নাজীব-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

তেতাল্লিশটি ঘুনপোকা (কিছুটা সায়েন্স ফিকশন)

লিখেছেন: নাজীব

আব্দুল মান্নান সাহেবের বয়স ৬৫ বছরের মত হবে হয়তো। বয়সের তুলনায় বেশি বুড়ো দেখায়। বিভিন্ন রোগ-শোকে জর্জরিত। বরিশালের একটি মফস্বল এলাকায় থাকেন। ওখানকার সবাই তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জানলেও সরকারি লিষ্টে তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন। আসলে মান্নান সাহেবের একটি সমস্যা আছে, তিনি একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের সব স্মৃতি ভুলে গিয়েছেন। দেশ স্বাধীনের কদিন আগে একটি বধ্যভূমি দেখতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পরেন, নির্মমতা সহ্য করতে পারেননি। এরপর পুরো যুদ্ধকালীন সময়টাই তার ব্ল্যকআউটে চলে যায়। আজকাল মুক্তিযোদ্ধা হতে গেলে ভাইভা দিতে হয়, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বলতে হয়। মান্নান সাহেবের পক্ষে এই ভাইভায় পাশ করাও সম্ভব না আর মুক্তিযোদ্ধার লিষ্টে ওঠাও হয়ে ওঠেনা। আজ পুরোনো বইপত্রের মাঝে ৪৩ বছর আগে যুদ্ধকালীন সময়ে নিজের লেখা একটি ডায়েরী তিনি খুজে পেয়েছেন। ঠিক করেছেন রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে পড়া শুরু করবেন।

 

(এক)

বিছানায় শুয়ে শুয়ে মান্নান সাহেব ডায়রির পাতা ওল্টাচ্ছেন। পড়া শুরু করলেন…

১৭ই মে, ১৯৭১
আজ একটা ব্রিজ উড়িয়ে দিতে হবে, পাকবাহিনী এই ব্রিজ থেকে গাড়িতে করে আসে। কিন্তু ব্রিজের গোড়ায় কিছু মিলিটারির সাথে মিলে কয়েকজন সশস্র রাজাকার পাহাড়া দিচ্ছে। কারন তারা জানে মুক্তিবাহিনী এই ব্রিজ উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টায় আছে।

এই পর্যন্ত পড়তে পড়তেই মান্নান সাহেবের চারদিক ঘুরতে শুরু করলো, সমগ্র পৃথিবীটা আর ঘরটা যেন পাল্টে যাচ্ছে। একটু পরেই তিনি নিজেকে একাত্তরের সেই দিনটিতে আবিস্কার করলেন। গায়ের কাপড়-চোপড় সব ঠিকই আছে, কিন্তু তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যম্পে শুয়ে আছেন। সকাল হয়েছে। সহযোদ্ধা নুরু এসে ডাক দিয়ে বললো, “কিরে, বুড়ো মানুষের মত পাঞ্জাবী পরে বসে আছিস কেন? অপারেশনে যাবিনা?”
মান্নানের মনে পড়ে গেল, এই অপারেশনে সহযোদ্ধা সালাউদ্দিন শহীদ হয়েছিলো। একটু ভেবে নুরুকে বললো, “প্ল্যানে সামান্য পরিবর্তন করছি। সালাউদ্দিন আমাদের সাথে যাবেনা।”
বিকেলে নিজেদের কোনরকম ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ঘাটিতে এসে পৌছুলো। সালাউদ্দিনের মন খারাপ, অপারেশনে অংশ নিতে পারেনি। মান্নান মনে মনে ভাবলো সালাউদ্দিনের সামান্য মন খারাপের বিনিময়ে আমাদের মনটা আজ ভালো আছে, ওর জীবনটা তো বেচে গিয়েছে।

 

