এস এম শাদী-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

গরিবের আবার টাট্টু ঘোড়া।

লিখেছেন: এস এম শাদী

এই বাক্যটি আমি প্রথমে শুনেছিলাম রৌমারী সি, জি, জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধেয় আবু হোরায়্রা স্যারের কাছে।
তখন আমি দশম শ্রেণীতে পড়ি।
স্কুলের একটি শিশু শ্রম বিষয়ক নাটিকাতে অভিনয়ের জন্য এই ডায়ালগ বলতে হয়েছিল আমাকে।
সেখানে আমি অভিনয় করেছিলাম মহাজনের চরিত্রে আর আমার দুই বন্ধু অভিনয় করেছিল আমার কর্মচারীর চরিত্রে।
সমবয়সী হলেও তাদেরকে দেখানো হয়েছিল শিশু হিসেবে আর আমাকে মাঝ বয়সী মহাজন।
আমি স্টেজে উঠেই তাদের দুজনের পাশে রাখা চেয়ারটাতে বসেছিলাম এবং একজনকে বলেছিলাম আমার পা টিপতে।
পা টিপতে টিপতে সে বলেছিল
সে স্কুলে যেতে চায় তাই শুনে আমি তিরস্কার করে বলেছিলাম,
-এহ, স্কুলে যাইব, গরীবের আবার টাট্টু ঘোড়া।
এই চরিত্রের জন্য যখন অভিনেতা নির্বাচন চলছিল তখন আমি অন্য এক স্যারের বাড়িতে একটা কাজে গিয়েছিলাম।এসে দেখি একজন সিলেক্টেড।তার পরেও অনুরোধ করে আমিও পরীক্ষা দিলাম…শেষে আমিই নির্বাচিত হলাম।
কারণ আমার ”গরিবের আবার
টাট্টু ঘোড়া” বাক্যটি নাকি অনেক বাস্তব সম্মত হয়েছিল।
নাটিকার শেষে আমাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় আর আমার মুখ দিয়ে বের হয় কেউ যেন শিশুদের দিয়ে কষ্টের কাজ না করায়।
এই বিষয় গুলো অনেক দিন আগে থেকেই দেখে আসছি নাটক সিনেমাতে।
বাস্তবে
গরিবের বাচ্চার এক মুঠো ভাত চাওয়াটাই যেন টাট্টু ঘোড়া চাওয়ার সমান।
এইযে দেখুন,
ঐশী তার বাবা মাকে হত্যা করল আর তার সাথে সাজা ভোগ করছে মাত্র ১৩ বছরের শিশু সুমি।
সুমির দোষ টা কি?
সে এক মূঠো ভাতের জন্য বড়লোকের বাড়িতে কাজ করতো সেটাই?
সুমির ক্ষেত্রে এখন মুক্ত ভাবে নিঃশ্বাস নিতে চাওয়াটাই যেন টাট্টু ঘোড়া চাওয়ার মত।
রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় অনেক গরিব শিশু বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে আছে।
অথচ আমরা তাদের জন্য কিছুই করছিনা।
আমাদের অনেকেরই সামর্থ নেই তাদের জন্য অনেক কিছু করার।
যাদের সামর্থ আছে তারা অনেক রিস্ক নিয়ে দূর্নীতি করেছে, সেগুলো তাদের কষ্টের কামাই।
তাই এইসব মানুষ নামের গরিবদের পাশে তারা দাড়াবে না।
আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে যারা কয়েক বছরে কয়েক লাখ থেকে কয়েকশ কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে।
এদের সন্তানেরা মূলত টাট্টু ঘোড়া পাচ্ছে নিয়মিত।
যত পাচ্ছে ততই চাচ্ছে।
যদি ডাইনোসর বিলুপ্ত না হতো এদের সন্তানেরা ডায়্নোসরের বাচ্চা কিনতো।
আচ্ছা আমাদের দেশে দুদক কিসের জন্য আছে?
ওটার কি কোন দরকার আছে?
দুই এক কোটি টাকা যদি মেরে দিত তাহলে বুঝতাম দুদকের চোখের আড়ালে হয়েছে
কিন্তু শত শত কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে খারাপ পথে সেটা কিভাবে দুদক না দেখে থাকে?
যদি এসব তাদের চোখে নাই পরে তাহলে দুদক থাকার দরকার টা কি?
মনের ভিতর একটা ভাবনা এসে গেল,
আমিও জানি আপনিও জানেন ওরা দূর্নীতি করে তার পরেও কেন আমরা এর প্রতিবাদ করি না??
আসলে আমাদের ভাবনাটা এখনও নিজের মধ্যেই আটকে আছে, বাইরের পৃথিবীতে এখনও যেতে পারিনি আমরা।
নিজে বাঁচলে বাপের নাম ধরনের মনভাব এখনও ছাড়তে পারিনি আমরা।
তাইতো ঘুষ দিয়ে নিজের জন্য একটা চাকরীর ব্যবস্থা করেই আমরা চুপ থাকি।
ঘুষের জন্য অন্য একজন যোগ্য মানুষকে আমরা বঞ্চিত করি।
প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য যেটুকু ত্যাগ আমরা করি তার চেয়ে অনেক কম যদি সমাজের জন্য করতে পারি তাহলে তাহলে এই দেশের উন্নতি কে ঠেকাবে ?

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/smshadi/21726.html



মন্তব্য করুন