jannatul.ferdous-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

ভালোবাসি বাংলাদেশ…

লিখেছেন: jannatul.ferdous

প্রাচীন রাজকুমারীর বেশে যদি একবার নিজেকে আবিস্কার করতে পারতাম!!! চারপাশটা যদি হটাত করে একদম নীরব হয়ে যেত! শুধু নিশ্ছিদ্র নীরবতা থাকত আমাকে ঘিরে। কাজের চাপ, দায়িত্ববোধ, পরীক্ষার টেনশন, প্রতিটা ব্যস্ততা, নানামুখী নানা মতের প্রতিটা তর্ক- বিতর্ক সব যদি কিছু সময়ের জন্য একটু বন্ধ করা যেত। নিজের আদর্শের জন্য যদি  আর প্রতি মুহূর্তে যুদ্ধ করতে না হত! লড়াই করেই বাঁচতে চাই, তবে কিছুক্ষণের জন্য সবকিছু একেবারে… স্তব্ধ হয়ে যদি অসীম শূন্যতার মাঝে হারিয়ে যেতে পারতাম আর চারপাশে শুধু ভেসে আসত সঙ্গীতের মৃদু মধুর স্বর! ফুলের বাগানে ঘুমাতাম, প্রজাপতির পিছনে দৌড়ে বেড়াতাম আর এক মুঠো রোদ ধরার আনন্দ অনুভব করতাম! স্বপ্ন দেখতে যে আজো ভালবাসি…
নগরজীবনের ব্যস্ততা থেকে অনেক দূরে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে কিছুদিনের জন্য। কিন্তু নিজে খুব ভালভাবেই জানি যে পুরো পৃথিবী ঘুরে আসার সুযোগ পেলেও এর পরিবর্তে একবার শাহবাগে যাওয়ার অনুমতিকেই আমি বড় করে দেখব। হ্যা, আমি শাহবাগকে অন্ধভাবেই ভালবাসি। বাংলাদেশকে অন্ধভাবেই ভালবাসি। আর এভাবেই ভালবাসতে চাই। কাদের মোল্লার ফাঁসির জন্য শাহবাগে গিয়েছি। কাদের মোল্লার ফাঁসি আদায় করে ছেড়েছি। একইভাবে একদিন কলঙ্কমুক্ত হবে বাংলাদেশ সব রাজাকারের কবল থেকেই। আর যতদিন তা না হবে ততদিন একাকী হলেও চিৎকার করে যাব “রাজাকারের ফাসি চাই” বলে।
স্বাধীনতা দিবস আসছে। আমাদের স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশের জন্মদিন। নানা অনুষ্ঠানে- আয়োজনে পালন হবে প্রিয় বাংলাদেশের জন্মদিন। আমার কাছে স্বাধীনতা দিবস মানে লাল- সবুজ শাড়ি পরে একবার বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ানো। আমার কাছে স্বাধীনতা দিবস মানে একাত্তরের দিনগুলি পড়তে পড়তে নিজের অজান্তে অঝোরে কাঁদা। আমার কাছে স্বাধীনতা দিবস মানে জাতীয় পতাকাটাকে বুকে চেপে ধরে নতুন করে বাঁচার শক্তি অর্জন করা।নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখার নাম স্বাধীনতা। শাহবাগে জনতার বুক ফাটা জয় বাংলা চিৎকারের মাঝে আমি স্বাধীনতাকে খুঁজে পাই। রাস্তার পাশ দিয়ে ছুটে যাওয়া দুরন্ত শিশুটির মাঝে আমি স্বাধীনতার সন্ধান পাই।
রাজাকারের বিজয় চিহ্নকে পরাস্ত করে বাংলাদেশের বিজয় নিশান ওড়ানোর মাঝে আমি স্বাধীনতার অর্থ খুঁজে পাই। প্রজন্ম চত্বরের শপথ আমাকে স্বাধীনতার মন্ত্রে জাগিয়ে রাখে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী আমাকে জানায় আমার গৌরবের ইতিহাস। “মা” আমাকে শেখায় শত আঘাতের পরও কিভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা যায়। শহীদ আজাদের আর মা সাফিয়া বেগমের এই ইতিহাস যখন পড়ি, শাহবাগে যাওয়ার কারণে কাছের মানুষগুলোর দেয়া আঘাতের কষ্ট তখন কোথায় হারিয়ে যায়। নিজের মনেই বলি, এর চেয়ে অনেক অনেকগুণ বেশি আঘাত সহ্য করেই এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। চোখ মুছে ফেলি আর নতুন আশায় বুক বাঁধি আরেকবার। অবশিষ্ট রাজাকারগুলোর ফাঁসি হবেই…
জয় বাংলা। জয় মুক্তিযুদ্ধ। জয় শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/jannatul-ferdous/28683.html



মন্তব্য করুন