বি এম বেনজীর আহম্মেদ-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

শিরোনামহীন কিছু অগোছালো ব্যাখ্যা!!

লিখেছেন: বি এম বেনজীর আহম্মেদ

প্রেক্ষাপট ১

দেশান্তরী হওয়ার পর দেখতে দেখতে ২ টা বছর পার করে দিলাম। খুব উত্তেজনা নিয়ে ইতালি পাড়ি জমিয়েছিলাম। ভাল ভাল ইউনিভার্সিটির বড় বড় ডিগ্রি নিব, বড় বড় কোম্পানিতে চাকরী করবো, হাজার হাজার ইউরো ডলার উপার্জন করব, মনের মানুষটিকে একদিন বিয়ে করে ঘর সংসারী হয়ে যাব। এক কথায় সিম্পেল লাইফ প্লান।

কিন্তু আসলে সবার পেটে সব কিছু সহ্য হয় না, তেমনি সবার জন্য বিদেশের জীবন যাপন নয়। কেননা আজ দুই বছরে আমার আসে পাসের এতো বন্ধু বান্ধব, মামা, চাচা, ভাই বোন এর ভিতর একজন বাদে অন্য কাউকে পাইনি যে বা যারা আমাকে একটি বারের জন্য হলেও বলেছে যে পড়াশুনা শেষ করে দেশে কিছু কর। সবাই ভবিষ্যৎ প্লানের কথা জিজ্ঞাসা করে। আমিও স্বভাব সুলভ ভাবে সবাই কে বলি,

“Future is kind a puzzle which is full of mysterious” so who knows what will happen tomorrow!!Always try to be ভিন্দাস!!

 

এই পর্যন্ত শুনে সবাই বিজ্ঞের মত মাথা নাড়ে কিন্তু যখনি বলি,

“তারপরও আশা আছে দেশে ফিরে কিছু করব!! হউক ছোট”

তখন ব্যাপারটা এমন দাড়ায় যে তারা সুন্দর করে ভাত, গরুর মাংস, ডিম, মাছ দিয়ে প্লেট সাজিয়ে রেখেছিল, সেই সাজানো প্লেটে আমার এই একটি বাক্য স্রেফ ছাই ঢেলে দিল।

ব্যাপারটা প্রথম প্রথম স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছিলাম, কিন্তু আস্তে আস্তে এই সামান্য ব্যাপারই আমাকে বার বার একটা প্রশ্নের মুখে দাড় করিয়েছে।

কেননা এই প্রত্যেকটি মানুষ আমাকে অতিরিক্ত ভালোবাসে। তারাও চাই আমি জীবনে বড় হই, সুখী হই। কিন্তু তারা কেন নিজের দেশে ফিরে আসতে নিষেধ করছে!

দিন দিন আমার আসে পাশে সুশিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, কেন তারা এখনও সেইখানে পড়ে আছে যেখানে দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখা পাপ বলে গননা করা হয়।

আমি মনে প্রানে একটি কথা খুব বিশ্বাস করি তাহলো,

“একটি দেশ বা জাতির উন্নয়নে সুশিক্ষিত নয়, দরকার স্বশিক্ষিত!!”

 

 

প্রেক্ষাপট ২

আমার প্রাত্যহিক জীবনে যখন প্রায় প্রতিদিন এই রকম কোন না কোন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে থাকলাম তখনি দেশ কে নিয়ে আর ওঁ বেশী বেশী চিন্তা করা শুরু করলাম। আগেই বলেছি বিগত ২ টি বছর আমি ইটালিতে আছি। এই রকম বিভিন্ন প্রশ্ন যখন আমার মাথায় ঘোরাঘুরি করছে তখনি সাক্ষাত দেবদূতের মত আমার সামনে হাজির হোল এই ইটালিয়ান জাতিটি।

এই জাতিটি আমাকে বারবার কিছু নির্দিষ্ট কারণে অবাক করেছে। আমার জানা মতে বর্তমান বিশ্বে সবথেকে ভদ্র জাতি এই ইটালিয়ান রা। এখানে অনেক দেশের মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাকেই পূঁজি করে একথা বলছি। যাই হক তাদের ভদ্রতার কিছু নমুনা দেখে নেই।

