জটিল বাক্য-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু কোনো রূপকথার গল্প নয়

লিখেছেন: জটিল বাক্য

একটি সার্বভৌম দেশের বিশ্ব ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের কথায় উঠবস করা খুব বেশিদিন উচিত না। একবার নিজেরা পেরে গেলে বিশ্বব্যাংক আই এম এফ আর কোনোদিন খবরদারি করতে আসবে না। নিজস্ব উৎস থেকে অর্থায়নের মাধ্যমে পদ্মাসেতু তৈরির জন্য অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারাকাত একটি রূপরেখা দিয়েছেন যেটা ২৯ জুলাই ২০১২ , প্রথম আলোতে ক্রোড়পত্র আকারে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি প্রায় ১২টি উৎসের কথা তার রূপরেখাতে প্রকাশ করেছেন। তার রূপরেখার বাস্তবায়ন কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। এই রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চলে সংযোজনের বিয়োজনের মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে ।

৩০ জুন, ২০১২ বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির প্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও সরকার উদ্যোগ না নেওয়ায় এমন অভিযোগে ঋণচুক্তি বাতিল করার ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের কাছে পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থ সংগ্রহ করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী সংসদে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার ঘোষণা দেয়। নিঃসন্দেহে এটা একটা চ্যালেঞ্জ। ইতোমধ্যে অনেক জল ঘোলা হয়েছে, পদ্মার পানির স্তর ও নামতে শুরু করেছে। ৩১ জানুয়ারি ২০১৩ সরকার নিজেই বিশ্বব্যাংককে করা ঋণের অনুরোধ ফিরিয়ে নিয়েছে। আজ ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ এ এসে সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মহেন্দ্রক্ষণ এসেছে। পদ্মা সেতু কি আমরা নিজস্ব অর্থায়নে করতে পারি কি না এ নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে অনেক। এখন আলোচনা শেষ হওয়ার সময়। এখন নিতে হবে সঠিক পরিকল্পনা।

বিশ্বব্যাংক যখন ৩০ জুন এ ঋণ প্রস্তাব বাতিল করে তার কিছু দিন পর বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারাকাত বলেছিলেন,

বিশ্বব্যাংক কর্তৃক পদ্মা সেতুর ঋণ চুক্তি বাতিল অযৌক্তিক এবং মহা অন্যায় তবে তা বাংলাদেশের জন্য মহা আশীর্বাদ (blessing in disguise)।

আবুল বারাকাতের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে আজকে বলতে চাই সরকারের এ সাহসী সিদ্ধান্ত অনেক আগে নেয়া উচিৎ ছিল পদে পদে বিশ্ব ব্যাংকের কাছে আত্মসমর্পণ না করে। একটি সংস্থার কথামতো সরকার তার সচিব, মন্ত্রী, উপদেষ্টাদের চাকরীচ্যুত বা ছুটিতে পাঠানো উচিৎ নয়। কোনো সংস্থা অভিযোগ করলে যদি কেউ দোষী হয় তবে সে যতই ক্ষমতাবান হোক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া উচিৎ ছিল। বিশ্বব্যাংকের প্রয়োজনে নয় দেশের মানুষের প্রয়োজনে। কেননা দুতিন জন দুষ্কৃতকারীর পাপের ভার পুরো জাতির উপর চাপানোর সরকারের কোনো অধিকার নাই।

গত ৩১ জানুয়ারির সরকারের সিদ্ধান্ত পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংক অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনেছে। এখন সামনের দিকে তাকানোর সময়। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে বিনয়ের সাথে সামনে এগিয়ে যেতে হবে, টক শো/ মিডিয়া যতই বলুক সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারবে না। যে দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য ৩০ লক্ষ জান কোরবান করতে পারে সে দেশে একটি পদ্মা সেতু করা যাবে না, যে দেশের নাগরিকরা দেশে রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠায় নিজের ঘাম দিয়ে সে দেশে পদ্মা সেতু করা যাবে না নিজ উদ্যোগে এটা অবিশ্বাস্য।

আবুল বারাকাত যুক্ত করেন

নিজস্ব অর্থায়নে একটি নয়, চারটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। এ জন্য ১২টি উৎস থেকে আগামী চার বছরে মোট ৯৮ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করা যাবে।
চার বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) কাটছাঁট ও অব্যয়িত অংশ থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে। কালোটাকা বা অপ্রদর্শিত আয় থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঞ্চিত অর্থের দেশে বিনিয়োগ থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা মিলবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে নেওয়া হবে চার হাজার ২৭৫ কোটি টাকা।

