rohith-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

শাহাবাগ চত্তর: একটি গল্প ও বিএনপির অবস্থান

লিখেছেন: rohith

শাহাবাগ চত্তরে তরুন প্রজন্মের তীব্র আন্দোলন যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোষরদরে দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। তারা নিশ্চিত ছিল এই সরকার তাদের শক্তির সাথে লড়াই করে পারবে না। আমার মনে সরকার ভীতও হয়ে পড়েছিল- যার ফল আমরা দেখতে পেলাম ৫ ফেব্রুয়ারী কাদের মোল্লার রায়ে।তখন সরকার ছিল জনবিচ্ছিন্ন ও জাতায়াতের তীব্র প্রতিবাদে কোন ঠাসা। যদিও আমি বিশ্বাস করি ‌’প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত নির্ভীক ও লড়াকু মানুসিকতার ব্যক্তিত্ব’- এই কারণে আমি তাকে শ্রদ্ধা করি। তার একক প্রচেষ্টায় যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন হচ্ছিল। কিন্তু তার সাথে কোন শক্তি তখন অভয়বানী শোনাতে আসেনি। তিনি তখন বুঝতে পারেননি দেশের তরুণ সমাজ মুখিয়ে আছে রায়ের অপেক্ষায়- ফাঁসি দাবিতে। তাই যখন শাহাবাগে তরুণ প্রজন্মের সাথে দেশে আপামর সচেতন সমাজ একাত্মতা ঘোষনা করল তখন তিনি প্রাণ খুজে পেলেন। তার চারপাশে থেকে যারা এতদিন ধরি মাছ না পানির মত সমর্থন করেছিল তারাও এগিয়ে এল। শুরু হল নতুন পথ চলা- আপোষ নয়, যুদ্ধ চায়। আপরাধীদের সাথে দেশের বিচার ব্যবস্থার যুদ্ধ এখন চলমান। আজ তার আর একটি ফল আমরা পেতে যাচ্ছি। আশা করি আজ আর জাতি হতাশ হবে না। আর এই সবই হচ্ছে শাহাবাগের তরুনদের জন্য। আমাদের সোচ্চারী প্রতিবাদের জন্য। আমরা এখন ঘরে বসে কাউকে দোষী বা নিদোষী প্রমানের তর্কে মাতি না, আমরা এখন রাজপথে আমাদের আবেগ প্রকাশ করি- প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে, বিরাম হীন।

আমাদের এই জেগে ওঠায় যুদ্ধাপরাধদের একমাত্র ভয়। না হলে তাদের যে শক্তি ছিল তা দিয়ে তারা এই দেশে যেকোন সরকারকে হুমকী দেওয়ার ক্ষমতা রাখে বৈইকী। আজ সময় পালটেছে। আজ তারা পলাতক, নির্মম ও কৌশলি। সুযোগ পেলে যেকোন নৃসংশ কাজ তারা করবে নির্দিদ্ধায়। তার বিভিন্ন মানুষকে প্রচুর টাকা দিয়ে তাদের পক্ষে আনা চেষ্টা করছে ও তাদের দিয়ে শাহাবাগ আন্দোলনটা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। এই আন্দোলন বন্ধ হলেই শুরু হবে তাদের সংগ্রাম। জামায়ত বাদে অন্য ইসলামী দলগুলো সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়, জামায়তের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেয়, বরং তাদের শত্রু। তাদেরকে আমি আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই, সেলাম করি। শুধু একটা অনুরোধ আপনারা শাহাবাগ আন্দোলনকে বন্ধ করতে বালবেন না। কিছু সংশোধন করার সুপারিশ করুণ। আমরা নিশ্চয় বিষয়টি ভেবে দেখবো।

বিএনপির আন্দোলন সম্পর্কে অবস্থান নিয়ে অনেক মতামত আছে। অনেকে বলছে বিএনপি ভুল করছে জামায়তকে সমর্থন করে, শাহাবাগে না গিয়ে। আমি বলব রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা সঠিক অবস্থানে আছে। আমরা সেই গল্পটা নিশ্চয় জানি যে , তিন ব্যক্তি বসে আছে- একজন অন্ধ, একজন ল্যাংড়া আর একজন ফকির। অন্ধ বলছে দেখ আকাশে কত তারা, ল্যাংড়া বলল তুইতো অন্ধ দেখলি কী করে, মারবো এক লাথি, ফকির তখন খুব আগ্রহ করে বলল মার লাথি টাকা যা লাগে আমি দেব। আসলে বিএনপিও জামায়তকে বলছে কর আক্রমন শক্তি আমরা জুগাবো। কিন্তু একটু ভেবে দেখেন মুখে বলা ছাড়া আসলে বিএনপি কিন্তু জামায়তের জন্য তেমন কোন কর্মসূচীই দিচ্ছে না। এমনকি তাদের সাথে যাতে জামায়তকে কেউ জড়াতে না পারে তার জন্য নিজেদের ঘোষিত কর্মসূচীও তুলেনিচ্ছে। মুলত তারা চায় জনগনের এই দাবি পূরণ হক, তাহলে তারাই বেশি লাভবান হবে। তাদের আর জামায়তের চোখ রাঙ্গানি শুনতে হবে না। একক দল হিসেবে জোটের পূর্ণ মালিক হবে তারা। এই দিক অক্ষুন্ন রাখার জন্য তাদের এই নিষ্ঠুর প্রতারনা নিজেদের সাথে।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/rohith/6611.html



মন্তব্য করুন