বি এম বেনজীর আহম্মেদ-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

শিরোনামহীন কিছু অগোছালো ব্যাখ্যা – ২য় পর্ব!!

লিখেছেন: বি এম বেনজীর আহম্মেদ

খুব অগোছালো কিছু বক্তব্য নিয়ে শুরু করেছিলাম আমার ‘শিরোনামহীন কিছু অগোছালো ব্যাখ্যা’, যে লেখাটা অগোছালো হলেও কিছু শিক্ষণীয় ব্যাপার ছিল।

http://projonmoblog.com/bm_banjir/23833.html

সেই লেখাটাই আমি মুলত কিছু গঠনমূলক তুলনা করেছিলাম, যে তুলনাটা ছিল উন্নত বিশ্বের উন্নত মানুষ গুলোর মননের সাথে আমার ছোট বাংলাদেশের অশিক্ষিত মানুষদের মনন। ঘটনার প্রেক্ষিতেই বর্ণনা করেছিলাম ইটালিয়ানদের কিছু মানবীয় দিক, পক্ষান্তরে এটাও বলেছিলাম যে, তাদের এই মানবীয় দিকগুলো যতই পজেটিভ হউক না কেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, এরা যা করে সবই একটা প্রটোকল। শুধু ইটালিয়ান জাতিই নয়, উন্নত বিশ্বের সব উন্নত রাষ্ট্রের তথাকথিত উন্নত মানুষরাই এই ধরনের প্রটোকল মেনে চলছে। যে প্রটোকল আপাত দৃষ্টিতে মানব উন্নয়নের ধারক হলেও, বাস্তবিক অর্থে ততটাই মানব জাতির মনুষ্যকে ধ্বংস করছে দিনের পর দিন।

উইল স্মিথ এর ‘আই রোবট’ মুভিটির সাথে আমরা সবাই কম বেশী পরিচিত। রবোটিক দুনিয়ার ফ্যান্টাসি অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে এই মুভিটি। যেখানে দেখানো হয়েছে আমাদের ভবিষ্যৎ ২০৩৫ সালে আন্থ্রপমরফিক্স রোবটদের রেভুলুসন নিয়ে, যেখানে এই রোবট গুলো পাবলিক সার্ভিসে নিয়গপ্রাপ্ত হবে। এখন একটু জেনে নেই, ‘আন্থ্রপমরফিক্স’ শব্দের অর্থ কি?  আন্থ্রপমরফিক্স কথাটি এসেছে আন্থ্রপমরফিজম নামক একটি গ্রীক শব্দ থেকে, যে শব্দটি প্রথম ব্যবহার করা হয় ১৭০০ সালের মাঝামাঝি। যার অর্থ হোল, মানুষের মানবিক গুণাবলী খর্ব করে পরিবেশের বিরুদ্ধে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা।

এই তত্তকে পুঁজি করেই, উন্নত বিশ্বগুলো ছুটছে সেই প্রটোকলের সন্ধানে। যার সচিত্র উদাহরন মেলে এই সব উন্নত দেশের সাধারন মানুষের আচার আচরণে!!!

আমরা আসলে উন্নত দেশ বলতে বুঝি যেমনঃ আমেরিকা, কানাডা, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, রাশিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড প্রভৃতি। বর্তমান বিশ্বে এই দেশগুলোই বিজ্ঞান গবেষণায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। একটাই উদ্দেশ্য প্রটোকল এর সন্ধান।

 

প্রটোকল ১

 

টেকনোলজিকালি উন্নত এই সকল দেশ গুলোর মধ্যে ইটালি অন্যতম। আমার আগের পোস্টে তাদের যে সকল মানবীয় গুণাবলীর বর্ণনা দিয়েছিলাম তার মধ্যে অন্যতম ছিল তাদের অবিভাদন বা স্বাগতসম্ভাষণ! তারা খুব সহজে খুব ছোট খাটো ব্যাপারে mi scusi (excuse me), mi dispiace (I m sorry), Grazie (thank you), prego (please) এই ধরনের সুন্দর শব্দের ব্যবহার খুব সহজেই তারা করছে, যা প্রথম প্রথম আমাকে যতটা নাহ অবিভুত করেছিলো ঠিক ততটাই আহত করেছে।