আবুল বারাকাত কর্তৃক প্রদত্ত উৎসসমূহ
link

বাংলাদেশ সাবেক গভর্নর ডক্টর ফরাস উদ্দিন এ বিষয়ে বলেছিলেন,

মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, কোনো প্রকল্পে স্থানীয়ভাবে পণ্য ও উপাদান জোগান দিলে বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পের চেয়ে ২৫ শতাংশ খরচ কমে যায়।

আবুল বারাকাত অর্থ সংগ্রহের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেছেন তার প্রবন্ধে, এটাকে সরকার বিবেচনায় নিয়ে তার থেকে সংযোজন বিয়োজন করে পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থ সংগ্রহ করতে পারে, আগের মতো চাঁদা সংগ্রহ পদ্ধতিতে না গিয়ে। আগামী ১০ মাসে  সরকারকে তার বিগত ৪ বছরের অদক্ষতার খতিয়ানগুলোকে দক্ষতায় রুপান্তরের কঠিন কাজ করতে হবে। আর এ কঠিন কাজ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের আশেপাশের দুধের মাছিদের সরিয়ে দক্ষ লোক নিয়োগ করতে হবে। যে সব উৎস থেকে টাকা সংগ্রহীত হবে তার ১ পয়সাও যেন বেহাত না হয় তার মেকানিজম বের করতে হবে। জনগণ কোনো হাসান- হোসেনকে ভবিষ্যৎ সেতু নির্মাণ পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নে দেখতে চায় না।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/jotilbakko/2710.html

 26 টি মন্তব্য

(ফোনেটিক বাংলায়) মন্তব্য করুন

  1. জটিল বাক্য

    আগামী ১০ মাসে সরকারকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এডিট করতে পারছি না, আন্ডার লাইন কৃত শব্দ গুলো পোস্টের  নিম্নলিখিত লাইনে সংশোধন করে দেয়ার জন্য এডমিনকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। আগামী ১০ সরকারকে তার বিগত ৪ বছরের অদক্ষতার খতিয়ানগুলোকে দক্ষতায় রুপান্তরের কঠিন কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ সাবেক গভর্নর ডক্টর ফরাস উদ্দিন এ বিষয়ে বলেছিলেন,

  2. বনলতা সেন

    যে দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য ৩০ লক্ষ জান কোরবান করতে পারে সে দেশে একটি পদ্মা সেতু করা যাবে না, যে দেশের নাগরিকরা দেশে রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠায় নিজের ঘাম দিয়ে সে দেশে পদ্মা সেতু করা যাবে না নিজ উদ্যোগে এটা অবিশ্বাস্য। 

    আসলেই অবিশ্বাস্য। আর দক্ষতার কথা যদি বলি তাহলে তো আমাদের দেশেও মেধাবী মানুষ নেই সেটাও অবিশ্বাস্য।নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করা হলে কি হবে সেটা নিয়ে অনেক কিছুই লিখতে পারি। তবে এককথায় বিশ্বব্যাংকের বলয় হতে বেরিয়ে আসার পথে একধাপ এগিয়ে যাওয়া যাবে।তবে সরকারকে অবশ্যই স্বচ্ছতার সাথে কাজ করতে হবে। আমরা পদ্মার জল আর ঘোলা দেখতে চাই না। নয়তো জনগণই সরকারকে জবাব দেবে।পোস্টে প্লাস। এবং শেয়ার্ড।

    1. জটিল বাক্য

      এদেশে মেধাবী মানুষের অভাব নেই, কিন্তু তাদেরকে কাজে লাগাতে পারে না নিম্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এখন সাহস দেখানোর সময়। এখন দেশকে ভালোবাসার সময়। আশা করি সরকার আর জনগণকে আশাহত করবে না।

  3. অনিমেষ রহমান

    এই সময়ে কিংবা সবসময়ে বাংলাদেশের সরকারকে বুঝা উচিত-রাজনীতি এখন করতে হবে অর্থনৈতিক রাজনীতি! বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতির আকার প্রমান করে বাংলাদেশের পক্ষে এধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব! ষ্টিকি করার জন্য এডমিনকে শুভেচ্ছা এবং চমতকার পোষ্টের জন্য জটিল বাক্যকে জটিলস অভিনন্দন।কিপ ইট আপ।

