আতিকুর রহমান আতিক-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

এই শরতে রৌমারীঃ প্রথম পর্ব

লিখেছেন: আতিকুর রহমান আতিক

ষড়ঋতুর এই বাংলাদেশে ‘শরৎ‘ এলেই বেড়ানোর জন্য মনটা উতলা হয়।
তাই এবারের শরৎকালে ছুটলাম উত্তরের জনপদ রৌমারীর দিকে। প্রথমে বাস ধরে এলাম কুড়িগ্রাম হয়ে চিলমারীতে। চিলমারীর ওপারে রৌমারী।
আগেই জানতাম, নৌকায় যাতায়াতে সময় লাগে ৪ ঘণ্টা। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র পেরিয়ে অনেক দূরে রৌমারী। কুড়িগ্রামেরই এক উপজেলা এই রৌমারী।
অবশ্য সড়কপথে বাসে ঢাকা থেকে শেরপুর হয়ে রৌমারীতে আজকাল যাওয়া যায়। মনে হলো, বার দুয়েক গিয়েছি—তাও তো রৌমারী অজানা জায়গা।
আগের রাতে ঘুম হয়নি। সারারাত বাসে, সকালে চিলমারী। বাস থেকে ব্যাগ নিয়ে এলাম তিস্তা তীরে। দেখি লোকজন নৌকায় বসে আছে। আমাকে দেখে মাঝি ভাই বললেন, রৌমারী যাবেন তো উঠুন।
নৌকায় গিয়ে বসলাম। মিনিট পনেরো পর নৌকা ছেড়ে দিলেন মাঝি ভাই। ইঞ্জিনের বাঁটটা ধরে নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। বিশাল নৌকায় আমরা মোট পনেরোজন উঠলাম। এদের মধ্যে তিনজন নেমে যাবেন রাজীবপুরে।
নৌকাতে বসে পরিচিত হলাম কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রের সঙ্গে। পরিচয় জানতে চাইলে ছেলেটি বলল—নাম আমার রতন। রৌমারীতে থাকি, বাবা কৃষক। রৌমারী কলেজে এবার ইন্টারমিডিয়েট ফাস্ট ইয়ারে আছি।
একটু হেসে বললাম, শরৎ দেখব বলে রৌমারী যাচ্ছি। রতন বলল, শরতের যত রূপ, তা মিলবে রৌমারীতে।
একটু পর রতন বলল, রৌমারীতে গিয়ে না হয় আমার সঙ্গেই বেড়াবেন। সীমান্ত এলাকা দাঁতভাঙ্গাতেও নিয়ে যাব।
বললাম— রতন, তা কবিতা-টবিতা লেখো নাকি। হাসল সে।
বড্ড ভালো লাগে গান। ওই যে আব্বাসউদ্দীনের গান। ওই যে— ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই/ হাঁকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে।’
হঠাৎ দেখি তীরে কাশবন। কাশবনের পানে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। রতন বলল, দেখুন দেখুন অজস্র কাশফুল। আরেকজন যাত্রী বললেন, শরতের শেষেই দুর্গাপূজা। খুব জমজমাটভাবে উদযাপন হয় দুর্গাপূজা।
ঢোল বাজে, বাদ্য বাজে… কতই না আনন্দ জমে ওঠে তখন। এ কথা শুনে রতন বলল, আমাদের ওখানের মন্দিরে এক ‘কৃষ্ণ’ আছে; ওর সঙ্গে আপনার পরিচয় করিয়ে দেব। ভালো কীর্তন গায়। ওর কণ্ঠে গান শুনে আপনি মুগ্ধ হবেন।
একটু হেসে বললাম, এই শরতে কোনো এক রাধার সঙ্গে কী পরিচয় করাবে না? রতন বলল, ‘কেন নয়! তবে যে রাধা থাকে বৃন্দাবনে। না হয় বৃন্দাবনে নিয়ে যাব!’ দেখি নদীর এক কূলে কাশবন, দূরে, বহু দূরে দেখা যায় পাহাড়।
দেখে মনে হলো এ যে কালো মেঘ। রতন বলল, ওই পাহাড় পড়েছে ভারতের আসাম-মেঘালয় রাজ্যে। দেখুন আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। কীইনা অপরূপ শরৎকাল!
এক সময় নৌকা এসে ভিড়ল চর রাজীবপুর ঘাটে। এই রাজীবপুর কুড়িগ্রাম জেলারই এক উপজেলা। ওখান থেকে দু’জন যাত্রী উঠলেন।

তথ্যসূত্রঃ
Bangla News 24.Com

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/ar-atique/22140.html



মন্তব্য করুন