Farzana Sonia-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

সময় এখন প্রতিরোধের

লিখেছেন: Farzana Sonia

গত ৫ই ফেব্রুয়ারী ২০১৩ অন্যসব দিনের মতই সাধারণ ছিল, খুব একটা পার্থক্য
ছিল না। কিন্তু একটি রায় মুহূর্তে পাল্টে দিয়েছিল দৃশ্যপট। চাই চাপা আগুনের মত
প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিল মানুষ। অনলাইনে/অফলাইনে সর্বত্র মানুষ তীব্র ক্ষোভ আর
ঘৃণা প্রকাশ করেছিল। ব্লগার ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিবাদী মানববন্ধন আর মিছিলই
সেদিন রচনা করেছিল নতুন এক মহাকাব্যের।
৪২ বছর আগের এক গণহত্যাকারী ৩৩৪জন নিরাপরাধ মানুষকে ঠাণ্ডামাথায়
নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। বাদ পরেনি কোন শ্রেণি-বয়স-পেশার মানুষই। তাদের
অপরাধ তারা একটি স্বাধীন দেশ চেয়েছিল। অথচ সেই কসাইকে বিচারে যখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয় তখন দেশপ্রেমিক ও মুক্তচিন্তার কোন মানুষই নির্বিকার থাকতে পারেনি। তাইতো নতুন প্রজন্মের যোদ্ধাদের ডাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে দাবী আদায়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। লক্ষাধিক মানুষের
প্রাণের স্পন্দন এসে মিশেছিল শাহাবাগে। তাইতো শাহাবাগ এখন গণজাগরণের সাক্ষী
হয়ে মিশে গেছে বাঙালির প্রাণে মনে। দিনের পর দিন মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান
কর্মসূচী পালন করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, যার আবেশ ছড়িয়েছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে
সারা বিশ্বময়।এ পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে দেখেছে বাঙালির অহিংস, সুশৃঙ্খল আন্দোলনের
নতুনরুপকে। ফলশ্রুতিতে সরকার গণদাবীর মুখে বাধ্য হয়েছে আইন সংশোধন
করতে। আপিল করার মাধ্যমে পরবর্তীতে সেই কসাইয়ের ফাঁসির রায় হয়েছে। জয় হয়েছে মানবতার জয় হয়েছে সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবির।
১৯৭১ সালে সারাদেশ জুড়ে হানাদার পাকিস্তানি আর তাদের দোসর রাজাকারেরা ভয়াবহ ও নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। ৩০লক্ষ প্রাণ আর ২লক্ষ সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকা আর প্রিয় স্বাধীনতাকে তারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বদর্পে মিথ্যাচার করেছে এতদিন। তাইতো প্রিয় বাংলাদেশ ৪২ বছর ধরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া এবং তাদের তর্জন-গর্জনে কলঙ্কিত হয়েছে প্রতিনিয়ত। আজ আমাদের প্রাণের প্রিয় জন্মভূমি কলঙ্কমুক্ত হবার দ্বারপ্রান্তে।কসাইয়ের রায়টি কার্যকর হতে খুব বেশিদিন বাকী নেই। এদেশীয় সেই দোসর ঘৃণ্য পশুদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে এবং ১০ জনের রায় ঘোষণা করা হয়েছে যার মধ্যে ২ জন বাদে সকলকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। যদিও আমরা সুস্পষ্ট দাবী জানাই ঐ ২ জনও তাদের পাপের শাস্তি হিসেবে আপিলের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে।
এখন প্রশ্ন হল ফাঁসির রায় কার্যকর হবার পর এদের মৃতদেহের কি হবে ?? ৭১সালে মৃত্যুপুরীর এদেশ পরিণত হয়েছিল বধ্যভূমিতে। এক সাগর রক্ত মিশে আছে এমাটিতে আর এখানেই ঘুমিয়ে আছে লক্ষ বীরসেনানী। তাই বড় পবিত্র এ মাটি। সঙ্গতকারণে ঐ পাপিষ্ঠদের কোন স্থান এ মাটিতে হওয়াটা সমীচীন নয়। ২য় বিশ্বযুদ্ধের এক যুদ্ধাপরাধীকে ইতালির সাধারণ মানুষ সমাহিত করতে দেয়নি। তাহলে আমাদের করণীয় সম্পর্কেও ভেবে দেখতে হবে এবার। বাঙালির ত্যাগ, সাহসিকতা আর বীরত্ব পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ৫ই ফেব্রুয়ারীর পর সমগ্রবিশ্ব চিনেছিল নতুন এক বাংলাদেশকে। নতুন প্রজন্মের যোদ্ধারা এই ১০ মাসে অনেককিছুই অর্জন করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, আদালতের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে, সবচেয়ে বড়কথা মানুষের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। মানুষ নতুনকরে চিনেছে দেশবিরোধীদের আর জেনেছে গৌরবের অতীত ইতিহাস এবং সচেতন হয়েছে আপন কর্তব্য সম্পর্কে সর্বোপরি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। আর সেকারনেই গণজাগরণমঞ্চের ডাকে বাংলাদেশ ৩মিনিটের জন্য নীরব হয়েছে,প্রদীপের আলোয় আঁধার দূর করেছে,বহুদিনপর বেলুনে চিঠি লিখে পাঠিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের, দেশের সব শিক্ষার্থীরা একযোগে কণ্ঠমিলিয়েছে জাতীয়সঙ্গীতে………………
এতদিন ছিল প্রতিবাদ আর এখন করতে হবে প্রতিরোধ। যেকোনোমূল্যেই রাজাকারদের নিঃচিহ্ন করতে হবে এদেশ থেকে। এরা কখনোই এইদেশটাকে চায়নি, মেনে নিতে পারেনি এদেশের স্বাধীনতাকে। যারা এদেশের অস্তিত্ব স্বীকার করতে দ্বিধা করে তাদের ঠাঁই কি এদেশে হতে পারে?
সুতরাং সময় এসেছে আবারও জেগে ওঠার।আমাদের সকলকে যার যার অবস্থান থেকে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
“মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই।”- এই হোক প্রতিটি বাঙালির প্রাণের দাবী।
জয় আমাদের আসবেই।
জয় বংলা।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/farzana-sonia/25456.html



মন্তব্য করুন