    1. জটিল বাক্য

      অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক উন্নয়ন একে অপরের পরিপুরক। সরকার যে লভ্যাংশ বিশ্ব ব্যাংককে দিত, তার দ্বিগুণ কিংবা দশগুণও যদি জনগণকে দেয় রাষ্ট্রের কোনো লোকসান নেই। পদ্মাসেতু দিয়ে প্রথম বছর প্রতিদিন ১২৩ লক্ষ টাকা করে টোল আদায় হবে। সুতরাং সরকার খুব দ্রুত সময়েই জনগণকে তাঁদের থেকে নেয়া ধারের টাকা লভ্যাংশসহ ফেরত দিতে পারবে।

  4. আজাদ মাষ্টার

    স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে নীতিনির্ধারকদেরকে মধ্যেও দৃঢ়চেতা মানসিকতা দরকার । একটা কথা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই বিশেষ করে আমাদের মূলধারার মিডিয়া বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক আইএমএফ এদেরকে “দাতা সংস্থা” এইরকম একটা বিশেষণে ভূষিত করা আসলেই বিভ্রান্তিকর । কারণ বিশ্বব্যাঙ্ক এবং আইএমএফ মোটেও আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলাকে দান করে না তারা যা করে সেইটা হচ্ছে শর্তযুক্ত ঋনের ব্যবসা । এই সব বহুজাতিক কোম্পানির সুদের হার কম হলেও তাদের শর্তগুলা সব সময়েই এমন থাকে যা সবসময়েই সমাজিক কল্যাণে খাতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগকে নিরুউৎসাহী করে । উদাহরন শত দোষ ত্রুটি সত্ত্বেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এইদেশের গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের সামাজিক অচলায়তন ভেঙ্গে উপরের দিকে উঠতে সাহায্য করছে কিন্তু বিশ্বব্যাঙ্কের মতো প্রতিষ্ঠান এই ধরনের কাজকে অলাভজনক হিসাবে অভিহিত করে এই সব খাতে সরকারের খরচ কমিয়ে ফেলতে চাপ দেয় এই ধরনের বিনিয়োগ হ্রাস করলে সমাজে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ে ।

    তরুণ অর্থনীতি আবুল বারকাতের পরামর্ষ আমার মতে সরকারের সিরিয়াসলি নেওয়া উচিত এতে সরকার অর্থনীতিক নীতিমালা প্রণয়নে সরকারকে কারো আঙ্গুলি হেলনে চলতে হবে না

    1. জটিল বাক্য

      বিশ্বব্যাংক আইএমএফ ঋণ দাতা সংস্থা। আর তাঁদের তহবিল তো আমরাই যোগাই। আমাদের টাকা আমাদেরকে ঋণ হিসেবে দেয়, বিনিয়োগ করে, সঙ্গে প্রেস্ক্রিপশান দিয়ে আমাদের সব এনটিবডি নষ্ট করে দেয়। আমাদের মুদ্রানীতিতে প্রভাব ফেলে, ভুরতকি উঠিয়ে নিতে বলে সরকারকে নানা চেলেঞ্জের মধ্যে ঠেলে দেয়। ওদের সাজেশান অনুযায়ী কাজ করে সরকার কোন কাজই সঠিকভাবে করতে পারে না। আবার ঋণ নিতে হয়। এভাবে ঋণের দায়ে তৃতীয় বিশ্বকে জড়িয়ে রাখে। তাদের মোড়লীপনায় বিরক্ত হয়ে অনেক দেশ তাদের ঝেটিয়ে বিদেয় করেছে। দেশ আমার নীতি প্রণয়ন করবো আমি, বিশ্ব ব্যাংক বলার কে?

