ফাতেমা জোহরা-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

একটি পুরনো বিষয় কিন্তু প্রায়ই নতুন করে অপমান করে আমায়

লিখেছেন: ফাতেমা জোহরা

আমি জানিনা বিষয়টা কারো মনে আছে কিনা; হয়তো মনে থাকতেও পারে। তারপরেও একবার মনে করিয়ে দিচ্ছি। খুব সম্ভবত ২০১২ সালের একটি ঘটনা এটি। উত্তরার রাজউক কলেজের অধ্যক্ষকে নিয়ে  ”নয়া দিগন্ত” নামক জামাতি পত্রিকাটিসহ দেশের প্রথম সারির একটি পত্রিকাও প্রকাশ করেছিলো যে  বোরখা পরায় ছাত্রীকে বের করে দিলো অধ্যক্ষ” । তারপর এইনিয়ে অনলাইনে-অফলাইনে, লোকজনের মুখে মুখে অনেক আলোচিত সমলাচিত হয়েছে ঘটনাটি।                                                            যা-ই  হোক এখন মুল কথায় আসি, আমি রাজউক কলেজের ২০১১-২০১২ সেশনের ছাত্রী। আর যেই মেয়েটির বোরখা নিয়ে এত কথা ওর নাম হল “সুমাইয়া ইসলাম” । ও আমার সাথেই পড়তো। ওর বোরখা নিয়ে যেই ঘটনা গুলো তখন প্রকাশিত হয়েছিলো তখনো বলেছি এখনো বলছি এবং স্পষ্টভাবে বলছি সেগুলো ছিল একেবারে ডাহা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ড্রেস এর বাইরে রাজউক কলেজের কেউ যদি একটু বেশি পর্দার জন্য বোরখা পড়তে চায় তবে সেই নিয়ম কলেজে ছিল এবং আছে। নিয়মটা হল-গারো নেভি ব্লু রঙয়ের বোরখার সাথে সাদা স্কার্ফ , সাদা সালোয়ার, কাঁধে কলেজের নাম সম্বলিত ব্যাচ এবং আইডি কার্ড।বোরখার নিচেও কলেজের ড্রেসই পরতে হয়। কারণ অনেকে আবার বোরখার নিচে অন্য ড্রেস পরে এসে ছুটির পর বোরখা খুলে ডেটিং এ যায়। যার কারনে বোরখার উপরে ও নিচে কলেজের নির্দেশিত ড্রেসই পরতে হয়। কিন্তু এসব নিয়মের কোনটাই মানেনি ওই মেয়েটি। যার ফলে প্রিন্সিপ্যাল স্যার ওকে একটু বকাঝকা করে। কিন্তু ওকে কলেজ থেকে বের করে দেবার মতো কাজ স্যার করেনি। যেটা আমরা সবাই জানি এবং দেখেছিও। কিন্তু ওই মেয়েটি হুট করে ব্যাপারটি ওর অভিভাবকের মাধ্যমে গণমাধ্যমে বিকৃত ভাবে প্রকাশ করে। যেটা নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। এমনকি এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে অজ্ঞাতনামা একজন লোক স্যারকে কাফনের কাপড় পর্যন্ত পাঠিয়েছে। যা-ই হোক আমার মতে আমাদের প্রিন্সিপ্যাল স্যার ছিলেন আমার দেখা শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্যে একজন। আর স্যার যদি এতোটা বিকৃত রুচির মানুষই হতেন তাহলে ওই সুমাইয়া রাজউক থেকে এইচ.এস.সি পাশ করতে পারতো না। কিন্তু গতকাল একটা ছবি আর একজনের কথা আমায় খুবই কষ্ট দিয়েছে বলেই আজ এতো দীর্ঘদিন পর এই লেখাটা আমি লিখলাম। সেই ছবিতে স্যার এবং পরিমল নামক পশুটিকে একসাথে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং ছবিটি দেখিয়ে স্যার সম্পর্কে অনেক বাজে কথা বলা হয়েছে। যেটা আমাকে দারুনভাবে আঘাত করেছে। আর স্যারের মতো একজন আদর্শবান মানুষকে কি করে ওই পশুর সাথে তুলনা করা যায় আমি বুঝিনা । আর পুরনো একটা কুৎসিত মিথ্যা কথা নিয়ে এখনো এসব করার কোন মানে আছে?যদিও এমন কাজ করার মত লোকের অভাব এই সমাজে নাই।  তবে যে যা-ই বলুক প্রিন্সিপ্যাল আমার দেখা শিক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে আদর্শবান একজন শিক্ষক। তিনি শুধুমাত্র এবং শুধুমাত্র একজন শ্রদ্ধারই পাত্র। তাঁকে নিয়ে খারাপ কিছু বলার কোনও অবকাশ নাই। আর যারা বলে তাঁদের বলছি আগে নিজেদের চরিত্র ঠিক করেন তারপর অন্যদের বলতে আইসেন। আশা করি লেখাটা পড়ার পর যাঁদের এখনো স্যারকে নিয়ে খারাপ ধারনা ছিল তা দূর হয়ে যাবে। তারপরও যদি কিছু বলার থাকে তবে মন্তব্য করতে পারেন।

  

 

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/fatema-tuz-zohora-71/23686.html



মন্তব্য করুন