শনিবারের চিঠি-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

কয়েকটি সত্য গোপন + কয়েকটি মিথ্যা ভাষণ = একটি খোলা চিঠি

লিখেছেন: শনিবারের চিঠি

জর্জ বার্নাড শ আমার খুব প্রিয় নাট্যকারদের একজন। মাঝে মাঝেই কিছু প্রিয় মানুষকে আমার কিছু প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে। জর্জ বার্নাড শ তাঁদেরই একজন। লন্ডনের ক্যাকস্টন হলে রবীন্দ্রনাথ যখন লীগ অব নেশনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছিলেন বার্নাড শ তখন হো হো করে হেসে উঠেছিলেন। সবাই নাকি পিছন ফিরে দেখছিলো তাঁকে। এমনকি রবীন্দ্রনাথও বক্তৃতা থামিয়ে একবার তাকিয়েছিলেন। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে- জর্জ বার্নাড শ সেদিন হেসেছিলেন কেনো? আজ হঠাৎ মনে হলো উত্তরটি পেয়ে গেছি। শঙ্খের ভেতরে যেমন মহাসমুদ্রের কল্লোল শোনা যায়, বার্নাড শ এর রচনাবলীতেই উত্তরটি লুকিয়েছিলো। ১৯২৮ সালে এক বক্তৃতায় এই আইরিশ নাট্যকার বলেছিলেন-

Patriotism is your conviction that this country is superior to all other countries because you were born in it.

না। রবীন্দ্রনাথ যে ভাষার সাহিত্যে ঐশ্বর্য সাজিয়েছেন, সে ভাষায় যারা কথা বলে, তারা সকলেই নিজের জন্মভূমিকে ‘স্বর্গাদপি গরিয়সী’ মনে করে না। আজকের এই সত্যটি বোধ করি সেদিন বুঝতে পেরেছিলেন বার্নাড শ। এখন বরঙ তাঁকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে- কী করে জানলেন, একদিন বাঙলাদেশ নামের একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। সেখানে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়-পাঠাগার-উপাসনালয় আর থাকবে ক্যান্টনম্যান্ট। কী করে জানলেন তিনি, যে রাজনীতির সূচনা হয়েছিলো মাঠে-ঘাটে, গ্রামে-গঞ্জে; লক্ষ কোটি জনতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে, তাই এক সময় গলিত চর্বির মতো গড়িয়ে পড়বে জলপাই রঙের অন্ধকার মেঝেতে। নিহত হবেন জাতির পিতা, সামান্য মেজর হঠাৎ বনে যাবে রাষ্ট্রপ্রধান! মিনা ফারাহকে লিখতে হবে ‘হিটলার থেকে জিয়া’র মতো একটি ঐতিহাসিক দলিলগ্রন্থ। অতএব, অন্তত ৩০ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে ওয়াশিঙটন টাইমসের মতামত পাতায় প্রকাশিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার খোলা চিঠিটি পড়ার পর, বার্নাড শ কে একটি ধন্যবাদ দেয়া যেতেই পারে। একই সঙ্গে, যতোই আপত্তি থাকুক না কেনো, আমি ব্যক্তিগতভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই কেননা, উনিশ শো একাত্তর সালে পাকিস্তানের ‘ডেমোক্রেসি’ রক্ষার জন্য জানোয়ার ইয়াহিয়া কীভাবে তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের সাহায্য চেয়েছিলো, তা প্রত্যক্ষভাবে জানার সুযোগ না হলেও, ২০১৩ সালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দ্বারা পরিচালিত বাঙলাদেশের ‘ডেমোক্রেসি’ রক্ষার্থে বেগম খালেদা জিয়ার সেই একই প্রশাসনের কাছে ‘হস্তক্ষেপ করুন’ জাতীয় নির্লজ্জ প্রার্থনাপত্রটি পাঠের সুযোগ আমার হলো। ফ্ল্যাশব্যাকে গিয়ে দুয়ে দুয়ে চার মেলানোর কষ্টটা আমি নিজেই করে নিতে পারবো।