  5. অকিঞ্চন জন

    কোনো সংস্থা অভিযোগ করলে যদি কেউ দোষী হয় তবে সে যতই ক্ষমতাবান হোক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া উচিৎ ছিল। বিশ্বব্যাংকের প্রয়োজনে নয় দেশের মানুষের প্রয়োজনে। কেননা দুতিন জন দুষ্কৃতকারীর পাপের ভার পুরো জাতির উপর চাপানোর সরকারের কোনো অধিকার নাই।
    কথা হল এইটাই।
    আরো একটা কথা হল- “জনগণ কোনো হাসান- হোসেনকে ভবিষ্যৎ সেতু নির্মাণ পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নে দেখতে চায় না।”

    1. জটিল বাক্য

      সেটাই এখন আস্থা অর্জন সঠিক পরিকল্পনা সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ।

  6. ইমরান এইচ সরকার

    মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, কোনো প্রকল্পে স্থানীয়ভাবে পণ্য ও উপাদান জোগান
    দিলে বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পের চেয়ে ২৫ শতাংশ খরচ কমে যায়। —
    কথাটা শতভাগ সত্য। সমস্যা হল এদেশের জনগনের একটা বড় অংশ মনে করে বিদেশ থেকে টাকা আনা মানেই বিরাট সাফল্য। তাই সরকার গুলো কোন বিচার বিশ্লেষন, লাভ-লসের হিসাব না করেই বাইরের দেনা নিয়ে উন্নয়ন কাজ করার বিরাট মুন্সিয়ানা দেখাতে অভ্যস্ত। এই সংস্কৃতি থেকে বের হবার সময় এসেছে বোধয়!
    লেখককে অনেক ধন্যবাদ খুব সুন্দর একটা উপস্থাপনের জন্য। ভাল লেগেছে বৈ কি!

    1. জটিল বাক্য

      দেশে যদি সম্ভাবনাময় উৎস থাকে অন্যের কাছ থেকে কেন ঋণ নিব। ঋণ দেশের মানুষের কাজ থেকে নিবে সরকার। এতে মানুষ যেমন লাভবান হবে জাতির মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে। এদেশের সরকারগুলো কোন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চায় না। তারা আপাতত জনপ্রিয় কাজ করতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়াতে কোনো বড় দাগের সাফল্য আসছে না। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এমন সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

  7. ফয়সাল আহমেদ

    যে দেশে হাসান হোসেনদের মতো গুটিকয়েক অমানুষদের জন্য কোটি মানুষের স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় সেইদেশে নতুন করে নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরি করতে আবার দূর্নীতি হবে না এটাও অবিশ্বাস্য।তবুও গর্বিত হবো যদি নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু হয়।অনেক আগেই এগুলো বুঝা উচিত ছিল, কিন্তু সরকার এত লাফালাফির পর বুঝল যে আঙ্গুর ফল টক।সেইতো সোজা হতেই হলো,মাঝখান থেকে শুধু কিছু তেল পোড়া গেল।

    1. আজাদ মাষ্টার

         ফয়সাল ভাই আপনার সাথে এই বিষয়ে একমত যে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণে সরকার মাঝে একবার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো তাতে যদি সরকার স্থির থাকতো তাহলে এই সমস্যা দেখা দিতো না ,  আমি যতোদূর শুনেছি রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ করতে চাইলেও  আমলারা এই সিদ্ধান্তের তীব্রভাবে বিরোধিতা করে ।  মন্ত্রীপদ থেকে আবুল যেদিন ইস্তফা দেয় সেদিন আসলেই খুব খুশি হয়েছিলাম  কয়েকদিন আগে তাকে আওয়ামীলীগের অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্মেলনে সর্বচ্চো নীতি নির্ধারনি ফোরাম প্রেসিডিয়াম থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় , মিডিয়ার কাছে আবুল একটা লাফিং স্টক এর থেকে বড় শাস্তি এবং অপমান একজন মানুষের কাছে আর কি হতে পারে । 
      বিশ্বব্যাঙ্ক যেরকমভাবে আদিম বলি প্রথা মতো আবুলের বিনিময়ে ঋন  এইরকম প্রস্তাব দিয়েছিলো যদি সরকারের টেকনোক্রেটদের কথা মতো বাস্তবায়ন করতো  তাহলে তা একটা খারাপ উদাহরণ হিসাবে থাকতো বলে আমি মনে করি কারণ বিশ্বব্যাঙ্কের আমালাদের কথামতো যদি  একটা স্বাধীন দেশের মন্ত্রী পদের ব্যক্তিদের চাকুরী নিয়োগ দিতে হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় কমিটি এই সবের কি আর কোণ মূল্য থাকবে ।

      বিশ্বব্যাংকের কাছে একটা প্রশ্ন রাখা উচিত ছিলো সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাংকের অর্থ নিয়ে নয় ছয় করে, সেক্স স্ক্যাণ্ডালে অভিযুক্ত কয়জনকে শীর্ষ কর্মকর্তাকে জেলের ভাত খাওয়ানো হয়েছে ?

