মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এবং আমাদের করণীয়

লিখেছেন: মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন

ঘূর্ণিঝড় কি?
ঘূর্ণিঝড় একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ যা উষ্ণ কেন্দ্রীয় লঘুচাপ, যার চারিদিকে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস উত্তর গোলার্ধের ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে প্রচন্ডভাবে ঘুরতে থাকে। ঘুর্ণিঝড়ের ব্যসার্ধ সাধারণত ৫০০-৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। হালকা বাতাস এ হালকা মেঘ দিয়ে ঘুর্ণিঝড়ের কেন্দ্র ‘আয়ন’ নামে পরিচিত।’আয়ন এর ব্যসার্ধ ২০-১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। কেন্দ্র থেকে কেন্দ্রের চারিদিকে ঘুর্ণয়মান বাতাসের গতি ঘন্টায় ৬২ থেকে ১১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

জলোচ্ছ্বাস কি?
ঘুর্ণিঝড়ের সময় সমুদ্রের পানি স্ফীত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের সাথে উপকূলের কাছা-কাছি যে উঁচু ঢেউয়ের সৃষ্টি করে তাকে জলোচ্ছ্বাস বলা হয়। এছাড়া সাগর গর্ভে ভুমিকম্প বা অগ্ন্যুৎপাতের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বিদ্যমান আছে।
সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতাও বৃদ্ধি পায়।

ঘুর্ণিঝড় পরবর্তী প্রাকৃতিক দুর্যোগঃ
ঘুর্ণিঝড়ের সাথে জলোচ্ছ্বাসের জন্য নিচু জমিতে পানি আটকে যায় যার ফলে সৃষ্টি হয় বন্যার।সমুদ্রের পানি লবণাক্ত হ্ওয়ায় দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে মিঠা পানি নষ্ট হয়ে লবাণক্ত হয়ে যায়।

ঘুর্ণিঝড়ের তীব্রতা প্রকাশের জন্য সংকেতঃ
ঘূর্ণিঝড় প্রকাশ করার জন্য বিভিন্ন সংকেত ব্যবহার করা হয়ে থাকে নিম্নে সেগুলো বর্ণণা করা হলোঃ
সংকেত
দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নম্বর-১ (সমুদ্রে প্রবাহিত বাতাস ঝড়ে রুপান্তর হচ্ছে।)

দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নম্বর-২ (সমুদ্রে ঝড় উঠেছে)

স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর-৩ (বন্দর দমকা হাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে)

স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর-৪ (বন্দরে ঝড় আঘাত আনার সম্ভাবনা রয়েছে)

বিপদ সংকেত নম্বর-৫ (বন্দর ঝড় হ্ওয়া বইছে এবং ঝড় উপকুলের বন্দর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে)

বিপদ সংকেত নম্বর-৬ (বন্দর সমূহতে ছোট বা মাঝারি হাওয়া বিরাজ করছে এবং সমুদ্র বন্দর দিয়ে ঝড় অতিক্রম করার আশঙ্কা করা হচ্ছে)

বিপদ সংকেত নম্বর-৭ (বন্দরের উপরে বা নিকটে প্রত্যাশিত ছোট বা মাঝারি হাওয়ার তীব্রতা বিরাজ করা শুরু করেছে)

মহাবিপদ সংকেত নম্বর-৮ (উপকুলের বন্দর সমূহতে তীব্র ঝড় আঘাত হানতে যাচ্ছে)

মহাবিপদ সংকেত নম্বর-৯ (তীব্র ঝড় হাওয়া উপকুলের বন্দর গুলোতে বইতে শুরু করেছে)

মহাবিপদ সংকেত নম্বর-১০ (বন্দরের উপর বা নিকট দিয়ে অতিক্রমকারী তীব্র গতি সম্পন্ন ঝড়ের কারণে বন্দরে তীব্র ঝড়হাওয়া বিরাজ করছে)

মহাবিপদ সংকেত নম্বর-১১ (আবহাওয়া সতর্ক কেন্দ্রের সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হ্ওয়ার ফলে প্রবল ঘুর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে)

দূর্যোগের জন্য প্রস্তুতিঃ
দূর্যোগের তীব্রতা অনুযায়ী অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। গোবাদি পশুপশুকে নিরাপদ ও উচু স্থানে রাখতে হবে। শিশু ও বৃদ্ধদের পূর্বেই নিরাপদ আশ্রয়ে যেমন দুর্যোগকালিন আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।
শুকনো খাবার, পানি, মোমবাতি, দিয়াশালাই সঙ্গে করে আশ্রয় কেন্দ্রে নিতে হবে। পানি না পাওয়াগেলে ডাবের পানি সংগ্রহ করতে হবে।সাথে রেডিও রাখতে হবে যেন পরবর্তী অবস্থা এবং করণীয় সম্পর্কে অবগত হ্ওয়া যায়।মোবাইল ফোন থাকলে তা চার্জ করে রাখতে হবে প্রয়োজনে একাধিক ব্যাটারি সঙ্গে রাখতে হবে। বর্তমানে মোবাইল ফনে রেডিও বার্তা শুনাযায়। ছোট যন্ত্র হ্ওয়া এটা ব্যবহার সহজ্

দূর্যোগকালিন সতর্কতাঃ
দূর্যোগ চলাকালিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হতে পারে বা বিদ্যুৎ সংযোগ ছিড়ে যেতে পারে বা গ্যাস লাইন ফেটে যেতে পারে এবং এজন্য আগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

দূর্যোগ পরবর্তী করণীয়ঃ
দূর্যোগ পরবর্তী লন্ড-ভন্ড হয়ে যেতে পারে উপকুল এবং জলচ্ছ্বাসের কারণে বন্যা দেখা দেয়। ফলে বিশুদ্ধ মিঠা পানির ঘাটতি দেখা দেয়। যথা সম্বব মাটি খনন করে বা আকাশের পানি সংগ্রহ করতে হবে। পানি বাহিত বিভিন্ন সংক্রামক দেখা দিতে পারে যেমন কলেরা, ডাইরিয়া এজন্য অবশ্যই দুর্ঘোটনা কবলিত এলাকার মেডিকেল টিমের সহায়তা গ্রহণ করতে হবে। নিজেরা দূর্ঘটনায় কবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে উদ্ধার এবং পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য উদ্ধারকারি দলকে সহায়তা করতে হবে।অন্যদের প্রতি মানবিক আচরণ বজায় রাখতে হবে।
এছাড়া আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান কারীদের খাবার সরবরাহ করার সময় বিশৃঙ্খলা এড়াতে সারিবদ্ধভাবে খাবার সংগ্রহ করতে হবে।মহিলাদের জন্য আলাদা লেট্রিন ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। শিশু পাচার ও সমস্যা এড়াতে একটি তালিকা করতে হবে।

 

 

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/musaddek71/13344.html



মন্তব্য করুন