>> এই জাতিটি তাদের প্রাত্যহিক কথা বলার সময় সবথেকে বেশী বিনয়ী থাকে। mi scusi (excuse me), mi dispiace (I m sorry), Grazie (thank you), prego (please) এই ধরনের সুন্দর শব্দের ব্যবহার তারা খুব হাসি মুখেই করে চলছে। ছোট ছোট প্রপ্তিতেই (যাহা বাস্তবিক অর্থে অত্যন্ত নগণ্য) ধন্যবাদ বলছে খুবই সাবলীল ভাবে। বাসের ভিড়ের ভিতর বা রাস্তায় চলাচলে অনিচ্ছাকৃত পায়ে পা বা শরীরে হাল্কা ধাক্কা লাগলেই সাথে সাথে খুব ভদ্রতার সাথে বিনয়ী হয়ে দুঃখিত বলছে। যা ভাবতেই আমার খুব ভাল লাগে।

>> এই জাতির অন্য একটি বড় গুন হোল, রাস্তায় ড্রাইভ করার সময় সচেতনতা। আসলেই এই ব্যাপারটা ওঁ আমাকে বার বার মুগ্ধ করে চলেছে। প্রত্যেক ইটালিয়ান (যারা ড্রাইভ করে) তারা যতই ব্যস্ত থাকুক না কেন ট্র্যাফিক সিগন্যাল কখনও ভাঙ্গেনা। যেখানে সত্যি বলতে দেখা বা তদারকির জন্য কোন ট্র্যাফিক পুলিশ নাই (যদিও কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ রোডে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগান থাকে)। তারপর ওঁ তারা এটা খুব সুন্দর করে পালন করে যাচ্ছে।

এরা ড্রাইভ করার সময় সামনের রাস্তা দিয়ে পারাপারে একজন মানুষ থাকলেও যত স্পীডে থাক না কেন হার্ড ব্রেক করে দাড়িয়ে যাবে। এবং কোন রকম হর্ন তারা ব্যবহার করবেনা। মানুষটি পার হবে তারপর তারা সুন্দর মত চলে যায়। সত্যিই অসাধারণ একটি ব্যাপার।

>> এরপর আসি একটু পরিস্কার পরিছন্নের ব্যাপারে। এদের অনেকগুলো ভাল গুনের ভীতর আর একটি ভাল গুন হোল, পরিস্কার পরিছন্ন থাকা। এরা ময়লা আবর্জনা সর্বদা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবে। একটি চিপস বা চকলেট খাওয়ার পর তার প্যাকেটটি যথা স্থানে ফেলবে।

>> মানুষ হয়ে মানুষকে ভালোবাসা একটা মহৎ গুন, পাশাপাশি আল্লাহ্‌ পাকের সৃষ্ট অন্য সকল জীব কে ভালোবাসা ওঁ মানুষের মহৎ গুন। ইটালিতে কোন এক পিয়াজ্জা (খোলা স্থান) তে বসলেই আসে পাশে অনেক পায়রা দেখতে পাওয়া যায়। এই পায়রাগুলোকে দেখলেই বোঝা যায় কোন রকম ভয় বা সংশয় তাদের ভীতর কাজ করে না। আসলে এই সাহস অর্জনে তো আর তাদের কোন হাত নাই, হাত আছে এখান কার মানুষের। পায়রা রা এখানকার সবাইকে বন্ধু মনে করে, যে বন্ধু ভুলেও কোন ক্ষতি করবেনা তাদের। J

এরপর আসে পোষা কুকুর বিড়ালের প্রসঙ্গে। এরা প্রত্যেকে এক একটি কুকুর বিড়াল কে যেভাবে আদর করে তাতে চোখ বন্ধ করে বলা যায় তাদের পশুপাখি প্রীতি প্রসঙ্গে।

