কিন্তু-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

বঙ্গবন্ধু, ৭ই মার্চের ভাষণ, প্রজন্ম চত্বর, গণজাগরণ মঞ্চ

লিখেছেন: কিন্তু

বঙ্গবন্ধু, ৭ই মার্চের ভাষণ, প্রজন্ম চত্বর, গণজাগরণ মঞ্চ |
বঙ্গবন্ধু তার উপদেষ্টা মণ্ডলীর সাথে নিজ লাইব্রেরী কক্ষে সৈয়দ নজরুল, তাজউদ্দীন আহাম্মদ, ড. কামাল ও ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামকে সাথে নিয়ে একটি আদর্শে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ৭ই মার্চের ভাষণটি রচনা করেছিলেন | এই ভাষণের মাঝেই একটি জাতিকে সম্মুখ পানে এগিয়ে নেওয়ার সুচারু পরিকল্পনা অন্তর্নিহিত ছিল | প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার, তদানীন্তন-কালে পূর্বপাকিস্তানের তথা বাঙালী জাতির নেতা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে এই স্বাধীনতার ডাক দেয়াটা খুবই সহজ বিষয় ছিল না | আকাশের উপর হেলিকপ্টার, গোয়েন্দাদের ছিল সজাগ দৃষ্টি, যে কোনও দেশদ্রোহী বক্তব্য স্বৈরাচারী পাকিস্তানি সরকার বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসীর কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দিতে সর্বদাই প্রস্তুত ছিল | একটি আদর্শকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে হলে যে কোনও পদক্ষেপে সামান্য ভুল হলেই সেই সময়ে বঙ্গবন্ধুকে নির্ঘাত মৃত্যুর হাত থেকে কেউ রক্ষা করতে পারতো না | সেই কারণেই ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণটি ছিল পৃথিবীর অন্যতম ভাষণের একটি ভাষণ |
একটা পরিবর্তন একটা আশার আলো একটি আন্দোলনের সার্থক রূপ রেখা টানতে হলে সেই আন্দোলনকে একটি আদর্শের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হয়, আর সেই আদর্শে থাকবে জনকল্যাণ মুখী, জনস্বার্থে আদর্শ হবে সুচিন্তিত একটি সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা যেটাতে হবে পরিকল্পনা মাফিক পরিচালিত | বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন একটি সুন্দর সমাজতান্ত্রিক গঠনতন্ত্রের মাধ্যমেই জাতি সেই আদর্শ তার অধিকার ফিরে পাবে | বঙ্গবন্ধু জানতেন যদি ৭ই মার্চের ভাষণে কোথাও হেরফের থাকে তবে অন্দোলন হবে বিক্ষিপ্ত, সমালোচিত, প্রশ্নবিদ্ধ, উদ্দেশ্যবিহীন | তাই এই ভাষণ নিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা ও পূর্ব প্রস্তুতির বিশেষ প্রয়োজন ছিল | কারণ অনেক আন্দোলনে সামান্য ভুলের কারণে অনেক বড় বড় বিপ্লবী নেতা ফাঁসীর কাষ্ঠে মৃত্যু বরণ করেছেন, ১৮ই এপ্রিল ১৯৩০ সালে বিপ্লবী নেতা সূর্য সেন চট্টগ্রামের অস্রাগার লুণ্ঠন করে ১৯৩৩ সালে ধরা পরে ফাঁসীর কাষ্ঠে মৃত্যু বরণ করেন | বঙ্গবন্ধুকে অবশ্যই ভেবে চিন্তে খুবই পরিকল্পনা মাফিক সব পদক্ষেপ নিতে হয়ে ছিল | ১৯০৫ সালের বঙ্গ ভঙ্গ রোধ অন্দোলন, ১৯৫২ সালের ভাষা অন্দোলন, ৬৯ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তথা ছাত্র জনতার অভ্যুথান ছিলো ঠিক সেই রকম কয়েকটি অন্দোলন যেগুলোর রূপরেখা ছিলো খুবই সুপরিকল্পিত | উধারণ সরূপ বলা যেতে পারে ৬ দফা ছিলো একটি বাস্তবমুখী আর গণতান্ত্রিক অন্দোলন | যার ফল হল ৭১এর মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ | এই বাংলাদেশের রূপকার ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান | বঙ্গবন্ধুর দল ছিল বাংলাদেশ

আওয়ামীলীগ , যেটা থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়া হয় | উদ্দেশ্য ছিলো একটি সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্রের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদীদের দেশ গঠন করা | পৃথিবীর ইতিহাসে এতো স্বতঃস্ফূর্ত অন্দোলন আর একটাও হয় নাই | আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়া হলেও সকল ধর্মের বাংলার মানুষ বুঝতে পারে এই ৬ দফার মাধ্যমেই সকল ধর্মের মানুষরা তাদের নিজেদের ধর্ম পালন করেই একটি স্বাধীন দেশের জন্ম দিতে পারবে | তখন কোনও বাংলা ভাই, ইংলিশ ভাই জামাতের তাণ্ডব বি এন পির আস্পর্ধা এ সব কিছুই ছিলো না, ছিলো না ধর্মীয় দলগুলোর সহিংস তাণ্ডব, ছিলনা নিজেদের মাঝে হানাহানি আর দলীয় কোন্দল, জনাব ভাসানী বঙ্গবন্ধু একি কাতারে এসে এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পরেন | কাজেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন এই বিশ্বের এক অসাধারণ রাজনৈতিক চিন্তাবিদ | বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিলো আমাদের উপমহাদেশের শান্তির পথে আলোর পাথেয়, এটাকে অস্বীকার অথবা অবজ্ঞা করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনই অন্দোলন সঠিক পথে এগুতে পারবে না | দয়া করে আমাকে আবার কেউ ভুল বুঝবেন না, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলছি, আজকের আওমীলীগের কথা বলছি না, আমার মতে আজকের আওমীলীগ চলছে এক ভিন্ন পথে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন পালন করাতে হলে আমাদের যে কোনো আন্দোলনেই বঙ্গবন্ধু তথা তার আদর্শ কে সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে | আশা করি এতদিনে আমরা সবাই বুঝতে পরছি ১৯৭২ সালের তৈরি সংবিধানে ফিরে আশা আমার দেশ ও জাতির জন্যে কতটা মঙ্গল জনক | গণজাগরণ মঞ্চকে এখনি সিদ্ধান্ত নিতে হবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাংলাদেশকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হলে, আমাদের কে স্বাধীনতার চারটি মূল মন্ত্রকে সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে | সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্রের সম্পদের সুষম বন্টন ও মেহনীতি মানুষের অর্থিনৈতিক মুক্তি মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনীতি ও রাজনৈতিক চর্চা তথা একটি ধর্ম নিরপেক্ষ সংবিধান সামনে রেখেই বাঙালী জাতীয়তাবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে | এটাই হোক আমাদের নতুন প্রজন্মের ব্রত |

–কিন্তু–

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/kintu/28536.html



মন্তব্য করুন