jannatul.ferdous-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

JOURNEY

লিখেছেন: jannatul.ferdous

রিনঝিন শব্দ ভেসে আসছে। চুড়ি, নূপুর অথবা অন্য কিছু। হতে পারে বীণার ঝংকার কিংবা অস্ত্রের সমস্বর সঙ্গীত।হতে পারে সে ধবংসের বাজনা কিংবা সৃষ্টির।হতে পারে সে একতারার টান কিংবা রাইফেলের সেফটি ক্যাচ খোলার শব্দ। বজ্রের গর্জন হতে পারে আবার হতে পারে মেঘমালার নৃত্য।

 

কিশোরীর তালে-তালে পা ফেলা ঘুঙুরের শব্দ যেমন হতে পারে, তেমনি হতে পারে কমান্ডের তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলা সৈন্যদের মার্চপাস্ট।জন্মের আহ্বান যেমন হতে পারে – মৃত্যুর অার্তনাদও তেমনি হতে পারে। শুধুই শব্দ শুনে তা আর বোঝার কোন উপায় খোলা নেই…।

 

আচ্ছা বৃষ্টি কি হতে পারে? হয়ত বা। অনেক বছর এই তল্লাটে বৃষ্টি হয়না। একটা প্রজন্ম বড় হয়েছে- সংসার করেছে আবার মরেও গেছে বৃষ্টি না দেখেই। ভেজা মাটির গন্ধ না শুঁকেই….। জীবন এখানে কঠিন। সেই বাস্তবতার সংগ্রামে বৃষ্টিরা বহুত আগেই হেরে গেছে পাথুরে জমিনের কাছে।

 

বৃষ্টি হলেও আজ সেই জলধারায় মিশে থাকবে সালফার ডাই অক্সাইড। ভালোবাসার কল্পনায় যেভাবে মিশে থাকে গ্রেনেড! নীল চুড়িরা ভেঙে গেছে অনেক আগেই। রাইফেল আর ইট- পাথরের দেশে এখন হাতকড়ার রাজত্ব।

 

বকগুলো কি বেঁচে আছে? কিংবা সারসগুলো? আকাশের ঐ পথ পেরিয়ে স্নিগ্ধ গাঙচিলেরা হয়ত ফিরে গেছে সমুদ্রবেষ্টিত নীল কোন দ্বীপে। জানালার কার্নিশে কাকগুলো অনেক দিন ভীড় করেনা।।নিস্তব্ধতার শহরে আগুনের হল্কা দেখা যায় অবশ্য মাঝে মাঝে… তা সেইসব এখন চোখ সওয়া।

 

কিন্তু এমন রিনিঝিনি শব্দ! এমন বিভ্রান্তিকর রিনিঝিনি শব্দ!!সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তেরা এখনো বেঁচে আছে সত্যি কিন্তু তা তো শুধুই বাঁচবার জন্য বেঁচে থাকা।।।। সূর্যের কেন্দ্রের সেইসব হাইড্রোজেন হিলিয়ামের ফিউশন তো এই এত দূর থেকে শোনা যাওয়ার কথা না! ১৪ কোটি ৯৬ লক্ষ কিলোমিটার পথ যে মাঝখানে!

 

তবু এ শব্দটা যেন জোরালো হচ্ছে। একসময় পৃথিবীতে নাকি ঝর্না বলে একটা জিনিস ছিল। তা সেই শব্দ শোনার সৌভাগ্য এই পৃথিবীর কারো হয়নি সত্য- তাও কেন যেন মনে হয় ওই রিনিঝিনি শব্দটা যেনো কিছু বলতে চায়। আকাশগঙ্গার ওপার থেকে আসছে বুঝি…।

 

এই আকাশগঙ্গা এখনো তেমনি আছে।কেন্দ্রে একটা super massive black hole নিয়ে। Lovejoy নামের সেই সবুজ-রঙা ধূমকেতুটা কি জানুয়ারির আকাশটায় ফিরে এসেছে তার নিয়ম মেনে? সামনে পরে আছে কোন এক প্রাচীন মানবীর লেখা ডায়েরি। ২০১৫ সালের।হুম! নিয়ম মেনে তো ধূমকেতুটা ফিরে আসার কথা এতদিনে। কি জানি!

 

শব্দটা এবার আরো কাছে এগিয়ে আসছে। নূপুরের আওয়াজ সমুদ্রের মহাগর্জনে রূপ নিচ্ছে।।। সবুজ পাহাড়ে খেলা করতে থাকা ঐ শিশু দুইটি কি বেঁচে থাকবে ধ্বংসলীলার পর…!

 

ছয় আলোকবর্ষ দূরের বার্নার্ড নক্ষত্রের সিসিলিয়া গ্রহে তখন ভোর হয়েছে।খবরের কাগজ -গুলোতে বিজ্ঞান পাতার এক কোণায় একটা ছোট্ট খবর স্থান পেয়েছে -

 

প্রতিবেশী নক্ষত্র সূর্যের একমাত্র বসবাসযোগ্য গ্রহ পৃথিবীতে পৌঁছেছে হাইপারজাম্প- ১। কয়েক বিলিয়ন বছর আগে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা…

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/jannatul-ferdous/32010.html



মন্তব্য করুন