প্রকাশিত চিঠির সবটুকুতে যে ভাব ব্যক্ত করা হয়েছে, তা পড়ার পর অন্যদের কী মনে হয়েছে জানি না, আমার মনে হয় বেগম খালেদা জিয়া ভয়ঙ্কর রকমের স্মৃতি বিভ্রমে ভুগছেন। চিঠির শুরুতেই ১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়া বাঙলাদেশের পরিচয় দেয়া হয়েছে (যদিও তারিখ উল্লেখ করা হয় নি), কিন্তু বাঙলাদেশের স্বাধীনতা যে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এসেছে- তার কোনো উল্লেখ সেখানে নেই। প্রথম অনুচ্ছেদের একটি লাইন চোখে পড়ার মতো।

My country of 150 million people, located between India and Myanmar, has been independent since 1971, when the United States was one of the first nations to recognize our right to self-determination.

তাই কি? মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের ভূমিকা সকলেরই জানা। ‘self-determination’ যদি আত্মপরিচয় হয়ে থাকে, তবে মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া সেখানে আর কোনো প্রত্যয়ই ব্যবহার্য নয়। তবে বক্তব্যটির মাঝে হেঁয়ালিও থাকতে পারে। অর্থাৎ, একটি পাকিস্তানি ভাবাদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলের প্রধান হিশেবে এ বক্তব্যটি ঠিক আছে। কারণ, পাকিস্তানের পক্ষে সেদিন মার্কিন প্রশাসন ছিলো সবচেয়ে বড়ো বন্ধু, ‘one of the first nations to recognize’।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক প্রসঙ্গ এসেছে। বক্তব্যের ভাবে বোঝা যায়, পদ্মা সেতুর জন্য ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের ঋণ বাতিলের সিদ্ধান্তে বিরোধী দলীয় নেত্রী যারপরনাই আনন্দিত। এখন প্রশ্ন হলো, সঙসদীয় গণতন্ত্রে বিরোদী দলের একটি কার্যকর ভূমিকা থাকে, যা সরকারি দল অপেক্ষা কোনো অঙশেই কম নয়, বরঙ কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশি। যে ব্যক্তি বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকা অবস্থায় দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পথে সৃষ্ট বাধাকে সাদরে অভ্যর্থনা জানায়, তার নৈতিক চরিত্রই তো রাষ্ট্রবিরোধী। ‘পদ্মা সেতু প্রকল্প’-এ দুর্নীতি হয়ে থাকলে সঙসদে গিয়ে কথা বলতে হবে। সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। ‘হাওয়া ভবন’ হাতছাড়া হবার পর যে মায়াকান্নার দৃশ্য আমরা দেখেছি, পদ্মা সেতুর জন্য কি সেই কষ্ট, সেই দরদ আমরা দেখেছি? এখন তো এই প্রশ্ন তোলাই যেতে পারে, দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার হীন প্রয়াসের তলায় কি বিরোধী দলীয় নেত্রী ব্যক্তিগত লাভের গুড় খুঁজছেন? যে কথা তিনি সঙসদে গিয়ে বলতে পারলেন না, সে কথা তিনি মার্কিন পত্রিকায় লিখে পাঠিয়েছেন! সত্যি, লেখালেখির প্রতি তার আগ্রহ দেখে চক্ষু চড়কগাছ হবে বৈ কি!

তৃতীয় অনুচ্ছেদে ডক্টর ইউনুস ও নোবেল পুরস্কার প্রসঙ্গ এসেছে। এ অনুচ্ছেদ পড়ে দুটো কথা মনে হয়েছে- প্রথমত, ইউনুস সাহেব নিজেই নিজেকে রাজনীতির বাইরে রাখতে পারেন নি, শুধু শুধু রাজনৈতিক নেতাদের দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই। দ্বিতীয়ত, বেগম খালেদা জিয়া অ্যাটর্নি জেনারেলের যে বক্তব্য উদ্ধৃতি হিশেবে ব্যবহার করেছেন, তা পুরোটাই একটি বালখিল্য আচরণ হয়েছে। তিনি সম্ভবত বুঝতেও পারেন নি, প্রধানমন্ত্রীর সম্মানহানী করার এই জঘন্য কাজের মাধ্যমে তিনি আসলে বাঙলাদেশের মানুষকেও অপমান করেছেন, যে মানুষের কাছে তিনি আসছে নির্বাচনে ভোট চাইবেন। অপমান করেছেন বাঙলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে, যে রাষ্ট্রের কোষাগারের টাকা থেকে তিনি সঙসদে না গিয়েও বেতন-ভাতা ভোগ করেন।

