জন কার্টার-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

নেলসন ম্যান্ডেলা; একজন সফল বিপ্লবী…………

লিখেছেন: জন কার্টার

বিংশশতাব্দীতে পৃথিবী ব্যাপি যে কয়জন বিপ্লবী শাসকদের ভীত নড়বরে করে তুলে ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা।
এই মহান বিপ্লবীর জন্ম ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই।দক্ষিন আফ্রিকার মানুষ নেলসন ম্যান্ডেলাকে আদর করে ডাকতো ”মাদিবা” বলে।
নেলসন ম্যান্ডেলা রেসিজম বা বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে ছিলেন অগ্রপথিক।
তিনি ছিলেন আফ্রিকান কংগ্রেসের সশস্ত্র সংগঠন উমখন্তো উই সিজওয়ের সক্রিয় নেতা।১৯৬২ সালে দক্ষিন আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকার নেলসন ম্যান্ডেলাকে গেরিলা কর্মকান্ড ও বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশ গ্রহনের দায়ে গ্রেফতার করা হয়।এবং এই মহান বিপ্লবীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়।

এই বিপ্লবীর বন্দিজীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছিল জনমানবহীন রোবন দ্বীপে।বন্দি থাকতে হয়েছিল অন্ধকার প্রকোষ্ঠে।এরপরেও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন।
অবশেষে ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ ২৭ বছর কারাভোগের পর তিনি মুক্তি লাভ করেন।
এতকিছুর পরও তিনি আবারও বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন।এবং একই সঙ্গে তিনি তার দলের হয়ে দক্ষিন আফ্রিকার বর্ণবাদী শেতাঙ্গ সরকারে সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
এরই ফলশ্রুতিতে দক্ষিন আফ্রিকায় বর্ণ বাদের অবসান ঘটে।এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৪ সালে দক্ষিন আফ্রিকায় কালো মানুষেরা প্রথম ভোটাধিকার লাভ করে।এবং দক্ষিন আফ্রিকায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৯৪ সালে গণতান্ত্রিকভাবে নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সফলভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৯৯ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহন করেন।

প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা কালীন শেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের নীতি গ্রহণ না করার জন্য এই মহান বিপ্লবী দেশে বিদেশে প্রশংসিত হন।

তিনি ১৯৯৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার সহ ২৫০টির বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন।

এই মহান বিপ্লবী নেতা ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজত জয়ন্তি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে এসেছিলেন।জানিয়ে ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তার অশেষ ভালবাসার কথা।

[উল্লেখ্য এই মহান বিপ্লবী নেতা বৃহস্পতিবার রাতে জোহানেসবার্গে তার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।গত সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ফুসফুসের সংক্রমনে ভুগছিলেন।]

এই মহান বিপ্লবী ছিলেন মানবতার এক মূর্তপ্রতীক।নেলসন ম্যান্ডেলা আবারও প্রমাণ করে গেলেন।
”বিপ্লবীর মৃত্যু আছে, কিন্তু বিপ্লব চিরস্থায়ী।”

বিপ্লব দীর্ঘজাবি হোক।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/shuvo-291/25873.html

 4 টি মন্তব্য

(ফোনেটিক বাংলায়) মন্তব্য করুন

  1. শঙ্খনীল কারাগার

    বিপ্লবীর মৃত্যু আছে, কিন্তু বিব্লপ চিরস্থায়ী।মহান বিপ্লবী নেতার প্রতি শ্রদ্ধা।

    1. খাজা বাবা

      …….বিপ্লব দীর্ঘজাবি হোক।

      ধন্যবাদ…….

      জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

  2. ফাতেমা জোহরা

    লেখাটা ভালো হইছে। অনেক কিছু জানতে পারলাম। ও আর একটা কথা, আপনি মন্তব্য করেন কিন্তু সেখানে কিছু লেখেন না কেন?

    1. খাজা বাবা

      ……..অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

      আসলে আপনার লেখা এমনিতেই স্বয়ংসম্পূর্ণ………কোন কিছু লেখা নিষ্প্রয়োজন।
      তাই Blank রেখে মন্তব্য করি।

      নেক্সট টাইম থেকে নিশ্চয় কিছু না কিছু লিখব।

      ধন্যবাদ……..

      ……জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু

মন্তব্য করুন