mahfuzakand-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

প্রজন্মের পেঁচাল

লিখেছেন: mahfuzakand

এইতো কিছুদিন আগে আমার বয়োজৈষ্ঠ্য কয়েকজন কবি ও লেখক আমাদের তরুণ লেখকদের নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইয়ে দিয়েছেন। আমার সাথের একজন নবীন লেখক পরিস্থিতির বেগতিক হাল দেখে তাদের কোন একজন প্রবীন লেখককে বললেন, তাহলে আমাদের নবীনদেরকে কিছু উপদেশ দিন। তার পর সেই প্রবীন লেখকের একটি উক্তি আমাকে বেশ প্রভাবিত করেছে, তার ভাষ্য ছিল,‘আমি এখন কোন নবীন কবিদের বা লেখকদের পরামর্শ দিতে চাই না’। আমার প্রশ্ন হলোঃ নবীন কবিরা কি পরামর্শের মুখাপেক্ষী থাকেন? তারা কি উপদেশ চান? প্রয়োজন আছে কি?

কবিরা নিজের ক্ষুদ্রত্বকে অসীমে ছড়িয়ে দিয়ে দায়বদ্ধ হন আত্মশুদ্ধির কাছে। কবিরা নিবিষ্ট ভাবুক সাধকের মত সময়কে ধরে রাখেন সাহসী উচ্চারণে। কবিতা এমনই একটি শিল্প যা আত্মপলব্ধিজনিত আত্মবিকাশ। কবিতা আবিষ্ট করে যায় রাষ্ট্র, ধর্ম, সমাজ-শিষ্টাচার, সম্ভাবনার সৌন্দর্য্যরে নান্দনিকতাকে। নিজ কথা, সবার কথা – সরল রেখায় সাজিয়ে এক ভিন্নতর গতিপথ তৈরি করেন কবিরা। এই পথে হৈ-হুল্লোর যেমন আছে, তেমনি আছে হোঁচট, আনন্দ উল্লাসের গভীর প্রচ্ছায়া।

আজকের যাপিত কালে তরুণ-তরুণীরা কবিতার ভাবাদর্শে উজ্জীবিত হয়ে থাকেন। হৃদয়স্পর্শী শব্দগুচ্ছ সাজিয়ে নান্দনিক নতুনত্বের আবহ তৈরী করে একজন তরুণ আরেক জনের জন্য! দৈনন্দিন দ্বন্দ্ব-সংঘাত, সংকট আন্দোলন, রাজনীতির খাতা খুলে দেয়। কবি সেগুলোকে আত্মস্থ করেন ঠিকই, কিন্তু পরাস্ত হন না এসকল বিরূপতার কাছে। একজন কবির কাছে কবিতার চেয়ে প্রিয় কিছু নেই। শব্দের বাগানে কবি তার প্রিয় সান্নিধ্য খুঁজে পান এবং সেখান থেকে নিবিষ্ট উচ্চারণে আকাশকে রঙিন করেন- যেন কবিতার বইখানি সযতনে উপহার দেন দৃষ্টিলভ্য সকল সুষমার কাছে।

কবিতা অবশ্যই পাঠের বিষয়, আবৃত্তির বিষয়। কবি ও কবিতার একান্ত দ্রোহটুকু হৃদয় গহীনে অবস্থান করাতে হলে পাঠকের কাছে তা সমাদৃত করে তুলতে হবে। একজন সার্থক পাঠক কবিতায় তার নিজ অস্তিত্বকে দেখতে চান। দেখতে চান সমাজ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা। প্রেমের ঘনত্ব, ভালবাসার উদাত্ত্ব আবেগের বিচ্ছুরণ শুধু নয়, এর দ্রোহ ও দ্রবনটুকু বিশেষ অবস্থানে দেখতে চান। কবিতা অসম্ভব সচেতনতা এনে দেয় বর্ণে-বর্ণে, রন্ধে-রন্ধে, ভাবুক পাঠক মাত্রই তা টের পান। স্তব্ধতা-স্থবিরতা কখনো কবিকে থামিয়ে দিতে পারে না। কবি তার কবিতার সৃষ্টি চালিয়ে যায় নিরবধি নিরন্তর। কবি ঝলমলিয়ে উঠেন তুখোর রোদের মত।

আজকের তরুণ কবিরা হয়তোবা স্বাধীনতার যুদ্ধ দেখেনি; শুনেছেন ত্রিশ লক্ষ শহীদের কাহিনী। যুদ্ধের ভয়ঙ্কর শোনা চিত্রগুলো উপলব্ধির আসনে বসিয়ে তরুণরা দারুণ সব কবিতা লিখেছেন এ কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। চোখে দেখেও বিশ্বাস করতে পারছে না স্বাধীন পতাকার এহেন অমর্যাদা। স্বাধীন দেশের এতটা অসম্মান কবিদের বুকের গভীরে ক্রোধের মশাল জ্বেলে দিচ্ছে। নদীতে জলের ঘূর্ণি দেখেও বিষ্মিত হয় না তরুণ প্রজন্ম। যা দেখে তরুণ কবিরা নির্বাক ,হতবাক, বিষ্ময়ের খিল আটা বন্দী ঘরে অবস্থান করেছেন “দেশে যুদ্ধাপরাধী নেই’ এ ধরনের মিথ্যা উচ্চারণ দেশকে কোথায় নিমজ্জিত করেছে?

তরুণ কবিদের আমি ভালবাসি, তরুণ কবিদের সাহসী উচ্চারণের সাথে আমি সূর মিলিয়ে বলতে চাইঃ

” ভালবাসা এমনই এক শব্দ -

যার কোন অন্ত নাই।

এই মনটা যদি হয় আকাশ অনন্ত-

ভালবাসা তার সবটাই”।

তাই বলি, আমাদের দিকে একটু সহানভূতির দৃষ্টিতে তাকান। আমরা কবিতা লিখব তীর্য্যক কাঠামোর প্রাচীর ভেদ করে। অবলীলাক্রমে কবির সাথে কবি মিলে হাত ধরাধরি করে এগিয়ে যাব সামনের দিকে। আরো সামনের দিকে……..।

 

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/mahfuzakand/29316.html



মন্তব্য করুন