চতুর্থত অনুচ্ছেদে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব) প্রসঙ্গে আলোচনা এসেছে। কিন্তু সেখানে লেখা হয় নি ২০০৪ সালে কীভাবে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর নথিভুক্ত হলো। তখনকার কার্যক্রম কিছুই উঠে আসে নি লেখায়। তবে চতুর্থ অনুচ্ছেদটি প্রমাণ করে একটি বহু পুরোনো সত্য। বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীরা অনেক বড়ো রেফারেন্স। কেননা তিনি চতুর্থ অনুচ্ছেদের শেষ বাক্যে বলেছেন-

Political leaders and their supporters who are being accused by a local war crimes tribunal of involvement in atrocities during the 1971 war of independence also would question Ms. Hasina’s right to the Nobel Prize.

বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একটি তুলনামূল ছক

বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একটি তুলনামূলক ছক

কী চমৎকার দেখা গেলো! লেজ এমনই নাড়ান নাড়াচ্ছে যে কুকুরের ম্যালেরিয়া কাঁপন উঠে গেছে।

পঞ্চম অনুচ্ছেদে বিরোধী দলীয় নেত্রী যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি যা বলেছেন, তা মূলত যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য। এটি তার ও তার দলের অতীত ইতিহাসেও স্পষ্ট। ইকোনোমিস্টের প্রতিবেদন উল্লেখপূর্বক তিনি যা বলতে চেয়েছেন, তা থেকে স্পষ্টই বোঝা যায়, কেনো জামায়াত ইসলামীর হরতালে বিএনপি’র নোঙরা সমর্থন থাকে।

নালিশের সুরে ষষ্ঠ অনুচ্ছেদে বেগম খালেদা জিয়া বাঙলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিশেবে চিহ্নিতকরণের অপচেষ্টা করেছেন। এই মিথ্যাচারের সময় তিনি বেমালুম ভুলে গেলেন যে, ২০০১ সালের পর কীভাবে গণতন্ত্রকে গণধর্ষণ করেছিলো বিএনপি-রাজাকার জোট। নির্বাচনোত্তর সহিঙসতা, সঙখ্যালঘু নির্যাতন, জঙ্গীবাদের উত্থান, দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা, একুশে আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা, বিভৎস নারী ও শিশু নির্যাতন, লুটপাট ও রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুটসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গণতন্ত্র ভূ-লুণ্ঠিত ছিলো, মানবতা ছিলো পদদলিত। বেগম জিয়া কী এই চিঠিটি লেখার আগে একবারও ভাবেন নি যে, তার দলের শাসনামলে বাঙলাদেশ ছিলো পর পর তিনবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। ২০০১ এর নির্বাচনের পর বিএনপি শাসনামলের এক বছরের খতিয়ান দেখলেই বোঝা যায়, কতোটা ভয়াল মেঘমালার নিচে ছিলো বাঙলাদেশ। অন্যদিকে ১৯৯১-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি’র শাসনামলের সঙ্গে ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলের খতিয়ান দেখলেও বোঝা যায়- কতোটা স্মৃতি বিভ্রাটে ভুগছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী দলের নেত্রী।

