বাউন্ডুলে বাতাস-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

নষ্ট কারা?

লিখেছেন: বাউন্ডুলে বাতাস

মাঝে মাঝেই মোবাইলের মেসেজে কিংবা মেসেঞ্জারে কিংবা ফেসবুকে পোস্ট দেখতে পাই এরকমঃ

“মদিনা শরিফের ১ লক্ষ হুজুর এক সাথে মহানবী (সঃ ) কে স্বপ্নে দেখেছেন। তিনি তাদেরকে বলতে বলেছেন, মুমিনদের কাছে বানী পৌছে দাও, তারা যেন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন এবং আল্লাহর কাছে বেশি করে ইবাদত করেন”। এই মেসেজটি আপনি ১৫ জনকে পাঠাবেন তাহলে ৯ দিনের মধ্যে একটি সুখবর পাবেন, নাহলে নয় বছরেও কোন সুখবর পাবেন না।”
এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গিয়ে, কি করব ভাবতে থাকি। এক দিকে ধর্মীয় অনুভূতি, অন্যদিকে আধুনিকতার ছোঁয়া, যা আমাদেরকে স্রষ্টা থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখতে সক্ষম। দিশেহারা হয়ে গিয়ে হয়ত একটা সময় বার্তাটি সবার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টায় নেমে পড়ি।
খুব হাসি পায়, এরকমটি দেখলে। একটা কথা প্রচলন আছে, একটানা ৪০ দিন জামাতবদ্ধ হয়ে নামাজ পড়লে স্বপ্নে নবী করিম (সাঃ)-কে দেখা যেতে পারে। পুনশ্চ টানছি, দেখা যাবেই এমন কোন কথা শুনি নাই। শুধু আমাদের দেশেই এমন অনেক মুসলমান ভাইদেরকে পাওয়া যাবে, যারা কমপক্ষে ১০ বছর ৫ ওয়াক্ত করে নামাজ মসজিদে জামাতবদ্ধ হয়ে ইমামের সাথে আদায় করেছেন। কিন্তু, তাদেরকে কখনো গ্যারান্টি সহকারে বলতে তো শুনি নাই যে, আমি নবী করিম (সাঃ) কে স্বপ্নে দেখেছি। অথচ, মেসেজের ভাষাটি লক্ষ্য করে দেখুন, মনে হবে মদীনা শরীফে অবস্থান করা ১ লাখ মানুষ নবী করিম (সাঃ)-কে নিমেষেই স্বপ্নে দেখে ফেললেন। অথচ, তারা কয় ওয়াক্ত নামাজ জামাতবদ্ধ হয়ে আদায় করেছেন, তার ব্যাপারে কোন তথ্য নেই। ঘটনা এ পর্যন্ত থাকলেও ব্যাপারটা হয়ত শোভনীয় দেখাত। কিন্তু মেসেজের শেষ দুটি লাইনের দিকে লক্ষ্য করুন তো একবার-
“এই মেসেজটি আপনি ১৫ জনকে পাঠাবেন তাহলে ৯ দিনের মধ্যে একটি সুখবর পাবেন, নাহলে নয় বছরেও কোন সুখবর পাবেন না।”
অর্থাৎ, মেসেজ প্রদানকারী খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষনা করছে কথাটি। মানে দাঁড়াচ্ছে, আপনি ১৫ জনকে বার্তাটি না পাঠালে নয় বছরেও সুখবর পাবেন না। অথচ, শুধু মুসলমানদের ভিতরেই এমন লাখ-লাখ লোককে আমাদের আশে-পাশে দেখা যায়, যারা এসব বার্তার ধারে-কাছেও ঘেঁষে না। তাই বলে কি তারা কোন সুখবর পাচ্ছেনা? অবশ্যই পাচ্ছে। এমনকি অহরই পাচ্ছে। তার মানে কি দাঁড়াচ্ছে? একটি বার্তা ঠিক মতন পৌঁছে দেওয়া হল কিনা, তার উপর আপনার ভাগ্য নির্ভর করে না। অথচ, এরকম একটি স্পর্শকাতর ব্যাপার নিয়ে কিভাবে আপনাকে আমাকে বোকা বানানো হচ্ছে!
একটি কথা বলে নেওয়া ভালো। অনেক মুসলমান ভাইয়েরাই হয়ত বলবেন- “অন্য ধর্মের মানুষেরা হিংসার বশবর্তী হয়ে এই কাজগুলো করাচ্ছে। এতে মুসলমানদের কোন দোষ নেই।”
কথা প্রেক্ষিতে তাহলে আমাকেও বলতে হয়- গোপীবাগের লোকটি কোন ধর্মাবলম্বি ছিল? কি বলবেন? ভেবে পাচ্ছেন না? তিনিও ইসলাম ধর্মের অনুসারী ছিলেন। এবং নব্য “ইমাম মাহাদী” সাজবার মতন জঘন্য কাজটিও তিনি করেছেন। অন্য ধর্মের কেউ তাকে প্রলুব্ধ করেছে বলে কোন তথ্য নেই। তিনি নিজে মুসলিম ঘরের সন্তান হয়ে ইসলামকে নিজের সম্পত্তি মনে করা শুরু করেছিলেন হয়ত। অন্য একটি কথা প্রসঙ্গে স্যার হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন – “সব কিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাবে একদিন।”
তাই যাচ্ছে নয় কি?- ভেবে দেখুন তো।
“নষ্ট তো তারাই, যারা নিজ-ধর্মকে না জেনে অন্যকে নাস্তিক আখ্যা দেয়।
নষ্ট তো তারাই, যারা একটি কুত্তার ফাঁসির প্রতিশোধ নিতে দেশের সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালায়। ভেঙ্গে-গুড়িয়ে দেয় তাদের বসত বাড়ি।”
আজ রাজাকারের ফাঁসি চাইলে আমরা নাস্তিক। আর একজন ইসলামী নেতা যে কিনা ব্যক্তিগত জীবনে একজন ধর্ষক, তার ফাঁসির বিরুদ্ধে দাঁড়ালে হয়ে যায় ধর্মরক্ষক।
অর্থাৎ, আজ কতিপয় মুসলমানেরাই মুসলমানদের সবচাইতে বড় শত্রু। তাই বলে ইসলাম ধর্মকে কোনভাবেই দোষ দেওয়া চলে না। এখানে সম্পুর্ণ দোষ ব্যক্তির। ধর্মের কোন দায়ভার নেই। তাই বলব, নিজের ধর্ম সম্পর্কে আগে সচেতন হউন, নিজের মধ্যে যে গোড়ামিগুলো আছে, তা আগে পরিষ্কার করে নিন। তারপর অন্য ধর্মের মূর্তির মাথা ভাংতে যেয়েন।

ধর্ম-পছন্দ যার-যার। তাই আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি, পৃথিবিতে প্রচলিত যে কোন ধর্ম আপনার পছন্দ মতন গ্রহন করতে পারেন। চাইলে নাও পারেন।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/loafer_wind/26759.html



মন্তব্য করুন