konok-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

অবাঞ্ছিত

লিখেছেন: konok

পথশিশু ও তাঁদের জীবন

অবাঞ্ছিত !!!!????

ভোর ৭ টা বাজে শুরু হয় আমার দৌড়াদৌড়ি। মিষ্টি সকালটা শুরু হয় আমার মায়ের ডাকে। ঘুম থেকে উঠে নিত্যদিনের মত রেডি হয়ে ট্রেন ধরার জন্য দৌড়। ট্রেন- এ বসে চিন্তা করি , কখন এই জীবন থেকে আরেক জীবনে যাব! ভাবতে ভাবতে 2nd year er ক্লাস রুমে ঢুকি। research methodolgyr course teacher আমাদেরকে বলেন পথশিশু নিয়ে কাজ করতে। সিদ্ধান্ত নেই ১ টা এনজিও তে কাজ করব, গবেষণা চালাব। পথশিশুদেরকে রাখা হয় এমন ১ টা  drop in centre-এ গেলাম। আমি ১ টা ছেলের সাথে কথা বলে তার case study করছি।

ছেলেটার নাম রায়হান। বয়স :১১। বাড়ি কোথায় জানে না। এরপর তার সাথে আমার কথোপকথন হয়েছিল এরকম ———–
আমি        : থাক কই ?
রায়হান    : বটতলী ষ্টেশন, কখনও দেওয়ান হাট ওভার ব্রিজ, কখনও ফুটপাতে, কখনও ৩-৪ রাত ঘুমাইনা, কখনও DRC-তে।
আমি         : বাড়ি ছাড়ছো কেন?
রায়হান     : বাবায় মারসিলো । প্রতিদিন মারত। রাগে আইসা পড়ছি। বাড়ি কোন জায়গায় ছিল ভুইলা গেছি।
আমি        : হাতে কাঁটা দাগগুলা কিসের?
রায়হান      : ডেণ্ডী খাইছিলাম।
আমি         : এটা কেমনে খায়? (বূঝে নিলাম এটা কোন মাদক)
রায়হান     : সার , প্রথমে একটা আইকা গাম কিনবেন। গাম নিয়ে পলিথিন প্যাকেটে ঢালবেন। তারপর ফু দিয়ে ফোলাবেন। ২ মিনিট আটকায় রাখবেন । তারপর টানবেন। এরপর কয়েকটা টাণ দিয়া দেশ- দুনিয়ায় থাকবেন না টানা ২ দিন।
(শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল। এতটুকুন ছেলে এই জিনিস কেন খায়? কি তার এত দুঃখ!!!!! আস্তে আস্তে চোখের কোণে পানি জমতে শুরু করলো । ভাবলাম হয়তো রাস্তায় ওর বয়েসের ছেলেমেয়েরা যখন বাবা-মার সাথে ঘুরতে যায় ঐটা দেখে কষ্ট পেয়ে অন্ধকার জগতে চলে যেতে চায়। বুক ভর্তি ব্যথা নিয়ে আমার কাজ আবার শুরু করলাম।)
আমি         : কেন খাও এই বাজে জিনিস?
(এরপর ছেলেটা আমাকে ব্যাখ্যা করল)
রায়হান       : সার ,১ বেলা ভাত খাইতে আমার কয় টাকা লাগে জানেন? ২০ টাকা।
সবসময় DRC – তে আসতে পারি না। ভিক্ষা করতে করতে অনেক দূরে চলে যাই। বটতলীতে আর আসতে পারি না। সারাদিনে রেগুলার ৩০-৪০ টাকা ইনকাম হয়। আমি তখন এখানে ফিরে না এসে ডেণ্ডী খাই। ডেণ্ডী খাইলে আমার প্রায় ২দিন হুঁশ থাকে না । নিজের হাত নিজে কাটি। দুনিয়ার খবর থাকে না। এই কাঁটা দাগগুলা ঐ জন্য। আর জিনিসটা খাই কারণ আমার ২ দিনের ভাতের খরচ থেকে ৭০ টাকা বেচে যায়, যদি রেগুলার ২ বেলা খাওয়ার হিসাব করি। সার আপনাদের কত সুখ!!!! কাজ শেষ কইরা বাসায় যাইবেন আপনার আম্মা ভাত নিয়া বইসা থাকবো। আপনি গিয়া হাতমুখ ধুইয়া খাইতে বইবেন। আমার লাইগা কেঊ ভাত নিয়া বইসা থাকে না। তাই আমার ডেণ্ডী খাইতে হয়। আপনি এত কিছু বুঝবেন না। আপনারে কইয়া আমার লাভ কি? পকেটে তখন ভাগ্য ভাল ছিল ৫০০ টাকার ২ টা নোট ছিল। ১ টা ওকে দিলাম  বললাম,  “ধরো “। ও আমাকে বলল, “ না সার। এত টাকা দিয়েন না । আপনি একা আমার মত কয়টারে দিবেন? আমার মত রায়হান এই শহরে ভরা । আপনি যান গা। আমার ডেণ্ডী আমার কাছে ভালা।”
বাসায় আসার পরে দেখলাম আম্মা ভাত নিয়ে বসে আছে টেবিলে। ঐ দিন আর ভাত খাইলাম না। আম্মাকে জরিয়ে ধরে কাঁদলাম। আর চিন্তা করলাম আমি অনেক সুখী। আমার অন্তত দুঃখ পেলে কাঊকে জরিয়ে ধরে কান্না করার মানুষ আছে। আর ওদের কেঊ নাই…………… ওদের আছে অন্ধকার জগত……………  আর আমার জগত আলোয় ভরা…………. ১ জন মানুষের কষ্টের জন্য আমি কাঁদব কেন?????

