jannatul.ferdous-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

LIBERATION WAR IN DHAKA: PART-1: THE WARRIORS

লিখেছেন: jannatul.ferdous

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন বদি। এইচ এস সি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে চতুর্থ স্থান অধিকার করা এক অসাধারণ ছাত্র এই বদি। কমিউনিস্ট মতাদর্শের সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও ছাত্র ইউনিয়নের সাথে বিরোধিতার জের ধরেই যোগ দিলেন এন এস এফ এ। ক্যাম্পাসে দোর্দন্ড প্রতাপ ওয়ালা এন -এস -এফ বদি। খেলোয়াড় হিসেবে জুয়েল ছেলেটা তার খুব পছন্দের ছিল। ক্যাম্পাসে দেখা হলে খোঁজ – খবর নেয়া চলত।তাতেই ক্রিকেটার জুয়েলের কত গর্ব!! বন্ধুদের জুয়েল বলে বেড়াতেন – “.. দেখছস কত বড় গুন্ডা আমার খোঁজ খবর নিতাসে… ”

 

পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান ছিল জুয়েল। বল জিনিসটা যে পেটানোর জন্য সেটা তার ব্যাটিং দেখলে বোঝা যেত..। দুর্ধর্ষ ক্রিকেটার ছিল ছেলেটা।। জগন্নাথ – কলেজ থেকে পড়া শেষ করে একটা অফিসে কেমিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিল। কিন্তু তার আশা – ভালোবাসা – ধ্যান – ধারণা ছিল ক্রিকেট।।। জাতীয় ক্রিকেট দলের ওপেনার হবার স্বপ্ন দেখত ছেলেটা…।

 

রুমী। শাফি ইমাম রুমী। অল্পবয়সী ছেলেটা বিন্দুর মাঝে সিন্ধু দেখেছিল। ভালবেসেছিল। মাও সে তুং – লেনিন থেকে চে- কে ছিল না তার মস্তিষ্কে? অসাধারণ ছাত্র ছিল..।। বন্ধুদের মধ্যে সবচাইতে কমবয়সী ছিল।। আর ছিল এক অসাধারণ বিতার্কিকও। খুব সুন্দর আবৃত্তি করত।আই এ টা পাস করে তখন কেবল ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে…।। ওইদিকে আমেরিকার ইলিনয় ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতেও তার এডমিশন হয়ে গেছে। এইতো আর কয়টা দিন পরেই রুমী উড়াল দেবে আমেরিকার উদ্দেশ্যে…।

 

শহীদুল্লাহ খান বাদল। আরেক বিস্ময় বালকের নাম। এস এস সি আর এইচ এসসি দুই পরীক্ষায়ই প্রথম স্থান অধিকার করে বাদল তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই পড়ছেন। ছাত্র-ইউনিয়ন আর এন এস এফ এর সংঘর্ষ থেকে বদি আর বাদল-দুইজন কমিউনিজম সাপোর্টার অসাধারণ মেধাসম্পন্ন মানুষের মধ্যে সম্পর্কটাও খুব বেশি ভাল ছিল না। তবু বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেটে যাচ্ছিল। ক্যাম্পাস – হল – রাজনীতি – পড়াশুনা সব মিলিয়েই একভাবে কেটে যাচ্ছিল…।

 

আজাদ। মা সাফিয়া বেগমের একমাত্র সন্তান আজাদ..। বিন্দু নামের মেয়েটা বসন্ত হয়ে মারা গিয়েছিল ছোটবেলায়ই। আর আজাদের পরে আর একটা সন্তান হলেও সেও বাঁচেনি। তাই আগে – পরে আজাদই ছিল তার মায়ের অন্ধের ষষ্ঠী। রাজ – রাণীর হালে ছিলেন সাফিয়া বেগম। ইস্কাটনে তার স্বামীর সে বিশাল রাজপ্রাসাদ আজো কিংবদন্তী। কিন্তু সব অর্থ – বিত্ত সবকিছুর মোহ ছুড়ে ফেলে শুধু নিজের আত্মসম্মান রক্ষার্থে একবস্ত্রে বেরিয়ে গেলেন তিনি। আর যাবেন নাই বা কেন…? ইউনুস চৌধুরীকে তো তিনি বলেছিলেন ওই সম্পর্কটা না রাখতে, দ্বিতীয় বিয়ে না করতে…

 

মায়ের সাথে চলে এল ছোট্ট আজাদ। তখনো তার স্কুলই তো শেষ হয়নি। রোজ নতুন নতুন জামা -জুতা পরে স্কুলে যাওয়া ইচ্ছেমত গান শোনা-সাজানো গোছানো জীবনটাকে পেছনে ফেলে মায়ের সাথে গাড়িতে চড়ে বসল আজাদ।।না – আজ সে কারো দিকে তাকাবে না।হরিণগুলোর দিকে না, তার প্রিয় স্প্যানিয়েল ডগ টমির দিকে না….. তবে পিস্তলটা সাথে নেয় সে। পথে কোন বিপদ হলে মাকে কে রক্ষা করবে সে ছাড়া…

 

ফরাশগঞ্জ এসে বোনের বাসায় উঠলেন সাফিয়া বেগম। আজাদের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে গেল কিছুদিনের মধ্যেই। বাবার কাছ থেকে পাওয়া মাসোহারার টাকা দিয়ে সিনেমা দেখে-বই পড়ে ভালোই সময় কাটে আজাদের। একসময় আজাদের মা কে একা করে দিতে চলে যেতে হয় আজাদের খালাকেও। এ দিকে সাফিয়া বেগম ভাঙেন কিন্তু মচকান না।ফিনিক্স পাখির স্বভাব তার – বোনের ছেলেমেয়েদের কোলে টেনে নেন। আর আজাদকে পড়াশুনা করান।। প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে বন্ধুদের সাথেই মেট্রিক পাশ করে আজাদ।।আই এ পাশ করে পড়তে যায় করাচী। পরিচয় হয় মিলির সাথে। মাকে আজাদ চিঠিতে লেখে মিলির কথা। মা খুশিই হন। ছেলেটাকে একটা লক্ষ্মী দেখে সুন্দর মেয়ের হাতে তুলে দিতে পারলে না তার শান্তি..।

 

আজাদ বি এ পাস করে দেশে ফেরে। এম এ করতে ভর্তি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ। পাশাপাশি একটা ব্যাবসাও শুরু করে। করাচীর বাঙালি সহপাঠী বন্ধু বাশার আসে আজাদ দের এই মগবাজারের বাসায়। থেকে যায়। মর্নিং নিউজের সাংবাদিক বাশার। চাকরির প্রথম মাসের বেতনটা তুলে দেয় মা সাফিয়া বেগমের হাতে…।

 

সেনাবাহিনীতে মেজর খালেদ মোশাররফ, ক্যাপ্টেন হায়দার – দিলু রোডের হাবিবুল আলম আর তার বোনেরা – আসমা, রেশমা, শাহনাজ- বিচিত্রার শাহাদাত চৌধুরী, ফতেহ চৌধুরী আর বাস্কেট বল খেলোয়াড় কাজী কামাল, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, বই – বিক্রেতা হিউবার্ট রোজারিও থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কুলি সর্দার রশিদ – সময়ের প্রতিটি কণায় জীবন চলতে থাকে তার আপন গতিতে।

 

একাত্তর এগিয়ে আসে..

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/jannatul-ferdous/32057.html



মন্তব্য করুন