ইমরান হাসান হিমু-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

সীমান্ত হত্যার পরিসংখ্যান দেখবার জন্য খানিক সময় ব্যয় করি, আসুন ।

লিখেছেন: ইমরান হাসান হিমু

স্টার জলসা, জি সিনেমার ডেইলি সোপ দেখার সময় থেকে খানিক সময় দেই, আসুন । লেহেঙ্গা, সানি লিওনের হাল ফ্যাশনে নিজেকে আবৃত্ত করতে করতে এক নজর চোখ বুলিয়ে নিন । কারণ, আজ আমাদের বিশেষ দিন । বিশেষ দুঃখের দিন । স্টার জলসা, জি সিনেমার কূটনামী সিরিয়াল, লেহেঙ্গা-সানি লিওনের আধুনিক ফ্যাশনের নির্মাতা দেশটি আজ নাঙ্গা হয়েছে । উৎকট নগ্ন শরীরটি দেখিয়েছে । ফেলানীর হত্যাকারীকে তারা বেকসুর খালাস দিয়েছে ।

এইবার পরিসংখ্যান, সংবাদপত্রের উদ্ধৃতি
সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে, হত্যা করছে । গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর সীমান্তে মিজানুর রহমানের চোখ উপড়ে হত্যা করে- যা পৃথিবীর জঘন্য ও ঘৃণ্য হত্যার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। তাদের মাত্রা এতটাই বেড়ে গেছে যে, সীমান্তে মানুষ পরিবার নিয়ে নিরাপদ মনে করছে না। কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের কুমিল্লার একটি সীমান্তে বিনা উস্কানিতে এক বাংলাদেশীকে যে ভাবে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে, ভারতীয় টেলিভিশনের ভিডিও ফুটেজ দেখে হতবাক হয়েছে সারা বিশ্ব। সভ্য সমাজের মানবতা যেন ভূলুণ্ঠিত হয়।

নিউইয়র্কের হিউম্যান রাইটস ফোরামের পরিসংখ্যান অনুসারে গত দশ বছরে ৯০০ বাংলাদেশিকে বিএসএফ হত্যা করে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের রেকর্ড অনুযায়ী ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গত ২০১২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১০৬৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে বিএসএফ। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুসারে ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ৬ বছরে বিএসএফ গুলি ও শারীরিক নির্যাতনে হত্যা করেছে ৪২৪ বাংলাদেশিকে।

অন্য একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সীমান্তে ৩শ ১২ বার হামলা চালানো হয়। এতে ১২৪ বাংলাদেশী নিহত হয়।
এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে ১৩০টি হামলায় ১৩ জন নিহত,
‘৯৭ সালে ৩৯টি ঘটনায় ১১,
‘৯৮ সালে ৫৬টি ঘটনায় ২৩,
৯৯ সালে ৪৩টি ঘটনায় ৩৩,
২০০০ সালে ৪২টি ঘটনায় ৩৯ জন নিহত হয়।

জাতীয় মানবাধিকার সংগঠনের হিসাব অনুসারে ২০১২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিএসএফ হত্যা করেছে ৩৫ জনকে। এ সময় বিএসএফ ২২ বাংলাদেশীকে গুলি ও নির্যাতন করে আহত করেছে আর অপহরণ করেছে ৫৮ জনকে ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে মাত্র ৭ দিনের ব্যাবধানে ভারতীয়রা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ৩ বাংলাদেশীকে জোর-জবরদস্তি অপহরণ করে নিয়ে গেছে।
২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর ভোরে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা সীমান্তে গণেশ (২৬) নামে এক বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। ভোরে বৈরচুনা সীমান্তের নওডাঙ্গা এলাকার মাঠে ধান কাটতে গেলে বিএসএফের গুলিতে সে নিহত হয় ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএসএফ ৩১ বাংলাদেশী নাগরিককে হত্যা করেছে। আহত করেছে ৬০ জনকে। এই সময়ে অপহৃত হয়েছেন ২২ বাংলাদেশী নাগরিক।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তের ৯৪৭ আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের কাছে ফেলানি খাতুন (১৫) নামে এক কিশোরীকে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা তার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় রাখার পর বিএসএফ নিয়ে যায় এবং ৩০ ঘণ্টা পর বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।

