ফাতেমা জোহরা-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

কেমন লাগে এবার? ধান গেছে বলে এতো কষ্ট, আর যাদের জান গেলো!

লিখেছেন: ফাতেমা জোহরা

রাজশাহীতে এক বিএনপি নেতার ধান বোঝাই ৪টি ট্র্যাক পুড়িয়ে দিয়েছে অবরোধকারীরা(সম্ভবত এটা ভুলে করেই করে ফেলেছিল অবরোধকারীরা)। তবে ভুল হোক আর যা-ই হোক এই ঘটনা থেকে ঐ বিএনপি নেতা হয়তোবা বুঝলেও বুঝতে পারে যে উনার দলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আজ দেশের মানুষ কি অবস্থায় জীবন ধারন করছে।কথা না বারিয়ে ঐ বিএনপি নেতার কিছু কথা তুলে ধরছিঃ-

“এটা আমি কোনোমতেই মানতে পারছি না। মাত্র ১০ মিনিটের আগুনে আমার কোটি টাকা শেষ। এই রাজনীতির কোনো মানে নাই।”

অবরোধের নাশকতায় ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ মানুষের আক্ষেপের পর এবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন কথা বললেন বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান। তিনি কুষ্টিয়ার আইলচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।কি বুঝলেন? দেখলেন তো আতে ঘা লাগলে বিএনপি নেতারা নিজেরাই স্বীকার করে যে- “এই রাজনীতির কোনো মানে নাই।” ।এতেই কি বোঝা যায় না মূলত রাজনৈতিক ভাবে বিএনপি পুরোই ফাঁকা।মিথ্যা আর সন্ত্রাসের উপর ভিত্তি করেই বিএনপি রাজনীতি করে। আবারো সেই বিএনপি নেতার প্রসঙ্গে ফিরে আসি। সারাদেশে চাল সরবরাহকারী হিসেবে সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের পরিচালক বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান।ধান ও ট্রাক পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে দাবি করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,

“১০ মিনিটের আগুনে আমার দেড় কোটি টাকা পুড়ে শেষ হয়ে গেলো রে ভাই।”

উনার এই কথা শুনার পর আমার বলতে ইচ্ছে হচ্ছে- কেন রে ভাই, এখন এতো কষ্ট লাগছে কেন?আপনার দের কোটি টাকার ক্ষতি হইছে; যেটা পরিশ্রম করলে আপনি আবারো পুষিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু আপনার নেত্রীর ডাকা অবরোধের কারণে যেসব মা-বাবা তাঁদের সন্তান হারাইছে,যেসব সন্তান তাঁদের বাবা-মাকে হারাইছে, যারা বিধবা হইছে তাঁদের ক্ষতি তাঁরা কিভাবে পোষাবে বলতে পারেন? জানি পারবেন না।তারপরও বলছি, যা ভুল করছেন তো করছেনই এখন টাইম থাকতে পিওরহন। উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাপরিচালক সিদ্দিকুর রহমান বড় ভাই আবদুর রশিদও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিজেদের দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার এই লোকসানকে তিনি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,

“আমি ভাই লোকালি রাজনীতি করি। এইসব ঘটনায় অনেক মানুষকে কাঁদতে দেখেছি। কিন্তু নিজেও যে এর শিকার হয়ে যাবো কোনোদিন ভাবি নি।”

আসলে বিএনপি নেতাদের স্বভাবই এমন।এরা মনেহয় নিজেদের অন্য প্রজাতির কিছু একটা ভাবেন;তাই অনেক মানুষকে কাঁদিয়ে আর কাঁদতে দেখে এরা ভাবে নিজেরা কোনোদিনই এরকম পরিস্থিতিতে পরবে না। কিন্তু সব সময়ই যে সুসময় নয় এটাও মনে রাখা উচিৎ। এই ঘটনা মানতে না পেরে আবদুর রশিদ আরও বলেন,

“আমার ট্রাকগুলা তো অবরোধের সময়ের আগেই আসছিলো। তাহলে এই ট্রাক পোড়ানোর কারণ কী?আমার ধান আর ট্রাক তো কারো ক্ষতি করেনি। তাহলে সেগুলাতে আগুন দেয়ার কারণ কী?”

 বিএনপির একজন নেতা হয়ে যদি উনি এই প্রশ্নগুলো করতে পারে, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষ হিসেব আমরা কি প্রশ্ন করতে পারিনা যে- কেন পুড়িয়ে মারা হল এতোগুলো মানুষকে? কি দোষ ছিল তাঁদের?কেন আজ আমাদের দেশের এই অবস্থা? সবশেষে একটা কথাই বলতে চাই আর সেটা বলতে চাই খালেদা বেগমকে(জানিনা উনার কাছ পর্যন্ত এই কথা পৌঁছাবে কিনা)অনেক তো মানুষ পোড়া দেখলেন, এবার দয়া করে থামেন। তা না হলে, নীরব জনতা কবে ডাণ্ডা হাতে সরব হয়ে উঠবে সেটা আপনি টেরও পাবেন না। আর তখন কিন্তু(আপনার ভাষ্যমতে) পালাবারও পথ খুঁজে পাবেন না । (তথ্যসূত্রঃদৈনিক সমকাল)

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/fatema-tuz-zohora-71/25664.html

 1 টি মন্তব্য

  1. খাজা বাবা

মন্তব্য করুন