rajibnoor-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

একদিন ঝুম বৃষ্টিতে

লিখেছেন: rajibnoor

গুল্লু অনেকক্ষন ঘুরে ঘুরে বৃক্ষমেলাতে অনেক গুলো ফুলের ছবি তুলল । একসাথে এত গুলো ফুলের ছবি তুলে সে অনেক আনন্দিত । আনন্দ প্রকাশ করার জন্য সে দুই লাইন গান গাইল-”আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ” ।অনেকে গুল্লুকে অনেক নামে ডাকে- যেমন, বাবুই- খরগোশ- বাবু- ঠেংগা-পন্ডিত । গুল্লু বৃক্ষমেলা থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশের দোকান থেকে এক কাপ চা-একটা কেক খেয়ে নিল । তারপর আরাম করে একটা সিগারেট শেষ করলো । আকাশ খুব মেঘলা- তখন বিকেল পাঁচ টা । গুল্লু হাঁটতে হাটতে বড় রাস্তায় এসে দাড়ালো ।শন শন করে গাড়ি বাস যাচ্ছে আসছে । যেন তাদের এক আকাশ ব্যস্ততা । গুল্লুর কোনো ব্যস্ততা নেই।সে খুব মন দিয়ে রাস্তার চলন্ত গাড়ি গুলো দেখছে আর বিড় বিড় করে যেন কি বলছে । গুল্লু অনেকক্ষন পর দেখল তার পাশে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটির চোখে মুখে এক আকাশ রাগ। মেয়েটিকে দেখে গুল্লুর অনেক মায়া লাগল ।

হিমি কখনই খুব সাজে না। বাইরে বের হলে- শুধু চোখে কাজল আর কপালে একটা ছোট্র টিপ ।তাতেই হিমিকে অসাধারণ লাগে । আজ হিমি চোখে কাজল দেয়নি, কপালে টিপও পড়েনি । সে তার বাবার সাথে রাগ করে দুপুরে না খেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে ।অনেক হাঁটাহাঁটি করে সে এখন খুব ক্লান্ত এবং ক্ষুধার্থ ।এই সময় হিমি দেখল- কোথা থেকে একটা ছেলে এসে তার সামনে দাড়ালো । ছেলেটির কাধে একটা ব্যাগ । ছেলেটি হিমির দিকে না তাকিয়ে রাস্তার চলন্ত গাড়ি গুলোর সংখ্যা খুব মন দিয়ে হিসাব করছে । হিমির ইচ্ছা হলো ছেলেটিকে বলতে- তুমি চলন্ত বাস গুলোর হিসাব রাখো আমি চলন্ত গাড়ি গুলোর হিসাব রাখি । ছেলেটির কর্ম কান্ডে হিমি খুব মজা পাচ্ছে । তারও খুব ইচ্ছা করছে ছেলেটিত মত চলন্ত গাড়ির সংখ্যা হিসাব করতে । কেন জানি ছেলেটির উপর তার খুব মায়া লাগছে ।

গুল্লু মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলল- কয়টা বাজে ? মেয়েটি এক আকাশ তেজ দেখিয়ে বলল- জানি না । গুল্লু বলল মোবাইলে সময় দেখে বলুন । মেয়েটি বলল- পারব না । গুল্লু বলল- আপনি তো একটা বেয়াদপ মেয়ে । মেয়েটি রেগে গিয়ে বলল- তুই বেয়াদপ তোর চৌদ্দ গুষ্টি বেয়াদপ । গুল্লু বলল- এত রাগ করার কি আছে ? আপনি কি ক্ষুধার্থ? ক্ষুধার্থ মানুষ দ্রুত রেগে যায় । হিমি বলল- চুপ । আর একটা কথা বললে ধাক্কা দিয়ে গাড়ির নিচে ফেলে দিবো ।হিমির কথা শেষ হওয়ার আগেই বৃষ্টি শুরু হলো । গুল্লু একটা রিকশা নিয়ে বলল- তাড়াতাড়ি উঠূন ভিজে যাবেন ।হিমি বলল- আমি কেন আপনার সাথে রিকশায় উঠবো !গুল্লু বলল এখন তর্ক করার সময় নয় । গুল্লু একটা হাত বাড়িয়ে দিল হিমির দিকে ।হিমি রিকশায় উঠে বসল ।