ঘুম থেকে উঠে মান্নান সাহেব দেখলেন তিনি আবার বুড়ো হয়ে গিয়েছেন। ভাবলেন রাতে সম্ভবত স্বপ্ন দেখেছিলেন। পত্রিকাটা হাতে নিয়ে চোখ কপালে উঠে গেলো। শিরোনামে বড় বড় করে লেখা, “মন্ত্রী সালাউদ্দীনের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দূর্নীতি প্রমানিত। রায় যে কোন দিন!!!”
কি ব্যপার, সালাউদ্দিন তো একাত্তরে শহীদ হয়ে গিয়েছিলো! কিন্তু এটাতো সেই একাত্তরের সালাউদ্দিনেরই ছবি। তবে কি মান্নান সাহেব স্বপ্নে গিয়ে ওকে সত্যি সত্যি বাচিয়ে তুলেছেন! ডায়রিটা একরকম টাইম মেশিনের মত কাজ করছে। একটুখানি পড়েই সেই সময়টায় চলে যাওয়া যাচ্ছে। সংবাদের বিস্তারিত পরে জানতে পারলেন নিজের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়কে অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়ে স্বার্থোদ্ধারে নেমেছিলো সালাউদ্দিন, এমন বীর সালাউদ্দীনের থেকে তো শহীদ সালাউদ্দীনই ঢের ভালো। ডায়রীর সেই পাতাটি আবার পড়া শুরু করলেন মান্নান সাহেব, কিছুক্ষন পড়ার পরেই চারদিক আবার পাল্টে গেলো, চলে গেলেন আবার একাত্তরের সেই দিনে। এবার সালাউদ্দিনকে নিয়েই ব্রিজ উড়িয়ে দিতে গেলেন, ফিরলেন শহীদ সালাউদ্দিনকে নিয়ে।

(দুই)

আজ আবার ডায়েরীর পাতা ওল্টানো শুরু করলেন মান্নান সাহেব। একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়েই পাতা ওল্টাচ্ছেন। রাজাকার নান্না মিয়াকে একটুর জন্য মেরে ফেলতে পারেননি একটি অপারেশনে, আজ সেই অপারেশনে গিয়ে ভুল শুধরে শান্তি কমিটির নেতা নান্নাকে শেষ করে দিবেন। পড়া শুরু হলো,

২৩ জুন, ১৯৭১
শান্তি কমিটির নেতা নান্না মিয়াকে শেষ করবো আজ। এতে পাকবাহিনী বিচলিত না হলেও রাজাকারে যোগ দেয়া বাঙ্গালী নরপশুগুলা ভীত হয়ে পরবে…

এভাবে ডায়েরী পড়তে পড়তেই একাত্তরের সেই দিনে চলে যান মান্নান সাহেব। এবার আর মিস হয়নি। গুনে গুনে ৩ টা গুলি করেছেন নান্না মিয়ার বুক বরাবর। রাতে শান্তিতে ঘুমাতে গিয়েছেন। ভেবেছেন স্বাধীন বাংলাতে অন্তত একটা কুকুরের হাত থেকে বাঁচবে।

 

সকালে ঘুম থেকে উঠে বৃদ্ধ মান্নান সাহেব চা খেতে গিয়েছেন সামনের দোকানে। সাথী নামের ষোল-সতেরো বছরের এক মেয়ে দোকানের সামনে এসেই হাতের বই রেখে মান্নান সাহেবের পা ছুয়ে সালাম শুরু করলো। বৃদ্ধ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কিরে সালাম করছিস কেন?”
“আমি আজ প্রথম কলেজে যাচ্ছি দাদাজান, তাই একজন মুক্তিযোদ্ধার পায়ের ধুলা নিয়ে নিলাম। অবশ্য কলেজটা নান্না রাজাকারের নামে।”
“নান্না রাজাকারের নামে কলেজ হয়েছে?”
“ও আল্লাহগো, দাদাজান কি এখন সব কথাই ভুলে যান! আগে তো শুধু একাত্তরের কথা ভুলছিলেন। নান্নার নামে হাবিবপুরে কলেজ হইছে, নান্না রাজাকারের পোলা মাইনুল হক মুক্তিযুদ্ধের দল আওয়ামীলীগ থেইকা নমিনেশন নিয়া নির্বাচন করছে। নান্নার নামে একটা মাজার হইছে, মাজারে মাহফিল হয়, সিন্নি দেয়। সে নাকি মুসলমানগো জন্য মরছে! এর থাইকা হালার পুত বাইচা থাকলেই ভালো হইতো। তাইলেও এত সন্মান পাইতোনা। ভন্ডটারে সবাই চিনতো।”