      1. জটিল বাক্য

        Normal
        0

        false
        false
        false

        EN-US
        X-NONE
        BN-BD

        /* Style Definitions */
        table.MsoNormalTable
        {mso-style-name:”Table Normal”;
        mso-tstyle-rowband-size:0;
        mso-tstyle-colband-size:0;
        mso-style-noshow:yes;
        mso-style-priority:99;
        mso-style-qformat:yes;
        mso-style-parent:”";
        mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
        mso-para-margin-top:0in;
        mso-para-margin-right:0in;
        mso-para-margin-bottom:10.0pt;
        mso-para-margin-left:0in;
        line-height:115%;
        mso-pagination:widow-orphan;
        font-size:11.0pt;
        mso-bidi-font-size:14.0pt;
        font-family:”Calibri”,”sans-serif”;
        mso-ascii-font-family:Calibri;
        mso-ascii-theme-font:minor-latin;
        mso-hansi-font-family:Calibri;
        mso-hansi-theme-font:minor-latin;
        mso-bidi-font-family:Vrinda;
        mso-bidi-theme-font:minor-bidi;}

        বাংলাদেশের মতো দেশের চাঁদা দিয়ে বিশ্ব ব্যাংক তহবিল সংগ্রহ
        করে। সেই তহবিল ঋণ হিসেবে বিতরণ করে। অনিয়মের দায়ে বিশ্ব ব্যাংকের আগের
        প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করেছে। নিজেরাই দুর্নীতিগ্রস্ত। চাইনিজ কোম্পানির জন্য করা
        সুপারিশ সরকার রাখে নি বিধায় এতো টানা হেঁচড়া। বিশ্ব ব্যাংকের সব প্রকপ্লেই
        দুর্নীতি হয়। পদ্মা সেতুর টাকা আটকাতো না যদি তাঁদের কথা মতো চলত। আমাদের সেতু
        আমরা বানাবো, সেটা পঞ্চাশ বছরের মাথায় যদি ভেঙ্গে পড়ে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো, তোমার
        এতো দরদ কেন? দরদ থাকলে এতো শর্ত কেন? তুমিতো অনুদান দিচ্ছনা দিচ্ছ ঋণ। তোমার
        কিস্তির টাকা সময়মতো পেলেইতো হয়ে যায়। তুমিতো বিশ্বব্যাংক আমার টাকা দিয়েই। শুধু
        আমেরিকা আর চায়নার টাকা দিয়েতো তুমি বিশ্ব ব্যাংক না। এখন আমাদের কাজ আমাদের এগিয়ে নিতে হবে।

  8. শনিবারের চিঠি

    অত্যন্ত সময়োপযোগী পোস্ট। সবচেয়ে বড়ো কথা, তথ্য-উপাত্ত মিলে একটি অসামান্য পোস্ট তৈরি হয়েছে। স্বনির্ভর অর্থনীতির বিষয়ে রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে; উপাত্ত যা বলে, তাতে এটি অসম্ভব নয় কোনো মতেই। আমাদের প্রয়োজন স্বচ্ছতা, প্রয়োজন জবাবদিহিতা। লেখককে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    1. জটিল বাক্য

      অসম্ভব নয় তবে অনেক কঠিন হয়ে গেছে এতো সময় ক্ষেপণ করে। এখন দরকার সঠিক পরিকল্পনা, তার সঠিক বাস্তবায়ন। জবাবদিহিতার হাতিয়ারগুলো শক্তিশালী করা। যখন কাজে নামবে প্রতিটি টাকার হিসাব ওয়েব সাইটে প্রতিদিন আপডেট রাখা, কাজের অগ্রগতি প্রতিদিন আপডেট রাখা, যেন জনগণ প্রশ্ন উত্থাপন করলেই কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষনিক গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে পারে।

  9. অজন্তা ইলোরা

    কিন্তু আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, সরকারের বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা ত রূপকথার মতই শোনা যায়। দেখুন এটা মানতে কোন দ্ধিধা নেই যে, সরকার পদ্মা সেতুর বিষয়ে আন্তরিক। কিন্তু দেশের টাকায় পদ্মা সেতু করতে হলে সরকারকে যে এফোর্ট দিতে হবে, সে সময় কি এখন আছে? তাছাড়া নির্বাচনের এক বছর আগে নির্বাচনই হয়ে উঠবে মুখ্য।