>> এরপর আশা যাক বৃক্ষ প্রসঙ্গে! আমি তরিন শহরে থাকি। এখানে ছোট বড় মিলিয়ে যে কতগুলো পার্ক আছে তার হিসাব আমার কাছে নাই। যেখানে দেখা মিলবে সারি সারি গাছের মেল্বন্দন। পাশাপাশি প্রত্যেকটি বড় বড় রোডের দুই পাশে সারি সারি দাড়িয়ে আছে বড় বড় গাছ। গাছ প্রসঙ্গ কেন আনলাম, কেননা এরা কখনও প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে গাছের ডাল ভাংবেনা। যার যার স্থান থেকে যে যত টুকু পারে, সেই চেষ্টা করে খেয়াল রাখতে যাতে তাদের আসে পাশের গাছে কিছু না হয়। এটা অনেক ভাল একটা গুন।

এখন আশা যাক মুল কথায়, আমি এখানে ইটালিয়ানদের কয়েকটি গুনের কথা বলেছি। আবার একটু পড়েন তো আমার উল্লেখিত পয়েন্ট গুলো। পড়েছেন তো??

এবার একটু ভাবুনতো, এইগুলো করাটা কি সত্যিই অনেক কষ্ট সাধ্য। আমাকে উত্তর দেয়া লাগবেনা, আপনি নিজেকে জিজ্ঞাসা করেন আশাকরি পেয়ে যাবেন আপনার জন্য কাংখিত উত্তর টি।

মাঝে মাঝে আমার ভাবতেই অবাক লাগে যে, ছোট বেলা থেকে রোমান সভ্যতার অনেক কেচ্ছা কাহিনী শুনেছি, পড়েছি। এমনকি রোমান সভ্যতার উপর নির্মিত অনেক প্রামাণ্য চিত্র থেকে শুরু করে অনেক ঐতিহাসিক মুভিও দেখেছি। আমি সব সময় ভাবতাম যে, এই জাতি অনেক বেশী বর্বর জাতি। কিন্তু এখানে আসার পর আমার সেই ধারনা সম্পূর্ণ ভাবে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে।

 

প্রেক্ষাপট ৩

এখন আমাকে অনেকে বলতে পারে, এরা অনেক শিক্ষিত একটা জাতি। হ্যাঁ এরা শিক্ষিত একটা জাতি। কিন্তু এই শিক্ষা তারা এক বছর, ২ বছর বা ৫ ১০ বছরে অর্জিত হয়নি। খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতাব্দী থেকে যাত্রা শুরু করা এই রোমান সভ্যতা আজকে এখানে।

আসলে এদের এই মানবিক গুণাবলীর উপর গভীরভাবে মননিবেশ করলে দেখা যায়, তারা যাই করুক বা করছে তার সবই প্রটোকল। তারা একটা সিস্টেম, যে সিস্টেম এর ভিতর প্রোগ্রাম জেনারেট করে নিয়েছে অথবা দেয়া হয়েছে। আমি ধরলাম নিয়েছে। নিজেদের প্রয়োজনে নিয়েছে। আমি ইটালিয়ান তরুণ প্রজন্মের তরুণদের নিউজ পেপার পড়তে খুব একটা দেখিনি। আমার পরিচিত একজন La Stampa নামে একটি পেপার বিক্রি করে। La Stampa হোল ইটালির অন্যতম জনপ্রিয় একটি দৈনিক পত্রিকা। সে প্রতিদিন একটি রোড সিগন্যালে ১০০ থেকে ১৪০ কপি বিক্রি করে। কৌতূহল বশত তাকে একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে তার এই সব বিক্রিত পত্রিকা কোন বয়সীরা কেনে বেশী। সে আমাকে অবাক করে দিয়ে বলেছিল, ৯৮% ৫০ ঊর্ধ্ব। তার মানে এখানে পেপার পড়েই মানুষ বৃদ্ধ বয়সে সময় কাটানোর জন্য।

