রিয়াজুল আলম-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

সোনামণিদের জন্য শাহবাগের সহজপাঠ

লিখেছেন: রিয়াজুল আলম

এই লেখাটি সরকারের জন্য নয়,সরকারি দলের সমর্থকদের জন্য নয়।জামাত শিবিরের ছাগলদের জন্যও নয়।শাহবাগের আন্দোলনকারীদের জন্যও নয়।এই লেখাটি সোনামণিদের জন্য।যারা স্কুলে যায়,হোমওয়ার্ক করে,নাদুস নুদুস প্রেম করে,এবং খবরের কাগজকে অবজ্ঞা করে,গেমস খেলে,সেই হাইব্রিড সোনামনিদের জন্য শাহবাগের সহজপাঠ।এই সোনামনিরা স্বাধীনতা,মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক,তবে পক্ষের শক্তি না।তারা স্বাধীনতার পক্ষের “দুধভাত”।

 

কিছু প্রশ্ন , কিছু উত্তরঃ

 

১.শাহবাগে যাও কেন?সেখানে কী?

 

-এদেশের মানুষ খুব সহজেই ভুলে যায়।ভুলে যাওয়া তাদের ধর্ম।কেউ ভুলে যায়,কেউ ভুলে যাওয়ার ভান করে খোঁচা মারতে চায়।যাকগে,উত্তর হল,রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল ২০১৩ এর ৫ ফেব্রুয়ারি,সে আন্দোলন এখনো চলছে।কারন সবকয়টি রাজাকার এখনো ফাঁসিতে ঝুলেনি।যতদিন এদেশের শেষ রাজাকারটি,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-বিরোধী শেষ শক্তিটি থাকবে,ততদিন এই আন্দোলন চলবে।

 

২.তোমার লাভ কী?

 

-আছে,আমারও লাভ আছে।যেহেতু এই বাংলায় জন্মেছি,এই দেশের প্রতি আমার দায় আমি অস্বীকার করতে পারিনা।আমি দেশের শত্রুদের গাড়িতে পতাকা দেখে মুখ ফিরিয়ে রোমান্টিকতায় ডুবে যেতে পারিনা।জন্মভূমিকে মা বলে ডাকি,ছোটবেলা থেকে স্কুলে গান গাইতাম,”মা তোর বদনখানি মলিন হলে আমি নয়নজলে ভাসি।” মিছেমিছি কোনোদিন গাইনি।বিশ্বাস করেই গেয়েছি।সুতরাং,আমার মায়ের সুস্থতাই আমার লাভ।

 

৩.সরকার তো টালবাহানা করে।আপিলের রায়ে তো সাইদির ফাঁসি হয়নাই।তোমরা লাফাইলে কিচ্ছু হইব না।কেন লাফাও?

 

-আইন আদালত যা বলে তাই শেষ কথা না।আন্দোলন জিনিসটাই হয় তখন,গণমানুষ রাস্তায় নামেই তখন,যখন প্রচলিত আইনে ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না।৫২,৬৯,৭১ সংখ্যাগুলো আইন আদালত সরকারি নির্দেশ অমান্য করেই তৈরি হয়েছে।আমি লাফিয়ে কিছু না হলে আমার সন্তান লাফাবে,যেমন লাফিয়েছিল আমার বাবা।একদিন আলো আসবেই, এটা আমি বিশ্বাস করি।ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার শেষ লোকটি যখন থাকবে না,তখনই পৃথিবীটা নাকি ধ্বংস হবে।ধরে নাও,পৃথিবী রক্ষার জন্যই লাফাই।

 

৪.সরকার তো তোমাদের বিরুদ্ধে।সরকারের বিরুদ্ধে কয়দিন পারবা?

 

-সরকার পক্ষে না বিপক্ষে তা আমার দেখার বিষয় না।আমার দাবি আমি জানিয়ে যাবো,যে বাধা দিতে আসবে তার সাথেই লড়াই করবো।তা সে জামাত-শিবির হোক,বিরোধী দল হোক,সরকার হোক,আন্তর্জাতিক শক্তি যেই হোক।আমি মাথা উঁচু করে আমার কথা বলে যাব,আমার কাজ করে যাব,কারন আমি মানুষ,মুক্ত মানুষ,কারো কৃতদাস নই।

 

৫.শাহবাগে তো এত্তগুলা গ্রুপ।তোমরা নিজেরা নিজেরা মারামারি করো,আমি গেলে কাদের কাছে যাবো?আমি এত দলাদলি বুঝি না।

 

-তুমি যখন জানোই,সরকার রাজাকারদের ফাঁসি দিতে চায়না,তখন এইটা বুঝো না কেন,যারা সরকারের গুণগান করতে করতে মুখে ফেনা তুলে শাহবাগে এসে,তারা ফাঁসির দাবিতে আসে নাই,অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে তাদের।আরে ভাই,তুমি তো এসে দেখোই নাই কোনোদিন,দেখলে নিতান্তই ডায়াপার পরার বয়সী না হলে তুমি অবশ্যই বুঝবে,কে কেন আসে।আগে আসো, দেখো, নিজের বুদ্ধি দিয়ে বিচার করো।

 

৬.পুলিশ এখন প্রতিদিন তোমাদের মারে,আমি তোমার সাথে আছি,কিন্তু মাইর খাইতে রাজি নাই। আমার বাবা-মা,বউ-বাচ্চা আছে,পড়াশুনা আছে।তুমি যাও,আমি মনে মনে তোমাদের সমর্থন করি।

 

-ঠিক আছে,মেনে নিলাম,আমি রাস্তার পোলা।যারা আন্দোলন করে, পুলিশের মার খায়,তাদের তোমরা রাস্তার পোলা ভাবো।মেনে নিলাম।কিন্তু ভাই,আমারও বাবা মা ভাই বোন বন্ধু বান্ধবী পড়াশুনা আছে।তাই বলে কী জননী জন্মভূমির শাড়ির আঁচলে টান পড়লে আমি রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াবো না?দেশটা খালি আমারই মা,তোমার কেউ না?তুমি এমনই অকৃতজ্ঞ সন্তান?তুমি পুলিশের মার খেয়ো না,অন্তত সশরীরে উপস্থিত তো থাকতে পারো পেছন পেছন?

 

৭.ঠিক আছে,যাব একদিন সময় করে।এখন না।তুমি আমার দিকে অমন চোখে তাকাও কেন?

 

-কবে ভাই,মায়ের শাড়ি যেদিন পুরোটা খুলে যাবে সেদিন?

তুমি কি বসে বসে মায়ের সর্বনাশের অপেক্ষা করছো?তুমি আবার আশাও করো,আমি তোমার দিকে ভালো চোখে তাকাবো?হায়রে বাঙালি!jahanara imam

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/reazulalambhuiyan/31810.html

 1 টি মন্তব্য

  1. jannatul.ferdous

    অসাধারন! 

মন্তব্য করুন