Farzana Sonia-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

প্রসঙ্গ ঃ ৩ কোটি টাকা

লিখেছেন: Farzana Sonia

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির জন্ম ৭১ সালে। ৩০ লক্ষ শহিদের আত্মত্যাগ, ২ লক্ষ মা- বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতার লাল সূর্য। তাইতো লেখা হয়েছে, “ আমি দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কার দানে পাওয়া নয়।”
৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে সারা বাংলা পরিণত হয়েছিল বধ্যভূমিতে। পাকিস্তানিদের বর্বরতায় সঙ্গ দিয়েছিল এদেশের কিছু ধর্মান্ধ, অকৃতজ্ঞ পাপীরা যারা এখানে বাস করলেও মনেপ্রাণে ছিল পাকিস্তানি। সেইসব রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের নিষ্ঠুরতার সাক্ষী বহন করে আছে শহিদ পরিবার, বধ্যভূমি এর স্মৃতির মিনার গুলো।
মানবতাবিরোধী এসব ঘৃণ্যপশুদের কৃতকর্মের উপযুক্ত শাস্তি দেয়া যায়নি স্বাধীনতার ৪ দশক পরও। স্বাধীনতা পরবর্তী সরকার শুরু করলেও ৭৫ এর পটপরিবর্তনের পর সেই বিচার প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশবিরোধী চক্রটি পুনর্বাসিত হয়েছে, নাগরিকত্ব পেয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গড়ে তুলেছে অর্থের পাহাড় আর তা ব্যবহার করছে জঙ্গি পালনে, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মত ব্যর্থ রাষ্ট্র তৈরিতে। সবচেয়ে দুঃখের আর পরিতাপের বিষয় যে বাংলাদেশকে দেশের স্বাধীনতাকে তারা স্বীকার করেনি সেই দেশের পতাকা গাড়িতে তুলে সরকারের মন্ত্রী হয়েছে। দম্ভোক্তি করেছে, “ এদেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই!!!” এর জন্য দায়ী এদেশের ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দলগুলো যারা তাদের সাথে জোটবেধে আন্দোলন করেছে, যারা তাদের ক্ষমতায় যাবার ব্যবস্থা করেছে, যারা নীতি আদর্শের পরোয়া না করে ক্ষমতার মোহে দেশপ্রেমকে বিসর্জন দিয়ে নগ্নভাবে তাদের রক্ষা করেছে এবং করছে। প্রীতম আহমেদের গানের ভাষায় বলতে ইচ্ছে করে,” ৩০ লক্ষ প্রাণ আর ২ লক্ষ সম্ভ্রম, তোমার মন্ত্রীপ্রধান পদের চাইতে তার দাম কি কম?”
২০১৩ সালে বহু প্রতীক্ষিত সেই বিচারের রায়ে যখন কসাই কাদের গুরু পাপে লঘু দণ্ড পেয়ে V চিহ্ন দেখানোর মত উদ্ধত আচরণ করে তখনই ৪২ বছরের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ, দুঃখ আর তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়ে সমগ্র জাতি যার নেতৃত্বে ছিল তরুণ প্রজন্ম । ৫ই ফেব্রুয়ারীর গনজয়ারের স্রোতে আবারও ফিরে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। তরুণ প্রজন্মের স্পষ্ট দাবী ছিল যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনতা বিরোধী দল নিষিদ্ধ করা এবং তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কাছে এই দাবী গুলো উত্থাপন খুবই প্রাসঙ্গিক যেখানে প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা।
গত ১ বছরের বেশি সময় ধরে দেশের দল, মত পেশা নির্বিশেষে প্রগতিশীল মুক্তমনা সব মানুষ আর গণজাগরণমঞ্চ দাবীগুলো বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে আসছে। বেশ কয়েকবছর যাবত স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দেশে তাণ্ডব চালিয়েছে। হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, লুটপাট, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট, সাম্প্রদায়িক হামলাসহ দেশবিরোধী সকল প্রচেষ্টাই চালিয়েছে। অথচ সরকারকে যতটা কঠোর হাতে তাদের দমন করা প্রয়োজন ছিল, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করেছি ততটা কঠোরতা সরকার দেখাতে পারে নি!! আর গণদাবীর প্রতিও যথেষ্ট উদাসীন ছিল এবং আছে।
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সরকার ৩ লক্ষ কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড করার উদ্যোগ নিয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু যখন আমরা দেখি এই অনুষ্ঠানের জন্য স্বাধীনতা বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান আর্থিক উৎস ইসলামী ব্যাংকের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকার অনুদান গ্রহণ করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী !!! তিনি তো বঙ্গবন্ধু কন্যা, আমাদের ভরসাস্থল। তাহলে আমরা কার কাছে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার চাইব? আমাদেরতো একটা ভরসার আশ্রয় থাকা চাই। । সরকার কি এতটাই দেউলিয়া হয়েছে যে ৩ কোটি টাকার সংস্থান তারা করতে পারেন না? যারা এদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না তাদের টাকায় গাইব প্রাণের জাতীয় সঙ্গীত ? টাকা কি তবে দেশপ্রেম, চেতনা, আদর্শের চেয়েও শক্তিশালী? স্বাধীনতা বিরোধীরা তবে কি অর্থের বিনিময়েই তাদের অতীত পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবে ?
এই আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত আছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ৮ জন ট্রাস্টির একজন তিনিও কি একে সহি মনে করবেন?
তবে ৩ কোটি টাকার জন্য চেতনার এই অবমূল্যায়ন কখনোই কাম্য নয়।
আশা করতে চাই সকলেরই শুভবুদ্ধির উদয় হবে। জাতীয় সঙ্গীতকে কলঙ্কিত করার পথকে রুদ্ধ করা হবে।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/farzana-sonia/28792.html



মন্তব্য করুন