মুহম্মদ ইমাম উদ্দীন-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

এ খেলা কি থামবে না..!!(অবৈধ ভাবে শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে)

লিখেছেন: মুহম্মদ ইমাম উদ্দীন

খেলাধুলার কথা শুনলেই ছোটবড় প্রায় সবার মাথায় প্রথমেই চলে আসে ক্রিকেটের নাম। তবে ক্রিকেট সম্পর্কে নতুন করে বয়ান করার কিছু নেই। এ সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে খেলোয়াড়গণ খেলেন, আম্পায়ার খেলা পরিচালনা করেন এবং দর্শকেরা খেলা উপভোগ করেন। আবার বিভিন্ন টিভি চ্যানেল এসব খেলা সরাসরি সম্প্রচার ও করে। কিন্তু আমাদের পাড়ার ছোট মাঠটিতে বল্টু, হাবলুদের সাথে প্রতিদিন বিকেলে আমরা যে ক্রিকেট খেলি তা কোথাও সম্প্রচার হয়না। তাই বলে ভাববেন না আমরা খেলা পারিনা। এই যেমন ধরুন আমাদের বল্টু ব্যাটিং এ নামলে দু-চারজন ফিল্ডারকে বল খোজার জন্য মাঠের বাইরে নিয়োগ দিতে হয়। আর আমাদের হাবলুর কথা কি বলব সে ত বোলিং করতে আসলেই দুজনকে পাঠাতে হয় নতুন স্ট্যাম্প আনার জন্য। দু-চারটা স্ট্যাম্প না ভাঙ্গলে নাকি সে ক্রিকেট খেলেছে বলে মনেই হয়না..!
বুঝতেই পারছেন এরা তামিম কিংবা সাকিব থেকে কোনোদিকে কম নয়।
আপনারা কেউ কেউ হয়ত ভাবছেন, আমি সিরিয়াস একটা বিষয়ে শিরোনাম দিয়ে রসিকতা করছি, কিন্তু আমার মোটেও তা করার ইচ্ছা নেই। এতক্ষণ পাঠকদের মধ্যে যারা মুখে পান চিবিয়ে চিবিয়ে আমার লেখাটা পড়ছিলেন তারা হয়তো এবার একটু বিরক্ত হয়ে মুখ থেকে সশব্দে একদলা পানের ফিক ফেলে বলবেন, তাহলে ব্যাটা যা বলার সহজ কথায় বলে দে না! এত ডং করস কেন!! উনারা একটু মুখের কাছে আসুন কানে কানে ফিসফিস করে আসল কথাটা বলে দেই,”ভাই তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাটা পড়ে ডরায় গেছি। তাই ডং করা ছাড়া উপায় নাই।”
আচ্ছা তাহলে এখন মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। আমি শিরোনামে যে খেলার কথা বলেছি তা হল,”অবৈধ ভাবে অযোগ্য ব্যাক্তিকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার খেলা”. কেউ কেউ হয়তো বলছেন এটা আবার কোনো খেলা হল নাকি? আবার হয়তো অনেকে আমার নামের আগে কিংবা পরে পাগল উপাধি দিয়ে দিতে চাইবেন। অবশ্যি পাগল উপাধিটা সচরাচর নামের আগেই দেওয়া হয়। তবে আপনারা যেই যা বলুন না কেন আমার কাছে কিন্তু এটা এক প্রকার খেলার মত-ই মনে হচ্ছে। তবে এটা কোনো স্টেডিয়ামে হয়না, এটা অনুষ্টিত হয় আমাদের দেশের-ই কিছু কিছু কিংবা বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
তবে আশ্চর্যের বিষয় এই খেলার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নাই। ঠিক কখন থেকে এ খেলা শুরু হয়েছিল তা অনুমান করতে পারছিনা। আবার কখন যে শেষ হবে তাও অনুমান করা মুশকিল। আর অবলা দর্শকেরাও খেলা উপভোগ করে চলেছেন। মাঝে মাঝে দুয়েকজন হাততালি-ও দিচ্ছে। ওদিকে সুযোগ বুঝে আম্পায়ার মশাইগণ -ও আরামসে হাতে বাদামের ঠোঙা নিয়ে দর্শকের কাতারে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু ওদিকে খেলা যে অনন্তকাল ধরে চলতেছে সেদিকে উনাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। যদি-ও দুয়েকজন বিদ্রোহি দর্শক আম্পায়ারের কানে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, স্যার খেলা যে এভাবে চলতেই আছে অথচ আপনারা কিছু বলছেন না,বিষয়টা কেমন খারাপ দেখাচ্ছে না স্যার? উত্তরে আম্পায়ার মশাই ঠোঙা থেকে একটা বাদাম বের করে চুলতে চুলতে বলল,”দেখ বাপু, পোলাগো খেলা পোলারা খেলতাছে এখানে আমি খামোকা নিষেধ করতে যামু কেন!! তাছাড়া দেখতাছনা ওরা কেমনে একের পর এক ৬ আর ৪ মারতাছে। একটু ধৈর্য ধ-ইরা ব-ইসা শিখে নাও কেমনে ছয় চার মারতে হয়। তোমরা শেখার জন্য-ই তো ওদের মাঠে নামিয়েছি। তোমরাই তো দেশের ভবিষ্যৎ. এখন তোমরাই যদি ছয় চার মারা না শিখ তবে দেশের মুখ লেড বালবের মত উজ্জ্বল করবে কেডা শুনি!!”
আম্পায়ার মশায়ের এই লম্বা বানী শ্রবণ করে দর্শক একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন, স্যার ক্রিকেট খেলাটাই যদি আগে শিখতে না পারি তবে ছয় চার দিয়ে কি করব?
আম্পায়ার সাহেব এবার ঠোঙা থেকে একমোঠো বাদাম বের করে তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, “দেখ বাপু ভেজাল করিস না, পাশে ব-ই, বাদাম খা আর চুপচাপ খেলা দেখ।”
অতঃপর
.
.
.
.

দর্শক চুপ,
বাদাম খাচ্ছে,
এবং খেলা দেখছে….!!!

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/imam-uddin-chy/23979.html



মন্তব্য করুন