২০১০ সালে ৭৪ জনকে হত্যা করে বিএসএফ। এর মধ্যে ৫০ জনকে গুলিতে, ২৪ জনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। কিন্তু আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুসারে গত বছর ১শ জনকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ৬৫ জনকে গুলিতে এবং ৩৫ জনকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহনিী বিএসএফ। এর আগে বিএসএফ-এর হত্যার শিকার হয়েছে ২০০৯ সালে ৯৬, ২০০৮ সালে ৬২, ২০০৭ সালে ১২০, ২০০৬ সালে ১৪৬, ২০০৫ সালে ১০৪, ২০০৩ সালে ৪৩, ২০০২ সালে ১০৫ ও ২০০১ সালে ৯৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে এক বাংলাদেশি নাগরিককে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে বাংলাদেশের সীমান্তে পাঠায়। সম্প্রতি নির্যাতনের পর হাত ও পায়ের রগ কেটে সীমান্ত সংলগ্ন নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শিংনগর সীমান্ত থেকে বিএসএফ-এর দৌলতপুর সীমান্ত ফাঁড়ির সদস্যরা ধরে নিয়ে যায় মনাকষা রানীনগর গ্রামের গোলাম নবীর ছেলে সানারুলকে। এরপর তাকে মেরে হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

গত এক দশকে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৫ নারী। তাছাড়া বিএসএফ কর্তৃক অপহরণের শিকার হয়েছে ৯৩৩ এবং নিখোঁজ হয়েছে ১৮৬ জন।
আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুসারে কোনো দেশ অন্য দেশের নাগরিককে হত্যা করতে পারে না। কেউ যদি অন্যায় করে তাহলে তাকে গ্রেফতার করে সে দেশের আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু এসবের কোনোটিই বিএসএফ মানছে না। তাদের গুলিতে যত মানুষ মারা গেছে তার প্রায় সবই বাংলাদেশি। যারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার উল্লেখ থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় নাসীমানায় স্থাপনা নির্মাণের আইনও মানছে না ভারত। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু ভারতের চাপের মুখে ৫০ গজের মধ্যে কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণের অনুমতি দিতে হচ্ছে।
……

পরিসংখ্যান আর আন্তর্জাতিক আইনতো দেখা হলো, এবার ভারতীয় ডাবর আমলা, বা কদুর তেল মাথায় দিয়ে স্টার জলসার কূটনামী সিরিয়াল দেখা চলুক নিয়মিত, কি বলেন

তো হুজুগ শেষ ফেলানী নিয়ে অনেক জ্বালাময়ী স্ট্যাটাস হলও, কমেন্ট হলও,

জামাতি ছাগুদের কথা বাদ , কারন এরা জারজ ফাকিস্তানী

আপনি আমি বাংলাদেশীরাই বা কি করলাম হিন্দি চ্যানেল বন্ধ করেছেনতো গতকাল থেকে ভারতীয় বিয়ের শাড়ি না পড়লে নাকি বিয়ে হয় না, তামিম ইকবালরা ভারত থেকে ল্যাহাঙ্গা না কিনলে নাকি বিয়ে হয় না, ভারত থেকে মিউজিক দল ভাড়া না করলে ধনীদের ফুর্তি হয় না ।

তো এই হুজুগ কত দিন থাকবে শাহবাগে এসে ফাঁসির দাবিও চান আবার জামাতি দের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, সুদের ব্যবসা হারাম বলেন আবার ইউনুসের দালালি করেন, ভিডিও কিংবা ছবি দেখলে মানবতা জেগে উঠে অথচ কেউ ধর্ষণ হলে তেমন প্রতিবাদ দেখি না।

প্রতিবাদ করুন নিজেকে বদলেই। না হলে আরো ফেলানী মারা যাবে । বাঙ্গালী নিজের ভালো এবং নিজেরটা যে দিন আদায় করতে জানবে সেদিন থেকে ভারত কেন, আমেরিকাও সালাম দিবে।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/emranhasan-himu/22042.html



মন্তব্য করুন