সপ্তম, অষ্টম ও নবম অনুচ্ছেদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থার জন্য বিরোধী দলীয় নেত্রীর ফরিয়াদের কথা ফুটে উঠেছে; কিন্তু প্রশ্ন হলো, যাদের কাছে এই ফরিয়াদ, তাদের দেশে কি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচন হয়? বেগম জিয়া যদি এটিকে একটি সমস্যা হিশেবে চিহ্নিত করেন তবে অবশ্যই এর সমাধান করতে হবে রাষ্ট্রের সঙসদে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বিএনপি’র ডাকা হরতালে যখন জামায়াতে ইসলামী তাদের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের মুক্তির প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করে, তখন বেগম জিয়া কেনো চুপ থাকেন? তবে কি এটাই বুঝতে হবে যে- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুটি আসলে ছল, বিএনপি আসলে চাইছে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্থ করতে। খলের তো ছলের অভাব হয় না।

শেষ দুটো অনুচ্ছেদে বিরোধী দলীয় নেত্রী এতোটাই নিচে নেমে এসেছেন যে, বাঙলাদেশের একজন নাগরিক হিশেবে তাকে বিরোধী দলের নেত্রী ভাবতেও আমি লজ্জিত। এখানে তিনি সরাসারি বাঙলাদেশের গণতন্ত্র বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ আশা করেছেন ঠিক সেভাবে, যেভাবে প্রভুর হস্তক্ষেপ কামনা করে তার প্রজারা। যে ব্যক্তি বিরোধী দলের নেত্রী হয়ে অন্য একটি রাষ্ট্রকে প্রভু হিশেবে মেনে নেয়, সে ব্যক্তি সরকারে প্রধান হলে রাষ্ট্র যে কতোটা তাঁবেদার হবে, তা বলাই বাহুল্য।

জর্জ বার্নাড শ’র কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম লেখাটি। লেখার শেষে এসে মনে পড়ছে অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের একটি কবিতা। অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ, যিনি বিএনপি-রাজাকার জোট সরকারের সময় নির্মম মৌলবাদী হামলার শিকার হয়েছিলেন এবঙ ১১ আগস্ট, ২০০৪ সালে মৃত্যুবরন করেছিলেন মিউনিখে। ‘কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু’ কাব্যগ্রন্থে পাওয়া যাবে তাঁর ‘দেশপ্রেম’ কবিতাটি। বিরোধী দলের নেত্রী যে দেশপ্রেমের পরিচয় দিলেন, তা ফুটিয়ে তোলার জন্য এ কবিতাটির চেয়ে ভালো কোনো উদ্ধৃতি আমার মাথায় আসে নি।

আপনার কথা আজ খুব মনে পড়ে, ডক্টর জনসন।

না, আপনি অমর যে-অভিধানের জন্যে, তার জন্যে নয়, যদিও আপনি

তার জন্যে অবশ্যই স্মরণীয়। আমি অত্যন্ত দুঃখিত তার জন্যে

আপনাকে পড়ে না মনে। আপনাকে মনে পড়ে, তবে আপনার

কবিদের জীবনীর জন্যেও নয়, যদিও তার জন্যেও আপনি অবশ্যই

স্মরণীয়। আমি আবার দুঃখিত, ডক্টর জনসন। আপনার কথা মনে পড়ে

সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে; আপনার একটি উক্তি আমার ভেতরে বাজে

সারাক্ষণ। আড়াই শো বছর আগে একবার আপনার মুখ থেকে

বের হয়ে এসেছিলো একটি সত্য যে দেশপ্রেম বদমাশদের

শেষ আশ্রয়। আপনার কাছে একটি কথা জানতে খুবই ইচ্ছে করে

স্যামুয়েল জনসন;-

কী ক’রে জেনেছিলেন আপনি

এই দুর্দশাগ্রস্ত গ্রহে একটি দেশ জন্ম নেবে একদিন,

যেখানে অজস্র বদমাশ লিপ্ত হবে দেশপ্রেমে? তাদের মনে ক’রেই কি

আপনার মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছিলো এই সত্য?

