Engr. Md. Arifur Rahman-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

ফিল্ম পাড়ার কান্না

লিখেছেন: Engr. Md. Arifur Rahman

480526_493725760694642_518816104_nজাবির সাহেব একজন সিনেমার পরিচালক, বয়স পঞ্চাশ থেকে কমিয়ে পচিশে আনার চেষ্টার কোন ত্র“টি করেননি, চুলে কলব দেয়া থেকে শুরু করে জামা কাপড়, চাহুনী , কথা বলা সব কিছুতে যুবকের ছাপ ফেলার চেষ্টা করেছেন প্রান পন । তার পরও ওনার মধ্যে কেমন একটা চাচাজী চাচজী ভাব, তার মেকাপ ম্যান, নৃত্য শিল্পী, সহকারী পরিচালক সবাকেই সাফ বলে দেয়া আছে কেউ যেন তাকে আংকেল বা বড় ভাই না ডাকে .. তাকে ডাকতে হবে নেকিয়ে নেকিয়ে ”ভাইয়া ” । মীরা ফিল্ম পাড়ায় নতুন অন্যান্য মডেল মত আট সাট বাসনে গলায় ওরনা জড়ানো চটপটে একটা মেয়ে, সে সুটিং দেখছিল, তার মনে আজ ভিষন আনন্দ , পরিচালক ভাইয়া আজ তাকে একটা রোল দিবেন সিম্পল একটা রোল , সারা সিনেমায় তার অবস্থান মাত্র পাচ মিনিটের, সে তার রোলটি বুঝি পাওয়ার জন্য পরিচালক ভাইয়ার পাশে দাড়িয়ে আছে। অবশ্য তার একটু ভয়ও হচ্ছে এর আগে মুন্নির পাচ মিনিটের একটা রোলের কথা তার মনে আছে, মুন্নি খুব রুপবতী ছিল তার চেয়ে বোকাছিল বেশি, অবশ্য কলেজ পড়–য়া মেয়ে । যতটুকু বুঝেছিল তাই তো ঢের । বাসায় গান শিখতে যাই বলে অভিনয় জগতে আসা । তার অভিনয় খোলামেলা দৃশ্যের দায় সেন্সর বোর্ড খেকে বাদ পড়েছিল … তবে সে কিছু টাকা পেয়ে ছিল, কিন্তু তাতে লাভকি ? সামান্য কিছু টাকার জন্য একে একে চার পাচ জনের সাথে ধর্ষনের দৃশ্রের অভিনয়ের প্রাকটিস করতে হয়েছে , সেই সুযোগ নিয়ে ছিল পরিচালক , প্রযোজক আর বাইরের কোন এক ব্যবসায়ী । মুন্নি বাদ পড়েছে ভাল হয়েছে শেষ দিনে তার কি কান্না কাটি . . . এভাবে আর কতদিন প্রাকটিছ করতে হবে ? আমি কি একটা প্রস্টিটিউট ? এর পর সিনিয়র কিছু আপু ব্যাপারটা বুঝতে পেরে তাকে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয় তারা বুঝে ছিল সহজ সরল হওয়ায় সে পরিচালকের কুনজরে পরেছে । এটা নতুন নয়, সিনেমা জগতে কিছু সইড নায়িকা থাকে যারা নায়িকা নাচার সময় তারাও কোমর দুলায়, এসবের অধিকাংশ ওঠে এসেছে পরিচালক প্রযোজকের মনোরঞ্জন করে তাদেরকে আস্স্থকরা হয়েছিল তারা অভিনয়ের সুযোগ পাবে এক সময় নায়িকা হবে . . .

এখন পুরাতন মডেল সীমা পরিচালক ভাইয়ার কাছ থেকে তার স্কৃপ্ট বুঝে নিচ্ছে পচিশ ছাব্বিশ বছরের একজন মডেল । ফিল্ম পাড়ায় তার অনেক ডাক নাম আছে , সীমার সাস্থ ভাল স্কীন জিন্স আর গেঞ্জিতে তাকে ভাল লাগছে কিনা বলতে পারব না তবে মনে হচ্ছে ছেলেদের চোখে তাকে খুব সুন্দর লাগছে , আসে পাশের সবাই তার দিকে তাকাচ্ছে, সীমা স্কৃপ্ট বুঝে নেয়ার সময় অকারনেই গা দুলিয়ে হাসছে আর বরাবরই পরিচালক ভাইয়ার চোখ গিয়ে ঠেকছে সীমার বুকে . . সে এমন ভাবে সীমার দিকে তাকিয়ে আছে যেন গিলে খাবে , অবশ্য গিলে খাওয়া বাদ থাকার কথা না সীমা ইতি মধ্যে তার সাখে বিদেশে ভ্রমন করেছে কয়েক বার ।

পরিচালক : বুঝলে মীরা তোমাকে তোমার সৌন্দর্য দর্শকদের মাঝে ফুটিয়ে তুলতে হবে নইলে দর্শকদের মনে নিজেকে সেট করতে পারবে না, নায়িকা মৌয়ুরী, পপি, পলি ওদেরকে দেখেছ নাচে, গানে, পোষাকে কত স্মার্ট !

