এস এম শাদী-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

ডাকাত

লিখেছেন: এস এম শাদী

গ্রামের ভয়ংকর মানুষটির নাম বদর।
সে একজন ডাকাত।
চেহারায় ভয়ংকর ভাবটা নেই।
বদরের দুইজন বন্ধু,, তারাও ডাকাত একজনের নাম আলি এবং অন্যজন সুফিয়ান।
আলির গায়ে অশুরের মত শক্তি আর সুফিয়ান রোগা পাতলা মানুষ।
আজকে ওদের লক্ষ্য পাশের গ্রাম থেকে গরু নিয়ে আশা।
সিদ্ধান্ত হল প্রথমে থাকবে আলি তারপর বদর এবং শেষে সুফিয়ান। তারা যাওয়া
শুরু করল পাশের গ্রামে দুই গ্রামের, মাঝামাঝি ফাকা একটা জায়্গায়
দাড়ালো সুফিয়ান তারপর বদর আর আলি এগিয়ে গেল, কিছুদুর গিয়ে বদর
দাড়িয়ে পরল জনশূণ্য একটা জায়্গা দেখে।এবার আলি হাটতে হাটতে গিয়ে উঠ্ল
সেই বাড়িতে যেখান থেকে গরু হাতিয়ে নেয়ার প্ল্যান করেছে।
আলি বাড়ির ভিতরে গিয়ে কয়েকটা গরুর মধ্যে থেকে একটা নিয়ে নিল এবং
বেড়িয়ে এল। বাড়ির এক মহিলা দেখল কিন্তু ভয়ে কিছুই বলল না তখন।
আলি গরুটি নিয়ে এসে দাড়িয়ে থাকা বদরের হাতে দিয়ে দিল গরুটিএবং ওই
এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে লাগল যাদের সাথে দেখা হল তাদের সাথেই হাসি তামাসা
করতে লাগল যেমন, আলি একজন কে ডেকে বলল
আমার শরিলের যেইখানে ইচ্ছ্যা কিল মার, আমার কিছুই অইব না
সে ঘুষি মারল কিন্তু আলির কিছুইহল না।
আলি খিক খিক করে হাসল।
অন্যদিকে বদর গরু টিকে নিয়ে হাটতে থাকে নিজ গ্রামের দিকে। রাস্তায়
অনেকেই তাকে দেখে কিন্তু তাতে তার কিছুই এসে যায় না।
কিছুক্ষন পর সে সুফিয়ানের কাছে পৌছে গেল। এবং গরুটি হস্তান্তর করল।
এবং আলির মতই এদিক ওদিক ঘুরতে লাগল।
তবে আলির মত করে কাওকে বলল না তাকে ঘুষি মারতে।
সেইদিন রাতেই গরু জবাই করা হল এবং আসেপাশের বাড়িতে গোস্ত দেয়া হল,তাই
বদর সুফিয়ান কে বলল
-যা রহমান ভাই রে এক গামলা গোস্ত দিয়া আয়
সুফিয়ান গোস্ত নিয়ে ঢুকল আব্দুর রহমানের বাড়িতে।
আব্দুর রহমান মিয়া এই গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ, সে তার স্ত্রীকে নিয়ে বাস করে।
সে বদরের দুর সম্পর্কের ভাই হয়।
সুফিয়ান গোস্ত নিয়ে গেল ঠিকই কিন্তু দিতে পারল না, আব্দুর রহমানের
স্ত্রী ঘরের ভিতর থেকেই ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বলল সুফিয়ান কে।
সুফিয়ান ফিরে আসলে বদর খুব রেগে গেল
এবং বলল
-আইজ রাইতেই রহমানের গোয়াইলের বড় গরুডা নিয়া আসমু।
রাত শেষ হলে বিচার বসল গ্রামে।
পাশের গ্রামে যে লোকটার গরু নিয়ে এসেছে সে বিচার চেয়েছে বদরের গ্রামের
মাতব্বরদের কাছে।
সাথে করে নিজ গ্রামেরও দুইজন মাতব্বর নিয়ে এসেছে।
কিন্তু বিচারে কিছুই হল না বদরদের, তারা অস্বীকার করে বসল ঘটনা।
মানুষ জন একেক জন একেক কথা বলল, কেউ বলল আলির কাছে গরু দেখেছে কেউ বলল
বদরের কাছে কেউবা সুফিয়ানের কাছে।
এদিকে আব্দুর রহমান কোন বিচার না চেয়ে বদরের কাছে গিয়ে বিনয়ের সাথে
তার গরুটা ফেরত চাইল।
বদর বলল
-গরুতো ওরা বেইচা ফালাইছে। তুমি এক কাম কর।ব্যাবসা শুরু কর।তাই তুমার লাভ অইব।
-আমিতো ব্যবসার কিছুই বুজিন্যা।
-বুজা লাইগব না। তুমি মিডাই কিনব্যা আর নিয়া ভারতে বেচপ্যা।
কয়েকদিন পর আব্দুর রহমান গুর কিনে আনল রাতে ভারতে বিক্রি করতে নিয়ে যাবে বলে।
সন্ধ্যার দিকে বদর উপস্থিত হল রহমান মিয়ার বাড়িতে এবং জানাল রহমান
মিয়ার গুরের কথা
বি,ডি,আর জেনে গেছে তাই তাকে ধরতে আসছে।
রহমান মিয়া খুব ভয় পেয়ে গেল এবং বদরকে কিছু একটা করতে বলল।
এই সুযোগে বদর বলল,
-ম্যালা ট্যাহা লাইগব।আইচ্ছ্যা আমি ব্যাবস্তা করমু, তুমি এক কাম কইর আমার
নামে পুব মুর্যার ১ বিগ্যা ক্ষ্যাত লেইহ্যা দিও।

একদিন বদর আলি আর সুফিয়ান আড্ডামারছিল,
সুফিয়ান বলল
-আর কতদিন?
-হ, বদের তুই বোডে খারা।নেম্বার অ।(আলি বলল)
-দুর আমার বোড দিব ক্যারা?
সুফিয়ান বলল
কমু ডাহাতি ছাইড়া দিমু
কিছুক্ষন ভেবে বদর সম্মতি জানাল।
গ্রাম বাসীকে তারা জানাল বদরকে ভোট দিলে তারা ডাকাতি ছেড়ে দেবে,,
গ্রামে এবং পাশের গ্রামে ডাকাতি করবে না শুধু ভারতে করবে,
অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে সবাই ভোট দিল বদরকে।
তারপর থেকে বদর আর গ্রামে এবং পাশের গ্রামে ডাকাতি করে না শুধু সরকারি
মাল আর ভারতে গিয়ে ডাকাতি করে,,কারণ সে এখন ইউনিয়ণ পরিশোধের সদস্য।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/smshadi/20342.html



মন্তব্য করুন