সাথী চলে যাওয়ার পরও মান্নান সাহেবের মাথায় একটা চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছে, “এর থেকে শয়তানটা বাইচা থাকলেও ভালো হতো।” ডায়রির সেই পাতাটি আবার পড়া শুরু করলেন। ফিরে গেলেন একাত্তরে, বাচিয়ে আনলেন রাজাকার নান্না মিয়াকে। নান্না মিয়া উজিরপুর-বাবুগঞ্জ অঞ্চল থেকে এরশাদ আমলে এমপি হয়েছিলো, এমপি থাকা অবস্থায় সংসদে সবচেয়ে বেশি ঘুমানোর রেকর্ড তিনি করেছিলেন। দেশের মানুষ ঠিকই চিনেছিলো নান্না রাজাকার কতবড় বদমাশ।

(তিন)

আজ ফিরে যাবেন সেই দিনটাতে। ভয়ঙ্কর সেই দিন, যেদিন যুদ্ধের মাঝে মায়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মান্নান। আর বাড়িতে গিয়ে দেখেছিলেন পাশের হিন্দু বাড়ির মেয়ে শান্তি দুপুর বেলায় হিজল গাছের সাথে গলায় ফাস দিয়ে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। ওকে মিলিটারিরা ধরে নিয়ে গিয়ে ক্যম্পে রেখেছিলো কিছুদিন, সীমাহীন নির্যাতন করে মূমুর্ষ অবস্থায় ছেড়ে দেয় হিন্দুপাড়ার সব থেকে সুন্দরী মেয়েটিকে। ডায়েরী পড়া শুরু হলো…

৭ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
আজ খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম। বাড়িতে মায়ের সাথে দেখা করতে যাবো…

বাড়িতে না গিয়ে সরাসরি হিজল গাছের তলায় এসেছেন মান্নান। একটু পরেই শান্তি এসে দাঁড়ায় হিজল গাছের তলায়। মান্নানকে দেখে সে অবাক হয়েছে কিনা বোঝা যাচ্ছেনা, তবে হতাশ হয়েছে বেশ। মান্নান বলতে শুরু করলো, “শান্তি, আমি জানি তুমি মরতে এসেছ। কিন্তু দেশটা চিরকাল এমন থাকবেনা। একদিন এদেশ স্বাধীন হবে, তোমাদের বলা হবে বীরঙ্গনা। এদেশের মানুষ ঘৃনা নয়, শ্রদ্ধাভরে স্মরন করবে তোমাদের ত্যগকে…”
শান্তিকে কিছুটা বুঝিয়া আত্মহত্যার হাত থেকে বাচানো গেলো। এবার দেখার পালা স্বাধীন বাংলাদেশে শান্তি কতটা শান্তিতে থাকে।

 

সকালে ঘুম থেকে উঠেই পাশের হিন্দুবাড়িতে গেলেন মান্নান সাহেব। গিয়ে দেখেন এটি আর হিন্দুবাড়ি নেই, দখল হয়ে গিয়েছে। কিছুক্ষন কথাবার্তার পরে জানা গেলো স্বাধীনতার পর পরই শান্তি একটা কন্যার জন্ম দেয়। গ্রামের মুরুব্বিরা তখন বিচার বসিয়ে শান্তিকে নষ্টা বলে ঘোষনা করে। এমন অলুক্ষনে মেয়ে পেটে ধরায় যা তা বলা হয় শান্তির বাবা-মাকে। লজ্জা আর অপমান সইতে না পেরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করে শান্তির বাবা-মা। বাবা-মার পোড়া লাশ দেখেই শান্তির মাথা খারাপ হয়ে যায়। শান্তির শান্তি দেখতে হলে এখন আশপাশের বাজারগুলোতে খোজাখুজি করতে হবে। এ দোকান, সে দোকান থেকে কুড়িয়ে কুড়িয়ে যা পায় তাই খেয়ে বেচে আছে।