এখন স্বভাবতয় প্রশ্ন চলে আসে, ইটালিয়ান তরুণ তরুণীরা এই মূল্যবান সময়ে কি করছে??? এখানকার তরুণরা যে সবাই শিক্ষিত তা কিন্তু নয়। একটা গ্রুপ আছে যারা ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করছে। যাদের শতাংশ অনেক কম। বাকিরা ছোট খাট ব্যবসা আর সারাদিন ছেলেরা মেয়েদের আর মেয়েরা ছেলেদের নিয়ে আছে। তাদের ধ্যান জ্ঞান বলতে, স্টাইল ফ্যাশন। তারা পস লাইফ পছন্দ করে, যার জন্য ইনকাম যাই হউক না কেন, শরীরে দামী দামী ব্র্যান্ডের বস্ত্র, পায়ে বস্ত্রের সমেত জুতা, হাঁতে দামী দামী নতুন ব্র্যান্ডের মোবাইল, একটি ব্র্যান্ডের পস গাড়ি বা মোটরবাইক, ও হ্যাঁ সাথে একটি সুন্দরী রমণী (পুনশ্চঃ ‘পস শব্দটি নতুন শিখেছি, দেশে নাকি আভিজাত্যকে ইদানিং পস বলা হয়’), আর সবথেকে আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে এই সব বিলাসিতা তারা ডেবিট কার্ড দিয়ে ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে করে!!! যার ফলশ্রুতিতে দিনের পর দিন তারা ব্যক্তিগতভাবে ঋণী হচ্ছে। এইরকম সকল উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, সে দেশের মোট ঋণের ৮০% থেকে ৯০% ঋণ সেই দেশের জনসাধারণের, বাকি ১০% থাকে সরকারের। একটি সরকার যখন ঋণী হয় তখন সেই ঋণ কাটিয়ে উঠতে সময় লাগেনা। কিন্তু ঋণটা যদি আপামর জনসাধারণের হয় তখন হয়ে যায় বিপত্তি!! যার খেসারত এখন অনেক উন্নত দেশ দিচ্ছে।

তাদের দেশীয় ব্যাপারে কোন আগ্রহ নেই। অনেকে আমাকে বলে এই লাইফ ই ভাল, কি দরকার নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানোর। কিন্ত আমি বলি অন্য কথা, ইটালিয়ান রা যতই উন্নত দেশ হউক না কেন, তারা স্বার্থপর!!!! যে জাতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ছাড়া, নিজের মা বাবা বা সন্তান দের ব্যাপারে সচেতন নয়, সে জাতির কাছ থেকে নিশ্চয় দেশ মাতার ব্যাপারে সচেতনতা আশা করা যায় না।

সব থেকে সত্যি কথা হোল, এই ইটালিয়ান রা জি ৮ দেশ গুলোর একটি হলেও। তাদের অর্থনীতি হুমকির মুখে। তারা এখনও টিকে আছে তাদের রিজার্ভেশনের উপর।

 

প্রেক্ষাপট ৪

যাই হোক এই ব্যাপারে আলোচনা করা আমার মুল উদ্দেশ্য নয়। শুধুমাত্র এই জাতিই নয়, পৃথিবীর সকল উন্নত দেশের মানুষরা কখনও কল্পনা করতে পারেনা যে, পৃথিবীর মানচিত্রের একটি জায়গা আছে যেখানে

  • কিছু মানুষ রাস্তার পাশে ঝাল মুড়ি বিক্রি করে একটি সংসার চালায়।
  • কিছু মানুষ আছে যারা গ্রামের পর গ্রাম, শহরের এ গলি থেকে ও গলি কাধে করে দুই বাকে হাড়ি কলস বিক্রি করে একটি সংসার চালায়।
  • কিছু মানুষ আছে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা ময়লা, প্ল্যাস্টিক কুড়িয়ে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।
  • কিছু মানুষ আছে টি এস সি, কাওরানবাজার সহ দেশের বিভিন্ন শহরের ব্যস্ত এলাকায় ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করে জীবনধারণ করে।
  • কাওরান বাজার নামে একটি বাজার আছে যেখানে রাতে শ্রমিকরা তাদের স্ব স্ব ঝুড়ির মধ্যে ঘুমিয়ে রাত কাটিয়ে দেয়।
  • কিছু বাচ্চা আছে যাদের সারাটা দিন কাটে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে।

