সাজেদুর-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

“রাজনীতি” – কিছু অজানা ইতিহাস

লিখেছেন: সাজেদুর

রাজনীতি করতে কি কি যোগ্যতা লাগে? ১. প্রথাম ও প্রধান যোগত্যা প্রচুর অর্থের যোগান থাকতে হবে; ২. অস্ত্র চালনায় পারদর্শি হতে হবে। ৩. নিজ এলাকা ও আশেপাশের এলাকায় আপনার নামের জোর তথা ক্ষমতার প্রভাব থাকতে হবে।

বর্তমান রাজনীতির ডালপালা এভাবেই প্রসারিত। যে যত আতঙ্ক ও ত্রাশ ছড়াতে সক্ষম তার মর্যাদা ততো উপরের সারিতে।

ইতিহাসকে খুব একটা প্রধান্য দেইনি তাই অনেক কিছুই অজানা আজও, কিন্তু জানার ইচ্ছেটা মরে যায়নি। তাই পড়ছি আর অবাক হচ্ছি। “রাজনীতি” কখনই পছন্দের কোন বিষয় ছিলনা কিন্তু দেশকে নিয়ে ভাবতে হলে এই রাজনীতি-ই ঘুরে ফিরে সামনে চলে আসছে। কিছু তথ্য খুবই অবাক করেছে, এমনকি ৭১এর পর থেকেই এদেশের রাজনীতি স্হিতিশীল ছিল না। ক্ষমতার লড়াইয়ে শুধু রক্ত ঝড়েছে। আজ ইতিহাসের খুবই সামান্য কিছু খন্ডিত অংশ তুলে ধরলাম (আমার ফাঁসি চাই - মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেন্টু)। আমি নিশ্চিত, আমার মত পাঠকরাও একটু অথবা বৃহৎ ধাক্কা খাবেন।

==================================================

৭৫-এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে হত্যা করে খন্দকার মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল ও অনির্দিষ্ট কলের জন্য কার্ফু ঘোষণা করে।

“সহকর্মী হিসেবে শেখ ‍মুজিব যাদের দীর্ঘদিন কাছ ও পাশে রেখেছেন সেই সকল আওয়ামী লীগের নেতা নীরব ও নিশ্চুপ থেকেছেন।….. ‘৭৫-এর ১৫ আগষ্ট শেখ মুজিব হত্যার পর আওয়ামী নেতাদের ‘ওয়েট এন্ড সি’- এর রাজনীতি ‍শুরু হয়।” (পৃষ্ঠা – ৩৮)

“১৫ আগষ্ট সকাল ৯টায় তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান- আওয়ামী সংসদ সদস্য ও সেক্টর কমান্ডার ফোরামের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ (বীর উত্তম) সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে খন্দকার মোস্তাক আহম্মেদের প্রতি অনুগত্য প্রকাশ করে রেডিওতে ভাষণ দেন। এরপর আনুগত্য প্রকাশ করে রেডিওতে ভাষণ দেন বিমান বাহিনী প্রধান এ. কে খন্দকার ও নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম.এইচ. খান ও বিডিআর এবং পুলিশ প্রধানগণ।

নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে খন্দকার মোস্তাক আহমেদ পার্লামেন্ট মেম্মারদের সভা ডাকেন। এই সভা থেকে বিরত থাকার জন্য ছাত্রনেতা সৈয়দ নুরুল ইসলাম নুরুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের হাতেগোনা কয়েকজন কর্মী জোর চেষ্টা ও তদবীর চালালেও আওয়ামী লীগের প্রায় সকল এমপি উক্ত সভায় যোগ দেন।” (পৃষ্ঠা – ৩৯)

১৯৭৯ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমান জেনারেল এম. এ. জি ওসমানীকে পরাজীত করে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

২রা নভেম্বর দিবাগত রাতে ২য় সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। বিগ্রেডিয়ার খালেদ মুশারফ-এর অনুগত্য বাহিনী মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দী করে। ১৯৮১-এর ৩০শে মে প্রত্যুষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা কারা হয়। জেনারেল মঞ্জুর বীর উত্তম এর আনুগত্যশীল অফিসারগণ চট্টগ্রাম বেতার ও টেলিভিশন দখলে ও নিয়ন্ত্রণে রাখে। এদিকে ঢাকায় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এইচ. এম. এরশাদ, জেনারেল মীর শওকত বীর উত্তম, জেনারের রহমানসহ সকল অফিসার ও জোয়নরা মঞ্জুরের বিরুদ্ধে অবস্হান নেয়। (পৃষ্ঠা – ৮৪)

 

উল্লেখ্য যে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের অরাজনৈতীক কন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দেশে ফিরে আসেন।

===================================================

এর পরের রাজনীতিতে শুধু ক্ষমতা অধিগ্রহনের খেলা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। ন্যায়-নীতি, আদর্শ, ত্যাগ সর্বোপরি মানুষের জন্য মানুষের ভালবাসা হারিয়ে গেছে। দেশ ও মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেবার চেতনা হারিয়ে গেছে।

বুকের ভেতর শুধু জ্বলে, ভয়ঙ্কর রকম জ্বালা হয়।

আজ মিল্কি হত্যা ও তারেক ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার ঘটনায় রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে ঢাকা মহানগর যুবলীগে। এটাকি পূর্ব ইতিহাসের স্রোত নয়? আর বেশী কিছু লিখতে চাই না, আমরা শুধু শান্তি চাই- তাই নয় কি?

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/shajadur/20227.html



মন্তব্য করুন