কিন্তু-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

এই বাংলার একজন বিশিষ্ট বিপ্লবী মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন: কিন্তু

surjy-sen

১৮৯৪ সালের ২২এ মার্চ বাংলার মাটিতে এক বিপ্লবী নেতার জন্ম হয়, নাম সূর্য সেন | তিনি ছিলেন এই বাংলার একজন বিশিষ্ট বিপ্লবী মুক্তিযোদ্ধা , আজ বিনম্র শ্রধ্যায় এই নেতাকে স্মরণ করছি | সূর্য সেন ছিলেন যুগান্তর পার্টির একজন বিখ্যাত নেতা তথা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন প্রধান সংগঠক ও চট্টগ্রাম শাখার নেতা | তিনি ঔপনিবেশিক সরকারের বিরুদ্ধে গোপন গেরিলা ওয়ারফেয়ার জন্য প্রয়োজন এর বিশ্বাস ছিলেন | তিনি বহরমপুর কলেজে বিএ ক্লাস এর একজন ছাত্র ছিলেন | চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া স্থানীয় ন্যাশনাল স্কুল এর একজন শিক্ষক থাকা কালীন সময়ে তিনি মাস্টারদা সূর্য সেন হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন |
ভারতে ইংরেজ শাসনবিরোধী আন্দোলনরত যুগান্তর পার্টির নেতা অরবিন্দ ঘোষ ১৮৯৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ করে দেশে ফিরে বরোদা কলেজে সহকারী অধ্যক্ষের পদে যোগদান করেন। এ সময় তিনি মহারাষ্টের গুপ্ত বিপ্লবী সমিতির নেতা দামোদর হরি চাপেকার এবং রামকৃষ্ণ হরি চাপেকারের সংস্পর্শে এসে বিপ্লবে অনুপ্রাণিত হলেন। তাঁর এবং তরুণ ব্যারিস্টার প্রমথনাথ মিত্রের তৎপরতায় কলকাতার আপার সার্কুলার রোডের একটি বাড়িতে বাংলার প্রথম গোপন বিপ্লবী দল “অনুশীলন” সমিতি গঠন করা হয়। ১৮৯৯-১৯০১ সালে গঠিত এই সমিতির সভাপতি ছিলেন প্রমথনাথ মিত্র এবং কোষাধ্যক্ষ সুরেন্দ্র নাথ ঠাকুর। এ দলে পরে যুক্ত হলেন বারীন্দ্রকুমার ঘোষ, যতীন্দ্র নাথ মুখার্জী, যোগেন্দ্র বিদ্যাভূষন প্রমুখ। অনুশীলন সমিতির সদস্যদের লাঠি খেলা, অসি খেলা, ছোরা খেলা, কুস্তি, মুষ্টিযুদ্ধ ইত্যাদি শিক্ষা দেয়া হত। অরবিন্দ, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ প্রমুখের চাঁদাতে এই সমিতি চলত। লাঠি খেলা, অসি খেলা, ছোরা খেলায় তৃপ্ত থাকতে অস্বীকার জানিয়ে বারীন্দ্র কুমার ঘোষের নেতৃত্বে একদল বিপ্লবী “অনুশীলন সমিতি” থেকে আলাদা হয়ে “যুগান্তর” দল গঠন করে।
ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনে সূর্য সেনের প্রধান সাফল্য ছিল ১৮ই এপ্রিল, ১৯৩০ চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন | তিনি তার বিপ্লবী সহকর্মীদের সাথে নিয়ে জালালাবাদ পাহাড় থেকে এই আক্রমণ সূচনা করেন, ২২এ এপ্রিল পর্যন্ত ব্রিটিশ সৈন্যদের সঙ্গে যুদ্ধ করার পর তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান |
১৯৩৩ সালে ধরা পরার পর জানুয়ারি মাসের ১২ তারিখ ১৯৩৪ সালে ব্রিটিশ শাসক সূর্য সেনের ফাঁসির রায় কার্যকর করে |
মৃত্যুর আগে সূর্যসেন চট্টগ্রাম জেল থেকে একটি চিঠিতে তার সহযোদ্ধাদের কাছে একটি ফেয়ারওয়েল বার্তা পাঠিয়ে ছিলেন, বার্তাটিতে তিনি লিখে যান : “Death is knocking at my door. My mind is flying away towards infinity … this is the moment to myself to embrace death as the dearest of friends. In this happy, sacred and crucial moment, what am I leaving for you all? Only one thing, my dream, a golden dream, the dream of a Free India. Dear comrades, march ahead; never retrace your step. Days of servitude are receding. Freedom’s illuminating ray is visible over there. Arise and never give way to despair. Success is sure to come.”

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/kintu/28989.html



মন্তব্য করুন