হাসান রাহমান মারজান-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

আন্দোলনে আগুন, ধ্বংস আর লাশের কি বিকল্প নেই?

লিখেছেন: হাসান রাহমান মারজান

দেশ ক্রমশই পরিনত হচ্ছে এক ঘৃন্য ধ্বংসস্তূপে। লাশের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে নির্মল বাতাসও। কিন্তু কিসের আশায় আন্দোলনের নামে এই ধ্বংসযজ্ঞ? যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আদালতের রায় কর্তৃক মৃত, যে তত্ত্বাবধায়কের উপস্থিতি সংবিধানে নেই, সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ফিরিয়ে আনবেন কিভাবে? জানি এর জন্যে আপনাদের আন্দোলনের অধিকার রয়েছে, অধিকার রয়েছে রাজপথে নামার। কিন্তু নিজেদের রাজনীতির জুয়া খেলায় কেন জোর করে কোরবানি দিচ্ছেন আমাদের মত জনগনকে? জনগনতো তৈরী করেনি এই সংবিধান, বরং আপনারাই এই সংবিধানের ত্রানকর্তা। আপনাদেরই রাজনীতির মারপ্যাঁচে ওলট-পালট হয় এই সর্বোচ্চ বিধান। তাহলে কেন নিজেদের ভুলের বোঝা চাপিয়ে দেন খেটে-খাওয়া মানুষের ঘাড়ে।জনগনকে দৌড়ের উপর রাখতে পারলেই যেন শুদ্ধ থাকে রাজনীতি আর মুক্তি পায় গনতন্ত্র। আসলে আমাদের দেশে জনগনের জন্ম হয় ভোট দেওয়ার জন্যে আর রাজনীতিবিদদের জন্ম হয় শুধু “আন্দোলন, আন্দোলন” করার জন্যে।

গত ৫ বছর যাবৎ আপনারা অনেক আন্দোলন করেছেন, লাশ ফেলেছেন। কিন্তু কোনটিই সফল হয়েছে? মনে রাখবেন ইতিহাসে ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের সফলতা খুবই নগন্য। শক্তি আর ধ্বংস দিয়ে দেশ জয় করা যায় কিন্তু মন জয় করা যায়না। আর এখন মোঘল আমল না যে যুদ্ধে দেশ জয় করতে পারবেন, গনতন্ত্র আর সমাজতন্ত্রের বিশ্বে এইসবের অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং এইসব ধ্বংসাত্মক আন্দোলনে জনগনের চোখে আপনারা হয়ে উঠছেন বিষাক্কত, নির্বাচনেও জনসমর্থন হারিয়ে ফেলেছেন অনেক আগেই। তাই হয়তো ফন্দি-ফিকিরে এই জনগনকে লাশ বানানোর আন্দোলন। কিন্তু ভেবে দেখুন আপনাদের অর্জনের খাতা এখনো সাধা কাগজ, শূন্যর উপর শুন্য।

তাই দয়া করে ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের পথ পরিহার করে অহিংস-মানবিক আন্দোলনে চলে আসুন। নিরীহ, নিরপরাধ মানুষকে মুক্তি দিন আপনাদের নিষ্ঠুর আচরন থেকে। আর মানবিক আন্দোলনের সফলতার নজির খুজতে মার্টিন লুথার কিংয়ের সময়কার আমেরিকায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই, দরকার নেই মহাত্মা গান্ধীর ভারতে যাওয়ার। নিজের দেশের দিকেই থাকান, শুধু পিছিয়ে যান সাড়ে নয় মাস পিছনে। একটু ঘুরতে চেষ্টা করুণ গণজাগরণের আন্দোলনের দিনগুলোতে। হ্যাঁ ওরাও আগুন জ্বালিয়ে ছিল! তবে যাত্রীবাহী কোনো বাসে নয়, মনির-নাহিদ-রবিনদের শরীরে নয়, কোনো মহাসড়কে টায়ারে নয়। ওদের দেওয়া আগুনে জ্বলে উঠে ছিল কোটি মানুষের হৃদয়, জেগে উঠে ছিল কোটি বিবেক। ওদের মোমবাতির মঙ্গল প্রদীপ আলো দেখিয়েছে, দেখাচ্ছে ওদের আন্দোলনের। আপনারা ৫ বছর ধরে মানুষ পুড়িয়ে, রাষ্ট্রের সম্পত্তি জ্বালিয়ে, কচি শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট করেও যে আন্দোলনের সফলতার খাতা খুলতে পারলেননা তারচেয়েও বড় প্রতিপক্ষের সাথে আন্দোলন করে, রক্তের ঝর্না ধারা না বইয়েই মাত্র কয়েকটা মাসেই সফলতার চুড়ান্ত শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন।অথচ আপনারা এখনো দা-খুন্তি-কুড়াল নিয়ে ব্যর্থতার সাগরে পড়ে রইলেন। আর আপনারা জিতবেনই বা কিভাবে? আপনাদের আন্দোলনেতো আগুন, ধ্বংস ও লাশের বিকল্প নেই।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/hasan-marzan/25687.html



মন্তব্য করুন