Farzana Sonia-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

ক্ষমতার কাছে পরাজিত মানবতা

লিখেছেন: Farzana Sonia

মনির, কাশেম, নাসিমা, মন্টু, আসাদ বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া কয়েকটি সাধারণ মানুষের নাম। ২০১৩ সালের রাজনৈতিক বর্বরতার বলি হয়েছিল জীবন্ত আগুনে দগ্ধ হয়ে। পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া মানুষগুলো শুধু হারায়নি প্রিয়জনের ক্ষত-বিক্ষত হৃদয় থেকে।
নষ্ট, পঁচে যাওয়া ক্ষমতার অন্ধ লড়াইয়ের ইতিহাসে হতভাগ্য মানুষগুলো কয়েকটি সংখ্যা ছাড়া আর কিছু নয়।
ক্ষমতার রাজনীতিতে জনগণ কেবল ক্রীড়ানক হয়েই রয়ে যাবে। এখানে স্বাভাবিক মৃত্যুরও কোন গ্যারান্টি পাওয়া যাবে না। অথচ গনতন্ত্রে জনগণই সকল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু।
৯০ এর গনঅভুত্থ্যানে নূরহোসেন কি তবে এই গনতন্ত্রের জন্যই ঢেলে দিয়েছিল বুকের তাজা রক্ত? ২৫ বছরের গনতান্ত্রিক শাসনের ফলাফল কি তবে জীবিত মানুষকে পুড়িয়ে মারা?
শ্রমজীবী মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে অবরোধে, হরতালেও রাস্তায় নামে নইলে তার প্রিয় সন্তান,স্ত্রী বা পিতা-মাতা অনাহারে দিন কাটাবে। কোন রাজনীতি এরা বোঝে না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এরাই এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে। অথচ এর বিনিময়ে তাদের ভাগ্যে জুটছে ককটেল আর পেট্রোলের আগুনে অঙ্গার অথবা সারা শরীরে পোড়ার অসহ্য যন্ত্রণায় নিয়ে হাসপাতালের বেডে ছটফটানি। তাদের অসহায় চোখের চাহুনিতে কম্পিত হয় না অপরাধীদের হৃদয়। বিবেকের তাড়নায় সামান্য দুঃখ প্রকাশ বা সমবেদনাও এদের ভাগ্যে জোটে না।
নাগরিকের নিরাপত্তাবিধান ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দ্বিতীয় অপরিহার্য কাজ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩য় ভাগে ২৬-৪৭ক অনুচ্ছেদ পর্যন্ত নাগরিকের অধিকারসমূহ বর্ণিত আছে। সেখানে কাউকেই নির্বিচারে মানুষ হত্যার বৈধতা দেয়া হয়নি। তাই আজ যখন সাধারণ জীবিত মানুষগুলো পুড়ে কয়লা হয়, যখন তাদের উপার্জনের একমাত্র সম্বল কেড়ে নেয়া হয়, অসহায় স্বজনের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয় তখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনও প্রশ্নের মুখে পরে।
যারা হরতাল আহবান করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট করছে আর পৈশাচিকভাবে নিরীহ মানুষগুলোকে হত্যা করছে রাজনৈতিক কর্মসূচী দেবার পর এসব ঘটনার দায়তো তাদের উপরই বর্তায়। মানবিকতাবোধ বা দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে এসব অগ্নিদগ্ধ হতভাগ্য মানুষ অথবা তাদের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোতো দূরের কথা তাদের জন্য সান্ত্বনা,সহানুভুতিও তাদের নেই। অথচ এরা রাজনীতি করে মানুষের জন্য।
একজন রিয়াজ রহমান প্রতিমন্ত্রী আর সচিব ছিলেন বলে তার উপর হামলা হলে হরতালের ঘোষণা, নিন্দা, বিবৃতি সবই মেলে কিন্তু রাতের আঁধারে বাসে আগুন দিয়ে নারী, শিশুসহ ৪ জনকে হত্যা করা হয় তখন নিশ্চুপ রাজনীতিবিদেরা, সুশীল সমাজ, সরকারসহ সবাই !!!
হায়রে রাজনীতি !!! হায়রে গণতন্ত্র !!!

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/farzana-sonia/31900.html



মন্তব্য করুন