Mamun Bd-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

একজন মুখপাত্র। অবাক হয়ে যাই কি করে পারেন

লিখেছেন: Mamun Bd

শাহবাগ অান্দোলনের ২য় বর্ষপূর্তিতে গণজাগরণ মঞ্চের এবারের কর্মসূচী গণতন্ত্রের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারার বিরুদ্ধে রাজপথে টানা অবস্থান। বাসা, অফিস ম্যানেজ করে কর্মসূচিতে অংশ নিতে যখন শাহবাগে পৌঁছি তখন ঘড়ির কাঁটা সকাল ১০:২৫ মিনিট। গিয়েই অংশ নেই যাদুঘরের সামনে মুখপাত্রের নেতৃত্বে চলতে থাকা অনবরত স্লোগানে। অধ্যাপক অাবুল বারাকাত স্যার সহ ১১টার মধ্যে কয়েকটি সংগঠন সেখানে জড়ো হলে অবস্থানটি যাদুঘরের সামনের পশ্চিম পাশের সড়ক থেকে উঠে গিয়ে যাদুঘরের সামনেই মাঝের সড়কে অবস্থান নেয়।সেই যে বসে পড়া। একবসাতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল, তারপর সন্ধ্যা, চলছেতো চলছেই অনবরত স্লোগান। ভীষণ ক্ষুধা লেগেছে। অামার মতো সব সহযোদ্ধারাও ক্লান্ত। সেটা তাদের চোখমুখেই প্রকাশ পাচ্ছে। অার এটা খুব স্বাভাবিক। সেই সকাল ৯টা থেকে শুরু করে এখন রাত ৮টা। কেউ কিচ্ছু খায়নি এক কাপ চা দু একটা বিস্কিট
ছাড়া। শেষে রাত ৮টার পর এক বড় ভাইকে বলে হালকা কিছু টিফিনের ব্যবস্থা করলাম। অামি খেলাম। কিন্তু এটার পরিমাণ এতোই অল্প ছিল যে অনেকের ভাগে সেটাও জুটলো না। এমনকি মুখপাত্রের ভাগেও না। তিনি সেই যে রাস্তায় বসে অাছেনতো অাছেনেই। অার বিরামহীন চলতে থাকা স্লোগানে কন্ঠ মিলিয়ে যাচ্ছেন।এভাবে রাত এগারটা পর্যন্ত চলল টানা স্লোগান। ১১টার পর শুরু হলো শাহবাগ অান্দোলনের উপর নির্মিত ডকুমেন্টারি ও মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। চলল সকালের
সূর্যোদয় পর্যন্ত। মুখপাত্র সারারাত নির্ঘুম কাটিয়ে তখনো রাস্তায়
একটানা বসেছিলেন। সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেবার জন্য ও অাগত পাব্লিকের সাথে ছবি তোলার জন্য তিনি তার বসা থেকে কয়েকবার উঠে দাড়িয়েছেন মাত্র। প্রাকৃতিক কাজ সারতে অামাকে ২-৩ বার শাহবাগ থানার ভেতরে যেতে হয়েছে।তিনি সেটাও করেননি। যেহেতু তিনি তার জায়গা থেকে একবারও উঠেননি সেহেতু এটি বুঝাই যায়। খাওয়া দাওয়া র বলতে ৫ তারিখ সকাল ৯টা থেকে ৬
তারিখ সকাল ৭টা পর্যন্ত দীর্ঘ ২২ ঘন্টায় অামি তাকে দেখেছি গ্লুকোজ মেশানো পানি অার ফ্লাক্স
করে চা বিক্রি করা হকারের কাছ থেকে চা ও দুটি মুড়ির মোয়া খেতে। অার অামি ঐ যে অাটায় সামান্য টিফিন করেছিলাম সেটা দিয়েই রাত পার। গভীর রাতে কনকনে শীতের প্রচন্ড বাতাসে অামাদের খুব শীত করছিল। এর মধ্যে অামি অাবার না পেরে রাত ৩ টার দিকে রাস্তায় পার্কিং করে রাখা টং দোকান গুলোতে ঘুমানোর ব্যার্থ চেষ্টা করে ফিরে এসেছি ।৬ তারিখ সকালের অালো ফোটার সাথে সাথে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অল্প ক’জন লোক নিয়ে শুরু হয় টানা দ্বিতীয় দিনের অবস্থান।জাতীয় সঙ্গীত শেষে মুখপাত্রের নেত্রীত্বে একটা মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের
দিকে ঘুরে এসে অাবার শাহবাগে অবস্থান । শুরু হয় অাবার স্লোগান।অাটটার দিকে এক ভদ্রলোক এসে অামাদের অবস্থানে যোগ দেয়। তার কল্যাণে ফুটপাতে তৈরি করা পরটা সকালের
নাস্তা হিসেবে মুখপাত্র সহ অামরা সবাই খেয়ে পেটটাকে ঠান্ডা করে নিলাম। ১০টার দিকে অারও কিছু লোক জড়ো হলে অামি যখন
মিরপুরে বাসার