এবার একটু আমরা নিজেদের দিকে খেয়াল দেয়, আমাদের দৈনিন্দন চলার পথে আমরা প্রত্যেকেই কারোর না কারো দ্বারা উপকৃত হই, কিন্তু আমরা এমন একটি জাতি খুব সহজে কাউকে ধন্যবাদ বলতে পারি না, পক্ষান্তরে যখন বলি কোন রাখ ঢাক ছাড়াই মন থেকে বলি ধন্যবাদ তোমাকে, হয়ত একটু বেশী খুশি হলে বুকে জড়িয়ে ধরি।

আবার ফিরে যায় ইতালিয়ানদের দিকে, তাদের এই সৌজন্যতা একটি প্রটোকল, যা একটি সিস্টেম দিয়ে পরিচালিত হয়। একটু গভীরে খেয়াল করে দেখা যাক কেমন দিন যাচ্ছে এই সকল উন্নত নামধারী দেশগুলোর সাধারন মানুষের জীবন ব্যবস্থা এবং একটি বুদ্ধিদীপ্ত আন্থ্রপমরফিক্স রোবট এর সাথে অনেকাংশে মিল খুঁজে পাই।

 

প্রেক্ষাপট ২

 

স্বাভাবিক ভাবে এখানকার প্রত্যেকটি বাচ্চাই আল্লহর রহমতে অনেক বেশী কিউট ও নাদুস নুদুস হয়ে থাকে। এখানকার প্রত্যেকটি বাচ্চাকে পরিবহন করার জন্যও হাজির হয়ে গেছে উন্নত টেকনোলজি। যা দেখতে অনেকটা ঠেলাগাড়ির সদৃশ। জন্মের পর থেকে প্রত্যেকটি বাচ্চার জায়গা মুলত দুইটি। প্রথমত দিনের বেলায় এই প্রযুক্তির ভিতর আর রাতে বাবা মায়ের বিছানার পাশে ছোট্ট দোলনা সদৃশ বিছানায়। আপাত দৃষ্টিতে দেখতে খুবই মনহরি একটা ব্যাপার মনে হয়, কিন্তু নাহ। কেননা জন্মের পর এখানকার শিশুরা, তার মায়ের কোলে বা বাবার কাঁধে ওঠার মত সৌভাগ্যবান তারা হতে পারছে না। এই নিয়ে কারোর কোন উচ্চবাচ্চ ও লক্ষ্য করা যায় না। কেননা এটাই তাদের সিস্টেম বা প্রটোকল।

দীর্ঘ নয় মাস যে মা তার সন্তানকে নিজের শরীরের ভীতর রেখে বড় করে এই সুন্দর পৃথিবীর মুখ দেখাচ্ছে সেখানে পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সেই শিশুটি তার মায়ের কোলে ঠিক মত জায়গা পাচ্ছেনা। কি অদ্ভুত এই উন্নত প্রটোকল! কেননা এভাবে দিনের পর দিন বাচ্চাটি বা সন্তানটির সাথে তার বাবা মায়ের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। সেই দূরত্ব টা আর এক ধাপ বাড়িয়ে দেয় এই সকল উন্নত দেশের উন্নত মস্তিস্কের দ্বারা সম্পাদিত আইন! যে আইন বলে ১৮ বছর মানে একটি ছেলে বা মেয়ের প্রাপ্ত বয়স। সুতরাং সেই মা বাবা ইচ্ছা করলেই ১৮ বছর পর তাদের নিজের সন্তানদের আলাদা করে দিতে পারে, আর অধিকাংশই এই পথ ধরেই এগুচ্ছে।

এখন স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন আসতেই পারে, কি লাভ হচ্ছে তাদের?? আমার কাছে উত্তর একটাই, ‘আন্থ্রপমরফিক্স রোবট’!!

এই সকল অবস্থা দেখে নিজেকে মাঝে মাঝে অনেক ভাগ্যবান মনে হয়, কেননা আমার জন্মের পর আমাকে এই টেকনোলজি নির্ভর ঠ্যালা গাড়িতে চড়তে হয়নি, আমার স্থান ছিল মায়ের কোল, বাবার কাঁধ। রাতের অন্ধকারেও আমাকে থাকতে হয়নি নিজের কোন ব্যক্তিগত বিছানায়। রাতের অমানিশায় আমি ভয় পেতে পারি এই জন্যই সারাটি রাত বুকে জড়িয়ে রেখেছিল আমার মা। আর সেই জন্যই তো জন্ম লগ্নের সেই নাড়ির টান আজও টেনে রেখেছে আমার মায়ের সাথে।

