প্রিন্স খান-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

তারুণ্যের চেতনায় আস্তিকতা – নাস্তিকতার বিভাজন

লিখেছেন: প্রিন্স খান

সবাইকে সালাম জানিয়ে ব্লগে আমি আমার প্রথম লেখা শুরু করছি। লেখা যখন প্রথম তাই ভুল তো একটু হবেই, সবার প্রতি অনুরোধ আমার ভুলগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং যদি ভুলগুলো শুধরিয়ে দেন তাহলে আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকিবো। সেই সাথে সকলের মন্তব্য আশা করছি। আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য আমার লেখাকে আরও প্রাসঙ্গিক ও সৃজনশীল করতে সহযোগিতা করবে।

 

সেই ৫২ থেকে ৭১ পর্যন্ত বাংলাদেশের যত আন্দোলন হয়েছে সবগুলোতেই আমাদের তারুণ্যের সিংহভাগ উপস্থিতি ও তাদের যথাযথ সাফল্য লক্ষ্য করা যায়। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যদি বিবেচনা করি আমাদের তারুণ্যের সফলতা কি ? তাহলে আমি মনে করি ২০১৩ শাহাবাগের আন্দোলন যেখানে জাতিকে একটি বিশেষ সংকটময় মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তরুণদের যথেষ্ট ভূমিকা আছে। ২০১৩ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি এদেশের তরুণরা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে নিজেরা স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলো ও সেই সাথে এদেশের নতুন প্রজন্মের মাঝে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করে ছিল। সেই কারণে এই দেশের সার্বভৌমত্বে অবিশ্বাসী দোসররা অনেকটা হেয় হয়ে গিয়েছিল।

সেজন্য স্বাধীনতা বিরোধী এই কুচক্র আমাদের তরুণদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য বেশ কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে যেমন আওয়ামীলীগ-বিএনপি, আস্তিক-নাস্তিক। তাছাড়া আমরা কিছু কারণে নিজেরা নিজেদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টির জন্য দায়ী তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো চেতনাশিল-অতিচেতনাশিল, সম্মান ও সুনাম নিয়ে ঈর্ষা ইত্যাদি।

আওয়ামীলীগ-বিএনপিঃ স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি যখন খুবই শক্তিশালী হয়ে উঠলো এবং আন্দোলন তীব্র ও জোড়ালো ভাবে চালাতে থাকলো তখনই স্বাধীনতা বিরোধী একটি মহল এই শক্তি বিন্যাস করার জন্য যে পদ্ধতিটি সর্বপ্রথম প্রয়োগ করেছিলো সেটি হলো আওয়ামী-বিএনপি সমর্থন। তারা এইটা প্রচার করে তরুণদের বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হল এই শাহাবাগের আন্দোলন একটি দলের সমর্থিত। সে বিষয়ে আমি মনে করি স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি সফল। তরুণদের মাঝে অনেকেই তাদের(কুচক্রের) বিভ্রান্তিতে পরে এই আন্দোলনকে একটি দলীয় আন্দোলন ভেবে প্রস্থান করে। আর আন্দোলনকারী অনেকেই এইটাকে নিরপেক্ষ প্রমাণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে।

 

আস্তিক-নাস্তিকঃ বর্তমান যে সমস্যা অফলাইন ও অনলাইনে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সেটি হল আস্তিক-নাস্তিক সমস্যা। এটি শাহাবাগের আন্দোলনের মাঝামাঝি সময়ে বেশ জোড়ালো করে স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি প্রচার করেছিলো এবং হেফাজত নামক একটি মৌলবাদী সংগঠনের জন্ম হয়েছিলো। সেই রেশ এখনো আমরা তরুণরা কাটিয়ে উঠতে পারি নি। আমাদের তরুণদের মাঝে অনেককেই দেখি আস্তিক-নাস্তিক ইস্যু নিয়ে নিজেদের মাঝে বিতর্কে জড়িয়ে পরছে। এর ফলে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদীয়মান কিছু তরুণদের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি হচ্ছে।

 