ডক্টর জনসন, আপনি আনন্দিত হবেন জেনে যে বদমাশরা

এখানে দেশের সঙ্গে শুধু প্রেমই করছে না, দেশটিকে

পাটখেতে অলিতে গলিতে লাল ইটের প্রাসাদে নিয়মিত করছে ধর্ষণ।

১৯ মাঘ, ১৪১৯

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/scmyblog7/2641.html

 30 টি মন্তব্য

(ফোনেটিক বাংলায়) মন্তব্য করুন

  1. কবির য়াহমদ

    প্রথম কথা হলো, এই প্রথম বেগম খালেদা জিয়ার কোন লেখা পত্রিকায় প্রকাশ হতে দেখলাম। মার্কিন মুল্লুকের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশী যা আমরা সব সময়েই অযাচিত মনে করি সে দেশের পত্রিকায়।বেগম জিয়া কি চেয়েছেন তা পরিষ্কার। ভাবতে অবাক লাগে কোন দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এভাবে নিচে নামতে পারেন। মার্কিনিদের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করা নোংরা এবং ঘৃণার তা বলতে সুশীল সমাজ হয়ে টক শো’তে গলা ফাটাতে হয় না।ধিক এবং ধিক্কার!

    1. শনিবারের চিঠি

      লেখার ভাষা অনায়াসে প্রমাণ করে যে, এটা কতোটা নিম্নমার্গীয় একটি লেখা। সবচেয়ে বড়ো কথা – বাঙলাদেশের বিরোধী দলের নেত্রী হয়েও দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে তিনি বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপ কামনা করলেন। এর চেয়ে বড়ো লজ্জা কী হতে পারে!

  2. শামসুল আরেফিন খান

    অসাধারন সুন্দর উপস্থাপন।

    1. শনিবারের চিঠি

      অনেক ধন্যবাদ স্যার।

  3. রিয়াদ

    নাইস পোস্ট । ম্যাডাম আন্ডার মেট্রিক নিশ্চিত কুনো শিবিরের পোলাপান দিয়া এই কলাম লিখাইসে :P :P

    1. শনিবারের চিঠি

      আমার প্রশ্ন হইলো- এই শিবির কর্মী ফোকাসের কোন ব্রাঞ্চে ইঙরেজীর ক্লাশ নেয়?

  4. আজাদ মাষ্টার

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেমন করে আমাদের  স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহায্য করেছিলো আসুন একটু ইতিহাসের পাতা উল্টিয়ে পড়ে দেখা যাক এইখানে আমি সাবেক রাষ্ট্রদূত মহিউদ্দীন আহমদের লেখা কোট করব

    ১৯৭১-এর ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে-ভারত-পাকিস্তানকে
    যুদ্ধবিরতিতে যেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে প্রস্তাব আনে তাতে সোভিয়েত
    ইউনিয়ন প্রথম ভেটো প্রয়োগ করে। যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় প্রস্তাব এনেছিল
    আর্জেন্টিনা, বেলজিয়াম, বুরুন্ডি, ইতালি, জাপান, নিকারাগুয়া, সিয়েরা লিওন
    এবং সোমালিয়া ৫ ডিসেম্বর। এই প্রস্তাবেও সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেটো দেয়। তৃতীয়
    যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থান করা হয়েছিল ‘৭১-এর ১৩ ডিসেম্বর। এই
    প্রস্তাবটিও ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু এই প্রস্তাবেও ভেটো প্রয়োগ
    করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। পরপর তিন তিনটি ভেটো প্রয়োগ করে পাকিস্তানের দোস্তদের
    যুদ্ধবিতির প্রস্তাবগুলো বাতিল করে দেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন মাত্র ১০ দিনে।
    যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের যে কোন একটি তখন গৃহীত হলে যুদ্ধ বন্ধ করে দিতে হতো
    তাৎক্ষণিকভাবে, ভারত-বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীও তাহলে ঢাকার দিকে দ্রুত এগিয়ে
    যেতে পারত না, ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করতে হতো না জেনালে নিয়াজীকে। তারা
    তাহলে আরও সময় পেত। এই পর্যায়ে অবশ্য অবশ্যই উল্লেখ করতে হয় যে নিউইয়র্ক
    এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে যখন এমন তৎপরতা চলছে, তখন বঙ্গোপসাগরেও
    ‘গানবেটড ডিপ্লোম্যাসি’ নতুন মাত্রা পায়। মার্কিন সপ্তম নৌবহর দ্রুত এগুতে
    থাকে বাংলাদেশের দিকে। সন্দ্বিপ, হাতিয়া, ভোলার কোথাও যদি কোন একটি জায়গায়
    সেদিন তারা নোঙ্গর ফেলতে পারত, তাহলে তারা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে
    দরকষাকষিও শুরু করতে পারত। কিন্তু এই সপ্তম নৌবহরকে অনুসরণ করতে থাকে
    সোভিয়েত নৌবাহিনীর একটি ‘ ফ্লোটিলাও’। মনে আছে লন্ডনে তখন আমাদের অনেকেরই
    হাত-পা অবশ হয়ে আসছিল। একটুর জন্য, জন্য কি তাহলে আমাদের বিজয়টা
    অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যাবে? কিন্তু মার্কিন নৌবাহিনী নোঙ্গর ফেলার
    আগেই ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী।

