mohammed habib Ullah-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

প্রকৃত অর্থে তর্ক, প্রায়োগিক ঝগড়া অর্থে নয়

লিখেছেন: mohammed habib Ullah

আমি আমার কথা বলবো, আমার লোকেরাই হাততালি দেবে খালি, কেউ এসে উল্টো কথা বলবে না,এইগুলো সুন্দর পরিস্থিতি ঠিকই, তবে কাজের নয় বলেই মনে হয়। আমার তো মনে হয় তর্ক (প্রকৃত অর্থে তর্ক, প্রায়োগিক ঝগড়া অর্থে নয়) হোক, আলোচনা হোক, বিরোধিতা হোক । এইগুলোই সব থেকে প্রয়োজন এই সময়ে। যুক্তি বলুক শেষ কথা। একমাত্র যুক্তিই পারে অন্ধত্ব থেকে মুক্তি দিতে। তাই ওই ধর্মান্ধদের থেকে নিজেকে দূরে রেখে সুন্দর পরিস্থিতি তৈরি করা যায় ঠিকই, কিন্তু সচেতন যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে তাতে দায় এড়ানো হয় বলেই মনে করি।মাঝে মাঝে কেন নিজের বুদ্ধি এবং মগজ খাটিয়ে কোন ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত, কেন নিজে যেটা বিশ্বাস করতে চান, সেটার সমর্থনে কোন কিছু দেখা মাত্র ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত না, সেটা আজকে ব্যাক্ষা করব।
বিপরীত ধর্মী দুটি ওয়েবসাইট।
একটা হইলো গ্লোবালরিসার্চ ডট সিএ (globalresearch.ca) , আরেকটা হল জ্যুইশনিউজ ডট সিও ডট আইএল (jewsnews.co.il)।
দুটি খবরের উদাহরন দেই। এদের মধ্যে প্রথমটি বেশ প্রো-ইসলামিক সাইট। প্রো-ইসলামিক এই অর্থে, এরা কোথাও কোন ধরণের জঙ্গি হামলা হলেই নানান অদ্ভুত সূত্র আর উদ্ভট যুক্তি দেখিয়ে সেই হামলার পেছনের জঙ্গি সম্পৃক্ততা অস্বীকার করতে চায়। প্যরিসের ঘটনার পরে এই সাইটের প্রথম নিউজের সারাংশ ছিল এমন-
“যে পুলিশ অফিসারকে গুলি করা হয়েছে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে, তার মাথা থেকে মগজ আর রক্ত ছিটকে পড়েনি, তাই ঘটনাটি বা প্রকাশিত হামলার ভিডিওটি সাজানোও হতে পারে। ”
মজার ব্যপার হইলো সাথে সাথেই প্রচুর লাইক কমেন্ট শেয়ার পেয়েছিল তারা। ঘটনাটিকে হাল্কা করে দেওয়ার জন্য এরপরে আরও এক নতুন তত্ত্ব আনলো তারা। এটি নাকি ন্যাটোর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমান্ডোদের হামলা, একে তারা নাম দিয়েছিল ‘ফলস ফ্ল্যাগ এটাক’। স্বভাবতই সেই বিষয়টাও বেশ শেয়ার-মেয়ার দেওয়া হল।
পরবর্তীতে যখন তারা শুনল হামলার স্বীকার নিহত পুলিশ অফিসারটি মুসলিম, তখন সেই ‘ষড়যন্ত্র” কে সমর্থন করা মানুষজন বুঝতে পারলো ফাঁদে পড়ে গেছে।
বিষয়টা বুঝা গেলো না? বুঝাচ্ছি।
প্রথমে তারা বলতে চাইল এই হামলায় জঙ্গিরা জড়িত না। সেটা স্বাভাবিকভাবেই কিছু অথর্ব বলদ খাবে, সেটা এই সাইট জানে। ঘটনাটি ব্যক ফায়ার করলো ঠিক তখনই যখন নিহত পুলিশ অফিসারের নিহত হবার ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করার পরে তারা জানলো যে অফিসারটি মুসলিম।
