণ করল কিছু মানুষ নামের পশু।
অথচ প্রতি মুহূর্তে আমার দিকে বাঁকা চোখে তাকাতো সবাই।যেন আমিই দোষী।
আমার পরিবারের মানুষ গুলোও কেমন যেন বদলে গেল।
কেন সমাজের সবাই তাদের সাথে এমন আচরণ করে না যারা আমাদের মত মেয়েদের সর্বনাশ করে?
আচ্ছা আমি যদি মেয়ে না হয়ে ছেলে হতাম তাহলেকি এই অত্যাচার হতো আমার উপর?
কেন শুধু মেয়ে হবার কারণে আমাদেরকে এভাবে অকালে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হয়?
কেন সমাজ এবং সমাজের মানুষ আমাদেরকে মানুষ ভাবতে পারে না?

আর লিখব না,

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/smshadi/22997.html



মন্তব্য করুন