রিকশা যাচ্ছে সংসদ ভবনের সামনে দিয়ে ।আকাশ ভরা মেঘ । চারিদিক প্রায় অন্ধকার ।ঝুম বৃষ্টি পড়ছে । পর্দা থাকা সত্ত্বেও হিমি গুল্লু ভিজে যাচ্ছে । রিকশাওলা বাতাসে ভেঙ্গে রিকশা সামনে নিয়ে যেতে বেগ পেতে হচ্ছে । হিমি বলল- আমরা কোথায় যাচ্ছি ? গুল্লু বলল- আসাদ গেইট । হিমি বলল- আমি কি জানতে পারি আসাদ গেইট কেন যাচ্ছি? গুল্লু বলল- আপনার মত আমিও দুপুরে কিছু খাই নি । এখন দুইজন মিলে ভূনা খিচুরী খাবো গরুর  মাংস দিয়ে । গুল্লু হঠাৎ আঙ্গুল দিয়ে রাস্তায় দেখিয়ে বলল- দেখেন ছেলে মেয়ে গুলো হাত ধরাধরি করে বৃষ্টিতে ভিজছে । দেখতে সুন্দর লাগছে না ? হিমি জবাব দিলো না । গুল্লু হিমির দিকে তাকিয়ে বলল- আচ্ছা, আপনার নাম কি ? হিমি বলল- আমার নাম – হিমি, আপনার নাম কি ?গুল্লু তার নাম বলল ।

গুল্লু এবং হিমি একটি রেস্টুরেন্টে বসল । তারা দুই জন খুব আরাম করে ভূনা খুচিরী খেলো ।খাওয়া শেষে হিমি আইসক্রীম নিল গুল্লু কোক ।রেস্টুরেন্টে  গান বাজছে- “একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে/ থাকবেনা সাথে কোন ছাতা,/ শুধু দেখা হয়ে যাবে মাঝ রাস্তায়/ ভিজে যাবে ছটি-জামা-মাথা,/ থাকবেনা রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া/ দোকান-পাট সব বন্ধ/ শুধু তোমার আমার হৃদয়ে/ ভিজে মাটির সোঁদা গন্ধ ।” হিমি বলল গানটা খুব সুন্দর । গুল্লু বলল- হিমি আপনি গান গাইতে জানেন ? হিমি কিছু বলল না, সে ঠান্ডায় কাঁপছে । গুল্লু বলল- আইসক্রীম না খেয়ে কফি খান । ভালো লাগবে । হিমি বলল আইসক্রীম আমার ভীষণ প্রিয় । গুল্লু রেস্টুরেন্টের জানালা দিয়ে দেখল- বৃষ্টি কিছুটা কমেছে । তবে ঘুড়ি ঘুড়ি বৃষ্টি পড়ছে । গুল্লু বলল- চলেন আপনাকে বাসায় নামিয়ে দেই- আপনার বাসা কোথায় ?

রিকশা চলছে ।হিমি বলল, এখন বাসায় যাবো না । কিছুক্ষন রিকশায় করে ঘুরব ।হিমি বলল- গুল্লু তুমি কি একটু দেখবে আমার জ্বর এসেছে কিনা ? গুল্লু এক আকাশ আদর নিয়ে হিমির কপালে হাত রাখল । গুল্লু চমকে উঠলো- হিমির অনেক জ্বর । হিমি গুল্লুর কাধে মাথা রাখল । গুল্লু শক্ত করে হিমিকে জড়িয়ে ধরল । হিমির কোনো ভয় নেই-  গুল্লু আছে বলে । কিন্তু তার পরও হিমির চোখে পানি । হিমি জানে কোনো দিনও এই মানুষ টা তার হবে না !

এই জল ভালো লাগে; বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ — বুলায়ে দিয়েছে চুল — চোখের উপরে
তার শান — স্নিগ্ধ হাত রেখে কত খেলিয়াছে, — আবেগের ভরে
ঠোঁটে এসে চুমা দিয়ে চলে গেছে কুমারীর মতো ভালোবেসে;

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/rajibnoor/29352.html



মন্তব্য করুন