প্রিন্স খান-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

ধর্মান্ধ, চেতনান্ধ ও দলান্ধ

লিখেছেন: প্রিন্স খান

এই অন্ধরা অন্ধ (কানা) নয় এরা হল এক একটি সম্প্রদায় বা গোস্টি। সব কিছুরই একটি সীমা থাকে। যখন সেই সীমা লঙ্ঘন করে একটু বেশী করার চেষ্টা করে তখন তাতে সন্ধেহ জাগে। কথায় আছে অতি ভক্তিতা চোরের লক্ষণ। ঠিক এই তিন সম্প্রদায়ের একদল ধর্ম পালন করা থেকে বেশী ধর্ম রক্ষা করার চেষ্টা করে আর কে বা কারা পালন করলো না সেই বিষয়ে সমালোচনা করে, আরেকদল চেতনা ধারণ করা থেকে চেতনা ফলন ফলানোয় সচেষ্ট থাকে বা মানুষের কাছে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে সে চেতনাবীদ ও অন্যদল একটি দল বা সংগঠনের সমর্থন করা থেকে এতটাই অন্ধভক্ত হয়ে পরে যে সেই দলের ভালো ও খারাপ কাজের বিচার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

 

বাস্তবিক ভাবে তারা তিনটি ভিন্ন সম্প্রদায় হলেও তাদের কর্মপদ্ধতি,  চাল-চলন, চিন্তা-চেতনা, উদ্দেশ্য, মতাদর্শ লক্ষ্য করলে দেখা যায় তারা একই সম্পদায়ের লোক বা তাদের উদ্দেশ্য এক।

ধর্মান্ধ এরা ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা করে এবং বিপদে পরলে ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যাবহার করতেও দ্বিধা করে না। নিজেদের তারা সবচেয়ে বেশী ধার্মিক মনে করে। আর কাউকে রাজনৈতিক ভাবে হেয় করার জন্য তারা নাস্তিক ট্যাগ দিয়ে বা ধর্মকে ব্যাবহার করে উদ্দেশ্য হাসিল করে নেয়।

চেতনান্ধ এরা চেতনার ফলন করে ও মানুষের মাঝে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে চেতনার বীজ রোপণ করার চেষ্টা করা বা চেতনা বিক্রি করে বলতে পারেন। নিজের দেশের সংগ্রামী নেতা ও বীর সন্তানদের রেখে তারা ভিনদেশী কিছু উগ্রপন্থী বা কিছু ক্ষেত্রে সংগ্রামী মুক্তচিন্তা ধারীদের আদর্শ হিসাবে মানে।

দলান্ধ এরা একটি দলের এতটা সমর্থন করে যে তারা এক পর্যায়ে কট্টর পন্থি হয়ে যায়। নিজেদের তারা সবচেয়ে বড় সমর্থক দাবী করে। তাদের এই সমর্থন যেমন একটি দলের ভালো কাজের প্রতি থাকে তেমনি খারাপ কাজের প্রতিও থাকে। তাদের এই কট্টর সমর্থনের কারণে বিভিন্ন দল খারাপ কাজের উৎসাহ পায়।

 

তাদের এই অন্ধ ভক্তিতার কারণে সমাজে বেশ কিছু প্রভাব পরে। আমরা সকলেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তাদের এই প্রভাবের শিকার।

একজন ধর্মান্ধদের ধর্মের প্রতি অতি অন্ধভক্তিতার কারণে ও মৌলবাদের কারণে কিছু ছেলে-মেয়ে বিরক্ত হয়ে ধর্ম বিদ্বেষী হয়ে যায়। জন্ম নেয় কিছু নাস্তিকের। আর সেই নাস্তিকেরা ধর্ম বিদ্বেষী প্রচারনায় নিজেদের ব্যাস্ত রাখে।

একজন চেতনান্ধের মাত্রাতিরিক্ত চেতনাশীল হবার কারণে তার কর্মকাণ্ডে অনেক জঙ্গি জন্ম নেয়। এমনও হয় মাঝে মাঝে (হিতে বিপরীত) সে নিজেও জঙ্গি হয়ে যায়।

একজন দলান্ধের দলের প্রতি অন্ধভক্তি ও চামচামির কারণে অনেক ছেলে মেয়ে বিরক্ত হয়ে তাদের মনে সব দলের প্রতি বিরাগী মনোভাব সৃষ্টি হয়। জন্ম নেয় কিছু বাম চেতনার এবং তাদের আগ্রহ হয়ে পরে ভিনদেশী রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি। তাদের মাঝ থকে কেউ দেশ ও রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে পরে সরকার অথবা রাজনৈতিক দলের বিরোধীতা করতে করতে।

 

পরিশেষেঃ আমার যতটুকু মনে হয় বা আপনারা একটু বিবেচনা করে দেখেন তাহলে তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পারবেন। তারা আসলে একে অপরের জন্য কাজ করে থাকে। এদের কে যদি আমরা পরিহার ও বর্জন না করি তাহলে অদূর ভবিষ্যৎ’এ আমাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। শেষ কথা বলতে চাই ভাইরা আমরা কি একটি বারের জন্য বাংলান্ধ হতে পারি না। কি লাভ দেশের ক্ষতি করে। দেশটা তো আমাদেরই তাই না। আসুন হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে দেশকে গড়ার জন্য কাজ করি। দেশকে ভালবাসতে শিখি ও নতুন প্রজন্মকে সুন্দর একটি বাংলাদেশ উপহার দেই।

সকলকে ধন্যবাদ আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে আমার মত অধমের এই কথাগুলো পড়ার জন্য। সকলের প্রতি শুভ কামনা রইলো, আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন।

#প্রিন্স_খান

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/pk5426/28976.html



মন্তব্য করুন