মীরা: কিন্তু আংকেল . . . .

পরিচালক : আংকেল না ভাইয়া

মীরা: কিন্তু ভাইয়া ওসব নায়িকাদের তো অশ্লীলতার অভিযোগ আছে . . . .

পরিচালক : কি বলছ এসব ? ওদের কারো খোলা বুকের ছবি দেখাতে পারবে ? বল ? পারবে ? একজন পর্ন স্টার ইন্ডিয়ান ছবির নায়িকা হতে পারে . . . আর আমরা মুক্ত মনের কিছু মেয়েদের দিয়ে আটসাট পোষাক পরিয়ে অভিনয় করাচ্ছি এটা কি দোষের ?

মীরা: না মানে . . . ছবির স্ক্রিপ্ট পড়েছি . . . অখানে অপ্রসাংগিক ভাবে চার যায়গায় বিছানা দ্রশ্য . . . বুঝতে পারছিনা

পরিচালক : কাহীনির সার্থে অনেক কিছুই করতে হয় . . ওই অংশ টুকু প্রযোজক তোমাকে শিখিয়ে দেবে . . আর শেষটায় আমি তোমাকে আর একবার শিক্ষিয়ে দেব . . প্রথম চার পাচ দিন রিহারছেলের সময় ক্যামেরা ম্যান থাকবে না, তোমার যা লজ্জা . . . তোমাকে একটা সেইপে আনতে আমাকে অনেক কাজ করতে হবে।

মীরা: কিন্তু সিনিয়র নায়িকা পলি অপুর অভিনয়ের সময় দেখেছি ৬ থেকে ৭ যায়গায় বিছানা দৃশ্য ছিল কিন্তু পরে তা বাদ দিয়ে ছবির ১ যায়গায় বসানো হয়। এই বিছানা দৃশ্যের জন্যই তো ছবির ফিনিশিং ৬ মাস পিছিয়েছে। তাই বলছিলাম এই অংশটুকুর কয়েকটা পর্ব বাদ দিলে হয় না . . খুব লজ্জা লাগছে . . . বাসায় জানলে যে কি হবে . . .

পরিচালক : উফফফ . . তোমাকে নিয়ে আর পারছিনা . . ঠিক আছে ছবির সুটিং দেশের বাইরে হবে। কিন্তু ছবির স্ক্রিপ্ট কোনটাই বাদ যাবে না। আজ বাসায় বলে এসেছ তো ?

মীরা: কি ?

পরিচালক : আজ রাতে তুমি আমার ফ্লাটে থাকবে . . . . . রিয়ারছেলটা আজরাত থেকেই শুরু করতে চাচ্ছি। তোমার বাবা মাকে ফোন দিয়ে দোয়া চাও

মীরা তার মাকে কল দিচ্ছে, আজ তার বড় আনন্দের দিন, সে নায়িকা হতে যাচ্ছে। গলায় ওরনা জরানো বিশ একুশ বছরের মেয়েটির চোখ পরিচালকের দিকে। তার হাত কাপছে আনন্দে নাকি ভয়ে তা বোঝা যাচ্ছে না। বাবার বয়সী পরিচালকটা ক্ষুধার্থ নেকরের মত লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মীরার ওরনা অনাবৃত বুকের দিকে

নারী অভিনেত্রীদের টাকাওয়ালাদের ললুপ দৃষ্টি পড়ে। মিডিয়ায় প্রতিষ্ঠা পাবার লোভে অনেক নারী তার সম্ভম হারিয়ে ফেলে।

ইনডিয়ার জিয়ার খানের মৃত্যুর পর জেনেছি তিনি তার বয় ফেরেণ্ড এর দ্বারা দিনের পর দিন ধর্ষিত নির্যাতিতো হয়ে ছিলেন।

এর পরোকি আপনার মেয়েকে, বোনকে নাচ গান শেখাবেন ?

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/engr-arif/23769.html



মন্তব্য করুন