উদ্দেশ্যে ফিরে যাই তখনো মুখপাত্র রাস্তায় ঠাঁই
বসে ছিলেন।
বাসায় গিয়ে ফ্রেস হয়ে জুম্মার নামাজ অাদায়
করে দুপুরের লাঞ্চ শেষে তীব্র
যানজট ঠেলে অামি যখন অাবার শাহবাগ পৌঁছি তখন ঘড়ির
কাটা সাড়ে তিনটা পার।
গিয়েই দেখি মুখপাত্রের নেত্রীত্বে বাহাদুর শাহ
পার্কের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত জাগরণ
র্যালী। র্যালীটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাব,গুলি
স্তান হয়ে বাহাদুর পার্ক
পৌঁছে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে অাবার
শাহবাগে অাসি। তখন
সন্ধা ৭টা বাজে। রাত ৮ টা পর্যন্ত
স্লোগানে স্লোগানে সেখানে অবস্থান
করে জনদুরভোগের কথা চিন্তা করে মুখপাত্র ইমরান এইচ
সরকার টানা অবস্থান
কর্মসূচী সাময়িক স্থগিত করে মুল রাস্তাটি ছেড়ে দেন।
একটু সস্তি পাচ্ছিলাম।
কিন্তু অামার সস্তিতে অাগুন লাগিয়ে তিনি শাহবাগ
যাদুঘরের মূলফটকের
সামনে সারি করে রাখা চেয়ারে না বসে অাবার
রাস্তায়
বসে পড়লেন। শুরু করলেন একে একে জনসাধারণের
নানা প্রশ্নের উত্তরের
জবাব। রাত দশটা বেজে গেল কিন্তু জনসাধারণের
সাথে ওনার কথা বলা শেষ
হয়না। অামি অার পারলাম না ভাই অাপনার মত একজন লৌহ
মানব হতে তাই
এবার কেটে পড়লাম। কাল সকালে অামার অাবার অফিস
অাছে। অামি গেলাম
অাপনি ভাল থাকবেন।
শাহবাগ মোড় থেকে মিরপুরে বাসে উঠে পিছনের
একটি সিটে চেপে বসলাম। ক্লান্ত
শরীর নিয়ে বাসের জানালায় মাথা ঠেকিয়ে অপলোক
দৃষ্টিতে বাহিরে তাকিয়ে ভাবছি দেশের প্রতিজন
জনপ্রতিনিধি যদি এরকম
মুখপাত্রের মত হতেন। গত দুইবছরে কত ত্যাগ অার ভালবাসায়
অামরা তিল তিল
করে গড়ে তুলেছি অামাদের গণজাগরণ মঞ্চ।
ভাবতে ভাবতে দুচোখ
জলে ভিজে যায়।
এখানে শেষ হলে ভাল হতো। কিন্তু হলোনা। যখন বাসায়
ফিরে ফেসবুকে ঢুকে দেখি অামার শাহবাগেরেই কিছু
বন্ধু অাজ এসব
পরিশ্রমকে কুৎসা রটিয়ে জামায়াত-শিবির অার বাঁশের
কেল্লার মত
প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে অামাদের সকল
কর্মসূচীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।
এতে অাপনারা মূলত কাকে লাভবান করছেন? অাপনাদের
কাছে অামার প্রশ্ন?
অারে জামায়াত-শিবিরের জন্মইতো একটা পাপ। তাদের
সাথেতো কোন কথাই নয়।
শুধু অাপনাদের এটুকুই বলি যে, গণজাগরণ মঞ্চের মত
গণমানুষের
একটা ফ্ল্যাটফর্মকে এগিয়ে নিতে মুখপাত্র ইমরান এইচ
সরকারের বিকল্প
একটি নাম বলেন। তাকে লাল গোলাপ দিয়ে বরণ করে নিব।
কথা দিলাম।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/mamun-bd/32197.html

 1 টি মন্তব্য

  1. Farzana Sonia

    জ্ঞানপাপী, বিরোধীপক্ষ আর সুযোগবাদীরা অনেক প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে,
    চালাচ্ছে মঞ্চ আর মুখপাত্রের বিরুদ্ধে। যা পুরোটাই মনগড়া। এগুলো ২ বছরে সয়ে
    গেছে কিন্তু মঞ্চ আর মুখপাত্রের খুব কাছের মানুষেরা যখন গিরগিটির মত রঙ
    পাল্টায় আর তাদের চেয়েও বহুগুণ বেশি মিথ্যাচার করে তখনকার কষ্টটা অবর্ণনীয়।
    সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ। সবচেয়ে ভালো লাগল,” গণজাগরণ মঞ্চের মত
    গণমানুষের একটা ফ্ল্যাটফর্মকে এগিয়ে নিতে মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের
    বিকল্প একটি নাম বলেন। তাকে লাল গোলাপ দিয়ে বরণ করে নিব। কথা দিলাম।” ভালো থাকবেন।

মন্তব্য করুন