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/shahriar-konok/473.html

 10 টি মন্তব্য

(ফোনেটিক বাংলায়) মন্তব্য করুন

  1. নির্ঝর মজুমদার

    হুম, আমদের সকল মইনজগ এদের দিকে দেওয়া উচিত, অথচ আমরা এদের জন্য চিন্তাও করিনা।

    1. konok

      নিজেদের চিন্তায় সবাই বিভোর। পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে চিন্তা করার সময় কোথায়? তারপরও আমি অনেক আশাবাদী আমাদের generation নিয়ে। আমরা চাইলেই এরকম আরও অনেক সমস্যার দিকে মনোযোগ দিতে পারি। ১জন ২জন করে ১ সময় আমরা অনেকেই এদের জন্য এগিয়ে আসতে পারব। সুন্দর ১ টা পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি, যেখানে কোন রাস্তায় রায়হানের মত ছেলেরা এরকম অন্ধকারের দিকে চলে যাবে না।

  2. ইমরান এইচ সরকার

    এটা একটা ভয়ংকর রুপ ধারন করছে দিনেদিনে…কিন্তু আমাদের কারও কোন মাথাবেথা নাই…

    1. konok

      জি ইমরান ভাই ঠিক বলেছেন। তবে ব্যাপারটা এখনও কম ভয়ংকর অবস্থায় নেই। এভাবে কতগুলো অবুঝ সম্ভাবনাময় জীবন যে পথেই ঝরে যাচ্ছে তার খবর আমরা অনেকেই রাখি না। কিন্তু আমাদের কারও কোন মাথাবেথা নাই।

  3. Tuhin Mehedi

    পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল। আসলেই তো- "কাজ শেষ কইরা বাসায় যাইবেন আপনার আম্মা ভাত নিয়া বইসা থাকবো। আপনি গিয়া হাতমুখ ধুইয়া খাইতে বইবেন। আমার লাইগা কেঊ ভাত নিয়া বইসা থাকে না।"

  4. Tonoy Emroz

    Ato dukkho amder desh-tar. Raihan-ra dendi khai 2 diner jonno, kintu amader rajnitibid durbitto-gulo dendi khaise sara jiboner jonno. dendi-khor netader bichar hobe akdin nischoy.Itihas sakkhi dei Raihan-ra rukhe darabei darabe.

  5. konok

    তুহিন মেহেদি ভাই এবার চিন্তা করেন আপনার সামনে কেউ এই ধরণের কথা বললে আপনার কেমন লাগত!!!!!

  6. NLM

    আমাদের উচিত পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করা, অন্তত পক্ষে ওদের দিকে সাহাজ্জের হাত বাড়িয়ে দেয়া আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি। লেখাটার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

    1. konok

      আমার এই সামান্য প্রয়াস যদি পথশিশুদের প্রতি আপনাদের এক্তুও দৃষ্টিগোচর করতে সক্ষম হয়, তাহলে নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে করব। সবাইকে আবার ধন্যবাদ।

  7. সাজেদুর

    ভাই, লেখাটি পরেছি আর অনুভব করেছি হ্রদয়ের আকুলতা।
    আজ ২১ ফেব্রুয়ারী আমি নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মনে করছি। ”আমি আমাকে জানতাম কিন্তু আজ আবিস্কার করলাম”-এ বাণীটি কার তা আমার মনে নেই কিন্তু এর অর্থ আজ অনুভব করছি। আজছে ২৬ মার্চ পথশিশুদের নিয়ে কিছু একটা করবো ভেবেছি। লিখেছিও; দেখি সচেতনতাকে পূনর্জীবিত করতে এডমিন কতদিনে তা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য করুন