    1. জটিল বাক্য

      নির্বাচন করার আগেতো আগের নির্বাচনী অঙ্গিকারসমূহের হিসাব নিকাশ করতে হবে। যেহেতু সরকারই তালগোল পাকিয়েছে তাই একটু বেশি বোঝা নিতে হবে। সরকার আন্তরিক থাকলে আগামী দশ মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাজ করা সম্ভব। তার জন্য জনগণের আস্থা অর্জন জরুরি। পদ্মাসেতুকে ঝুলিয়ে রেখে সরকার ভোট চাইবে কোন মুখে।

  10. প্রলয় সংহার

    পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য জনগণের ঐক্যবদ্ধতাই যথেষ্ট।

    1. জটিল বাক্য

      হুম এ ইস্যুতে পুরো জাতির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ। সরকারকে উদ্যোগী ও করিৎকর্মা হতে হবে ছয় মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শুরু করা জরুরি।

  11. ইফতি শিমুল

    নিজস্ব অর্থায়নে করলে লোকাল অরথনিতির ওপর কেমন প্রেসার পড়বে এইটা অবশ্যই ভাবতে হবে, এই লোড আমরা নিতে পারবো কিনা সেইটাও ইম্পরট্যান্ট, ইমোশনালই সবকিছুই সম্ভব, কিন্তু বাস্তবিক এবং এনালাইটিকাল ডিসিসান চাই। যতো যাই হোক ছাত্রলীগরে অন্তত ঝোলা হাতে দেখতে চাইনা ক্যাম্পাসে।

    1. জটিল বাক্য

      @ ইফতি শিমুল ভাই

      আমরা ছাত্রলিগকেও ঝোলা হাতে দেখতে চাই
      না, তেলবাজ মাস্টারদেরও ঝোলা হাতে দেখতে চাই না, এমনকি প্রধানমন্ত্রীকেও। আমরা চাই
      সুন্দর পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে। যেটা সম্ভব সেটা আবেগি না। যেটা অসম্ভব
      সেটা নিয়ে দৌড় ঝাঁপ আবেগি।

      Normal
      0

      false
      false
      false

      EN-US
      X-NONE
      BN-BD

      /* Style Definitions */
      table.MsoNormalTable
      {mso-style-name:”Table Normal”;
      mso-tstyle-rowband-size:0;
      mso-tstyle-colband-size:0;
      mso-style-noshow:yes;
      mso-style-priority:99;
      mso-style-qformat:yes;
      mso-style-parent:”";
      mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
      mso-para-margin-top:0in;
      mso-para-margin-right:0in;
      mso-para-margin-bottom:10.0pt;
      mso-para-margin-left:0in;
      line-height:115%;
      mso-pagination:widow-orphan;
      font-size:11.0pt;
      mso-bidi-font-size:14.0pt;
      font-family:”Calibri”,”sans-serif”;
      mso-ascii-font-family:Calibri;
      mso-ascii-theme-font:minor-latin;
      mso-hansi-font-family:Calibri;
      mso-hansi-theme-font:minor-latin;
      mso-bidi-font-family:Vrinda;
      mso-bidi-theme-font:minor-bidi;}

  12. দুরন্ত..

    সব ই ঠিক আছে ভাই তবে আমি এত হুজ্জত করে সেতু করার বিপক্ষে কারণ এই বিশাল বিনিয়োগের অর্ধেক টা যদি ঐ অন্ঞলের শিল্প কাঠামো উন্নয়নে ব্যায় করা যায় আর পাশাপাশি পণ্য পরিবহণের জন্য আলাদা ৮ টা ফেরী সঙযোজন করা হয় ঘাটে তবে ঐ অন্ঞলের চেহারা পাল্টাতে সময় লাগবে না। সেতুর জন্য গো ধরে বসে থাকা আর আরাম করে প্রাইভেটকারে চেপে বাড়ী যাওয়ার জন্য দেশের একটি বিশাল সম্পদ ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখার কোন মানে হয় না।