এই মা ছেলের সম্পর্কের এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যে শুধু মাত্র আমার একার তা কিন্তু নই, পৃথিবীর দক্ষিণ পৃষ্ঠের বাংলাদেশ নামক ছোট্ট একটি দেশ আছে যেখানে ১৬ কোটি মানুষ বসবাস করে, এই সম্পর্কের দৃষ্টান্ত সমগ্র ১৬ কোটি মানুষের!! এই দেশটির অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত হতে পারে, কিন্তু সবাই কোন না কোন ভাবে নিজের নাড়ির সাথে একটি সুমধুর সম্পর্কে আবদ্ধ। সবাই চাই জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একে অন্যকে সম্পর্কের জালে আটকে রাখতে। এই আমাদের ভালোবাসা, যে ভালোবাসায় কোন সিস্টেম বা প্রটোকল নেই।

তবে এই উন্নত মস্তিস্কের মানুষ গুলো একেবারেই যে তাদের সেই সম্পর্ককে অস্বীকার করছে তা কিন্তু নয়। এখানেও তারা একটি প্রটোকলের আবির্ভাব ঘটিয়েছে নিজেদের সম্পর্কের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে। তাদের সেই সিস্টেম সৃষ্টি করেছে বাবা দিবস, মা দিবস, বন্ধু দিবস এর মত অসংখ্য সম্পর্কের দিবস। অন্তত একটি দিন সেই সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেয়ার স্বার্থে!!!

 

প্রেক্ষাপট ৩

 

আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে যে শুধুমাত্র মা বাবার সম্পর্কই একমাত্র সম্পর্ক সেটা কিন্তু নই। সুন্দর এই পৃথিবীর আলো বাতাস আর মাটির গন্ধে খেলা করতে করতে আমরা বড় হচ্ছি। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন সম্পর্কের নতুন কিছু মুখ। জীবনের এক পর্যায় বুঝি প্রেম ভালোবাসার মর্মার্থ। জীবনের সাথে জড়িয়ে নেই নতুন একজন মানুষকে, যাকে ভালোবাসি। এরপর ও বাকি থেকে যায় অসংখ্য সম্পর্কের মুখ। যেমন দাদা দাদি, নানা নানি, চাচা চাচী, ফুফা ফুফু, ভাই বোন, মামা মামি, খালা খালু, বন্ধু এরকম প্রত্যক্ষ কিছু সম্পর্ক।

তেমনি স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির প্রিয় শিক্ষক- শিক্ষিকারা যাদের কখনও ভুলতে পারবোনা, স্রদ্ধাভরে স্মরণ করে চলি তাদের প্রত্যেকটি উপদেশ, খুব ইচ্ছা করে তাদের সংস্পর্শে আরেকটি বার ফিরে যেতে, কিছুটা মুহূর্ত মুগ্ধ চিত্তে তাদের কথা শুনি, অনেক ভালো মানুষ ছিলেন আমার জীবনের বিভিন্ন সময়ে ফেলে আসা সেই শিক্ষক শিক্ষিকারা!

আরও যেমন পাশের বাসার ময় মুরব্বি। এই মানুষগুলোর আচরণ বরাবরই আমার কাছে কেন জানি একটু অন্যরকম লাগত, এই অন্যরকম তেমন কোন নেগেটিভ সেন্সে নয়। তারা দিনের অধিকাংশ সময় পার করত মোড়ের চা দোকানটায়। এবং গ্রামের প্রত্যেকটি বাড়ির প্রত্যেকটি মানুষ সম্বন্ধে তাদের ছিল ব্যাপক জ্ঞান। এই মানুষগুলোকে অনেকেই পছন্দ করতনা, কিন্তু সত্য বলছি, দোকানের এক কোনায় বসে পেপার পড়ার নাম করে কত যে তাদের সেই মূল্যবান মূল্যবান কথা শুনেছি, তার ইয়াত্তা নেই। তারা পাশের বাড়ির আক্কাসের কলাপাতা দিয়ে ঘেরা টয়লেট থেকে শুরু করে ওয়াইট হাউজ, বুস সাদ্দাম ও ওয়াশিংটন ডি সি নিয়ে আলোচনা করত, যার অধিকাংশ ছিল তাদের মনগড়া। আজও মাঝে মাঝে ভাবি এখন ও কি ঐ মানুষ গুলো ঐভাবে গল্প করে। নাকি সময়ের প্রয়োজনে সাড়া দিতে গিয়ে হারিয়ে গেছে সেই মানুষ গুলো। হয়ত অইখানে স্থান করে নিয়েছে নতুন প্রজন্ম। আর যাই হোক তাদের বিষয় বস্তুতে তো আর সেই কলাপাতা ঘেরা টয়লেট থাকবেনা!! উন্নত বিশ্বের উন্নত মানুষদের চিন্তা চেতনার ভিড়ে মনটা মাঝে মাঝে ঢুকরে কেঁদে উঠে সেই মুরব্বীদের কথা ভেবে।

