বি এম বেনজীর আহম্মেদ-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

শিরোনামহীন বাস্তবতা

লিখেছেন: বি এম বেনজীর আহম্মেদ

“বাস্তবতার আঘাত”, “নির্মম বাস্তবতা”, “চরম বাস্তবতা”, “নিষ্ঠুর বাস্তবতা” !!!!!!
……………..
“বাস্তবতা” আসলে কোন প্রকার শব্দের আওতায় পড়ে আমার জানা নাই, তাই নিজেই আমি বহুল প্রচলিত শব্দটিকে বিশেষ্য হিসাবে বিবেচনা করি। কোথায় যেন পড়েছিলাম যে বিশেষ্য ওঁ সর্বনামের অলংকার নাকি বিশেষণ। অর্থাৎ বিশেষণ এমন একপ্রকার শব্দ যা বিশেষ্য বা সর্বনামের আগে পরে বসে তাদের অলঙ্কিত করে, সেই অলংকরণ ভাল- খারাপ উভয়ের সমন্বয়ে গঠিত হয়। যাই হোক আমি এখানে বাংলা ব্যাকরণ পড়াতে আসিনি!!!! :)

এই আমি দেখতে দেখতে ২৭ টি বছর পার করে দিয়েছি এই সুন্দর পৃথিবীর বুকে, যে সৌন্দর্যের অধিকাংশ উপভোগ করেছি আমার আশেপাশের মানুষের সৌন্দর্য, যা আমাকে প্রতিনিয়ত মহিত করে। :)

এই দীর্ঘ সময় শেষে অনেক কিছুই শিখেছি বা দেখেছি। এই শেখা বা দেখার ভিতর একটি শব্দ আমাকে বারবার প্রস্নের মুখে দাড় করিয়েছে, তাহলো “বাস্তবতা বা REALITY”, এই শব্দটির সঠিক কোন সংজ্ঞা কেউ দিতে পারিনি। যদিও এটা কোন সঙ্গাগত বিষয়বস্তু ওঁ নই, কিন্তু তারপর ওঁ এই মনুষ্য প্রজাতি অনেক বেশী প্রাধান্য দেয় এই শব্দটিকে।

যেহেতু প্রথমেই বলেছি যে, আমি এই শব্দটিকে বিশেষ্য শ্রেণীতে ফেলেছি, সুতরাং আমার পাওয়া এই অন্যতম জনপ্রিয় এই শব্দটির আগে পিছে যত অলঙ্কার সংযজন করা হয়েছে তার সবই উৎকণ্ঠা, ভয়, ঘৃণা, খারাপ লাগা থেকে সৃষ্ট। কেউ কখনও এই বাস্তবতাকে সুন্দর কোন অলঙ্কারে অলঙ্কিত করেনি।

আমার প্রশ্ন হোল কেন এই ভীতিকর শ্রেণীবিন্যাস!!!!!!!!!!
কেন আজ আমরা বাস্তবতা বলতে মনুষ্য সৃষ্ট কিছু একটার আদর্শে ফেলে দিয়েছি?
কালের পরিবর্তনে সব কিছু পরিবর্তমানে বাস্তবতা ওঁ পরিবর্তন হয়েছে, সময়ের চাহিদায় হাজির হয়েছে নতুন রূপে।

আমার কাছে “বাস্তবতা” নামক এই অদ্ভুত শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু আদর্শ থেকে, সময়ের পরিবর্তমানে মানুষ তার স্বার্থে নিজেদের অজান্তে সাজিয়ে নেয় এই বাস্তবতাকে, যে বাস্তবতাকে আমরা আদর্শ হিসাবে সার্টিফাই করি!!!!!

অনেক বেশি অনুকরনপ্রিয়, কিউট একটা জাতি এই মানুষ জাতি :) :)

 

 

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/bm_banjir/21696.html



মন্তব্য করুন