এইরকম জানা অজানা বিভিন্ন পেশার মানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেই দেশটির আনাচে কানাচে। খুব সামান্য উপার্জনে তারা ৩ থেকে ৪ জন অথবা তার থেকে অধিক মানুষ এর সংসার চলছে। এর ভিতর তাদের বাচ্চারা স্কুল কলেজ এমনকি ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করছে। এদের আমরা সুবিধা বঞ্চিত বলে ক্যাটাগরাইজ করি। কেননা এরা উন্নত দেশের উন্নত মানুষের মত ঋণ নিয়ে জামা কাপড়, আইফোন, ল্যাপটপ, গাড়ি  কেনে না। এরা ৩ বেলা ভাত, ডাল আলু ভর্তা পেটে চালান দিতে পারলেই বেজাই খুশি। এরা হয় একটি জমি চাষ করে ফসল ফলানর জন্য অথবা ছোট কোন ব্যবসা শুরু করার জন্য  কৃষি ব্যাংক বা সরকারী কোন ব্যাংক থেকে অল্প কিছু ঋণ নেয়। যে ঋণের বদৌলতে শুরু হয় নতুন কোন যাত্রা!!!

আসলেই মানচিত্রের সেই জায়গাটির মানুষেরা অনেকটা আজব কিসেমের।

  • কিছু মানুষ কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা কাঁপিয়ে BMW, Mercedes Benz, Ferrari, Hammer, Ford  GT, Jaguar চালাই। আবার কিছু মানুষের রিকশায় সই।
  • কিছু শিশুদের জন্য মাসে খরচ করা হয় লক্ষ টাকা শুধুমাত্র স্কুলের টিউশন ফিস বাবদ, আবার কিছু শিশু রাস্তায় ময়লা কুড়িয়ে সেই ময়লা বিক্রি করে সরকারী ফ্রি স্কুলে পড়াশুনা করছে।
  • কিছু শিশু কোটি টাকা দামের ঘরে পড়াশুনা করে আবার তার ঠিক পাশের রাস্তায় সোডিয়াম লাইটের নিচেও কাউকে বই নিয়ে পড়তে দেখা যায়।
  • একটি স্বাধীনতার যুদ্ধে সেই এলাকার প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা ও ৩ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করে কিছু পিসাচ মানুষের দল। তারাই আবার সেই স্বাধীন দেশের স্বাধীন লাল সবুজ পতাকা গাড়িতে লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়। ঠিক তখনি মোসলেম উদ্দিন ভুঁইয়ার মত একজন রাস্তায় ঝাল মুড়ি বিক্রি করে, যে ঐ পতাকা লাগিয়ে গাড়িতে চড়া মানুষ গুলোর ভয়ানক থাবা থেকে তার সেই মাতৃভূমিকে স্বাধীন করেছিল।

সেই অদ্ভুত দেশের সাধারন মানুষেরা স্বাধীনতার ৪২ বছর পর ও জেগে উঠতে পারে নতুন আর একটি স্বাধীনতার জন্য। এই ছোট দেশটির মানুষ আর যাই হউক এরা স্বার্থপর নাহ। এরা রাস্তা ঘুরে ঘুরে চানাচুর বিক্রি করে ১০ টাকা উপার্জন করলে, সেটা দিয়ে প্রথমেই পরিবারের সবার জন্য খাবার কিনে। এদেরি অধিকার আছে গনতন্ত্রের দেশের উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করা। পাশাপাশী তারা ঐ দেশ টির অর্থনীতিতে রেখে যাচ্ছে এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান, যাকে আমরা বলি Micro Economy.

হ্যাঁ এতো সময় বাংলাদেশ নামক সেই দেশটির কথা বলছি, যারা সব কিছুর পর ও হাসতে পারে।

হাজার অভাব অনটনের পর ও নিজে না খেয়ে অতিথি কে হাসি মুখে বলতে পারে ‘তোমাকে স্বাগতম’, যে ‘স্বাগতম’ উন্নত এই সব ইটালি, আমেরিকা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, জাপান বা চীনের মানুষের বলার সাহস টা আজও পাই নি!!!!

