সাইফ সাইমুম-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

মার্কিন আগ্রাসন, মধ্যপ্রাচ্যের চুতিয়াগিরি ও বাংলাদেশের ধর্মব্যবসায়ীরা

লিখেছেন: সাইফ সাইমুম

১. সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, ওমান- এই দেশগুলো হলো মুসলিমবিশ্বের সবচে’ ধনী ও সমৃদ্ধ দেশ। কিন্তু এত অর্থ ও প্রতিপত্তি থাকা সত্বেও তেলসমৃদ্ধ এই দেশগুলো একেকটা হয়েছে আমেরিকার পা চাটা দালাল। প্রতিটি দেশেই আমেরিকার ঘাঁটি আছে। এই দেশগুলো থেকেই আমেরিকা পুরো আরববিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করে। এরমধ্যে সবচে’ বেশি আমেরিকার প্রভাব আমাদের প্রিয় রাসুলের (সা.) দেশ সৌদি আরবে। সৌদি আরব এমনভাবে আমেরিকার গোলামি করে যে মনে হয় দেশটি আলাদা কোনো দেশই নয়, আমেরিকার একটা অঙ্গরাজ্য মাত্র! এই দেশগুলোর আরেকটি বড় গুণ! হলো তারা ইসলামকে বিপন্ন করে কিংবা আমেরিকার গোলামি করে নিজের দেশের শান্তি রক্ষা করলেও মুসলিম দরিদ্র দেশগুলোর জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অর্থ সহায়তা দিয়ে মুসলিমবিশ্বে জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে। বাংলাদেশের সন্ত্রাসী সংগঠন জামাত-শিবির, হিজবুত তাহরির, জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, তামের উদ দিন, মারকাজুল আল ইসলামিসহ প্রায় প্রতিটি জঙ্গিগোষ্ঠীর অর্থের যোগানদাতা হলো উপরোক্ত দেশগুলো!

২. আমেরিকা সিরিয়া আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অজুহাত আসাদ সরকার নাকি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষ মেরে ফেলেছে! এখন আসাদ সরকারকে নিবৃত্ত করার জন্য সিরিয়া আক্রমণ করতে হবে। কথা সেটা না। কথা হলো একটা মুসলিম দেশ আক্রমণ করে ধ্বংস করতে চাইছে আমেরিকা, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের তথাকথিত সমৃদ্ধ মুসলিম দেশগুলো বরাবরের মতই চুপ। রাশিয়া, চীনের মত দেশ আক্রমণের বিরোধিতা করলেও আরবদের পেট থেকে বোমা মেরেও কেউ কোনো কথা বের করতে পারেনি! এক ইরান ছাড়া আর কোনো মুসলিম দেশই এখন পর্যন্ত একটা কথাও বলেনি। এদেশে ইসলামের স্বঘোষিত ইজারাদার জামাত-হেফাজতও আল্লাহর ইচ্ছায় চুপ আছে। চুপ থাকারই কথা অবশ্য। কারণ আমেরিকা তো আর হাসিনা সরকার নয় যে যখন-তখন আমেরিকার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করা যাবে!

৩. মিসরে ইসলামি চরমপন্থী মুরসির পতন ঘটেছে। ক্ষমতা এখন সেনাসমর্থিত সরকারের হাতে। বাঁশেরকেল্লা-হেফাজত চক্রকে দেখলাম মুরসির জন্য কেঁদেকুটে অস্থির! মুরসিকে ইসলামের মহান সেনানী আখ্যাও দিচ্ছেন তারা। ভালো কথা। কিন্তু এই মুরসিবিরোধী সেনাবাহিনীকে আবার সমর্থন দিয়েছে সৌদি আরব, বাহরাইন, আরব আমিরাত। শুধু সমর্থন নয়, বিশাল অ্যামাউন্টের আর্থিক সহায়তাও দিয়েছে সৌদি সরকার। কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম সৌদি নিয়ে জামাত-হেফাজত চক্র একেবারে নিশ্চুপ! এখন পর্যন্ত সৌদি দূতাবাস ঘেরাও কিংবা সৌদির উদ্দেশে লংমার্চের কোনো ঘোষণা নেই ইসলামের স্বঘোষিত হেফাজতকারীদের! রাজাকারের ফাঁসি চেয়ে শাহবাগিরা ও বিচার করে হাসিনা সরকার যদি নাস্তিক হয় তাহলে ইসলামের বীরসেনানী? মুরসির বিরুদ্ধে সমর্থন ও অর্থ দিয়েও সৌদি সরকার কেন নাস্তিক হবে না? নাকি সৌদির বিরুদ্ধে বললে, আন্দোলন করলে দেশে জঙ্গিবাদ করার জন্য যে অর্থ আসে সেটা বন্ধ হয়ে যাবে? আজ যদি মুরসিবিরোধী সেনাবাহিনীকে হাসিনা অর্থ না দিয়ে শুধু সমর্থনই করত, তাহলে এতক্ষণে হেফাজতিরা সরকারকে নাস্তিক ‘ফতোয়া’ দিয়ে সরকারের পতনই ঘটিয়ে ফেলত! হেফাজতিদের জিহাদ করার এত শখ, তাহলে মিসরে যাচ্ছে না কেন? আমেরিকার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে সিরিয়ায় রওয়ানা হচ্ছে না কেন? নাকি তাদের জিহাদ শুধু নিজদেশের নীরিহ জনগণের জানমাল, এদেশের পতাকা, শহিদমিনার, মুক্তিযুদ্ধ আর পুলিশের বিরুদ্ধেই?

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/saifsaimum/21811.html



মন্তব্য করুন