আমরা যারা নিজেদের চেতনাশীল, প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক দাবী করি তাদের কাছে অনুরোধ আপনারা সতর্ক হোন, স্বাধীনতার বিরোধী দের ফাদে পা ফেলবেন না। অন্তত এইটা বুঝতে হবে যে এই আস্তিক-নাস্তিক ইস্যু টি স্বাধীনতা বিরোধী দোসর দের সৃষ্টি। আমাদের একটু ভুল তাদের সফলতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। তাই আমাদের আরো সতর্ক হতে হবে।

নাস্তিক ভাইদের কাছে আনুরোধ আপনারা কোন ধর্ম বিশ্বাস করেন না ঠিক আছে দয়া করে অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার চেষ্টা করুন। যদি তা নাও পারেন সমস্যা নেই দয়া করে অন্য ধর্মকে অবমাননা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। আমি যতটুকু জানি নাস্তিকরা যুক্তিতে বিশ্বাসী। তাহলে অন্যের অনুভুতিতে আঘাত করা কোন যুক্তিতে পরে !!!

যাই হোক আমি কোন আস্তিক-নাস্তিক বিষয় নিয়ে বিতর্ক করতে আসি নি। শুধু এইটুকু বলতে চাচ্ছি আমাদের সমাজের একই চিন্তা-চেতনা বিশ্বাসী তরুণদের মাঝে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যাক্তি বা মহল ধর্মানুভুতি বা আস্তিক-নাস্তিক বিষয় তুলে বিভাজন বা ভাঙন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তাই এখন থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

সকলকে ধন্যবাদ আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে আমার মত অধমের এই কথাগুলো পড়ার জন্য। সকলের প্রতি শুভ কামনা রইলো, আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন।

#প্রিন্স_খান

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/pk5426/28641.html

 2 টি মন্তব্য

  1. আজাদ মাষ্টার

      

      ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে একটা জিনিস স্পষ্ট হয় , দেশে যখনই  প্রগতিশীল কোন জন আন্দোলন উত্তাল গতি লাভ করে   জামায়াত , মুসলিমলীগের মতো সামন্তবাদী প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে তখনই তাঁরা নিজেদের জোব্বা আস্তিন থেকে  আস্তিক নাস্তিক ইস্যুটাকে সামনে নিয়ে এসে  সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে তাদের বিভক্ত করবার চেষ্টা চালায় কাজেই এইটা নতুন কোন ঘটনা নয় ।  
     ৬৯ যখন মাওলানা ভাসানি নেতৃত্বে  পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলায় দুর্বার আন্দোলন গড়ে উঠেছিলো , সেই রকম একটা সময়ে  জামায়াতের তাত্ত্বিক নেতা মওদুদী এবং তাঁর সাঙ্গপাঙ্গোরা  মাওলানা ভাসানিকে   “কাফের”  বলে ফতোয়া দেয় । 

    ৯০ এর শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণআন্দোলন আরম্ভ হয় তখন তাঁকে “জাহান্নামের ইমাম ” বলে ছাত্র শিবিরের ক্যাডারেরা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিলো ।

    1. প্রিন্স খান

      ধন্যবাদ মাষ্টার দা ! আমার ব্লগ পোস্টে আপনার মূল্যবান মতামত রাখার জন্য। সেই সাথে ধন্যবাদ জানাই ইতিহাস থেকে কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরার জন্য। ৬৯ ও ৯০ এর ঘটনা আমাদের অনেকেরই জানা আছে। ৬৯’এ মাওলানা ভাসানি কে কাফের, ৯০’এ শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে জাহান্নামের ইমাম ও রাষ্ট্রদ্রোহী এবং ২০১৩ তে কি হয়েছে সেইটা তো জানিই সবাই। তারপরেও কি আমাদের মাঝে পরিবর্তন এসেছে ! আমারা কি ইতিহাস থেকে কোন শিক্ষা নিতে পেরেছি !!! আমরা এও জানি ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি আবারো ঘটবে। এইটাই স্বাভাবিক ! শুধুই আমাদের অসচেতনতা।আমরা আগেও বলেছিলাম এখনো বলি সামনেও বলবো, “এইটা নতুন কোন ঘটনা নয়”।ধন্যবাদ দাদা !!!

মন্তব্য করুন