    1. জটিল বাক্য

      দুরন্ত
      ভাই @ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া শিল্পায়নে কেউ বিনিয়োগ করবে না। দক্ষিণ
      অঞ্চলের যে সাদা সোনা চিংড়ি শিল্প আছে তার পরিবহনের জন্য, পর্যটন খাত
      ডেভেলপমেন্তের জন্য পদ্মা সেতু অনেক জরুরি। ছয় – সাতটা সেতু কিনলে ফেরিঘাটের হেসেল
      কমবে কিন্তু পানির উপরে আপনাকে যে ১ ঘণ্টার উপর দারিয়ে থাকতে হবে, সে সমস্যার
      সমাধান হবে না। ঢাকা থেকে দক্ষিনাঞ্চলের দূরত্ব ৪/৫ ঘণ্টার মাত্র কিন্তু শুধু সেতুর
      অভাবে খুলনা/ কিংবা বরিশাল আসা যাওয়ায় সময় নেয় ৮/১০ ঘণ্টা। সেতু ছাড়া এ সমস্যার
      সমাধান হবে না। সেতুতে প্রাইভেট কার যেমন চলবে, তেমনি চলবে মালবাহী গাড়িও। খুলনা
      থেকে একটি মালবাহী ট্রেন ঢাকা আসতে দেড় দিনের মতো লেগে যায়, অথচ সেতু হলে খুব
      সহজেই করা যাবে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করলে রেল লাইন হয়তো নাও থাকতে পারে।
      তবে সেটা আমার মনে হয় ঠিক হবে না। আরেকটা রেল সেতু করা নিশ্চয়ই সহজে সম্ভব হবে না।
      দক্ষিণাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের জন্য সেতু না হলে যমুনা সিরাজগঞ্জ থেকে ঘুরিয়ে নিতে
      হবে, সেটা কতোটা ব্যয়বহুল চিন্তা করে দেখেন।  আর শিল্পায়নে গ্যাস এর ভূমিকা বলা বাহুল্য।
      দক্ষিণাঞ্চল তো পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেই অবদান রাখছে, তাই সেতু শুধু প্রাইভেট
      কারের জন্য এমনটি ভাবার কারণ নেই। দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা জেলা কিন্তু পূর্ব থেকেই
      শিল্প নগরী হিসেবে পরিচিত।

       

      Normal
      0

      false
      false
      false

      EN-US
      X-NONE
      BN-BD

      /* Style Definitions */
      table.MsoNormalTable
      {mso-style-name:”Table Normal”;
      mso-tstyle-rowband-size:0;
      mso-tstyle-colband-size:0;
      mso-style-noshow:yes;
      mso-style-priority:99;
      mso-style-qformat:yes;
      mso-style-parent:”";
      mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
      mso-para-margin-top:0in;
      mso-para-margin-right:0in;
      mso-para-margin-bottom:10.0pt;
      mso-para-margin-left:0in;
      line-height:115%;
      mso-pagination:widow-orphan;
      font-size:11.0pt;
      mso-bidi-font-size:14.0pt;
      font-family:”Calibri”,”sans-serif”;
      mso-ascii-font-family:Calibri;
      mso-ascii-theme-font:minor-latin;
      mso-hansi-font-family:Calibri;
      mso-hansi-theme-font:minor-latin;
      mso-bidi-font-family:Vrinda;
      mso-bidi-theme-font:minor-bidi;}

  13. নিভৃত স্বপ্নচারী

    Normal
    0

    false
    false
    false

    EN-US
    X-NONE
    X-NONE

    MicrosoftInternetExplorer4

    চমৎকার উপস্থাপন।

    বিশ্বব্যাংকের পিছনে ঘুরে আমাদের যথেষ্ট সময় নষ্ট হয়েছে,
    এখন আর সময় নষ্ট না করে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া দরকার।

    /* Style Definitions */
    table.MsoNormalTable
    {mso-style-name:”Table Normal”;
    mso-tstyle-rowband-size:0;
    mso-tstyle-colband-size:0;
    mso-style-noshow:yes;
    mso-style-priority:99;
    mso-style-qformat:yes;
    mso-style-parent:”";
    mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
    mso-para-margin:0in;
    mso-para-margin-bottom:.0001pt;
    mso-pagination:widow-orphan;
    font-size:11.0pt;
    font-family:”Calibri”,”sans-serif”;
    mso-ascii-font-family:Calibri;
    mso-ascii-theme-font:minor-latin;
    mso-fareast-font-family:”Times New Roman”;
    mso-fareast-theme-font:minor-fareast;
    mso-hansi-font-family:Calibri;
    mso-hansi-theme-font:minor-latin;
    mso-bidi-font-family:Vrinda;
    mso-bidi-theme-font:minor-bidi;}

  14. siddiqui

    Muhit  and Abul spoiled this.Banglaesh can definitely built Padma Bridge and should move forward.

মন্তব্য করুন