jannatul.ferdous-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

বিদায় বার্তা…

লিখেছেন: jannatul.ferdous

আগামীকাল থেকে  এইচ এস সি পরীক্ষার আগে আর ল্যাপটপ নিয়ে বসার সম্ভাবনা নাই। আজকে খারাপ লাগছে এই ভেবে যে আর হয়ত মনের সব কথা এভাবে গুছিয়ে লেখা হবে না অনেকদিন। বিশেষ করে প্রজন্ম ব্লগের হোম পেইজটাকে খুব মিস করব। আমার গত এক বছরের ব্লগিং জীবনের দুইশটা লেখা ঐ প্রজন্মব্লগেই সংরক্ষিত আছে। মাঝে মাঝে ব্লগটার সার্ভারে কোনো সমস্যা দেখা দিলে, লগ ইন করতে না পারলে মনে হত যেন আমার বাসার দরজা কেউ আমার জন্যই বন্ধ করে রেখেছে। সত্যি, অনলাইনের সবচেয়ে বেশি মিস করব এই প্রজন্মব্লগটাকেই। এটা অন্যরকম একটা ভালোবাসা যার সন্ধান পেয়েছি গত এক বছরে। লেখালেখির প্রতি ভালোবাসা, একটা লক্ষ্য নিয়ে লেখালেখি করা। আর সেই লক্ষ্যের নাম- “রাজাকারের ফাঁসি।”

 

তবে আজকের দিনের সবচেয়ে ভাল খবর হল আমার অনেক ভালোবাসার একটা গ্রুপ “ক্র্যাক প্লাটুন” এর এত সুন্দর এবং সফল একটা মিটিং। গণজাগরণ মঞ্চের একটি সহায়ক শক্তি হিসেবে গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই আমাদের ক্র্যাক প্লাটুন কাজ করে এসেছে, ভবিষ্যতেও করবে। ক্র্যাক প্লাটুনের প্রত্যেকজন সদস্য দলকানা নয়, দেশকানা। একাত্তরের দুধর্ষ গেরিলা দল “ক্র্যাক প্লাটুন” এর যোদ্ধাদের প্রতি সম্মানার্থে আমাদের গ্রুপের এই নাম দেয়া হয়েছে। একাত্তরের কিশোর মুক্তিযো্দ্ধা রন্জু আঙ্কেল আমাদের অভিভাবক। এখানের প্রতিজন যোদ্ধা মাতৃভূমির জন্য প্রাণ দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে আবদ্ধ। প্রজন্ম চত্বরের সৈনিকদের “ক্র্যাক প্লাটুন” আজ আবার যাত্রা শুরু করল নতুন করে। তোমাকে অনেক ভালবাসি প্রজন্ম চত্বর, আমাদের যাত্রা সেদিনই থামবে যেদিন বাংলাদেশ রাজাকারমুক্ত হবে।

 

বছর ঘুরে আবার হাজির হয়েছে ফেব্রুয়ারি। রাত পোহালেই ভাষার মাস, অমর একুশের মাস, গণজাগরণের মাস, বইমেলার মাস। অনেক প্রিয় এ মাসটা আমার। আর সামনে পাঁচ ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চের বর্ষপূর্তি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রতিটা মানুষের প্রতি আমন্ত্রন রইল প্রজন্ম চত্বরে আসার। যদি বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, যদি রাজাকারের ফাঁসি চান তাহলে প্রজন্ম চত্বরের আহ্বানকে উপেক্ষা করবেন না। প্রজন্ম চত্বরের লক্ষ কণ্ঠের স্লোগান আবারও কাঁপন ধরাবে রাজাকারদের তাসের সিংহাসনে। কাদের কসাইয়ের মত একে একে ফাঁসিতে ঝুলবে প্রত্যেকটা রাজাকার। প্রয়োজন আমাদের এক থাকা আর এক হয়ে রাজাকারের ফাঁসির দাবি তোলা। আগামীকাল বিশ্ব ব্লগিং দিবস। সহব্লগারদের সবার প্রতি প্রাণঢালা শুভেচ্ছা রইল। কলম  কিংবা কি বোর্ড অনেক অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে এক নির্ভীক সুউচ্চ হাতিয়ার।

 

আমার অনেক প্রিয় একজন কবি হেলাল হাফিজ। কবি এবার পাচ্ছেন বাংলা একাডেমী পুরষ্কার। পুরষ্কারটাই আমার মনে হয় সম্মানিত হল কবিকে পেয়ে। কবির ভাষায়ই বলে যাই, “এখন যৌবন যার মিছিলে যাওয়ার তার শ্রেষ্ঠ সময়/ এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাওয়ার তার শ্রেষ্ঠ সময়।” প্রিয় সহযোদ্ধারা, দেখা হব পাঁচ ফেব্রুয়ারী প্রজন্ম চত্বরের জাগরণযাত্রায়। সব রাজাকারের ফাসি না হওয়া পর্যন্ত প্রজন্ম চত্বরের মাটি আঁকড়ে ধরে পরে থাকব আমরা। মনে রাখবেন,

 

“উদয়ের পথে শুনি কার বাণী, ভয় নাই ওরে ভয় নাই

নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান, ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।”

জয় বাংলা…।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/jannatul-ferdous/27605.html



মন্তব্য করুন