বি এম বেনজীর আহম্মেদ-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

ক্রিকেট, ক্রিকেটার ও বাংলাদেশ (তিনটি শব্দের অদ্ভুত মেলবন্ধন) !!!!!!

লিখেছেন: বি এম বেনজীর আহম্মেদ

অনেক দিন থেকে ব্যাপারটা লক্ষ্য করছিলাম, কিন্তু লেখা হয়ে উঠছিল না। বাংলাদেশ ক্রিকেট ও এই দেশের মানুষের সাথে যে সব অদ্ভুত সম্পর্ক তা রীতিমত আনন্দ দেয় আবার কষ্ট ও দেয় আমাকে। ব্যাপারটা আসলে প্রথাগত কোন ব্যাপার না, যে খেলায় দল জিতলে আনন্দ দেয় আর হারলে কষ্ট দেয়।

JTBANGLADESH_wideweb__470x363,0

আমি ক্রিকেট খুব ভালবাসি। ছোট বেলা থেকেই এই খেলাটির ভিতর অন্যরকম একটা ভাল লাগা কাজ করত। কিন্তু আস্তে আস্তে বড় হলাম, আর ক্রিকেট খেলা টাকে একটু অন্যভাবে অনুভব করতে শিখলাম।

আস্তে এই ক্রিকেট খেলা দেখতে দেখতে ক্রিকেটের বিভিন্ন নিয়ম কানুন এর সাথে অতিরিক্ত হিসাবে আরও তিনটি শব্দের উৎপত্তি হল আমার কাছে। তাহলো ক্রিকেট, ক্রিকেটার এবং বাংলাদেশের জনগন।

এই তিনটি শব্দ একটি আর একটির পরিপূরক। ক্রিকেট যেমন এনেছে ক্রিকেটারদের তেমনি এই ক্রিকেটাররাই এক করেছে এই ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের ছোট্ট একটি দেশের ১৬ কোটি মানুষ। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবে, যে ব্যাপারে কারোর ই দ্বিমত নাই বলে আমি মনে করি।

images (1)

বাংলার সৃষ্টি লঘ্ন থেকে আজ অব্ধি এই ৪৩ টি বছরের দীর্ঘ সময় আমাদের আর কিছু না দিক দিয়েছে মানুষে মানুষে বিভাজন। সময় ও মানুষ সৃষ্ট এই বিভাজন নিমিষে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে ক্রিকেটার নামক একটি শব্দ। ১৯৯৯ সালে ৭ম ক্রিকেট বিশ্ব কাপে অংশ গ্রহনের পরবর্তী এই ১৪ বছরে দেশ কে অনেক কিছু দেয়ার পাশাপাশি যে উল্লেখযোগ্য উপহারটি দিয়েছে তাহোল দেশের ১৬ কোটি মানুষকে একসাথে হাঁসতে ও কাঁদতে শিখিয়েছে, যেখানে কোন বিভাজন নাই। আমার এই যুক্তি গুলোর সাথে যে কারোর দ্বিমত নাই সেটা আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি। কিন্তু এত প্রাপ্তির পিছনে কথাও যেন কিন্তু থেকে গেছে। যে “কিন্তু” আমাদের সামনে বিভিন্ন সময়ে হাজির হয়েছে মুদ্রার উল্টো পিঠ হয়ে।

সবার কাছে হয়ত ব্যাপারটা একটু ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে, হ্যাঁ আমার মতে ব্যাপারটা একটু ঘোলাটেই। খুব সহজ ব্যাপারই ছিল কিন্তু বর্তমান আধুনিক সমাজ আমাদের এই সহজ ব্যাপারটা অনুধাবন করার থেকে ক্ষমতাচূত করেছে।

একজন ক্রিকেটার এর পরিচয় সে ক্রিকেটার। তার সমগ্র সত্তা জুড়ে শুধু ক্রিকেট থাকলেও সর্বোপরি সে ও রক্ত মাংসে গড়া মানুষ।

---art_hasan_20121122101901400737-620x349

বর্তমান কিছু খেলোয়াড়দের নাম উল্লেখ করে কিছু উধহারন দেয়া যেতে পারে। যেমন এখন বাংলাদেশ টিমে সব থেকে নাম করা খেলোয়াড় দের যদি একটা তালিকা করি তাহলে মুহাম্মদ আশরাফুল, সাকিব আল হাসান, মুশফিক উর রাহিম, তামিম ইকবাল, নাসির হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ। ক্রিকেট এর এক একটা জয় টিম ওয়ার্ক হলেও এই কয়েক জন মানুষের অবদান অনেক বেশী। তারা তাদের অবস্থান থেকে সর্বচ্চ দিয়ে আজ সমগ্র ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক সম্মানীয় করেছে।

images

কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা একটু অনেক বেশী। তারা কষ্ট পেতে পছন্দ করে না, যদিও কষ্ট পেতে কোন মানব জাতিই পছন্দ করে না। তবে তাদের সেই চাহিদার কোন কারনে বাঘাত ঘটলেই হয়ে যায় বিপত্তি। খেলোয়াড়দের উদ্দেশে অশ্রাব্য ভাষায় উক্তি করা এখন খুবি নিয়মিত একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আসলে আমি মনে করি, এখন আমরা আমাদের প্রয়োজনে খেলোয়াড়দের ব্যবহার করছি। তার খেলার যৌবন যতদিন আছে তাকে মাথায় তুলে রাখ আর যেই সেই যৌবনে  একটু দাগ পড়ে ততখানক আমরা তাকে ছুড়ে ফেলি আস্তাকুড়ে যা তুই দূরে গিয়ে মর। একটু মনেও রাখি না তার অবদান। মুহূর্তে ভুলে যাই এই মানুষ টাই একসময় দিনের পর দিন এই কোটি মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। ভুলে যাই  হাজার দুঃখ কষ্টের মাঝে ও প্রানের মাঝে ঢেলে দিয়েছিল এক প্রশান্তির জল।

আমার ক্ষোভটা এখানেই, কেন ভাই!!! তারা ত বাজার থেকে কেনা কোন পণ্য নয়, যে প্রয়োজন শেষ ফেলে দিলাম।  আসলে সত্য বলতে কি আমরা ক্রিকেট ভালবাসি ক্রিকেটার নয়। সুতরাং আমার পাওয়া তিনটি শব্দের ভিতর ক্রিকেট আর জনগনের ই জয় হচ্ছে, মাঝখান থেকে ক্রিকেটার রাই মার খেয়ে গেল।

“হাইরে ক্রিকেট নিয়ে বাংলার মানুষের এ কোন অনুভূতি, যে অনুভূতির প্রতিটা নিঃশ্বাস বলে আনন্দ দাও শুধুই আনন্দ দাও, একটু কষ্টের ছিটা ফুটা ও নিতে শিখলনা।” 

 

 

 

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/bm_banjir/15838.html



মন্তব্য করুন