konok-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

অবাঞ্ছিত-২

লিখেছেন: konok

শুক্রবার ছুটির দিন। সকাল বেলায় একটু আয়েশ করে ঘুমাব সেই উপায় নাই। সকাল বেলায় শুনতে হয় আব্বু-আম্মুর চিৎকার, ‘’এই তাড়াতাড়ি উঠ। শুক্রবার দিন আজকে অন্তত ফজরের নামাযটা পর। একটু আল্লাহ আল্লাহ কর।‘’

বাধ্য হই উঠতে। মুখ হাত ধুয়ে অজু করে ফজরের নামাজ ক্বাযা পরি। তারপর কিছুক্ষণ দোয়া-খায়ের করে নাস্তা করতে গেলাম। স্কুল বন্ধ। টেস্ট পরীক্ষা শেষ। সামনে এস এস সি ফাইনাল। ১ঘনটা পরে বের হলাম। মাঠে গেলাম। যাওয়ার সময় বন্ধু পবন-কে সাথে ডেকে নিয়ে গেলাম। ২ বন্ধু ৪ টা সিগারেট নিলাম। ২ টা দিয়ে স্টিক বানামু, আর ২ টা সিগারেট খাওয়ার পরে জ্বালাব। আমরা বসার পরে কয়েকটা লোক আমাদের পাশ দিয়ে চলে গেল। ২ বন্ধু সেইরকম ফীল নিয়ে আলাপ শুরু করলাম। পাত্তা দিলাম না কাউকে। কি এসে যায়?

আমি ঃ দোস্ত স্টিক খাওয়ার পরে সিগারেটটা জোস লাগে না। শালার আব্বু-আম্মু
কেন যে সিগারেট খাওয়াটা দেখতে পারে না ?!?!?! এখন বাসায় গিয়ে
খাটে শুয়ে একটা সিগারেট জ্বালাতে পারতাম যদি !!! আর কেউ যদি
কেউ কিছু না বলত !!! ইশ!! লাইফ টা এত কম্পলিকেট- এড কেন
বলত?

পবন ঃ ঠিক বলসস দোস্ত। আমাদের ভাল লাগাটা
আমাদের প্যারেন্ট- রা একদম বুঝে না। ইশ !!! ভাত খাওয়ার সময়
প্লেট উলটালে যদি প্লেটের নিচে সিগারেট দেখতে পেতাম!!!!!

আমি ঃ ইশশশশশশশশশশশ !!!!!!!!!!!!!

সিগারেট বিষয়ক আলাপ শেষ করে বাসার দিকে রওনা দিলাম। আজকে আবার শুক্রবার। বাল মেজাজটা খারাপ হয়। আবার জুমার নামাজ পরতে যাইতে হবে। গোসল করে নামায পরার উদ্দেশে মসজিদে গেলাম। দেখলাম ইমাম সাহেব খুৎবা দিচ্ছেন। আজকে বলছেন সন্তান এবং পিতা-মাতা নিয়ে। কেন জানি মনোযোগ বেড়ে গেল। ভাল করে শুনলাম। একটা কথা খুব মনে ধরল। উনি বললেন, ‘’ আপনার বাবা মার উপর আপনার অনেক ঋণ আসে। তারা আপনাকে পৃথিবীতে এনেছেন। আপনাকে যত্ন করে বড় করেছেন। তাদের সাথে কখনও বেয়াদবি করবেন না। আপনার মনে কোন খারাপ কাজ করার চিন্তা থাকলে আপনি দয়া করে চিন্তা করবেন আপনার বাবা অথবা মা আপনার সামনে থাকলে আপনি এই কাজটা করতে পারতেন কি !!!!!?????’’
মনে মনে ভাবলাম ঠিকই তো , আসলেই এভাবে চিন্তা করলে আমার দ্বারা কোন খারাপ কাজ করা সম্ভব নয়। ঠিক করলাম এইসব ফালতু জিনিষ আর খাব না। সব বাদ। বাসায় ফিরলাম। আম্মু খেতে ডাক দিল। ডাইনিং টেবিলের দিকে ছুটলাম। আজকে অনেক খিদা পাইসে। সে-ই কখন স্টিক ফাটায় আসসি। আজকে ইচ্চামত খাব। শুক্রবারে সাধারণত বাসার খাবারের মেন্যু ভাল থাকে। টেবিলে গিয়ে দেখলাম আম্মু- আব্বু , ছোট বোন, দাদা-দাদি কেমন ভাবে যেন বসে আছে!!! কিছু ১ টা নিয়ে তারা খুব সিরিয়াস। বুঝতে পারলাম আজকে আবহাওয়া ভাল না। ৯ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত। সবার সামনে আজকেও অন্যান্য দিনের মত খাওয়ার প্লেট উলটান। কেউ তার প্লেট সোজা করেন নাই। আমি আমার প্লেট উল্টালাম । প্লেট উলটিয়ে আমি যা দেখতে পেলাম টা দেখে আমার চক্ষু ছানাবড়া !!!!!! এসব কি????
এরপর আব্বু আমাকে বলতে শুরু করলেন, ‘’ এই সিগারেট গুলো তোমার জন্য আনা হয়েছে। সর্বমোট ২০ টা। এতে চলবে নাকি আরও লাগবে?”