পুরানো কিছু সম্পর্ক হয়ত মানুষ ছেড়ে চলে আসে সময় কে সঙ্গী করে কিন্তু এমন কিছু মানুষের এমন কিছু সম্পর্ক থাকে, যে সম্পর্ক হাতছানি দেয় ভালো লাগার কিছু উপলব্ধিকে স্মৃতিচারণ করতে।

তেমনি মোড়ের রাস্তার চায়ের দোকানদার, পরিচিত রিকশা ভ্যান ওয়ালা, স্কুল কলেজের দারোয়ান চাচা, প্রতিদিন সকালে চা দিয়ে যাওয়া ভাইটি, আরও কত যে নাম না জানা সম্পর্কে আমরা আঁশটে পৃষ্ঠে জড়িয়ে আছি তা লিখতে গেলে হয়ত কয়েক রাত শেষ হতে পারে, তারপর ও হয়ত লিখে শেষ করতে পারবোনা।

এই সম্পর্কের বিভিন্ন মুখ বা ব্যক্তি আমাদের শিখিয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা নামক একটি শব্দ।

এখন একটু ইটালিয়ানদের সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে একটু কথা বলা যাক। আসলে তাদের ভীতর আসলে কোন এই সামাজিক মূল্যবোধ বা দায়বদ্ধতা নামক শব্দটি আছে কিনা আমার সেই ব্যাপারে ব্যাপক সন্ধেহ আছে। কেননা, এই জাতিটি অনেক বেশী ব্যক্তিতাবাদের সমর্থনকারী। আমাদের মত এরাও বিভিন্ন সম্পর্কের আদলে ঘেরা থাকলেও সেই সম্পর্কের দায়বদ্ধতা কেন জানি ‘চাউ’ বা ‘কমেস্তাই’ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। তারপর ও কিছু সম্পর্ক থাকে যাদের কে তারা একটু উপরের ক্যাটাগরিতে ফেলে, বলতে চাচ্ছি যেমন, একসাথে কিছু সময় পার করা, একটু মনের কথা শেয়ার করা, একসাথে কোথাও লাঞ্চ বা ডিনার করা প্রভৃতি।

খুব দেশের কথা মনে পড়ছে, বাসায় কোন মেহমান আসলে ছোট বেলায় খুব আনন্দ আনন্দ অনুভব করতাম। আম্মু ব্যস্ত হয়ে পড়ত কি রাঁধবে তার জোগাড়ে। কিছু একটা না থাকলে আমার হত বিপদ, রাগা রাগী করে বাজারে পাঠাতো। বাজারে যাওয়ার ব্যাপারে সর্বদা আমার কেন জানি একটু এলারজি ছিল সেই ছোট বেলা থেকে। দুঃখিত একটু বললে ভুল হবে, অনেক বেশী মাত্রায় এলারজি ছিল। এমন ও হইছে বাজারে যেতে না করাই আম্মুর হাতে ধাতানি ও খেয়েছি অনেক। যাইহোক স্বভাব এখনও পরিবর্তন হয়নি। সারাটি দিন খুব আনন্দে কাটতো। কত রকমারি খাবার রান্না চলত, মহিলারা আম্মুর কাজে সাহায্য করত, পুরুষ সম্প্রদায় গাছের ছায়ায় চেয়ারে বসে জুড়ে দিত রকমারি আলাপ চারিতা। মাঝখান থেকে আমার অবশ্য একটা লাভ ছিল পড়াশুনা থেকে সেই দিনটার জন্য ছুটি পেতাম। বাসায় মেহমান আসায় আব্বু আম্মুর কি লাভ হত জানিনা, আমি ভিতরে ভিতরে অন্যরকম আনন্দের একটা স্বাধীনতা অনুভব করতাম। আর কোথাও যদি বেড়াতে যাওয়ার কথা শুনতাম তাহলে আমি অন্যরকম একটি ঈদ উদযাপন করতাম, আর যদি সেটা হত আমার সবথেকে প্রিয় জায়গা ‘নানু বাড়ি’ তাহলে তো আর কথায় নেই। আমার নানু বাড়িতে গেলে আমি আসল গ্রামের স্বাদ পেতাম। পুকুর থেকে বরশি বা জাল দিয়ে মাছ ধরা, পাশাপাশি চলত পকুর পাশের ডাব গাছ থেকে ডাব পেড়ে খাওয়া।