    দেখা যাচ্ছে জাতিসঙ্ঘ স্থায়ী পরিষদে ভেটো দিয়ে , নৌবাহিনি প্রেরণ করে  নিজের হাতে যতো ধরনের ট্রাম্প কার্ড ছিলো সবগুলাই ব্যবহার করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে পিষে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছে মার্কিন সরকার । সম্ভবত ম্যাডামে যে বই থেকে ইতিহাস বই পড়েন তা সাথে আম জনতার ইতিহাসের থেকে পুরাই আলাদা ।

    1. শনিবারের চিঠি

      মাস্টার। তারপরও কী আশ্চর্য দেখেন, মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন ভূমিকাকে বিরোধী দলের নেত্রীর কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে। আমার ধারণা তিনি পাকিস্তানি বোধ থেকে লিখাটা লিখেছেন, যা তার বরাবরের কর্ম।

  5. বনলতা সেন

    নাইস পোস্ট!!

    1. শনিবারের চিঠি

      অনেক ধন্যবাদ মহুয়া।

  6. অনিমেষ রহমান

    হাতে সময় নেই-হাজিরা দিয়ে গেলাম।পরে আবার লিখছি।অসাধারন লিখেছেন।

    1. শনিবারের চিঠি

      আপনার ব্যবস্থাপনা ক্লাশের কাছে তো কিচ্ছু না।

  7. অকিঞ্চন জন

    আপনার লেখার শুরুটা সব সময়ের মত আকর্ষণীয়। কেউ যদি অধৈর্যশীল হয়ও তারপরও সূচনা পড়ে পুরো পড়ার চেষ্টা করবে বলে আমি মনে করি।এই প্রায় একই লেখা একই চিঠির রিভিউ আমি গতকাল আরেকটা ব্লগ পোষ্টে পড়েছি। তুলনা হিসেবে বলছি না। এই লেখাটা অনেক সমৃদ্ধ ও বক্তব্য স্পষ্ট। শেষের হুমায়ুন আজাদের কবিতাটা বাস্তবিক।

    1. শনিবারের চিঠি

      অনেক ধন্যবাদ অকিঞ্চন দা। তবে আমার মনে হয়, আন্তর্জাতিকভাবে এর প্রতিবাদ জানানো উচিত।

  8. শিমূল

    আপনার লেখা নিয়া কোন মন্তব্য নাই, সিমপ্লি অসাধারন তবে বে জি রে নিয়া একটা মন্তব্য  আছে (*া*ী, *ূ**া*া*ী, *া*ী ,)

    1. শনিবারের চিঠি

      কেমন আছেন শিমুল ভাই? অনেক দিন কথা হয় না। শেষে বেজি ইস্যুতে কথা হইলো।

  9. জটিল বাক্য

    আমি লজ্জা পাই আমার দেশের বিরোধী দলীয় নেত্রীর এমন রাজনৈতিক দেওলিয়াত্ব দেখেলজ্জা পাই তার ইতিহাস নিয়ে এমন তামাশা দেখে। মার্কিন মোড়লের উপর আস্থা দেখে মনে হচ্ছে জনগণ তার লাগবেনা, মোড়লই তাকে পাশ করিয়ে নিবে।