(নিজেকে সেভ করার জন্য কিছু বলার চেষ্টা করলাম। বলতে পারলাম না। কথাগুলো গলায় আটকে আছে।)

আব্বা ঃ সরি। গাঁজা আনতে পারি নাই। আমার বয়স হয়েছে তো লোকে খারাপ
বলবে। নাহলে আমি নিজে গিয়ে নিয়ে আসতাম। কষ্ট করে আর
তোমাকে আনতে হইত না। যাই হোক। আমার মানিব্যাগ টাও তোমার
সামনে আছে। যত লাগে নিয়ে নাও। আর হ্যাঁ। দেরি করছ কেন? খাওয়া
শুরু কর। হারি আপ!!!!

(অঝোরে কাঁদতে চেষ্টা করলাম। বাট কোনভাবেই কান্না আসছে না। আমার পুরো পৃথিবী যেন থেমে গেছে । বুঝতে পারলাম মাঠে বসা অবস্থায় আব্বা আমাকে আর পবন- কে পাশ কেটে গিয়েছিলেন। আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরার মত অবস্থা। সামনের সবকিছু অন্ধকার মনে হচ্ছে। কি করব বুঝতে পারছিনা। )

আম্মু বলতে শুরু করলেন, ‘’ বাবা !! অন্ধকার পথের শুরুটা অনেক ভাল লাগে। পরে তা যখন সবকিছু কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে দেয় তখন আলোয় ফিরে আসতে ইচ্ছা হয়। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। চাইলেও আর ফিরে আসা যায় না। তুমি কি অন্ধকারে যেতে চাও না আলোতে? ফয়সালা তোমার উপর । আমরা তোমাকে কিছুই বলব না। সব তোমার সিদ্ধান্তের উপর।‘’

কিছু বললাম না। সিগারেটগুলো জানালা দিয়ে ফেলে দিলাম।। টেবিলের সবার দিকে তাকিয়ে বললাম।

“আমি আলোয় থাকব। অন্ধকারে যাব না। এটাই আমার ডিসিশন।‘’ …………………………

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/shahriar-konok/477.html

 2 টি মন্তব্য

  1. NLM

    “আমি আলোয় থাকব। অন্ধকারে যাব না। এটাই আমার ডিসিশন।‘’

    ভাল লেগেছে লিখাটা, চালিয়ে গেলে ভাল হবে আশা করি, লেখা গুলন প্রানবন্ত :) যুব সমাজের কর্তব্য ভুল ও সঠিকের মদ্ধে পার্থক্যটা বের করে নেয়া।

    1. konok

      ধন্যবাদ ভাই। আশা আছে এই অবাঞ্ছিত সিরিজটা চালিয়ে যাবার। সাথে থাকার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন