ইমরান এইচ সরকার-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ

লিখেছেন: ইমরান এইচ সরকার

মালিক নাকি প্রতিনিধি?

কে বেশী শক্তিশালী? সরকার নাকি জনগণ? সরকারের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে কিন্তু মামলাও হয়ে যেতে পারে! হামলা-মামলার ভয় থাকলে ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ফ্যান ডাইরেক্টে ছেড়ে কাথা-মুড়ি দিয়ে ঘুমানো উচিত। আর এসি থাকলে তো কথাই নাই। যদিও বেশী ঘুমানোর অবস্থা নাই, যে হারে ভূমিকম্প হচ্ছে! এদিকে রড-সিমেন্টের যা দাম, বিল্ডিং কয়টা টিকবে কোনো গ্যারান্টি নাই।

সংবিধানে লেখা ‘রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগন’। এ কথা বেশী বললে লোকে পাগল ভাবে! এক সমাবেশে বলেছিলাম জনগণই সরকারের চেয়ে বেশী শক্তিশালী। আর কই যাই! লাঠি নিয়ে তেড়ে আসার অবস্থা। বলে, ‘ব্যাটার সাহস কতো, আমাদের শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলে!’। বললাম, ‘তাইলে লেইখা রাখছেন ক্যান’? বলে, ‘আমরা কতো কিছুই তো লেখি, তোদের পড়তে বলছে কে’?

যাইহোক, চোখ রাঙানি উপেক্ষা কইরা ভাবলাম আবার এ সংক্রান্ত কিছু একটা লেখি(চর্বি জমলে যা হয় আর কি!)। ভোট আইছে তো, একটু শক্তি শক্তি বোধ করতেছি আর কি! আচ্ছা ভোট দেয়া মানে কি ক্ষমতা দেয়া নাকি দায়িত্ব দেয়া? এই যে, নেতারা বলেন আমরা ক্ষমতায় আছি, তার মানে কি? কীসের ক্ষমতা, কার ক্ষমতা? কে কাকে ক্ষমতা দিলো? পুরা সংবিধানের কোথাও তো ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা পাইলাম না! ক্ষমতা তো এক জায়গাতেই আছে। সেটা জনগণের হাতে। জনগণই একমাত্র ও সকল ক্ষমতার মালিক।

হ্যাঁ, জনগণের সেবক হিসেবে অনেকেই ‘সেবা’ করার দায়িত্ব নিতে চান। জনগণকে হাতে-পায়ে ধরে তাকে সুযোগ দেয়ার কাকুতি-মিনতি করেন। তখন জনগণ বলেন, ‘আচ্ছা তাহলে তুমি প্রতিনিধি হয়ে আসো, দেখি দায়িত্ব কেমন পালন করো!’। এভাবে প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে সেবা করতে আসে এই শর্তে যে ঠিকমত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাকে তার নিয়োগকারীরা অব্যাহতি দিতে পারবেন।

একটা ঘটনা বলি। স্বাধীনতাপুর্ব আমার দাদার স্থানীয় বাজারে একটা বড় দোকান ছিলো। বোন যেহেতু স্ত্রীর চেয়ে বেশী আপন, এই যুক্তিতে আমার দাদা বোনের সন্তানদের মানে ভাগিনা-ভাগিনিদের নিজের সন্তানের চেয়ে আপন মনে করতেন। নিজের বোনের পেট থেকে হয়েছে বলে কথা! তো, দাদা তাঁর এক ভাগিনাকে দোকান ও সংলগ্ন গোডাউনে ‘বিক্রয় প্রতিনিধি’ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রাখলেন দীর্ঘ সময়কালীন। দাদার পরলোকগমনের পর এই ‘প্রতিনিধি’ সেই দোকানসহ সংলগ্ন বাড়ি ও সম্পত্তি ভোগ করতে থাকলেন। বললেন, যেহেতু দাদা তাকেই দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন তাই তিনিই এটা দেখভালের সত্যিকার দাবীদার। প্রতিনিধি এভাবে মালিক সেজে বসলেন!

আমাদের রাষ্ট্রের একই অবস্থা দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতাশালী জনগণ যাদেরকেই সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিচ্ছেন, তারাই দায়িত্ব নেবার পর বলছেন, ‘আমরা ক্ষমতায় বসেছি। এখন আমরাই সকল ক্ষমতার মালিক। তাই আমরা যা বলবো জনগণকে(প্রকৃত মালিক) সেটাই করতে হবে’।

যেহেতু একদিনের জন্য হলেও জনগণের হাতে দৃশ্যমান ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে, তাই এর যথাযথ ও সঠিক ব্যবহারই সকলের কাছে কাম্য। নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খুব গুরুত্বের সাথেই দেখা উচিত বলে মনেকরি।

প্রথমতঃ প্রার্থীদের শারিরিক ভাষা(বডি ল্যাঙ্গুয়েজ) খেয়াল করা উচিত। যাতে দায়িত্ব নেবার পরই বলে না বসে ‘আমি ক্ষমতায় বসলাম। এখন আমিই এই প্রতিষ্ঠানের মালিক আর এর প্রকৃত মালিকেরা আমার আজ্ঞাবহ’।

দ্বিতীয়তঃ এই প্রতিনিধিকে আমরা যে দায়িত্ব দিতে যাচ্ছি, সেই দায়িত্ব পালনের মতো সততা ও যোগ্যতা আসলেই তাঁর আছে কিনা সেটা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে নিরূপণ করা উচিত! অযোগ্য, অদক্ষ ও অসৎ প্রতিনিধিকে দায়িত্ব দিলে তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় ‘সেবা’ প্রত্যাশা করাটাও নিছক আহাম্মকি ছাড়া কিছুই না।

এর আগে প্রতিনিধিদের প্রতিযোগিতা করার তালিকা করার আগে অবশ্যই দেখা উচিত, প্রার্থীসমূহের প্রত্যেকেই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান, মৌল চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি পূর্ণমাত্রায় আস্থাশীল কিনা! এই প্রশ্নসমূহে সামান্য বিচ্যুতি সম্পন্ন কাউকে কোনোভাবেই প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া উচিত নয়। কেউ ভুলক্রমে কিংবা সচেতনভাবে কাউকে সে সুযোগ দিয়ে থাকলেও ‘একমাত্র ও সকল’ ক্ষমতার মালিক জনগণের উচিত তাকে প্রত্যাখ্যান করে এর সমুচিত জবাব দেয়া।

দেশপ্রেমিক, সৎ, যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের জন্য শুভকামনা রইলো। আশাকরি, নির্বাচিত প্রতিনিধি তাঁর মালিকদের(জনগণের) দেয়া দায়িত্ব সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন। মালিক ও প্রতিনিধি, সকলের জয় হোক। জয় বাংলা।

হ্যাপি ভোটিং। এঞ্জয় ডেমোক্রেসি।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/imran/33069.html



মন্তব্য করুন