ফাতেমা জোহরা-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

এতোটা বিবেকবর্জিত মানুষ কি করে হয়? নাকি “বিবেক” নামক শব্দটা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে?

লিখেছেন: ফাতেমা জোহরা

গতকাল টিভির চ্যানেল পাল্টাতে পাল্টাতে হঠাৎ করে একটা চ্যানেলে দেখলাম কয়েকজন বৃদ্ধলোক অনেক কান্নাকাটি করছে, কয়েকজন রাস্তায় শুয়ে আছে, কয়েকজন আবার বার বার মূর্ছাও যাচ্ছে। একটু শুনেই বুঝতে পারলাম যে লোকগুলো একটি হজ্জ এজেন্সি দ্বারা মারাত্নকভাবে প্রতারিত হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকে হজ্জে যাবার উদ্দেশ্যে ওই এজেন্সিকে ৩,৫০,০০০ টাকা করে দিয়েছে এবং টাকা নেবার সময় এজেন্সির লোকেরা তাঁদের বলেছিল যে সব কাগজ পত্র তৈরি হলে ওরা ফোন করে সবকিছু জানাবে। কিন্তু পরবর্তীতে এজেন্সিটির কাছ থেকে কোন ফোন না পেয়ে প্রতারিত হজ্জযাত্রিরা ওই এজেন্সিতে যান এবং সেখানে গিয়ে এজেন্সির কাউকেই পান না । পরে তাঁরা জানতে পারেন যে ওরা টাকা পয়সা নিয়ে গাঢাকা দিয়েছে। সারা জীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে এই লোকগুলো চেয়েছিল জীবনের এই শেষ পর্যায়ে তাঁদের সকল পাপ মোচন করতে, আল্লাহ্‌র সান্নিধ্যে যেতে কিন্তু যখন শুনল যে সেই সুযোগটাও কেড়ে নিয়েছে ওই প্রতারকরা তখন কান্নাকাটি করা আর মাথা চাপড়ানো ছাড়া তাঁদের আর কি করার আছে! আর আমি বুঝিনা হজ্জের মতো একটা পবিত্র বিষয় নিয়ে মানুষ কি করে প্রতারনা করতে পারে? না না, এদেরকে মানুষ বললে ভুল হবে। এরা মানুষ না; এরা হল মানুষরূপী জানোয়ার। মনেহয় কোন জানোয়ারও এহেন একটা পাপ করতে গেলে দুবার ভাবে, আসলে এরা জানোয়ারের পর্যায়েও পরে না। যখন আমি টিভিতে ওই বৃদ্ধ লোকগুলোর আহাজারি দেখছিলাম তখন আমার কাছে যে কেমন লাগছিলো সেটা আমি বলে বা লিখে বোঝাতে পারবো না। যেই লোকগুলো কাফনের কাপড় নিয়ে হজ্জে যাবার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলো, তাঁদের সেই পবিত্র উদ্দেশ্যটি সফল হতে পারলনা শুধুমাত্র গুটিকয়েক প্রতারকের জন্য। এতটা বিবেকবর্জিত কি করে হতে পারে কেউ? বিবেক বলে কি কোনোকিছু নেই আমাদের এই সমাজে? তাহলে কোথায় গেলো আমাদের সমাজের সেই বিবেকবানের দল!!! যারা ধর্ম ধর্ম করে একেবারে জীবন পর্যন্ত দিয়ে দিতে পারে। এতে করে কি তাদের ধর্মে কোন আঘাত আসেনি? নাকি এই বিষয়টা তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নয়?যা-ই হোক আমার কথা আমি বলি, আমার যদি সামর্থ্য থাকতো তবে আমি ওই বৃদ্ধ লোকগুলোকে প্রাণভরে সাহায্য করতাম। কিন্ত আমি অপারগ। তাই সরকারের কাছে দাবি করছি যত দ্রুতসম্ভব এই বৃদ্ধ লোকগুলোকে হজ্জে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন এবং ওই ঘৃণিত প্রতারকদের আইনের আওতায় এনে এমন শাস্তির ব্যবস্থা করুন যাতে আর কেউ কোনোদিন এমন জঘন্য অপরাধ করা তো দুরের কথা এসবের কথা চিন্তাও না করতে পারে।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/fatema-tuz-zohora-71/23296.html



মন্তব্য করুন