সাজেদুর-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

মাওলানা ভাসানী ও হক কথা

লিখেছেন: সাজেদুর

মওলানা ভাসানী মানুষটা ছিলেন বড়ো সাদাসিদা। পোশাকে-কাজে-কথায়, একচুল বাড়তি বাহুল্য ছিল না। নামের কোন মোহ তাঁর মধ্যে প্রভাব ফেলত না। কিন্তু দেশের বেলায় কোন আপোস নাই- পাকিস্তান জান্তাদের থোড়াই কেয়ার করতেন। তখন একের পর এক আগুনের গোলা উগরে দিতেন। মানুষটা আবার রসিকও কম ছিলেন না।

১৯৭০ সাল। প্রলয়ংকরী জলোচ্ছ্বাসের পরে মার্কিন সৈন্যরা এই দেশে আসার জন্য এক পায়ে খাড়া। মওলানা ভাসানী প্রকাশ্যে বললেন, “ভাইজানেরা আসুক তাহাতে আপত্তি নাই কিন্তু যাইবার বেলায় তাহারা যে লাল-লাল ভাইগ্না রাখিয়া যাইবেন তাহাদের কি হইবে!”

 

‘পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামে’ শরিক হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নব্বই বছরের বৃদ্ধ জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেন, ‘মুজিব, তুমি স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান সংগ্রামে যোগ দাও। যদি আমেরিকা ও ইয়াহিয়ার স্বার্থ-এ কাজ কর তাহলে আওয়ামী লীগের কবর ’৭০ সালে অনিবার্য। …।’

এই প্রসঙ্গে মওলানা ভাসানী আরও বলেন, ‘যারা বলে নির্বাচনে শতকরা একশটি আসনে জয়ী হয়ে প্রমাণ করবে জনতা তাদের পেছনে রয়েছে তাদের সঙ্গে আমাদের মতের মিল নেই। দক্ষিণ ভিয়েতনামে দেশপ্রেমিক গেরিলারা যখন লড়াই করেছে তখনও সংগ্রামের মুখে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু তার দ্বারা একথা প্রমাণ হয়নি যে নির্বাচনে বিজয়ীরা জনগণের বন্ধু। বরং তারা সাম্রাজ্যবাদ ও স্বৈরাচারের তল্পীবাহক।’

 

মাওলানা ভাসানী হক কথায় লিখেন, একদিন শয়তানের প্রধানকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। শয়তানের সকল শাখায় সংবাদ পৌছে গেল যে, শয়তান প্রধাননের কোন খবর নাই। খবর পাওয়া মাত্রই দুনিয়ার সকল শয়তান জরুরী ভিত্তিতে মিটিংয়ে মিলিত হয় এবং ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। কিন্তু দুদিন পার হওয়ার পরও কোন সন্ধান কেউ দিতে পারেনি। অতপর শয়তানের যে এজেন্ট জাহান্নামের দায়িত্বে আছেন তাকে ফোন করা হল, শয়তান প্রধানকে আল্লাহ কোন গোপনে জাহান্নামে ঢুকিয়ে রেখেছে কিনা? খবর আসল তিনি জাহান্নামে নাই। তাহলে বেহেশতে দেখ আল্লাহ কোন তাকে মাফ করে দিয়ে সেখানে রেখেছে কিনা? সকল সম্ভাব্য সুত্রে খবর নিয়ে দেখা গেল তিনি সেখানেও নেই। শয়তানের সকল এজেন্সীগুলো আবারো সচল হল এবং শয়তান প্রধানকে ভূপৃষ্টে তন্ন তন্ন করে খোঁজা হল। কোথাও থেকে কোন আশাব্যঞ্জক খবর পাওয়া গেলনা।