 

উন্নত বিশ্ব উন্নত হয়েছে মস্তিস্কে, মননে নয়!

আর বাংলাদেশের মানুষ!!

মননে উন্নত এই জাতি আজ মস্তিস্কে উন্নত হচ্ছে!!!!!!!

তাই তো আমি মনের অজান্তে মাঝে মাঝে গেয়ে উঠি,

‘ ধন ধান্নে পুস্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা,

তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা

ও সেই স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে যে স্মৃতি দিয়ে ঘেরা

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবেনা নাক তুমি,

সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভুমি ।

 

ভাইয়ের মাইয়ের এতো স্নেহ, কোথায় গেলে পাবে কেহ

ও মা তোমার চরন দুটি বক্ষে আমার ধরি,

আমার এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি’।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/bm_banjir/23833.html

 8 টি মন্তব্য

(ফোনেটিক বাংলায়) মন্তব্য করুন

  1. মোহাম্মদ আনু

    দারুন লিখেছেন ।

    1. বি এম বেনজীর আহম্মেদ

      ধন্যবাদ আপনাকে :) 

  2. আজাদ মাষ্টার

      
      ভালো লেখা ।

    1. বি এম বেনজীর আহম্মেদ

      ধন্যবাদ আপনাকে :) 

  3. jannatul.ferdous

    “ধোঁয়ার কুণ্ডলীর মধ্যে দাঁড়িয়েও স্বপ্ন দেখি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশের.. . যেই বাংলাদেশে স্থান হবে না রাজাকার , আল-বদরের -আবার জেগে উঠবে বাংলাদেশ ,ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে আল- বদরের তাসের সিংহাসন। যেভাবে ভেঙেছিল একাত্তরে , প্রতিপক্ষ তো সেই এক ই…বাঙালি তো প্রতিকূলের যাত্রী ,ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েও স্বপ্ন দেখি ,বলি – “আমার সোনার বাংলা , আমি তোমায় ভালোবাসি ।”

    1. বি এম বেনজীর আহম্মেদ

      আমি স্বপ্ন দেখি একটি সুন্দর মননের, যে মননশীল মানুষগুলো একে অন্যকে ঘৃণা নয়, ভালোবাসবে কোন স্বার্থ ছাড়ায়। আর আমরা সেটা ইচ্ছা করলেই পারি যেটা অনেক উন্নত দেশের মানুষ চাইলেও পারবেনা!!! নিজের এই স্বপ্নটাকে সাত রঙে রাঙিয়ে বিলিয়ে দিতে চাই, সেই সব স্বার্থপর মানুষের মাঝে, যারা ভালোবাসতে ভুলে গেছে!!! :) 

  4. রাইয়ান

    স্তব্ধ হয়ে গেলাম…পড়তে পড়তে। আমরা এত কিউট একটা দেশের নাগরিক তা অনেকেউ জানেনা। মুগ্ধ হয়ে গেলাম। অসাধারন লিখেছেন। আপনার লেখা  আগেও পড়েছি তবে এটা পড়ে আসলেই অনেক ভাল লেগেছে।হাজার অভাব অনটনের পর ও নিজে না খেয়ে অতিথি কে হাসি মুখে বলতে পারে ‘তোমাকে স্বাগতম’, যে ‘স্বাগতম’ উন্নত এই সব ইটালি, আমেরিকা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, জাপান বা চীনের মানুষের বলার সাহস টা আজও পাই নি!!!! ঠিক। এই একটা কারনেই আমাদের সবচেয়ে সুখী দেশ বলা যায়।আর শেষটাও চমতকার

    ‘ধন ধান্নে পুস্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা,তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা 

    1. বি এম বেনজীর আহম্মেদ

      ধন্যবাদ :) আমরা স্বাগতম টাকে বাঁচিয়ে রেখেছি। যেটা কিনা উন্নত মননের দাবিরাখে। আর মস্তিস্ক এটা সময়ের ব্যাপার!!! :) 

মন্তব্য করুন