ও আমি সত্যিই খুব লজ্জিত, সম্পর্কের সামাজিক দায়বদ্ধতার ব্যাপারে আলকপাত করতে গিয়ে নিজস্ব কিছু সম্পর্কের বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে ফেলেছি। আসলে দোষটা আমার না, দোষটা এই সকল উন্নত বিশ্বের উন্নত মস্তিস্কের ধারক বাহকদের।

বিগত ২ বছরে এই সকল উন্নত মস্তিস্ক আমাকে দেখিয়েছে ভালোবাসা বা আথিতিয়তার নামে কিছু অভিনয়, কিছু ফর্মালিটি!

একটু আগে আমি ইতালিয়ানদের লাঞ্চ ডিনারের প্রসঙ্গ টানতে গিয়ে আমি ব্যক্তিগত কিছু প্রসঙ্গ টেনে আনছিলাম। এদের আতিথিয়তার ব্যাপারটি আমাকে আহত করেছে। এদের আপ্যায়নে আমাদের চির পরিচিত রসুই ঘরটি হয় চির অবহেলিত। এরা নিজেরা রান্না বান্না করে খাওয়াতে খুব একটা আগ্রহী থাকেনা। এরা বাবুর্চির হাতে রান্না পরিবেশনে অনেক বেশী স্বাচ্ছন্দ্য থাকে। এটা নিজের বাসার বাবুর্চি হলেও তো একটা কথা ছিল, এটা পুরটাই রেস্টুরেন্ট ভিত্তিক। এদের জন্মদিন,  বিয়ে, খৎনা মানেই রেস্টুরেন্ট এ খাওয়া। এমনও শুনেছি কিছু কিছু ব্যাপারে যার যার খাবার বিল তাকেই পে করা লাগে। সব থেকে বড় ব্যাপার হোল, তারা এই ব্যাপারগুলো আস্তে আস্তে মস্তিস্কে ঢুকিয়ে নিয়েছে। আর যেহেতু মস্তিস্ক উন্নত সেহেতু একি শিক্ষা জেনারেশন থেকে জেনারেশন মস্তিস্কে ঢুকিয়ে নিচ্ছে। এবং এভাবে দিনের পর দিন নিজেদেরকে ‘আন্থ্রপমরফিক্স রোবট’ এ পরিনত করছে।

নিজে ইঞ্জিনিয়ার হলেও ইঞ্জিনিয়ারিং এই সকল রেভলুসন দেখলে মাঝে মাঝে ভয়ে শিউড়ে উঠি অজানা এক উৎকণ্ঠায়… 

টেকনোলজি আর উন্নত এই মানুষগুলো এমন ভাবে আগাচ্ছে হয়ত আমার কোন এক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ‘আন্থ্রপমরফিক্স রোবট’ এ পরিনত হবে!!!!! 

ভুপেন হাজারিকার সেই গানটি খুব মনে পড়ছে…

”মানুষ মানুষের জন্য

জীবন জীবনের জন্য

একটু সহানুভুতি কি

মানুষ পেতে পারেনা???????”

এই কালজয়ী গানটি হয়ত টেকনোলজির বদৌলতে একদিন হারিয়ে যাবে, কিন্তু সেই কালের স্রোতে ভেসে থাকা কিছু দুর্বল চিত্তের কিছু মানুষ স্মরণ করবে আর মনে মনে বলবে “এটাই আসল প্রটোকল হওয়া উচিৎ ছিল”!!!!

 

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/bm_banjir/25298.html



মন্তব্য করুন