দুদিন পর অকস্মাত খবর আসল শয়তান প্রধানকে পাওয়া গিয়েছে। সবাই প্রশ্ন করল কোথায়?? উত্তর আসল তিনি বাংলাদেশের বঙ্গভবনে। আবারো প্রশ্ন তিনি ওখানে কি করছেন? মাধ্যম উত্তরে জানালেন তিনি এখন শেখ মুজিবের পা টিপাটিপি করিতেছেন। সব শয়তান তাজ্জব হয়ে গেলেন দুনিয়ার এতকাজ থাকতে শয়তান প্রধান শেখ মুজিবের পা কেন টিপতেছেন কেন? তার সাথে কি কথা বলা যায়? উত্তর আসল এমুহুর্তে কথা বলার সময় ওনার হাতে নাই, কেউ যাতে ওনাকে বিরক্ত না করে। তারপরও সকল শয়তান তাদের প্রধানের নিকট অনুনয় বিনয় করে জানতে চাইলেন শেখ মুজিবের পা টিপার রহস্যটি কি? অবশেষে শয়তান প্রধান জানালেন, শয়তান প্রধান নিজেও একজন মানুষকে গোমরাহ করতে অনেক কষ্ট করতে হয়। কখনও সফল হন কখনও ব্যর্থ হন। কিন্তু শেখ মুজিব যেভাবে একটি বক্তৃতা দিয়ে তার সকল অনুসারীদের গোমরাহ করেন, সে যোগ্যতা শয়তান প্রধানের নেই। শেখ মুজিব এককথায় যতজন মানুষকে পথভ্রষ্ট করতে পারেন, শয়তান প্রধান সারা জীবনেও তা করতে পারেন না। আর ৭ই মার্চের ভাষনে শেখ মুজিব এক বক্তৃতায় সাড়ে সাত কোটি মানুষকে গোমরাহ করেছে, যা কিনা সকল শয়তান সদস্য ১০০ বছরে করতে পারেনা। তাই শয়তান প্রধান অন্য সকল কাজ বাদ দিয়ে একজনের পা টিপাতে লেগে গেছেন, যদি শেখ মুজিবের মাধ্যমে আরেকটি বক্তৃতা বের করা যায় এই আশায়।

মাওলানা ভাষানী কর্তৃক প্রকাশিত হক কথা পত্রিকাটি তারপরদিনই নিষিদ্ধ করা হয় চিরতরে। মাওলানা ভাষানী গ্রেফতার হন, নিক্ষিপ্ত হন জেলের প্রকোষ্টে। এখানে উল্লেখ্য মাওলানা ভাষানী শেখ মুজিবর রহমানের রাজনৈতিক গুরু ছিলেন। ৬৭ থেকে ৬৯এর গন আন্দোলন মূলত মাওলানা ভাষানীর সৃষ্টি, সে সময় শেখ মুজিবর রহমান আগরতলা ষড়যন্ত্রে পরিকল্পনারত অবস্থার ব্যস্থ। পরবর্তীতে মাওলানা ভাষানীর সমূদয় ফসল শেখ মুজিবের ঘরে যায়। যাহোক দেশ স্বাধীন হয়, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়না। এ সর্ম্পকে সরকারকে ইতিবাচক বহু লিখা মাওলানা লিখেছেন, দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ফল হল চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনীর মত। অতপর: মাওলানা এই সম্পাদকীয় লিখেন। এমনিতেই মুজিব সমালোচনা বরদাশত করতেন না, তাই গুরু সমালোচনা করেছেন নাকি শত্রু করেছেন এই চিন্তারও দরকার ছিলনা শেখ মুজিবর রহমানের।

 

—————————————————————————

আদর্শের বিভক্তিতে আমি দ্বিধা-দন্দে। সঠিক ও স্বচ্ছ কথা হজম করার মত সাহস মনে হয় সবার থাকেনা। তাই বাহুবলকে কাজে লাগিয়ে কার্যসিদ্ধি করা হয়। সত্যি কথা বলতে কি আমরা যারা সাধারণ জনগণ তারাই সেই জন্মলঘ্ন থেকেই ফাঁটা বাশের চিপায় ছিলাম ও আজও আছি। ইতিহাসের প্রবাহিত ধারা যা বলে তা শুধু রক্ত আর ক্ষমতার হাতবদল। আজও বুঝলামনা কি সুধা ঐ ক্ষমতার অন্তরালে।

আমার এক বন্ধুর কথা আজ খুব বেশী মনে পড়ছে। সুষ্ট সমাজ ব্যবস্হা, পুজিবাদ ও বৈসম্য দুরিকরণ নিয়ে যথেষ্ট লেখালিখি করতো সেই ভার্সিটি লাইফ থেকেই। আমরা সবাই তাকে বলতাম “পাগলা”।

সেই পাগল বন্ধুটি ছিল একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং সঠিক ইতিহাস তার থেকে কে-ই বা বেশী জানবে!! তার সাথে দেখা হলে রাজনীতির একটা প্রসঙ্গ থাকতোই টপিক হিসেবে। মুজিব বলুন আর জিয়া বলুন সবাইকে ইচ্ছে মতন বকতো, আমি বেচারা না জেনে প্রতিবাদও করতাম না আবার চুপও থাকতে পারতাম না। আজ একটু একটু করে জানছি আর বুঝছি কেন সে এতো ক্ষ্যপা থাকতো। আমাদের এই ৪২ বছরের রাজনৈতিক পটভুমি কেন দূষিত থেকে দূষিত হয়ে পড়ছে তা আমরা হয়তো জানি আর না জানলেও জেনে নেবো।

—————————————————————————

তথ্য সূত্রঃ

(আলী মাহমেদ- এর ব্লগ, উইকিপিডিয়া, সামহয়ার ইন ব্লগ, প্রথম আলো)

 

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/shajadur/20369.html



মন্তব্য করুন