চথলবাড়ি বাজারে গিয়ে শান্তিকে খুজে পান মান্নান সাহেব। শাড়িটি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন, ব্লাউজ নেই, স্তন বেড়িয়ে আছে। তবে যে স্তনের ওপরে হামলে পড়েছিলো শকুনের দল সে স্তনের এখন আর মূল্য নেই। মান্নান সাহেব ভাবলেন ওর বয়সটা যদি এখনো আগের মত থাকতো তাহলেও নাহয় দেহ ব্যবসায় নামিয়ে দেয়া যেত। সমাজ যাকে নষ্টা বলে দিয়েছে তাকে আর কি কাজই বা দেয়া যেতে পারতো! একটা মুদি দোকানের পাশে কারেন্টের খাম্বার সাথে হেলান দিয়ে হাত-পা ছড়িয়ে আধমরা মানুষের মত চোখ বুজে বসে আছে শান্তি। মান্নান সাহেব কাছে গিয়ে ডাকলেন, “শান্তি?”
চোখ মেলে কিছুক্ষন অবাক চোখে তাকিয়ে পোকায় খাওয়ার পরে অবশিষ্ট থাকা দাতগুলা বের করে হেসে দিয়ে শান্তি বললো, “স্বাধীন বাংলা!!!”

মান্নান সাহেব ডায়েরির সেই অংশ পড়ে আবার চলে গেলেন সেই হিজল গাছের তলে। একটু পরে শান্তি এসে দাড়ালো সেখানে। মান্নানকে দেখে বললো, “আমি এখানে মরতে এসেছিলাম, কিন্তু তোমাকে দেখে স্বিদ্ধান্ত পাল্টেছি দাদা। আমি মরবোনা। আমাদের যদি মরতে হয় তবে তোমরা কেন যুদ্ধ করছো! কি দাদা, পারবেনা স্বাধীন বাংলা এনে দিতে?”
“শান্তি, আমার হাতে সময় নেই। তোকে এখনি মরতে হবে।” এই বলে মান্নান গিয়ে শান্তির গলা চেপে ধরলো, শান্তি বলতে থাকলো, “দাদা আমি মরতে চাইনা, স্বাধীন বাংলা দেখতে চাই।”
“না শান্তি, তোকে মরতে হবে। তুই জানিসনা, সামনে তোর জন্য কি অপেক্ষা করছে!”
কিছুক্ষন পরেই শান্তি লুটিয়ে পরলো মাটিতে, তার সাথে খুব ছোট্ট আরো একজন।

(চার)

মান্নান সাহেব ডায়েরী পড়ে আজ এসেছেন একাত্তরের ১৫ই ডিসেম্বরে। কাল দেশ স্বাধীন হবে। সুতরাং যুদ্ধে এখন আর তার প্রয়োজন নেই। স্বাধীনের পরে দেশে কি হবে তা আবার মনে করে নিলেনঃ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল আওয়ামীলীগ ভরে যাবে চোর-ছ্যচোরে, বঙ্গবন্ধু হয়ে যাবেন বেঈমান মোস্তাকদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চাবিকাঠি, চারনেতাকে দূরে ঠেলে দিবেন শেখ সাহেব, এরপর ভয়াবহ পঁচাত্তর, তারপর সেনাবাহীনির সেই অস্থিরতা, ধুলোয় লুটিত-পুটিত হবে মহাবীর সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের লাশ, পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল তাহের সহ অসংখ্য সেনা অফিসারকে নির্বিচারে ফাসিতে ঝোলাবেন আরেক মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান, গোলাম আযম বাংলার নাগরিকত্ব পাবে, যুদ্ধাপরাধীর গাড়িতে উড়বে জাতীয় পতাকা, মুক্তিযোদ্ধাকে লাথি মারা হবে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনষ্টিটিউটে…! উফফফ, নাহ, আর ভাবা যাচ্ছেনা। একাত্তরের স্মৃতি মনে না আসাই সম্ভবত ভালো ছিলো। ডায়রিটাই সব গুবলেট করে দিলো। তা না হলে একাত্তরের নির্মমতা না দেখা এখনকার প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মত তিনিও তো বলতে পারতেন, “দেশ পাকিস্তান থাকাই ভালো ছিলো।”

