হাসান রাহমান মারজান-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

১৫ আগষ্ট ১৯৭৫: একজন ছাত্রনেতা এবং এক রাতেই গণতন্ত্র উদ্ধার!!!

লিখেছেন: হাসান রাহমান মারজান

দেখুন কিভাবে বাংলাদেশের কিছু ছাত্র একাত্তর আর বঙ্গবন্ধু বিদ্বেষী হয়ে উঠে। তবে জামাত-শিবির তো জন্ম থেকেই এই রকম হয়ে উঠে, তাই আমি এদের ছাত্র বলিনা।গত ৯ এপ্রিল কলেজে আমার ওরিয়েন্টেসন ক্লাস ছিলো। বড় বড় বা সরকারি সব কলেজে ছাত্র রাজনীতি আছে। তাই ওরিয়েন্টেসন ক্লাস মানে রাজনীতিবিধদের মহড়া। ক্লাস করতে ছিলাম হঠাৎ কয়েকজন গুণ্ডা সুদৃশ্য ছেলে ক্লাসে ঢুকলেন। ডুকেই বক্তৃতা দিতে লাগলেন, বক্তৃতা শুনে বুঝলাম উনারা কলেজের ছাত্র দলের ছাত্রনেতা থুক্কু ক্যাডার।আমি অন্যমনস্ক হয়ে ছিলাম। একজন কালো চশমা পরা নেতা বক্তৃতা দিচ্ছিলেন হঠাৎ তার মুখ থেকে বেরিয়ে এল এই ঘৃণ্য বাক্যটি, “১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ সালের বাংলাদেশের সূর্য সন্তান শহীদ জিয়াউর রাহমান ও কিছু সেনা সদস্য মুজিবুর রাহমানকে খুন করে এক রাইতেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র উদ্ধার করেন এবং বাকশাল মুজিবের এক দলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তীতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের রাজনীতি চালু করেন”।আমি নির্বাক শ্রোতা হয়ে এসব সুন্তেছি আর ভাবতেছিলাম, উনার কালো চশমার আড়ালে লুকিয়ে গেছে সঠিক ইতিহাস। তবে এতে উনার হয়ত তেমন দোষ নয়। কারন উনিও এইসব শিখেছেন অন্য একজন কালো চস্মাধারীর কাছ থেকে। উনার দোষ উনি কেন এইসব মিথ্যা বুলি ছড়িয়ে আমার মত সদ্য S.S.C পাশ করা কচি ছাত্রকে কেন মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন। উনার এই বক্তৃতার কারনে কিছু ছাত্র হয়ে যাবে ছাত্র দলের আদর্সবাদী, তবে এতে আমার কোনও আপত্তি নেই। আপত্তি এই জায়গায় আপনি যা বলতেছেন তার কারনে কিছু ছাত্র জানবেনা সঠিক ইতিহাস, তারা বড় হবে বঙ্গবন্ধু এবং স্বাধীনতা বিদ্বেষী হয়ে।
আমি এসবের যুক্তি ধরে প্রতিবাদ করতে চাচ্ছিলাম কিন্তু পরক্ষনেই নিজে নিজে বললাম। আমি কলেজে নতুন তাই হুট্‌ করে প্রতিবাদ করা ঠিক হবেনা (যদিও তখন প্রতিবাদ করার সঠিক সময় ছিলো, এজন্য এখনও নিজেই নিজেকে ধিক্কার দেই)।এরপর আরো কয়েকটি মিথ্যাচার করে উনার বক্তব্য শেষ করলেন।
উনার কথার সারমর্ম ছিল, বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করায় উনার বিচার হওয়া উচিত।”
কিন্তু উনি উনার নিজের অজান্তেই তার বক্তৃতায় জিয়াউর রাহমানকে খুনি বলেছেন।
এখন প্রশ্ন হল খুনী কিভাবে শহীদ হয়?
জিয়াউর রাহমান বঙ্গবন্ধুকে খুন করেছেন এটি তারা নিজেই স্বীকার করতেসে। তাহলে কি ১৫ আগষ্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে মিথ্যাচার সেই খুনকে ধামাচাপার জন্য?
আর উনি বঙ্গবন্ধুকে বাকশাল বলেছেন কিন্তু ভেবে দেখেননি এর পরে কারা ক্ষমতায় এসেছিল, বাংলাদেশে কি ঘটেছিলো। কর্নেল তাহের ইত্যাদি।
শবসেষে আমি বুঝতে পারলাম আগামীর যুদ্ধে জামাত-শিবির হবে পাকিস্তান আর BNP- chatrodol হবে রাজাকার।

এইসব ভাবি আর নিজেকে প্রশ্ন করি কবে শেষ হবে স্বাধীনতা বিরোধীদের উথান।
না না মনে রাখবেন বসে থেকে লজেনস চুষলে দুশমন ধ্বংস হবে না সৃষ্টি হবে।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/hasan-marzan/20795.html

 2 টি মন্তব্য

  1. কবির য়াহমদ

    বিভ্রান্তদের বিভ্রান্তি প্রচার হয় আর আমাদেরকে মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। এমন কাহিনী ছিল আমাদেরও কলেজে ভর্তিকালীন সময়ে।

  2. হাসান রাহমান মারজান

    ধন্যবাদ কবির আহমদ ভাই।

    রাজনীতি জড়িত প্রায় সকল কলেজেই প্রথম দিন এভাবেই মগজ ঝালাই দেওয়া হয় নতুনদের।

মন্তব্য করুন