এখন এই বিশ্বাসকরণে ওয়ালা আধা-জঙ্গি বলদগুলি পড়ে গেলো বিপদে। একদিকে তারা যার মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করছে, সেই ব্যক্তি মুসলিম, এই ঘটনার প্রতি দৃষ্টি না দিলে পুরা ব্যপারটা কে অস্বীকার করা যাবে না। অন্য দিকে এই ঘটনায় একজন মুসলিম ভিক্টিম থাকাতে বিষয়টা অন্য দিকে নেওয়া যাবে।
পুরাপুরি স্ববিরোধীতায় গিয়ে সেই দিন এই ওয়েবসাইট এর সমর্থকদের দিনভর পলটিবাজি বেশ উপভোগ করেছিলাম।
এইবার আসি, দ্বিতীয়ওয়েবসাইটের কথায়। এই ওয়েবসাইট কট্টর এবং খাঁটি জিওনিস্ট। জায়নবাদের সব থেকে কট্টর অংশের চর্চা করে এরা।
তো এই ওয়েবসাইটের কাজ হল সারা দুনিয়ার কোথায় মুসলিম ধর্মাবলম্বী কে কি আকাম-কুকাম করছে, সেইগুলি দিয়ে একটা জেনারালাইজড হেট স্পিচ ডেলিভারি দেওয়া প্রতিদিন।
কট্টর জ্যুইস দের অংশটা পুরুষদেরকেও বোরকার মত একটা পোশাক পরার বিধান দেয়। সারা মুখ, মাথা থেকে পা সম্পূর্ণ অংশ ঢাকা থাকবে। একই পোশাক মহিলাদের ক্ষেত্রেও।
এই ওয়েবসাইটে আর এর পেজে যারা যায়, কমেন্ট করে, তারা আবার খাঁটি ইসলামবিদ্বেষী। দুনিয়ার প্রতিটা সমস্যার মুলে তারা মুসলিমদের খোঁজে।
কিছু দিন আগে এই ওয়েবসাইট একটা বিমানবন্দরে একজন বোরকা পরা পুরুশ/মহিলার ছবি দিয়ে নিচে বলল পোশাকের কারনে নিরাপত্তায় সমস্যা হওয়াতে বিমান কর্তৃপক্ষ জোড় করে এই যাত্রী কে বিমান থেকে নামিয়ে দেয়। সেই বিমান কর্তৃপক্ষকে সেই ওয়েবসাইট থেকে এই জন্য ধন্যবাদও দেওয়া হয়।
মজা শুরু হয় একটু পরে। তাদের পেইজেই ওই লিঙ্কের নিচে একজন এসে ছবির মুল সূত্র দিয়ে জানিয়ে দিয়ে যায় ছবিটা বেন গুরিওন বিমানবন্দর থেকে তোলা কিছু ইহুদি র্যবাই এর ছবি, যারা সেই সময়ে ধর্মীয় পোশাক পরে ছিল।
এর পরে আমি অবশ্যই সেই লিঙ্কটা আর পাইনি। তবে প্রচণ্ড মজা পেয়েছিলাম সেই ঘটনাতে। যে লোকগুলি কিছুক্ষন আগে একটি ছবিকে গালি দিয়ে স্বাগতম জানাচ্ছিল, সেই একই লোকগুলি একটু পরেই সেই একই ছবি কে ধর্মীয় ভাবে শ্রদ্ধা জানাচ্ছিল।
একই ধরণের হিপক্রেসি আমরা দেখেছিলাম, শিশু জিহাদের ঘটনাতে। একদল বলল পড়ে গেছে, তুলতে না পারলে সরকারের দোষ।
সেই তারাই রাতে ক্যামেরার দৃশ্য দেখে বলল, এইটা সরকারের নাটক। কোন শিশু পড়েনাই এবং পুরাটা গুজব। সেই একই লোকেরা আবার পরেরদিন সকালে ১৮০ ডিগ্রী কোনে ঘুরে গিয়ে বলল এইটা চরম ব্যর্থতা, ইত্যাদি ইত্যাদি।
তাই বলি ভাই, কোন ঘটনাতে হুট করে একটা কনক্লুশনে চলে আসবেন না। নিজে যা দেখতে চান, সেটা কোন ২৪ টাইপের সাইটে দেখেই সেটাকে বেদবাক্য মনে করবার কোন কারণ নেই।
জ্ঞান দিয়ে বিচার করুন, যুক্তি ব্যবহার করুন।নিজে যা দেখতে চান, সেটা অন্য কোথাও দেখা মাত্রই সেটাকে ব্যবহার করে নিজে ম্যনিপুলেটেড হবেন না, এবং অন্য কাউকেও করার চেষ্টা করবেন না। নাহলে এই মিডিয়ার যুগে দিনের মধ্যে ২৪ বার দিক পাল্টাতে ডিগবাজীতে অভ্যস্ত হতে হবে।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/md-habib-ullah/31930.html



মন্তব্য করুন