পাকিস্তানী ক্যম্পটা আরেকটু সামনে। মান্নান সাহেব সেদিকেই যাচ্ছেন। গেটে গিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিলেন। একটু পরেই ক্যপ্টেন সাহেবের সামনে হাজির করা হলো মুক্তিযোদ্ধা মান্নানকে। টেবিলের একপাশে চেয়ারে ক্যপ্টেন বসা, আরেকপাশে বসা মান্নান। টেবিলের ওপরে মান্নানের সাথে নিয়ে আসা একটা ডায়েরী

ক্যপ্টেন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “আমরা তো আত্মসমর্পনের জন্য রওয়ানা দিচ্ছিলাম, তুমি এই সময় ধরা দিয়া মরতে আসলা কেনো?”
“স্বাধীন বাংলাদেশে যেসব ঘটনা ঘটবে তা দেখে আমার বারবার আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে করবে।”
“কি ঘটবে তা তুমি এখন বুঝলা কেমনে? আর আত্মহত্যা করতে মন চাইলে তখন করবা।”
“একজন মুক্তিযোদ্ধা আত্মহত্যা করেনা, যুদ্ধ করে! আমিও এসেছি যুদ্ধ করতে। পৃথিবীকে যতটা সম্ভব পাকিস্তানি নরপশুশূন্য করতে এসেছি আমি।”

এর কয়েক সেকেন্ড পরেই মান্নানের শার্টের নিচে বেধে আনা টাইম মেশিনটা ব্লাষ্ট হলো। ক্যম্পটা মুহূর্তের মধ্যে উড়ে গেলো। বাতাসে পাক খেতে খেতে কয়েকটা ডায়েরীর ছেড়া পাতা এসে মাটিতে পড়ছে। একটাতে লেখা,

15th December, 2014 (2AM)
৪৩ বছর পরে ডায়রিটায় আবার লিখছি। আমি বাংলাদেশকে ২৫ বছর দেখেছি নাকি ৬৫ বছর দেখেছি তা বুঝতে পারছিনা। আশা করছি আমি বেচে ছিলাম ২৫ বছর এবং এরপরে আমার দেখা ৪৩ বছরের বাংলাদেশ সম্পূর্ন কল্পনাপ্রসূত, সেই বাংলাদেশের পতাকা শকুন ছিড়ে খায়না, সেখানে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা ভি চিহ্ন দেখায়না। সেখানে কেউ জিন্দাবাদ বলেনা, ভোরের শিশির কিংবা ডাহুকটিও বলে, “জয় বাংলা…”

 

……………………………………………………………………………………………

 

আগের একটা লেখা দিয়েই প্রজন্মতে ব্লগিং শুরু করলাম। তবে অন্যান্য ব্লগগুলোর মত এখানেও সায়েন্স ফিকশন/বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ক্যাটাগরী না দেখে হতাশ হয়েছি কিছুটা। আশা করছি শীঘ্রই প্রজন্মতে এই ক্যাটাগরিটি পাবো। সবাইকে ইংরেজী নববর্ষের শুভেচ্ছা। পোষ্ট শেষ, তবে প্রজন্মতে আমার লেখালেখি শুরু। হ্যালো প্রজন্মব্লগ…

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/najib/31858.html



মন্তব্য করুন