    1. শনিবারের চিঠি

      আমার ধারণা, এরা মসনদের মতো ইতিহাসকেও নিজেদের সম্পত্তি মনে করে। এই ধারণাটি ভুল এবঙ বুমেরাঙ। কারণ, ইতিহাসকে যদি নিজের মতো চলতে দেয়া হয়, সত্য-ধ্রুব ও শাশ্বত বলাকার মতো উড়তে দেয়া হয়, তবে কিন্তু রাষ্ট্র ভালো থাকে।

      আর জনগণের প্রসঙ্গ বললেন তো! বর্তমান বিরোধী দলীয় নেত্রীর কবে জনগণ দরকার ছিলো? আমার মনে হয়, জনগণ সঙশ্লিষ্ট রাজনীতি যদি তারা করতেন, তবে সর্বপ্রথম তারা সঙসদে যেতেন। সঙসদ বর্জনের মতো ঘটনা যতোক্ষণ না বাতিল হচ্ছে, ততোক্ষণ ধরে নিতেই হবে- রাজনৈতিক দলগুলো বিদেশী মোড়লদের কাছেই বেশি প্রার্থণা করে, জনগণের কাছে না।

  10. Joy4Bangla

    এমন চমৎকার বিশ্লেষন করে পুরো ব্যাপারটা প্রানবন্ত করে প্রকাশ করার অভাবনীয় ক্ষমতার র জন্য লেখককে ভক্তিভরা ভালবাসা জানাতে গর্ব বোধ করছি। বিএনপির নেতা কর্মিদের নৈতিক অধঃপতন তাদের সব দিক থেকে দেওলিয়া করেছে। তারা পাকিদের সেবাদাসের লেবাস পরে বাংলাদেশি সেজে স্বাধীনতার ঢোল বাজাতে চায়। কুপমুন্ডকদের নেতৃঈর মুখোশ খুলে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

    1. শনিবারের চিঠি

      অনেক কৃতজ্ঞতা পড়ার জন্য

  11. তহিদ

    শুনেছি পাকিস্তানের স্কুলগুলোর পাঠ্যসূচীতে এমন ইতিহাস পরানো হয়! ? তবে কি খালেদা জিয়া ঐ সব বই থেকে ইতিহাস শিখছেন! ?

    1. শনিবারের চিঠি

      তিনি তো যে কোনো স্থান থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন…তিনি হইলেন জানেন, তাই জানোয়ার..

  12. ইমরান এইচ সরকার

    আমি নিশ্চিত যে এটা জামাতের করা ড্রাফট। অসাধারন লিখেছেন শনি।

    1. শনিবারের চিঠি

      অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য

  13. দুরন্ত..

    আমি সাইফুরস এর বিজ্ঞাপনের আশায় আছি কিভাবে মাত্র কয়েকদিনে একজন পত্রিকাতে আর্টিকেল লেখতে পারে তার বিশেষ প্রাইভেট কোচিঙ এর :P

  14. Maju

    অসাধারন পোস্ট

  15. siddiqui

    Simply “Stupid” piece of  article printed for the readers of the USA for what on this earth “God Knows”. I hope BNP and Jamat will understand this foolish act.

  16. romna take bolchi

    pls think about another be way of politics when awmilig was opposition ,that time she what can do? but we will move to our two party politics i saw 73 to 75 ,then 75 to 85 what they did , you dont know ? pls bad is bad , its new rising time our nation is re united

  17. ছন্নছাড়া ছেলেটি

    এক কথায় অসাধারন শিল্পকর্ম । বেশ জমকালো কিছূ তথ্য দিয়ে সাজানো ।

  18. রাইয়ান আজম

    অনেক তথ্যবহুল।আপনার প্রতিটি পোস্টেই নতুন করে অনেক কিছু জানি

মন্তব্য করুন